তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ
হ্যালো আমার বাংলা ব্লাগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে বর্তমানে খানিকটা সুস্থ রয়েছি। তাবে এই কয়েকদিন ধরেই যে পরিমাণে গরম পড়েছে এতে করে কোনভাবেই ভালো থাকতে পারছে না। বরঞ্চ সবারই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে এই গরমকে ঘিরে।
বাসায় এসেছিলাম ঈদেরও ১০-১৫ দিন আগেই। আসার পরেও খুব একটা বৃষ্টি হতে দেখিনি নীলফামারী শহরে। এরপর থেকেই আস্তে আস্তে প্রতিনিয়তই দিনের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলো। মাঝে মাঝে অবস্থায় এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে আসলে বাসা থেকে বের হওয়াটাই মুশকিল হয়ে যাচ্ছিল। এমনকি আশেপাশে যে বাতাস বই ছিল সেই বাতাসের মধ্যেও একটা আলাদা ধরনের ভাব ছিল, যে ভাবের কারণে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে গেছে।
ঈদের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই গরম প্রচন্ড ছিল। কিন্তু গরম থাকা সত্ত্বেও সে গরমটা খুব বেশি একটা অনুভূতি হয়নি। কারণ তখন প্রচন্ড বাতাস বইছিল। কিন্তু ঈদের দুই এক দিন আগে থেকেই বাতাস ও একদম কমে গেছে। গাছের কোন পাতা নড়ছিল না। এতে করে গরমের প্রকোপ মনে হয় হাজার গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের নীলফামারী অঞ্চলের হিট স্টোক করে একজন মানুষ মারা গিয়েছিল। উনার বাসা আমাদের এই দিকেই এবং ঈদের জামাতের পরে তার জানাজার নামাজও আমরা আদায় করেছিলাম। একবার চিন্তা করে দেখুন কি পরিমান গরম পরলে সেই গরমে মানুষ পর্যন্ত মারা যাচ্ছে।
প্রত্যেক বয়সের মানুষেরাই এই গরমের জন্য অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। বিশেষ করে সবথেকে কষ্টকর বিষয় হচ্ছে যারা খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছে, দৈনিক বিভিন্ন কাজে তাদেরকে বাহিরে যেতে হয়। তাদের জন্য এই সময়টা অনেকটা জাহান্নামের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাহিরে না গেলে না খেয়ে থাকতে হবে, আর বাহিরে গেলে রোদে পুড়ে যেতে হবে। সবমিলিয়ে অনেকটা কষ্ট করে একটি সময়ের মধ্যেই আমাদের এলাকার মানুষেরা বর্তমানে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে।
গতকাল নামমাত্র একটু বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু সেই বৃষ্টির পরে মনে হচ্ছে যেন মাটি থেকেও আলাদা একটি গরম চলে আসছে। এতে করে তাপমাত্রা ৩৫-৩৬ দেখালেও সেটা অনুভূতি হচ্ছে ৪৬ কিংবা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেটা আসলে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে দেখাচ্ছে। এতে করে আমাদের যে কি অবস্থা হচ্ছে একবার কল্পনা করলেই বোঝা যায়। বিশেষ করে যারা উত্তরাঞ্চলের মানুষ রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই এই গরমের সাক্ষী হয়ে আছে। আশা করা যায় খুব দ্রুতই বৃষ্টি নামবে এবং সম্পূর্ণ হাওয়াকে শীতল করে দেবে।
এই গরমের কারণে কিন্তু আমরা প্রায় অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও ঘামাচির মত গুটিগুটি অনেক ধরনের সমস্যা কিন্তু আমরা শরীরের মধ্যে দেখতে পারছি। বিশেষ করে আমার কিন্তু গরম খুব একটা বেশি সহ্য হয় না এবং মাত্রা অতিরিক্ত গরম পরলেই আমার শরীরের নানান ধরনের সমস্যা দেখা শুরু করে। তাই তো বাসায় থেকেও কোথাও বের হতে পারছি না। কারণ বাইরে প্রচন্ড গরম তারপরও জীবনযাত্রায় তো আমাদেরকে ঝাঁপিয়ে পড়তেই হবে। এই তো আগামীকালই আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছি। এর পরেই হবে আর এক যুদ্ধ শুরু। আপনাদের এলাকায় কি ধরনের গরম পড়ছে? সেটা অবশ্যই মন্তব্য জানাতে পারেন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ......
@alsarzilsiam, আপনার এই পোস্টটি পড়ে নীলফামারীর অসহনীয় গরমের চিত্রটি যেন চোখের সামনে ভেসে উঠলো! গরমে মানুষের কষ্ট, হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর খবর—সবকিছু খুব বাস্তবভাবে তুলে ধরেছেন। ছবিগুলোও পরিস্থিতি বোঝাতে দারুণ সাহায্য করছে।
আপনার এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে যে কষ্টের কথা বলেছেন, তা খুবই স্পর্শকাতর। এই গরমে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবে খারাপ লাগছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে অসুস্থ হওয়াটা স্বাভাবিক। নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখুন। ঢাকায় যাত্রা শুভ হোক, আশা করি সেখানকার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো থাকবে।
আপনার পোস্টটি তথ্যপূর্ণ এবং মানবিক। এমন বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। আপনার এলাকার গরমে কেমন অবস্থা, তা জানতে চেয়েছেন। মন্তব্য করে সবাই নিশ্চয়ই জানাবে।
ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার আগে মোটামুটি বেশ বৃষ্টি হয়েছিল। কিছু বাড়ি যাওয়ার পরে কোন বৃষ্টির দেখা নেই। কী এক অসহনীয় গরম বলে বোঝানোর মতো না। বেশ সুন্দর লাগছে আপনার পোস্ট টা। ধন্যবাদ আমাদের সাথে পোস্ট টা শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।
ঘটনাটি জেনে খুব খারাপ লাগলো। তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক করার ঘটনা মাঝেমধ্যে শোনা যায়। আসলে এখন গরমের তীব্রতা খুবই বেশি। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা একটু কমে,তাছাড়া গরমে জীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। যাইহোক সময়োপযোগী একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।