সমুদ্রের কচ্ছপ ডিম পাড়ার জন্য কয়েক কি.মি. দূরত্ব অতিক্রম করে।
'কাইঠা'- সমুদ্র কচ্ছপের চলতি বাংলা নাম। নাম শুনেই বোঝা যায় এরা সমুদ্রের বাসিন্দা। আর হ্যাঁ-প্রায় সারাটা জীবন এরা কাটায় সমুদ্রে, আর প্রজননের সময় উঠে আসে সমুদ্র সৈকতে। সারা পৃথিবীতে সাত রকমের সমুদ্র কচ্ছপ আছ। আর এর মধ্যে আমাদের বঙ্গোপসাগরে দেখা মেলে পাঁচরকম প্রজাতির। এরা হল- লেদারব্যাক টারটল, অলিভ রিডলি, হকসবিল, লগারহেড ও গ্রিন টারটল।
সমুদ্র কচ্ছপেরা বাঁচে প্রায় একশো বছর। ওজনে কখনও কখনও হয়ে থাকে প্রায় পাঁচশো কেজি। এদের সবচেয়ে বেশী দেখা মেলে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস অবধি। এরা সমুদ্রে বাস করলেও এই সময়ে বিশেষত : মেয়ে কচ্ছপেরা ডিম পাড়ার জন্য চলে আসে সমুদ্রের বালুতটে। তটের বালি সরিয়ে গর্ত করে এরা একসঙ্গে প্রায় একশোটা ডিম পাড়ে। ডিম পাড়া হয়ে গেলে ডিমগুলো বালি দিয়ে ঢেকে রেখে আবার ফিরে যায় সমুদ্রে। ডিম পাড়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশের খোঁজে এরা কখনও কখনও কয়েক কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে।
কচ্ছপের খাবার বেশ ভিন্নরকম। এরা শাক পাতা,লেটুস, শসা, কলা, আপেল, স্ট্রবেরি থেকে শুরু করে শামুক, ঝিনুক, মাছের আঁশ,হাড়, স্কুইড সহ অন্যান্য জলজ প্রাণী খেয়ে থাকে।হযরত শাহজালালের মাজারের দরগা শরীফের কচ্ছপ গুলোকে হালুয়া, রুটি, কলা ও অন্যান্য ফল খেতে দেখেছি।
সুদূর প্রাচীনকাল থেকে মানুষ সমুদ্রের কচ্ছপের মাংস, ডিম, তেল অবাধে খেয়ে আসছে। এদের চামড়া পাকা করে তৈরী করছে বিভিন্ন জিনিস । তেল দিয়ে সাবান ও প্রসাধনী দ্রব্যও তৈরি হয়। দেহের ওপরকার খোলস ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন কাজে । সমুদ্রে এদের ধরার জন্য নানা পন্থা চালু রয়েছে।
প্রায় ৩০০ থেকে ১০০০ মিটার লম্বা নাইলনের দড়িতে দেড় থেকে দুই সে.মি. দূরে দূরে কয়েক হাজার বড়শী ঝুলিয়ে প্রধানতঃ এদের শিকার করা হয়। ঐ লম্বা দড়ি সমুদ্রের জল নির্দিষ্ট গভীরতায় ডোবানো হয়। তার জন্য বয়া জাতীয় জিনিস এবং পাথরের ভার ব্যবহার করা হয়।
এখানে নির্দিষ্ট গভীরতায় বড় বড়শি ঝোলানোর অর্থ হলো,ঐ গভীরতায় কচ্ছপ বা যেকোন প্রাণী সাঁতার কাটলে এলোপাথাড়ি গেঁথে যাবেই। ৩/৪ ঘণ্টা পরপর ঐ দড়ি পাড়ের দিকে টেনে আনা হয় এবং দেখা হয় কচ্ছপ উঠেছে কিনা।বর্তমানে নাইলনের জাল ফেলে ট্রলার দিয়ে ইলিশ মাছ ধরার মতো কচ্ছপও শিকার করা হয়।
Pexels
সমুদ্র কচ্ছপের এমন অবাধ শিকারের ফলে আজ এদের অস্তিত্ব নিয়ে পড়েছে টানাটানি। ইদানিং ‘অলিভ রিভলি' ছাড়া অন্য কোন সমুদ্র কচ্ছপের দেখা মেলা ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার ‘রেড ডাটা বুক’-এ স্থান মিলেছে ছয় প্রজাতির। আমার জানামতে, বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুসারে সমুদ্র কচ্ছপ ধরা ও বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ ।
আপনি খুব সুন্দর ভাবে কচ্ছপ ধরার পদ্ধতি আপনার পোস্টটি মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। এবং কচ্ছপ এখন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নির্বিচারেএই কচ্ছপধরছে। এর ফলে হুমকির সম্মুখীন এই উপকারী প্রানীটি। ধন্যবাদ আপনাকে।
কাইঠা'- সমুদ্র কচ্ছপের চলতি বাংলা নাম এটা আমি আগে জানতাম না এবং আপনি আরো অনেক কিছুই কচ্ছপ সম্পর্কে বলেছেন যেগুলো আমার একদমই অজানা ছিল।।।
আপনার পোস্টটি পড়ে আমি অনেক অজানা তথ্য পেলাম কচ্ছপ সম্পর্কে খুবই ভালো লেগেছে পোস্টটি পড়ে।।
আজকে আপনি আমাদের সাথে আমার অজানা একটা তথ্য আলোচনা করেছেন। আমি কখনোই কচ্ছপের ডিম পাড়া সম্পর্কে কোন রকম কোন ধারণা সংরক্ষণ করিনি। কিন্তু আজকে আপনার পোস্ট পড়ে কচ্ছপের ডিম পাড়া সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। সেই সাথে তারা কি কি খাবার গ্রহণ করে,,, সেটাও বুঝতে পারলাম।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে,, এই অজানা তথ্য গুলো আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল। ভালো থাকবেন।