গত সোমবারের ব্যস্ততা
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন। আজকে সকাল থেকেই বৃষ্টি, বৃষ্টিটা থামার নাম নিচ্ছেনা আর আমিও চাইছি না এই বৃষ্টি থামুক। সত্যি বলতে বৃষ্টি আসলে আমার খুবই ভালো লাগে। এবারে বর্ষাকাল বর্ষাকালের মতোই যেন নয় ।বৃষ্টির ভাব খুবই কম।সকালবেলায় বৃষ্টির দিনে মানুষ দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে ।আর বৃষ্টি দেখলে আমার তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে যায়। বৃষ্টি আমার খুবই পছন্দের তাই।
আজকে বৃহস্পতিবার ।গত সোমবার ছিল শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সোমবারের পুজো, আমি জানিয়েছিলাম শ্রাবণ মাস এর সোমবার করে শিবের পুজো হয়ে থাকে। এই পুজো গোটা শ্রাবণ মাস চলতে থাকে। সোমবার করে নানান জায়গায় ধুমধাম করে পুজো করা হয়। বাড়ির মহিলারা থেকে শুরু করে পুরুষ সবাই ব্রত পালন করে শিবের পুজো করে। আবার অনেকে উপোসও থাকে ।কারণ শ্রাবণ মাসকে শিব ঠাকুরের জন্ম মাস হিসাবে ধরা হয়।
গত সোমবারের আগের সোমবার আমার শরীর ভীষণ খারাপ থাকায় পুজো দিয়ে এসে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সেদিনকেই ডাক্তারের কাছেও গিয়েছিলাম কিন্তু এই সোমবার আমার শরীর একদম ঠিকঠাক। তাই সকালবেলায় উঠে তাড়াতাড়ি স্নান সেরে চলে গেলাম আমার ছোট ভাই ঈশান কে নিয়ে পুজো দিতে। যেহেতু এই সোমবার আমার পরীক্ষাও ছিল ,ঈশানের স্কুল ছিল তাই মা আর পূজা দিতে যায়নি। আমি পুজো দিয়ে এসেছি।
সকাল সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ যাওয়াতে দেখলাম মন্দির প্রাঙ্গণ বেশ ফাঁকা। একজন দুজন করে পুজো দিয়ে যাচ্ছে। আমারও ফাঁকা ফাঁকায় পুজো দিতে ভালো লাগে ।গত সোমবারের পুজোর দিন ফাঁকা পায়নি, লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দিতে হয়েছে। কিন্তু এই সোমবার বেশ ফাঁকা মন্দির পেয়ে আরামে বসে পূজো দিতে পেরেছি।
আমাদের এই মন্দিরে নিত্য পুজো করার জন্য ব্রাহ্মণ উপস্থিত থাকে ।আর যেহেতু প্রতি সোমবারে পুজো হচ্ছে তাই আলাদা করে আরেকজন ব্রাহ্মণও রাখা হয়েছে। সেই ব্রাহ্মণ্যের উপস্থিতিতেই আমি ভালো করে পূজো দিলাম। অঞ্জলি দিলাম। ঠাকুরের কাছে আর কি চাইব, শুধু এটুকুই বললাম যেন তিনি সবসময় সাথে থাকেন।
শিব ঠাকুর কে প্রথমে ঘি ,মধু দিয়ে শিবলিঙ্গের চারিদিকে মাখিয়ে দিলাম। তারপরে দুধ ঢালতে হল। তারপর ফুল বেল পাতা দিয়ে পুজো দিলাম এবং তারপরে গঙ্গা জল দিয়ে আবার স্নান করিয়ে দিলাম। প্রতিটা ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ নানান রকমের মন্ত্র পড়তে লাগলো। সত্যি বলতে আমি অনেক জনকে দেখেছি অনেকগুলো করে দুধ ঢালতে ।আমার খুব খারাপ লাগে যে এত এত টাকার দুধ ঘি মধু সবাই এভাবে শিবলিঙ্গের ওপর ঢেলে দেয় ।মাত্রা অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। একটু আধটু ঠিক আছে। এই এত টাকার জিনিসপত্র যদি যাদের অভাব রয়েছে তাদেরকে দেওয়া যায় তাহলে হয়তো ভগবান ও সন্তুষ্ট হবেন।
