আদির জন্মদিনে
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আমিও ভালো আছি। পোষ্টের ছবিগুলো দেখেই বুঝতে পেরেছেন কোন একটা ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে আজকে আমার পোস্ট। আর এই বাচ্চাটির খুব মিষ্টি একটি নাম আছে,ওর নাম হলো আয়ুষ।আমি ওকে আদর করে আদি বলে ডাকি।।আজকে গোটা পোস্ট জুড়ে শুধু ওকে নিয়েই লিখব।
আদির হামি |
|---|
আদি হল আমার মেঝ পিসির ছেলের ছেলে। অর্থাৎ আমার পিসতুতো দাদার ছেলে। ওর বাবার বিয়ে থেকে শুরু করে ওর হওয়া সম্পূর্ণটাই আমার অনেক বড় বয়সেই দেখা। আসলে দাদা আর আমি মোটামুটি চার-পাঁচ বছরের ছোট বড়। তাই ছোট থেকে আমার সমস্ত কিছু আমি দাদার সাথে শেয়ার করতাম। বড় হয়ে যাওয়ার পর দাদাই আমার সবথেকে ভালো বন্ধু ছিল। ওর বিয়ের পাত্রী দেখা ,পাত্রী চয়েজ করা সমস্ত কিছুর একটা বড় গুরু দায়িত্ব আমার ওপর ছিল।
ছেলে কত্ত খুশি |
|---|
দেখতে দেখতে দাদার ছেলেও হয়ে গেল। আর তারপর সেই ছেলে এখন কত বড় হয়ে গেছে। আদি আমাদের বাড়ির সকলের খুব আদরের। আমি সম্পর্কে ওর পিসি হচ্ছি। ছোট থেকেই আদি এত দুরন্ত। আর ততটাই আদুরে আমাদের সকলের কাছে। বিশেষ করে আমার বাবার সাথে আদির খুব ভালো সম্পর্ক। আমার পিসির বাড়ি যেহেতু কাছে। আমার বাবার ওয়ার্কসপ যাওয়ার পথেই পিসির বাড়ি পরে। তাই ও হওয়ার পর থেকেই বাবা প্রত্যেকদিন কাজে যাওয়ার সময় একবার করে হলেও আদিকে দেখে যেত। সেই থেকেই আদি বাবার খুব কাছের।
আমার আদিবাবু |
|---|
তারপর আদি যখন আস্তে আস্তে কথা বলতে শিখলো, হাঁটতে শিখলো তখন আর ওই আমরা আরো ক্লোজ হলাম। ওকে কিছুতেই এখন পিসি বলানো শেখানো গেল না। ও যখন থেকে কথা বলা শিখল, তখন থেকেই আমাকে ঈশা বলে ডাকে। আমার ভীষণ ইচ্ছা আছে ওর ঈশা ডাকটা একদিন পোষ্টের মাধ্যমে ভিডিও করে শেয়ার করব। ওর মতন ঈশা বলে আমি আজ অবধি কাউকে ডাকতে শুনিনি। আমার মনে হয় না আমার ভবিষ্যতের বরও এত সুন্দর করে এত ভালোবেসে এই নাম ধরে ডাকবে।
গিফট্ পেয়ে আনন্দ |
|---|
ও যতবার আমার নাম ধরে ডাকে, ওর মা আর আমার পিসি বারবার ওকে বকুনি দিয়ে পিসি বলা শেখায়। বেচারা বকুনি শুনে পিপি বলে। তাও পিসি এখনো উচ্চারণ হয়নি। আদি এখন অনেক ছোট। ওর দেখতে দেখতে তিন বছর পার হলো। সেদিন আদির জন্মদিন ছিল। আমি সন্ধ্যেবেলায় ওর জন্য একটা গিফট কিনে ওর বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম। আমাকে দেখেই আদি লাফাতে শুরু করে দিয়েছে। যখন দরজা খুলে ঢুকলাম, দৌড়ে এসে আমাকে ছোট ছোট হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল। এত এত আদর করলাম আমি ওকে। ও আমাকে অনেক হামি দিল।
আদিকে আশীর্বাদ করা হচ্ছে |
|---|
ও যে কতটা লক্ষ্মী ছেলে, তা আমিই জানি। আমার ওকে চটকাতে খুব ভালো লাগে। আমিও ওর নাম ধরে টেনে টেনে ডাকি। "আ... দি...." যতটা শব্দগুলোকে টেনে টেনে বলা যায়। ও হয়তো তাই শিখে শিখে আমার নামটাও টেনে টেনে বলে । জন্মদিনের দিন আমাকে দেখে ওতো ভীষণ খুশি। তার সাথে উপহার নিয়ে গিয়েছি। সে তো তাড়াতাড়ি কৌতুহল এর সাথে আমার পাশে বসে পড়ল। তারপর যেই না আমি গিফট টা খুললাম। সে কি আনন্দ ওর!
