কুমারী পূজার তাৎপর্য ও গুরুত্ব
সকাল সদস্যকে জানাই শারদীয় শুভেচ্ছা 🙏🏾।
দুর্গা পুজোর অষ্টমীতে শিশুকন্যা মাতৃ রূপে পুজো করা হয়। কুমারী পুজোর মূল লক্ষ্য মূলত মনের পশিলভাবকে সংযত রেখে নারীকে সম্মান জানানো। শিশু কন্যার পা পানিতে ধুইয়া লাল আলতা লেপা হয় ও তার চরণ স্পর্শ করে পূজারী ও ভক্তরা প্রণাম করেন। অষ্টমীর দিন শিশুকন্যা বা কুমারী কন্যাকে মাতৃ মূর্তির ন্যায় সাজানো হয়। কুমারী বালিকাকে লাল বেনারসী শাড়ি ও সোনার অলংকারে ভূষিত করা হয়। তারপর দেবী মূর্তির সামনে উচ্চ সিংহাসনে বসাইয়া আরাধনা করা হয়। পৃথিবীব্যাপী নারী সন্মান সংরক্ষণ কার্যকরী করার জন্য এই পূজার আয়োজন করা হয়। প্রকৃত দেবী রুপে কুমারী জাগ্রত হয়ে তার ভক্তদের অভয় দেন ও নির্ভরশীলতা প্রদান করে। শিশু কুমারীর পবিত্রতা বিশ্ব ভাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য স্থাপন করে।
প্রাচীন কাল থেকেই কুমারী পূজার প্রচলন ছিলো এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায় “কুমারীপূজাপ্রয়োগ” গ্রন্থে। কুলার্ণবতন্ত্র, যোগিনীতন্ত্র, দেবীপুরাণ, স্তোত্র, সহস্রনাম, কবচ, তন্ত্রসার, প্রাণতোষিণী,পুরোহিতদর্পণ প্রভৃতি ধর্মীয় গ্রন্থে কুমারী পূজার মাহাত্ম্য এবং পদ্ধতি বিশদভাবে বর্ণিত আছে। কুমারী পূজায় কোন জাতি, বর্ন, বা ধর্মভেদ নেই। ব্রাহ্মণ কুমারী সর্বত্র পূজিত হলেও কোথাও বলা নেই ব্রাহ্মণ কুমারী কেবল পূজনীয়। উইকিপিডিয়া
স্বামী সারদানন্দ লিখেছেন, ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব একদিন পঞ্চবটিতে বসিয়া দর্শন করিয়াছিলেন গঙ্গা বক্ষে দেবী দুর্গা আবির্ভূত হইয়া তাহার নিকট আসিয়া তাহার শরীরে বিলিন হইয়া গেলেন। পরে তিনি হৃদয় কে বলিয়া ছিলেন এই দেখ মা এসেছিলেন এই দেখ মাটিতে মায়ের পায়ের ছাপ। রামকৃষ্ণদেব আরও বলেছিলেন সব স্ত্রী লক্ষী ভগবতীর এক একটি রূপ। ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ স্বয়ং তার পত্নী সারদা মনিকে ষোড়শীরূপে পূজা করেছিলেন।
সম্ভবত এই ঘটনার কথা শরণ করে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে সারদা মায়ের অনুমতিতে দূর্গা পূজা প্রবর্তন করেন। ১৯০১ সালে স্বামীজি বেলুরড় মঠে প্রথম দূর্গা ও নয় জন কুমারীকে দেবী রূপে পূজা করেন। বর্তমানে কেবল একজন অনধিক ষোলো বছরের কুমারী পূজা করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলা শহরে প্রতিষ্ঠিত রামকৃ্ষ্ণ মিশনে কুমারী পূজার প্রচলন রয়েছে।
অসিত মহারাজ দীর্ঘদিন অদ্বৈত আশ্রম (Publication Centre of Belur Math) প্রধান অদ্ধক্ষ ছিলেন, ঐ সুবাদে আমরা পরিচিত পূজনীয় স্বামী বিভাত্মনন্দ, বর্তমানে দিনাজপুর রামকৃ্ষ্ণ মিশনে প্রধান কর্নধার।
প্রতিবছরের মত এ বছরও বেলুড় মঠ ও ভারত ব্যাপী অনেক শাখা মঠে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
আমার পোস্টটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
আপনার পোস্টটি পড়ে কুমারী পূজা সম্মন্ধে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
আমার পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আগে বাংলাদেশে কুমারী পূজা খুব বেশি একটা হতো না। তবে ইদানীং এর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।আমাদের এলাকায়ও আগে কখনো দেখি নাই কিন্তু এবার হয়েছে জানতে পারলাম। কুমারী পূজা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা ছিলো না আমার।
আপনার লেখা পড়ে জানতে পারলাম। এজন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমার পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।