দেশের বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুুতি ,,।
বলতে বলতে একটা বছর যেনো চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেলো,এইতো সেদিন এসেছিলাম মেয়ে কে সাথে নিয়ে,,,আর এত তাড়াতাড়ি যে একটা বছর শেষ হয়ে যাবে এটা তো বুঝতে পারলাম না।। তবে এটাকে এই মেনে নিতে হবে, আর তাই মেনে নিয়ে দেশের বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে,,,।
এই কয়েক দিন যাবত মনটা ভীষণ রকমের খারাপ, দিনগুলো এ ভাবে যেতে নাও পারতো পরিস্থিতি টা এভাবে নাও হতে পারতো, ভেবে নিয়েছিলাম হাজবেন্ডের পোস্টিং না হওয়া পর্যন্ত এখানে থাকার জন্য তবে তা আর হলো না কারণ, আজ থেকে দুই মাস আগে আমার শশুর পৃথিবী থেকে চলে গিয়েছে, সবকিছু যেন এলোমেলো হয়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে,,।
সে বেঁচে থাকলে হয়তো এভাবে হতো না, তবে এজন্য সৃষ্টিকর্তাকে দোষ দিচ্ছে না,, শুকরিয়া আদায় করছি কারন,তিনি যা করে আমাদের মঙ্গলের জন্যই করে,তবে সামনের দিনগুলো আমার জন্য আরো কঠিন এতোটুকু আমি বুঝতে পারছি,,জানিনা আমি কিভাবে কি করবো,, বেশ কিছুটা দিনে একটু ভরসায় ছিলাম একটা ছায়ার নিচে ছিলাম, যেহেতু বর্তমান সময়ে হাজবেন্ডের কাছে আছি তাই মাথায় কোন রকমের প্রেসার নিতে হয়নি কিছু নিয়েই।
কিন্তুু এটা যখন আর স্থায়ী হলো না তখন আর কিছুই করার নেই সবকিছুর জন্য নিজেকেই প্রস্তুুত করতে হচ্ছে,এর মাঝে আবার আমার অনার্স তৃতীয় বছরের পরীক্ষা ২৪ তারিখ হইতে, বাসা শেষ ৩০ তারিখে তবে আমি এখান থেকে ২০ তারিখে চলে যাচ্ছি,, কারন আমাকে কয়েক টা দিন আগে যেতেই হবে পরীক্ষার জন্য,,।
বাসায় বসে এই কয়দিন একটু পড়ালেখায় ফাঁকে ফাঁকে নিজের প্রয়োজনীয় সব জিনিস পত্র আমাকে গুছিয়ে নিতে হচ্ছে,,আর বাসা গোছানো যে কত বড় একটা ঝামেলার কাজ সেটা বলে বোঝানো যায় না, তাও আবার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে, কিচ্ছু করার নেই নিজের টা নিজেকে এই করতে হবে, এই দুনিয়া টা বড় অদ্ভুত খারাপ সময় আপনার পাশে কেউ থাকবে না। আর আনন্দের সময় আপনার কাছে লোকের অভাব হবে না।।।
মাঝেমধ্যে খুব খারাপ লাগে যে খারাপ লাগে তাকে বলাও যায় না,তাই সবকিছুই মেনে নিয়ে, মনকে বুঝিয়ে যেহেতু আর এক সপ্তাহ আছে তাই আমি অল্প অল্প করে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি, আসার সময় আমি এবং মেয়ে ছিলাম দুই জন আর এখন তিনজন ছোট বাচ্চাদের জামা কাপড় গোছানো থেকে শুরু করে, সেই সাথে তো আরো কত কিছুই থাকে সংসারের সত্যি মাথাটা একদম ধরে যায় এই কাজ করতে গেলে, মাঝেমধ্যে আব্বুকে ফোন দিয়ে বলতে ইচ্ছা হয় কি দরকার ছিলো এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার,,,।🤔
কিন্তুু পরক্ষণে আবার চিন্তা করি তখন না দিলে হয়তো এখন দিতো, আর এখনের এই ঝামেলাটা পাঁচ বছর পরে করতে হতো,তাই আগে থেকেই করে নিচ্ছি, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে তখন একটু রেস্ট করা যাবে। তবে, দিন শেষ আমার কাছে মনে হয় বিয়ের পরে আর রেস্ট করা বলতে কোন শব্দ নেই,,,,।
গত দুইদিন বাসা গুছিয়েছি, আজ নিজের এবং বাচ্চাদের জামা কাপড় গুলো গুছিয়ে নিলাম, সেই সাথে আমার শখের কম্পিউটার টা ও খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করলাম, এটাকে নিয়ে আছে আমি বড় চিন্তায় এত দূরের যাননি পথ কিভাবে যে নিয়ে যাবো এটা কে বাড়ি থেকে আনার সময় আমি খুব সাবধানতার সাথে,,তবে এবার জিনিসপত্র গুলো তুলনা মূলক ভাবে অনেক বেশি তাই টেনশন বেশি।।
ভাইরে ভাই একটা সংসারে যে এত জিনিস পত্র থাকে বলে শেষ করা যাবেনা,আমার হাজব্যান্ড এখানে আনার সময় বাড়ি থেকে কিছুই নিয়ে আসেন আর এখন জিনিস পত্রতে বস্তা যে কয়টা ভরতেছি আর তোর থেকেই যাবে,, কাজ করছি সব কিছু গুছিয়ে নিচ্ছি তবে মনে হলো এর মাঝে কিছু খাওয়ার দরকার, তাই হাসবেন্ডের তৈরি করা একটু নুডুলস খেয়ে নিলাম।
মানুষটা আমাকে বড্ড বোঝে কষ্ট করে কাজ করছি তাই একটু নাস্তা করে দিলো,তবে মাঝে মাঝে যে কি হয় তখন ভালো কিছু করলেও দোষ পরে আমার ঘাড়ে, যাই হোক এইভাবেই আজ সারাদিনটা সবকিছু গোছাতে গিয়েছে আরো আগামী দুই তিন দিন তো গুছাতে গুছাতেই কেটে যাবে।
যাইহোক
সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য। যেন আমি সুস্থ থাকি এবং মাঝে মধ্যে হাজারো কাজের ফাঁকে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পারি। সবাই ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ
কিভাবে দিনগুলো সময়ের সাথে সাথে কেটে যায় সেটা আমরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারি না। তবে কোথাও যেতে গেলে তার প্রস্তুতি নিতে যেমন ভালো লাগে তেমনি সকলের জন্য গোছাতে আরো বেশি সময় লেগে যায়। আমাদের জীবনে সংসার করতে গেলে তার শত ব্যস্ততা তো থেকেই যায়। তার মাঝে আপনার সন্তানদের জন্য আরও ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে।। সংসারে একা হাতে সন্তানদের মানুষ করা খুবই কষ্টের। আপনি দেশের বাড়ি যাবেন বলে সন্তানদের নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।