সব কিছুরই নিয়ম রয়েছে। নিয়ম পালন করতে হয়। তাই বলে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি কোন সময় ঠিক না। আমি তাই অল্প করেই দুধ ঢালি। যেটুকু দরকার সেটুকু ।
যাইহোক, শিবের মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র আমি প্রত্যেকদিন আমার বাড়ির শিবলিঙ্গ পুজো করার সময় বলে থাকি। যত দিন যাচ্ছে সবকিছুর বাইরে থেকে যেন নিজেকে একেবারেই আলাদা মনে হয়। মনে হয় আসলে সত্যিই কিছু থাকবে না ,কিছু ছিলও না। আর কিছু নেই ও। শুধু একজনের অস্তিত্ব এবং একজনই বর্তমান তিনি হলেন স্বয়ং ঈশ্বর ,ব্রহ্ম। যার কোন আকার নেই। সেই শক্তির আরাধনা আমি সারাটা জীবন ধরে করে যাব।
ঈশান যেহেতু স্নান না করে গিয়েছিল তাই ও মন্দিরে উঠতেও পারেনি আর পূজোও দিতে পারেনি। মন্দিরের মাঝখানটায় বেশ বড় ফাঁকা জায়গা। ও সেখানে ওর সমবয়সী দুটো বাচ্চার সাথে খেলতে লেগেছিল। আমার আবদার করাতে ও দুটো তিনটে ছবি তুলে দিয়েছিল।
রবিবার দিনে আমি মেহেন্দি পড়েছিলাম ,তা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম ।মেহেন্দির রংটা কতটা সুন্দর ফুটেছে তা আপনারা নিজেরাই দেখুন। তার সাথে হাতের ওপরের মেহেন্দি ডিজাইন টা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলে গেছিলাম ,তাই সকালবেলায় ছবি তুলে রেখেছি শেয়ার করব বলে।
পুজো সেরে বাড়ি এসে খাওয়া দাওয়া করে রওনা দিয়েছিলাম পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষা হলে বন্ধুদের সাথে মিলেমিশে লিখেছি। না পারলে ওরা অনেক আমাকে সাহায্য করেছে। এই কোর্সে পড়ার কিছু নেই ।বানিয়ে বানিয়ে অনেক কিছুই লেখা যায়। তাই এসব পরীক্ষা নিয়ে অতটা চাপ নিইনি।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে পরীক্ষা হল থেকে কিছুটা দূরে এক জায়গায় খুব ভালো দই পাওয়া যায়। সেখানে বসে দই খেয়েছি ।আর তারপরে ফিরে এসেছি বাড়িতে। যখন পরীক্ষার হল থেকে ওই দোকানে যাচ্ছিলাম, খুব মামার বাড়ির কথা মনে পড়ছিল। কারণ ওই রাস্তা ধরেই মামার বাড়ি যেতে হয়। আমার মামার বাড়ি অনেক দূরে ।বছরে একবার যাওয়ার সুযোগ পাই। তাও কোন কোন বছর যাওয়া হয়ে ওঠেনা।
এ বছরও মামার বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠেনি। তাই মনটা খুব খারাপ লাগছিল ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়। কবে যে যেতে পারবো জানিনা। আপনাদের সাথে সোমবারের পুজোর দিনটা এবং পরীক্ষার কিছুটা মুহূর্ত শেয়ার করতে পেরে আমার নিজের খুব ভালো লাগলো ।সকলে ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
এই সোমবারের দিনও তুমি পুজো দিতে গিয়েছিলে ভালো করেছো। আমার এই সোমবারের দিন পুজো দেওয়া হয়নি। ইচ্ছে আছে আবার সেই সোমবার টা করার। আশা করি তোমার পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। ভালো থাকো। সুস্থ থাকো।
Due to unavoidable reasons, you are urgently requested to cancel the delegation from @streetshots. If delegation is not canceled within 36 hours, your account will be blacklisted.