আমার আজ দিনের কিছু টা সময়,,, ( 07 July 2024)
আজ দিন টা আমার এমন যাবে, ঘুম থেকে ওঠার পরে কল্পনাও করতে পারিনি। আসলে মাঝে মাঝে আমাদের সাথে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যার জন্য একদমই আমরা প্রস্তুত থাকি না। কিন্তু তবু পরিবেশ পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে নিজে কে ঠিক রাখা প্রয়োজন হয়।
প্রতিদিনের মতো আজ সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে,সকালে নাস্তা তৈরি করে ছিলাম রুটি এবং দুধের তৈরি সেমাই। হাসবেন্ড খেয়ে অফিসে চলে গিয়ে ছিলেন, আর আমি মেয়েকে নিয়ে সকালের নাস্তা করে নিয়েছিলাম। নাস্তা করা শেষ আমি রুম গুলো পরিষ্কার করে কিছু হাতের কাজ শেষ করি।
অন্যদিকে আমি খেয়াল করছিলাম। আমার মেয়ে হাজবেন্ডের জুতা পরে হাটাঁহাঁটি করছে,যদি এত বড় জুতা ওজন দেখে হাঁটতে পারছিলো না ঠিক মতো,,,ঠিক এমন সময় আমি পাশে রুম থেকে একটা চিৎকার শুনতে পাই। তখন এই আমি বুঝতে পারছেন আমার মেয়ে হয়তো পড়ে গিয়েছে।
ওর কাছে এসে দেখি, পরে গিয়ে এমন ভাবে দেয়ালের সাথে ব্যথা পেয়েছে,অনেক বেশি কান্না করছিলো। আমি সাথে সাথে কোলে নিলাম,দেখলাম দাঁত দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। কোন ভাবে এই থামছে না,এটা দেখে তখন আমিও ভয় পেয়ে গিয়েছি। কি করবো কিছু বুঝে উঠতে না পেরে হাজবেন্ড কে ফোন দিলাম।
বাসা থেকে অফিস খুব একটা দূরে নয়,সাইকেল নিয়ে খুব দ্রুত চলে আসছে এবং আমি মেয়ে নিয়ে নিচে নেমে গেলাম। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরে রক্ত টা থেমেছে ঠিকই তবে, যন্ত্রণা টা তখনও ছিলো।হাসবেন্ডের ওষুধ লাগিয়ে দিলো এরপরে বাসায় চলে আসি।
কিন্তুু বাসায় এসেও মেয়ে কান্না কোন ভাবে থাম ছিল না। যা কিছু দেখাই বা দেই সমানে কান্না করতে ছিলো,মাড়ির দাঁতে পাশে একদম কালো হয়ে গিয়েছে,ব্যথার যন্ত্রণায় শুধু চিৎকার করছিলো।তখন ওর কান্না দেখে নিজের কাছে এত অসহায় লাগছিলো।কি যে করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।
অন্যদিকে হাজবেন্ড ফোন দিয়ে আমাকে বেশি কথা বললো। বাচ্চার যতই দুষ্টামি করুক না কেন, যাই হোক না কেন, মায়েরা কি কখনো চায় তার সন্তান কষ্ট পাক, ব্যাথা পাক, কিন্তুু কথা শোনার বেলা মায়েদের কে শুনতে হয়। এরপরে মেয়েকে কোলে নিয়ে আমি ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু ব্যথার যন্ত্রণা ঘুমাতে পারছিলো না। কি খারাপ একটা অবস্থা আজ আমার।মেয়ে পেছনে থাকতে থাকতে হাজবেন্ড বাসায় চলে আসলো, দুপুরে আর কিছু রান্নাও করতে যায়নি কারণ,মেরে এমন অবস্থা দেখে মন ও টা খুবই খারাপ ছিলো। এরপরে ভাতের সাথে দুই ট ভর্তা করেছি এবং দুপুরে খাবার খেয়ে নিয়েছি। দুপুরে মেয়ের ব্যথা কিছুটা কমে ছিলো,তাই ওকে একটু সুজি রান্না করে খাইয়ে দিয়ে ছিলাম।
