পুরীতে দ্বিতীয় দিন- কোনারক মন্দির দর্শন

in Incredible India13 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।। গত পোস্টে মে মাসের ১১ তারিখের দিনটি খুব সুন্দরভাবে শেয়ার করেছিলাম। পুরীতে ঘুরতে গিয়ে সেদিনকে দ্বিতীয় দিন ছিল। সকাল বেলায় সমুদ্রে স্নান করার আনন্দ আপনাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছিলাম।

1000490341.jpg

স্নান করে এসে খাওয়া দাওয়া করে আমি পয়লা বৈশাখে আমার পার্টনারের মায়ের দেওয়া একটা শার্ট পরলাম ।আর নিচে একটা জাস্ট প্লাজো টাইপের জিন্স পড়েছিলাম। গরমের মধ্যে এগুলো পড়তে সত্যিই ভালো লাগে। তারপর গাড়িতে উঠে কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যেই মোটামুটি আধা ঘন্টা হবে হয়তো, আধা ঘন্টা ৪০ মিনিট এর মধ্যে পৌঁছে গেলাম কোনারক মন্দিরে।

1000490326.jpg

এই কোনারক মন্দিরে ছোটবেলায় এসেছিলাম ।সেই স্মৃতি আমার মনে আছে ।কারণ কিছু ছবিও আমার কাছে রয়েছে তখনকার। মন্দিরে পৌঁছতে না পৌঁছতেই দেখলাম বেলাটা নামতে আসছে। এ কারণে তাড়াতাড়ি করে মন্দিরের এরিয়ার মধ্যে আগে ঢুকলাম টিকিট কেটে।

1000458929.jpg

তারপর মন্দিরের সুন্দর কাজগুলো দেখছিলাম। এই মন্দিরটাকে কী অস্বাভাবিক ভাবে বানানো হয়েছে, তাই ভাবছিলাম ।এই মন্দিরের পিছনেও প্রচুর গল্প রয়েছে। এই ঘোরাঘুরি র পোস্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রত্যেক মন্দিরের গল্প গুলো একেক দিন করে শেয়ার করব।

1000490338.jpg

কোনারক মন্দিরে চাকাটা খুবই সুন্দর। বিশেষ করে ভাবিয়ে তোলে প্রত্যেক ভাস্কর্যে যেন আলাদা আলাদা গল্প রয়েছে। চিত্র কলা গুলোকে খেয়াল করলে এবং কিছুক্ষণ সময় ধরে দেখলে সেগুলো বুঝতে পারা যাবে।

1000490360.jpg

ওখানে প্রচুর মানুষ ছিল। প্রচুর মানুষ প্রচুর দুর থেকে দর্শন করতে এসেছিল ।জায়গাটা তো এখন ওড়িশা গভর্নমেন্ট এর আন্ডারে। এটা একটা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এখন।

1000490345.jpg

ওখানে আমরা প্রচুর ছবি তুললাম । ছোটবেলায় শুধু বাবা আর মায়ের সাথে ছবি তুলেছিলাম। এখন আমার সাথে আমার ভাইও আছে। ভেবে অবাক লাগছিল। পাশাপাশি ছবিগুলো যখন রাখছিলাম বাড়ি এসে। তখন তো আরো হাসি পাচ্ছিল।

1000490357.jpg

যাইহোক মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে বাইরের মার্কেট গুলো একটু ঘুরে ঘুরে দেখছিল। তবে কোনারক মন্দিরের বাইরে যেগুলো দোকান ছিল। সব কটাতেই প্রচুর পরিমাণে দাম। তাই আমরা বেশি কিছু কিনিনি। কোনারক মন্দির থেকে হোটেল এর দিকে আবার রওনা হলাম। অনেক রাত হয়ে যাচ্ছিল।
ফেরার পথে তো চারিদিক অন্ধকার । আমরা গাড়িতে বসে হরিণ দেখতে পেয়েছে রাস্তা এপার ওপার করছিল।

হোটেল এ এসে ফ্রেশ হয়ে আবার বেরিয়ে পড়েছিলাম বিচের ধারে বসবো বলে।
সন্ধ্যাবেলায় যে সমুদ্রের হাওয়াটা দেয় সেটা সত্যিই খুব ভালো লাগে। এইজন্য প্রথমেই হোটেলে ঢুকে একটু ফ্রেশ হয়ে নিয়ে তারপরে বীচের ধারে চলে আসলাম ড্রেস চেঞ্জ করে । বালির মধ্যে বসে থাকতে হবে ।তাই ভালো জামা কাপড় পড়া যাবে না। মা বাবার সাথে সমুদ্রের ধারে সন্ধ্যাবেলায় বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটালাম আবার।

1000490327.jpg

সকাল বেলায় সমুদ্রের ধারে স্নান করতে যাওয়া আর সন্ধ্যাবেলার দিকে সমুদ্রের ধারে চুপ করে বসে থেকে সমুদ্রের ঠান্ডা হাওয়াটা নেওয়া, এই দুটোই সব থেকে মন মত কাজ ছিল আমার। হোটেলে আসতে আসতে আর হোটেল থেকে বেরোতে বেরোতে প্রায় সাড়ে নটা দশটা বেজে গিয়েছিল ।ওই এক ঘন্টা সময় সমুদ্রের ধারে বসে কাটালাম ।

1000490328.jpg

তারপর যখন সাড়ে দশটা বাজে ,তখন আবার হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। মানে হাঁটতে হাঁটতে।
সকাল বেলায় উঠে অনেক জায়গায় ঘোরা হয়েছে। পুরী মন্দির, তারপরে ফিরে এসে আবার স্নান করা, তারপরে আবার কোনারক মন্দির , আবার বীচে বসে থাকা, তাই খাওয়া দাওয়া করে পুরো টানটান ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম।। এইভাবেই সোমবার অর্থাৎ ১১ ই মে কেটেছে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.101
BTC 66262.66
ETH 1919.21
USDT 1.00
SBD 0.38