অক্ষয় তৃতীয়ার পুজো
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজ ভাবলাম গত দিনের অক্ষয় তৃতীয়া সম্পর্কে একটু আপনাদের সাথে শেয়ার করি। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।
অক্ষয় তৃতীয়া কী
গতকাল ছিল অক্ষয় তৃতীয়া। মা বলে এই দিন সমস্ত কিছু অক্ষয় রাখতে আমরা পূজো করে থাকি। তাই মা এই দিনে সমস্ত কাজ যেগুলো আমরা চাই অক্ষয় হয়ে থাকুক ,সেগুলো করতে বলে। বৈশাখ মাসে প্রথম দিনের মতো অক্ষয় তৃতীয়ার দিন অনেক দোকানে পূজো হয়ে থাকে। দোকানে দোকানে লক্ষ্মী এবং গণেশ ঠাকুরের পূজো হয়।
অক্ষয় তৃতীয়ায় আমাদের শোরুমে পুজো
আমাদের ঘূর্ণি পুতুল পট্টিতে দুটি শোরুম রয়েছে। আর সে দুটি অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে উদ্বোধন করা হয়েছিল প্রথম। তারপর থেকেই আমার বাবা ঠিক করে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন করে দোকানে পুজো দেওয়া হবে। তাই পয়লা বৈশাখের দিনটি বাদ দিয়ে আমাদের দোকানে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই পূজো হয়। এই দিন একটু চাপ কমও থাকে।
কারণ আমরা সকলে জানি পহেলা বৈশাখের দিনের গল্প ।ও দিনকে চারিদিকে যে পরিমাণে প্রেসার থাকে। মানুষের ভিড় আর সবমিলিয়ে একটা তাড়াহুড়ো ব্যাপার।। তাই বাবার ইচ্ছামত আমরা প্রত্যেক বছর আমাদের দোকানে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই পূজো দিয়ে থাকি। আমাদের দুটো শোরুম এবং একটা স্টুডিও তথা কারখানা রয়েছে।সেইমতো তিন জোড়া লক্ষ্মী গণেশ পুজো করা হয়।
দুটি দোকান কৃষ্ণনগরের কেন্দ্রবিন্দু ঘূর্ণি পুতুল পট্টিতে অবস্থিত। আর কারখানা যেখানে বড় বড় মূর্তি তৈরি করা হয়, সেটি কৃষ্ণনগরের সন্ধ্যা মাঠপাড়া নামক জায়গায় অবস্থিত। একটু জন এলাকা থেকে বাইরে ফাঁকা জায়গা না হলে বড় মূর্তি অর্থাৎ ২১ ফুট ৪০ ফুটের মতো মূর্তি তৈরি করা সমস্যা ।তাই সেরকমভাবেই বাবা কারখানাটা বানিয়েছিলেন। ৩ জায়গার পুজোয় একসাথে আমাদের ছোট দোকানটাতে দেওয়া হয়।
আমাদের দুটো দোকানে দুজন কর্মচারী থাকে। বাবা দোকানে বসার সুযোগ পায় না। সমস্ত বড় বড় মূর্তিগুলি কারখানায় তৈরি হতে থাকে ।তাই সেখানেই বাবাকে থাকতে হয়। তাই বাবা সকালবেলা থেকে নিজের স্টুডিওতে থাকে। বলতে গেলে বাবার কাছে ওটা একটা আলাদা বাড়ি।। আর এই দোকান দেখাশোনা করার জন্য দুজন আছে এবং আমি আর আমার ছোট ভাই মাঝেমধ্যে একটু দেখভাল করার জন্য যাই । বাবার কাজের কথা এবং বাকি মূর্তির কথা আমি অন্যান্য পোস্টে শেয়ার করব ।আজকে যখন অক্ষয় তৃতীয়া নিয়ে কথা হচ্ছে, তাহলে সেটাই বলি।
পূজো উপলক্ষে বাজার করতে যাওয়া
অক্ষয় তৃতীয়ার পুজো প্রত্যেকবারই আমার মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী সকাল-সকাল করে নেওয়া হয়। আমাদের যিনি ব্রাহ্মণ রয়েছেন ,যিনি আমাদের বাড়ির সকল পুজো করে থাকেন ,তিনি এবারেও সকাল সাতটা নাগাদ পূজো করবেন বলেছিলেন। সেইমতো পুজোর জোগাড় করা শুরু হয়।