এরপরে বিকাল বেলা মেয়ে বললো একটু ঘুরতে যাবে,তাই ওর মন ভালো করার জন্য একটু ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলাম। তখন মেয়ে দাঁতের ব্যথা টা অনেক টা এই কমে গিয়েছিলো।আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আর রক্ত পড়েনি।যেহেতু ছোট বাচ্চা এখনো ওর দাঁত পড়েনি,তাই ডাক্তার বলছিলো ঔষধের মাধ্যমে ব্যথা টা কমানোর জন্য ।এরপরে বাসায় এসে মেয়ে বললো একটু ডিম সিদ্ধ খাবে,এবং বললো ওর বাবা বলছে ব্যাথা জায়গা ব্যাথা দিতে তা হলে ব্যাথা তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়, ডিম যদি চাবিয়ে খাই তাহলে ওর দাঁতের ব্যাথা ভালো হয়ে যাবে। ওর কথা শুনে আমি প্রথমে হাসতে ছিলাম। আবার ডিম দুই টা সেদ্ধ করে দিলাম।
এরপরে বারান্দায় গিয়ে গল্প বলতে বলতে মেয়ে কে ডিম খাইয়া দিলাম,এরপরে ওষুধ খাইয়ে দিলাম,এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে গেলো,আজকের দিন টা আমার খুবই খারাপ কেটেছে, সকাল থেকে তো ভাবি নি এভাবে কাটবে দিন টা আমার। তবে শুকরিয়া আল্লাহর কাছে এর থেকে বড় কোন বিপদ হয়নি।
সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন,এবং সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।
যাইহোক আপনি আজকে আপনার মেয়ের বিষয়ে আমাদের সাথে যে ঘটনার কথাটি শেয়ার করেছেন সেটা আসলে মোটেও ভালো ছিল না। এবং অবশ্যই দোয়া করব যাতে আপনার মেয়ে খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আপনি আমাদের সাথে সকল বিষয় শেয়ার করার জন্য।
সর্বপ্রথম আপনার মেয়ের জন্য সুস্থতা কামনা করি। সৃষ্টিকর্তা তাকে খুবই দ্রুত সুস্থ করে দেবেন এবং আপনি একজন মা আপনার উপর দিয়ে কি যাচ্ছে এটা আমি অনুভব করতে পারি। আসলে মাঝেমধ্যে আমাদের সাথে এমনও ঘটনা ঘটে যায় যে ঘটনা গুলো আমাদের মেনে নিতে হয় মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের কে কিছু করার থাকে না। ছোট বাচ্চা আপনার মেয়ে তার সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে এটা জানতে পেরে আমার কাছে অনেক খারাপ লাগছে।
ছোট বাচ্চারা এমন একটু আধটু দুষ্টামি করে থাকে আর এর কারনে মাঝে মাঝে বিপদও ঘটে যায়। আপনার মেয়ের শখ হয়েছিলো তার বাবার জুতা পরার তবে সে বুঝতে পারে নি যে এটা পরে সে ঠিক ভাবে হাঁটতে পারবে না। তাই একটা বিপদ ঘটে গিয়েছে। মেয়েক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া বন্দ হয়ে গিয়েছ তবে দাতে যন্ত্রণা কমতে অনেকটা সময় লাগবে।
আজকে ঘুম থেকে উঠে রুটি আর সেমাই দিয়ে নাস্তা করেছেন আপনারা। মেয়ে তার বাবার জুতা পরে হাটতে গিয়ে দাঁতে ব্যাথা পেয়েছে। ভাইকে কল দেয়ায় সে এসে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলো। আসলে ঘরে ছোট বাচ্চা থাকলে যতই সচেতন থাকা হোক না কেন তারা কোনো কোনো কাজ করে অঘটন ঘটাবেই আর সব দোষ এসে পরবে মায়েদের উপর। বাচ্চারা ভালো করলে তার ক্রেডিট নেই বাবার আর খারাপ কিছু হলে সেটা মায়েদের কারণে।
দোয়া করি দ্রুতই যেন সুস্থ হয়ে উঠে মেয়ে।
ছোট বাচ্চারা আনন্দ করার জন্য অনেক সময় বড়দের জুতা পড়ে থাকে।। হঠাৎ করেই আপনার মেয়ের চিৎকার করে ওঠে আমি পোস্ট পড়ার সময় ভয় পেয়েছিলাম।। পরে সম্পূর্ণ পোস্ট করে বুঝতে পারলাম আপনার মেয়ে পড়ে যেয়ে অনেক বেশি ব্যথা পেয়েছে যার ফলে রক্ত বের হয়েছিল।। আসলে সমস্যা কখনো বলে আসে আর ছোট বাচ্চারা দুষ্টামি করতে যেয়ে অনেক সময় অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়।