জগন্নাথ মন্দির দর্শন - শেষ পর্ব

in Incredible India10 hours ago (edited)

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। গত পোস্টগুলোতে জগন্নাথ মন্দির দর্শন নিয়ে লিখেছিলাম। আজকে তারপর থেকে শুরু করছি। মন্দির দর্শন করে বেরিয়ে কি কি করলাম সেগুলোই লিখছি।

যাইহোক ঠাকুরের সহায়তায় মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে আসার পরে কিছুক্ষণ আমার রীতিমতো হাত কাঁপছিল ।মানে আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম ।আমার যে বোনটার কথা আমি বলছিলাম ,দিশা, ও রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিল ।ওর খুব লেগেছিল হাতে। তাহলে আপনার ভাবুন কতটা পরিমাণে ঠেলাঠেলি হতে পারে। দম বন্ধ হয়ে মানুষ মরে যাবে। এমনই অবস্থা ছিল।

1000470673.jpg

ওখান থেকে বেরিয়ে আমি শুধুমাত্র বাড়ি যাব কখন ,এটাই ভাবছিলাম। হোটেল ফিরব কখন ,সেটাই ভাবছিলাম। যাই হোক তার আগে প্রসাদের জায়গায় আবার গেলাম ।আমাদেরকে দুটো বক্স ভরে প্রসাদ দেয়া হলো ।তাতে জগন্নাথ দেবের প্রসাদ ছিল ।গজা ছিল, সুজির মোয়া ,নারু, বরফি ,আরো কত রকম কিছু।

সুজির হালুয়া দেওয়া হয়েছিল , সেটা একদম গর্ভ গৃহ থেকেই নিয়ে আসা হয়েছিল । সকালবেলায় জগন্নাথ দেবকে পুজো দেয়া হয় , সেখানকারী প্রসাদ। সেটা খেয়ে আমি সাথে সাথে জল খেলাম।

1000470669.jpg

তারপর মন্দির থেকে বেরোনোর আগে, যেখানে জুতো রেখেছিলাম এবং মোবাইল রেখেছিলাম ,সেখান থেকে সবকিছু নিলাম। তার আগে মন্দির থেকে বেরোনোর আগে আরো চারিদিকে কিছু মন্দির আছে। সেই জায়গাগুলো আমার বাবা-মা ঘুরে ঘুরে দেখেছে।

তবে আমার সত্যি কথা একদমই শরীর পারছিল না বলে আমি একটা জায়গায় মন্দিরের একটা চাতালের ওপর চুপ করে বসে ছিলাম এবং মন্দিরটাকে বারবার দেখছিলাম ,কারণ মন্দিরটা সত্যিই দেখার মতন ছিল।

শুধুমাত্র আমার মাথার মধ্যে একটা জিনিস ভাবছিলাম যে, এই ভিড়ের মধ্যে এত কিছুর মধ্যে মানুষ এত পরিমাণে আসছে। ওড়িশা গভরমেন্টকে অবশ্যই দর্শনার্থীদের জন্য পর্যটকদের জন্য সুব্যবস্থা করা দরকার। যাতে সবাই খুব ভদ্রভাবে ভালোভাবে মানে কোনরকম বাজে অবস্থার সম্মুখীন না হয়ে ঠিকঠাক ভাবে দর্শন করতে পারে। এটাই আর কিছু না।

1000470677.jpg

মন্দির থেকে বেরিয়ে এসেই রাস্তার অপজিটে বসে থাকা ডাবের দোকান থেকে ডাব খেলাম আগে। তারপর তো সোজা টোটো করে বাড়ি, মানে হোটেল।

ওখানে যেখানেই যাও ,টোটোতে ১০০ টাকা তো নেবেই ,মানে চারজনের কথা বলছি। তবে মন্দির থেকে আমাদের হোটেল ফিরতে ৩০০ টাকা লেগেছে টোটাল। আমরা যে হোটেলে ছিলাম, সেটা লাইট হাউজের পেছনের দিকটাই।

লাইট হাউসের পেছনের দিকটা থেকে স্বর্গদ্বার অব্দি যেতেই চারজনের পড়তো ১০০ টাকা করে। ২৫ টাকা করে নিত ।যেটা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি ভাড়া আমাদের কৃষ্ণনগরের তুলনায়।

পর্যটন ক্ষেত্রগুলোতে হয়তো এরকমই হয়ে থাকে। তবে সেটা যাই হোক, মন্দিরের পরিস্থিতি কিন্তু সত্যিই আমার ঠিক লাগলো না।

হোটেল ফিরে এসে ফ্রেশ হয়ে একদম রেস্ট করেছি। কারণ একদম ভালো লাগছিল না মন মেজাজ ।হোটেল ফিরেছি সাড়ে দশটা নাগাদ। একটা কথা তো বলতেই ভুলে গেছি। মন্দিরে বেশ বাঁদর ছিল ।চারিদিকে ওরা নিজেদের মতন ঘুরে বেড়াচ্ছিল। মানুষজনের আশপাশ দিয়ে ঘুরছিল,তবে কিছু করছিল না ।

আমি যখন মন্দিরের চাতালে বসে রেস্ট নিচ্ছিলাম, যখন মা আর বাবা মিলে অন্যান্য মন্দির গুলো ঘোরাঘুরি করছিল, তখন আমাদের পান্ডা দাদাটা আমাদেরকে একটা গল্প বলছিল। আসলে হয়েছেটা কি, যেখানে আমি বসেছিলাম ,তার একটু দূরেই একটা বিশাল বড় পাথরের চাঁই পড়েছিল।

সেটা দেখে আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, এটা হঠাৎ করে এরকম ভাবে পড়ে আছে কেন। তখন জানতে পারলাম কিছু মাস আগে মন্দিরের চূড়ার উপর থেকে ওই পাথর পড়ে গেছে। আর যখন পড়েছে প্রায় দু কিলোমিটার অব্দি আওয়াজটা ছড়িয়ে গিয়েছিল ।কারণ পাথরটা এতটাই ভারী।

সব থেকে অদ্ভুত বিষয় হলো সকালের দিকে মানুষের এত ভিড়, এর মধ্যে ওই পাথরটা অত উঁচু থেকে পড়ার পরেও কারোর কোন ক্ষতি হয়নি ।এমন ভাবে পড়েছে ,কারোর গায়ে একটা আঁচড় লাগেনি।। এটাই হয়তো ভগবানের লীলা। যাইহোক আজকে এখানেই শেষ করছি।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.078
BTC 62651.95
ETH 1656.98
USDT 1.00
SBD 0.41