গত পরশুদিন ভেবেছিলাম পুজোর বাজার করব । বাড়ির পুজোর বাজার নিজেরা না করলে হয় না। কোন কর্মচারী কিংবা কারিগরকে দিয়ে এই কাজ করা অনেক মুশকিল। যা যা লাগবে সেগুলো বাবা-মা ,আমিই ভালো করে জানি। তাই কাউকে একটা সাথে নিয়ে আমি অথবা বাবা প্রত্যেক বছরই বাজার করতে বের হই।
কিন্তু প্রচন্ড বৃষ্টি হওয়ার জন্য দুপুরবেলায় বাজার করতে পারিনি। তারপর বিকেল থেকেও ঝমঝম করে বৃষ্টি, সন্ধ্যে যখন ছাড়িয়ে যায় ।তখন আমাদের বেরোতে হলো। আমি আর আমার এক পিসেমশাই মিলে টোটো গাড়ি করে বেরিয়ে পড়লাম।
মায়ের কাছ থেকে ফর্দ লিখে নিয়ে যখন হালকা হালকা বৃষ্টি পড়ছিল ,তখন চলে গেলাম আমাদের কৃষ্ণনগরের খুবই পুরনো একটা বাজার - নাম গোয়ারি বাজারে। ফলের বাজার বাবা সকাল বেলায় করে রেখেছিল। বাকি যা যা লাগবে, আমি আর পিসেমশাই মিলে বাজার থেকে কিনে নিলাম। তারপর ফিরেও এলাম। কিন্তু এর মধ্যে বৃষ্টি একবারের জন্যও থামেনি। ওই বৃষ্টির মধ্যেই সমস্ত কিছু করতে হয়েছিল।
পুজোর দিন
পরের দিন সকাল বেলায় অনেক সকাল সকাল উঠেছি, প্রায় সারে পাঁচটা, ছটা হবে ।তারপরে মায়ের সাথে বাড়ির পুজো এবং দোকানে যেহেতু পুজো হবে ,দোকানের পুজোর জন্য সমস্ত জিনিস নিয়ে যাওয়া এই কাজগুলো করছিলাম। তারপর আমাদের ঠাকুরমশাই টাইমে বড়ই সঠিক ।কথা মত সাতটার সময় এসে হাজির ।
সুন্দর করে পুজো হলো। শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমি আমাদের পাশেই বাবা জলেশ্বর এর অর্থাৎ মহাদেবের যে মন্দির আছে, সেখানে গিয়ে পুজো দিয়ে আসলাম।
তারপর ফিরে এসে প্রসাদের জন্য আয়োজন করা শুরু হল। আশেপাশের সব দোকানগুলোর জন্য এবং কাছের মানুষদের জন্য আমরা হলদিলামের লাড্ডু এবং সন পাপড়ির ব্যবস্থা করেছিলাম। সাথে ফলপ্রসাদও ছিল। এইভাবে সমস্ত কাজ সেরে উঠতে দুপুর হয়ে গিয়েছিল।
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি খুব ভালোভাবে কাটিয়েছি। সবথেকে বেশি আমার আনন্দ হয়েছিল যখন আমি বৃষ্টির মধ্যে বাজার করতে বেরিয়েছিলাম। জলকাদা থাকলেও বৃষ্টি আমাকে খুব আনন্দ দেয়।
আজকে আমি এখানেই শেষ করছি ।সকলে ভালো থাকুন। সকল শুভ কর্মের অক্ষয় হোক।
অক্ষয় তৃতীয়ার পুজো আমার কাছে এটা একেবারেই নতুন একটা শব্দ। এটা সম্পর্কে আমার তেমন একটা ধারণা নেই। তবে আপনার পোস্ট পরিদর্শন করে যতটুকু বুঝতে পারলাম, আপনারা এই পূজা করে থাকেন সবকিছু অক্ষয় থাকার জন্য। আপনি এই পূজার জন্য সমস্ত জিনিস কেনাকাটা করেছেন এবং নিজ হাতে পুজো দিয়েছেন, বিষয়টা দেখে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে অক্ষয় তৃতীয়ার পুজো সম্পর্কে আমাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য। ভালো থাকবেন।
Hii !
Friend, you have posted beautiful diary. You are very religious person. "Jal abhishek" shows your great devotion towards god. The rituals you performed are according to our religion. May god give what you prayed for. I feel myself lucky to view god sitting far away.
Thank you