জগন্নাথ মন্দির দর্শন - ২ য় পর্ব

in Incredible Indiayesterday

নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।গতকাল জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার কথা শেয়ার করেছিলাম। আজকে সেটারই ২ য় পর্ব লিখছি।

প্রথমেই ওই পান্ডা যে দাদাটা ছিল সে বলে দিল , মন্দিরের মধ্যে প্রচন্ড পরিমাণে টাকা-পয়সা নিয়ে পলিটিকস চলে তো আপনারা কারোর কথাতে আসবেন না। তারপরে বলল নিচে পাতাল মহাদেব বলে একটা ছোট্ট মন্দির রয়েছে, সেখানটা ঘুরে আসতে। কিছু কিছু গম্বুজের মতন মন্দিরগুলো একদম নিচের দিকে ডুবে আছে। শুধু মাথার চূড়াটাই বেরিয়ে রয়েছে। কারণ ওখানকার লোকমতে এই মন্দিরগুলো অনেক অনেক বছর বালির মধ্যে চাপা ছিল।

1000466281.jpg

পুরী জগন্নাথ মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে আমি অন্য একদিন অবশ্যই পোস্টে শেয়ার করব। আজকে আর এই পোস্টে লিখছি না। পাতাল মহাদেবের কাছে পৌঁছাতে মাথা নিচু করে অনেকটা সিঁড়ি গিয়ে নামতে হলো। নামার সময় ভীষণ ভয় লাগছিল। আমি এসব ব্যাপারে একটু বেশি ভয় পাই।

1000466289.jpg

বাবা মা নিচে নেমে গেল যখন,তখন দেখে একজন পুরোহিত বসে আছেন। মহাদেব অর্থাৎ শিবলিঙ্গ এর পাশে। তিনি মা-বাবাকে একটু মাথায় আশীর্বাদ করে সামান্য একটু হাতে ফুল দিতেই সাথে সাথে টাকা চাইলেন। আমার বাবা খুশি মনে ২০১ টাকা দিতে গেলে, তিনি সেটা নিলেন না। তিনি বললেন যেহেতু আমরা চারজন আছি ,তাই ৬০১ টাকা দিতে। কি অদ্ভুত ব্যাপার স্যাপার! আমি অবাক।
ওই জায়গায় অন্য কোনো মানুষ থাকলে ঝামেলা শুরু হতো, কিন্তু বাবা বলে টাকা দিয়ে দিল।

1000466270.jpg

ওই জায়গা থেকে শুরু করে পরপর যে কত কিছু ঘটেছে ,আপনাদের আমি বলে বোঝাতে পারবো না। আমি সব কথা আস্তে আস্তে শেয়ার করব। আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন যে পুরি জায়গাটা অবশ্যই ঠাকুরের স্থান, তবে এরা একটা বিশাল ব্যবসা খুলে বসে আছে।

পুরীর পুরো জায়গা জুড়ে শুধুমাত্র পর্যটকদের ওপর পুরীর সমস্ত কিছু নির্ভরশীল। তবে এতটা পরিমাণে লুটপাট করাও ঠিক না। যাইহোক ওই জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে বাবা সেই মুহূর্তে টাকাও বার করে দিল, তারপর বেরিয়ে এসে আমরা আবার একটু লাইনে দাঁড়ালাম ,এবার মেইন মন্দিরে ঢুকতে হবে বলে।

1000466277.jpg

প্রচুর প্রচুর লোক ওই সময় লাইনে দাঁড়িয়ে। ওরা একটু একটু করে লাইন ছাড়ছিল ,আবার ঢোকাচ্ছিল। তবে এতটা পরিমাণে ভিড় ছিল কল্পনার বাইরে। আমি ভিড়ের বিষয়টা তখনও অতটা আন্দাজ করতে পারিনি ।যতক্ষণ না ভেতরে ঢুকেছি। কিছুটা লাইন ছাড়াতেই পেছন থেকে ঠেলা মারতে শুরু করে। আবার কিছুটা সামনে আমরা এগিয়ে গেলাম।

তারপরে তো একটু পরে মন্দিরের ভেতর প্রবেশ করলাম। কিন্তু মন্দিরের ভেতর প্রবেশ করার পর যে পরিমাণে ঠেলাঠেলি শুরু হল, একদম অবিশ্বাস্য। মানুষ ওখানে ঠাকুর দর্শন করতে এসেছে নাকি, ঠেলাঠেলি করতে এসছে ভগবান জানে।

1000466293.jpg

আমি সত্যি বলতে মন মত জগন্নাথকে ঠিকভাবে প্রণাম বা দর্শন করতে পারিনি। হয়তো দেখেছি তবে মন থেকে যে ওনাকে প্রণাম করব, সেটা সম্ভব হয়নি। কারণ ওই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে চারিদিকের ব্যবস্থার ওপর রীতিমত রাগ হছিল।

আমি গত বছর বেনারস ঘুরে এসেছি। কাশি বিশ্বনাথ টেম্পেল ।ওখানে প্রচুর প্রচুর মানুষ প্রত্যেক দিন প্রত্যেক বছর যেতে থাকে ।কিন্তু ওদের যে সুব্যবস্থা রয়েছে ,এখানে কিন্তু সেটা আমি দেখলাম না।

দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য ওরা যে পরিমাণে ভালো ব্যবস্থা করে রেখেছে চারিদিকে রেলিং দিয়ে ,এমন ভাবে গার্ড করে রেখেছে যাতে একটা লাইনে শুধুমাত্র একটা ব্যক্তি যেতে পারে, পরপর পেছন থেকে একটা লাইন করেই যেতে হবে। সে কখনোই ঠেলাঠেলি করতে পারবে না, এমনই ব্যবস্থা করে রাখা ।

তবে পুরীতে সেটা নেই। সেই সুব্যবস্থাই নেই।যাইহোক বাকি কথা পরের পোস্টে শেয়ার করব।

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.33
JST 0.075
BTC 64881.76
ETH 1827.11
USDT 1.00
SBD 0.47