পুরীতে প্রথম দিন - বিকেল বেলা
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি পুরীতে প্রথম দিনের কিছু মুহূর্ত। গতকাল যেখানে শেষ করেছি ,তারপর থেকেই শুরু করছি।
আমি এর আগে একবার দিঘাতে গিয়েছি। আর ছোটবেলায় একবার পুরীতে এসেছিলাম ।তখন আমরা সমুদ্রের সামনের হোটেলেই ছিলাম। কারণ আমাদের গ্রুপ ছিল না আমরা চারজনে ছিলাম ।তাই রান্না করার মতন অবস্থায় আমরা ছিলাম না, আমরা হোটেলের খাওয়া দাওয়ায় করেছি।। আমাদের অসুবিধা হয়নি। তবে যেহেতু আমরা একটা গ্রুপে আছি । সবার মতামত অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে এতে আমাদের কোন অসুবিধা হয়নি।
রুম খুঁজতে একটু সমস্যা হচ্ছিল ।কারণ বেশিরভাগ রুম চেক ইন হয়ে গিয়েছিল। একচুয়ালি পুরীতে সকাল আটটার মধ্যে রুম চেক ইন হয়ে যায়। তো অনেক হোটেলে বুক হয়ে গেছিল। তবে ভাগ্যবশত একদম সমুদ্রের কাছে এই হোটেলটা পেয়েছি । হাঁটা পথে মাত্র দু মিনিট একদম সমুদ্রের সামনে হোটেল গুলোর পেছনের হোটেল। তো আমার তো বেশ ভালো লেগেছে।
যেহেতু সবাই খুব টায়ার্ড ছিলাম, গিয়েই ফ্রেশ হয়ে স্নান করে নিয়েছিলাম। ততক্ষণে ওপরে রান্না হয়ে গিয়েছে। আমাদের গ্রুপে যারা রান্না করছে, মলয়দার স্ত্রী আর আরেকজন তারা সত্যিই এত ফার্স্ট ।সাথে সাথে রান্নাও করে ফেলেছে। আমার ঠিক মনে পড়ছে না ,
তবে যতদূর মনে হয় চিংড়ি মাছ দিয়ে আলু পটলের তরকারি করা হয়েছিল। আর কাতলা মাছ ছিল। গতরাতে তো ডিমের ঝোল ভাত খাওয়া হয়েছিল। আসলে ওরা সবাই রান্না করে সবকিছু ঠিকঠাক করে তারপরে সমুদ্রে যাবে স্নান করতে ,এই কারণেই আগে হোটেলে ঢুকে কিছুটা ফ্রেশ হয়ে রান্না চাপিয়ে দিয়েছিল।
আমি তো ভেবেই নিয়েছিলাম স্নান করবো না। কারণ হোটেলে ঢুকে আমাকে আগে ফ্রেশ হতে হবে, তবে যখন ওরা স্নান করতে যাবে ,তখন ওদের সাথে অবশ্যই যাবো ।একটু সাইটে বসব, ঘুরবো। তাই খাওয়া দাওয়া করে এসে আমি কিছুক্ষণ রেস্ট করলাম। তারপর রেডি হলাম যাওয়ার জন্য। আমার বাবা-মাও স্নান করবে। তখন মোটামুটি বাজে সাড়ে চারটে পাঁচটা বিকেল। রেডি হয়ে চলে গিয়েছিলাম সমুদ্রের ধারে।
এত সুন্দর লাগছিল জায়গাটা ।ওয়েদারটা এতটা ভালো ছিল ,আর ওই সময় সমুদ্রের জলটা ঠান্ডা থাকে। আমি সবথেকে বেশি আনন্দ পেয়েছিলাম কারণ আমার একটা জুনিয়র ছিল ,মানে আমার মামার মেয়ের বয়সী ।আমার থেকে ও চার বছরের ছোট। তো বলতে গেলে সমবয়সী একটা মেয়ে সাথে ছিল বলেই আমারও বেশ মজা লাগছিল ঘুরতে। ও স্নান করবে না যেহেতু বিকেল হয়ে গেছে ,তাই আমরা ওই সময় প্রচুর ছবি তুলেছি, বাবা-মার প্রচুর ছবি ক্যাপচার করেছি।
অনেকদিন পর সমুদ্রে আসা ।লাস্ট কবে সমুদ্র এসেছি আমার মনে নেই ।তবে আমার মনে আছে লাস্ট আমি দিঘাতেই গিয়েছিলাম সমুদ্রে, মামাদের সাথে ।তখন হয়তো বা আমি মাধ্যমিক দিচ্ছি, কিংবা উচ্চমাধ্যমিক। তাই বেশ অনেক আগের কথা। পুরীতে আসা প্রায় ১৫ বছর পর ।১৫ বছর পরে সমুদ্রের এই তৃপ্তিটা সত্যিই আমাকে ভীষণ পরিমাণে আনন্দ দিচ্ছিল।
তবে একটা জিনিস খেয়াল করলাম ,যেহেতু এখন গরম কাল, তাই পুরীতে লোকজনের চাপ কম ছিল । তুলনামূলকভাবে যেটা শীতকালে খুব বেশি ছিল , মানে শান্তি ভাবে আমরা ঘুরতে পেরেছি ছবি তুলতে পেরেছি।
দিঘাতে যেটা হয়, প্রচন্ড পরিমাণে ভিড় হয় ,ছবি তোলা তো দূরের কথা ,পা রাখার পর্যন্ত জায়গা থাকে না, এরকম হয়। তবে পুরীতে এবার গিয়ে সত্যি মজা পেয়েছি কারণ লোকজনের চাপ কম ছিল। একদম মনে হচ্ছিল যেন নিজের পার্সোনাল বীচ ,একদম আলাদাভাবে স্নান করা হচ্ছে বা আলাদাভাবে এনজয় করা।
যাই হোক আজকে এখানেই শেষ করলাম ।সকলে ভালো থাকবেন।