কেক |
|---|
আমি ওর জন্য একটা মিউজিকাল খেলনা নিয়ে গিয়েছিলাম। যাতে ওর বাজাতে ভালো লাগে। সত্যি বলতে ওর ও উপহারটা খুব পছন্দ হয়েছে। আমার সাথে অনেকক্ষণ খেলাধুলা করার পর কেক কাটার পালা এলো। আদি কেক দেখলে খুব আনন্দ পায়। আর ও খুব ভালো করে বুঝতে পারছিল যে আজকে ওর জন্মদিন। যেই না কেকটা বার করা হলো , ও সাথে সাথে টেবিলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। ছোট ছেলে তাই টেবিল নাগাল পাচ্ছিল না। অবশেষে একটা চেয়ারে ওকে বসতে দেয়া হলো।
আমার দেওয়া উপহার |
|---|
তারপর আমরা সবাই মিলে ওকে আশীর্বাদ করলাম । আর এর সাথেই কেক কাটা হলো। আমার সাথে ঈশানও গিয়েছিল। সবাইকে দেখে ও খুব খুশি সেদিন। আদির সাথে অনেকক্ষণ গল্পগুজব করে। অনেক অনেক আদিকে আদর করে তারপর খাওয়া দাওয়া করে বাড়ি ফিরলাম রাতে। ঈশানকে ও কাকা বলে ডাকে। কাকা ডাক ও স্পষ্ট ভাবে বলে। তবে এখনো পিসি আসলো না ওর মুখে। কিন্তু আমার ওর মুখে আমার নাম ধরে ডাকটাই সবথেকে বেশি ভালো লাগে।।
মাঝেমধ্যেই বাবা কাছ থেকে ফেরার সময় ওকে বাইকে করে নিয়ে চলে আসে আমাদের বাড়িতে। আমাদের বাড়িতে চলে আসলে ওর কোন কান্নাকাটি থাকেই না।। দিব্যি আমাদের বাড়িতে সারাদিন থেকে যায় । কিন্তু যখনই আমাদের বাড়ি থেকে ও বেরোবে, অথবা ওর বাড়ি থেকে আমরা চলে আসছি এরকম সিচুয়েশন আসে। ছেলে তো পুরো কান্নাকাটি করে একাকার করে। ওকে ছেড়ে আসতে আমাদেরও খারাপ লাগে।
ওর জন্মদিনের ছবিগুলো আমার গ্যালারিতে ছিল। আমি আপনাদের সাথে মুহূর্তগুলো শেয়ার করবো বলেই ছবিগুলো তুলেছিলাম। আপনারা ওকে আশীর্বাদ করবেন। ও যেন সুস্থ থাকে। আর অনেক বড় হয়, ভবিষ্যতে ভালো মানুষ তৈরি হয়। আজ এখানেই শেষ করছি। সকলে ভাল থাকবেন।
আদি কে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা জানাই। বাচ্চারা যখন নাম ধরে ডাকে তখন শুনতে খুবই ভালো লাগে। দেখতে দেখতে আদি অনেকটাই বড় হয়ে গেছে। যাইহোক ওর নামটা আমার জানা ছিল না। নামটা খুব সুন্দর হয়েছে।
জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল আদিকে।❤️❤️... এটা কি পাপ্পু দার ছেলে?