আমার ছোট ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে একদিন।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ সোমবার। ১০ এপ্রিল, ২০২৩ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, সুস্থতা মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে বিশেষ একটি নেয়ামত। আমরা প্রত্যেকেই সব সময় সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে পছন্দ করি। কিন্তু দিনশেষে আমাদের প্রধান পরিচয় হলো রক্ত মাংসে গড়া পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী। আর রক্তে মাংসে গড়া সকল প্রাণীকেই বিভিন্ন রোগের সম্মুখীন হতে হয়। ঠিক তেমনি আমরা মানুষ জাতি বিভিন্ন রোগের সম্মুখীন হয়। আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন রোগের সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি এবং আমাদের স্বাভাবিক কাজকর্মগুলো করার চেষ্টা করছি। কিন্তু তারপরেও আমরা আমাদের জীবনকে স্বাভাবিক রাখতে পারছি না বিভিন্ন রোগের কারণে। আর বর্তমান সময়ে এসে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। যাহোক, এসব বাদ দিয়ে মূল কথায় যাওয়া যাক।
আমার ছোট ভাইয়ের নাম সুমন (#sumon09). আমার ছোট ভাইয়ের বাম পায়ে একটি ক্ষত রয়েছে। ক্ষতটি সৃষ্টি হয়েছিল আমার ছোট ভাইয়ের বয়স যখন সাড়ে চার বছর মতো ছিল তখন। ছোটবেলায় খেলা করার সময় বাম পায়ে একটি খোঁচ ঢুকে গিয়েছিল। তারপর ওই সময়কার চিকিৎসকের চিকিৎসা নেওয়ার ফলে পায়ের উপরে অংশে একটি ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং একটি পায়ের আঙ্গুল তুলনামূলক ছোট হয়ে যায়। তারপর আস্তে আস্তে আমার ছোট ভাইয়ের বাম পা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও পায়ে ক্ষত চিহ্ন থেকে যায়। যাহোক তারপর আর কোন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ২২-২৩ বছর পর গত কয়েকদিন যাবত আমার ছোট ভাইয়ের বাম পায়ের ক্ষতস্থানে খুবই ব্যথা অনুভূত হতে থাকে। ব্যথার সাথে মাঝেমধ্যে যন্ত্রণা শুরু হয়। আবার আজ সকালে দেখি পায়ের ক্ষতস্থানটি বেশ ফুলে গিয়েছে। তাই আজ আমি আমার ছোট ভাইকে নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার জন্য আমাদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম।
আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ গিয়ে প্রথমে আমি আমার ছোট ভাইকে নিয়ে জরুরি বিভাগে যায়। সেখানে দেখলাম একজন ভালো মানের ডাক্তার আছে। তারপর জানতে পারলাম তিনি একজন মেডিকেল অফিসার। জরুরী বিভাগে ঢুকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো আমাদের। তারপর ডাক্তার সাহেব আমার ছোট ভাইয়ের বাম পা টি ভালোভাবে দেখলেন এবং ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার পূর্বের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তারপর তিনি আরো জানলেন যে, ক্ষতস্থানে কতদিন যাবত ব্যথা এবং যন্ত্রণা হইতেছে। তারপরে ডাক্তার সাহেব আমাদের আশ্বস্ত করলেন এবং বললেন, ভয়ের কোন কারণ নেই। দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে তবে আপনার ভাইকে কয়েকটা ব্লাড টেস্ট করাতে হবে।
তারপর ডাক্তার সাহেব একটি ছোট্ট কাগজে রক্তের যে দুইটা টেস্ট করানো প্রয়োজন সেটা লিখে দিলেন। রক্তের প্রথম পরীক্ষাটি ছিল- RBS, আর দ্বিতীয় পরীক্ষাটি ছিল- HBsAG. তারপর আমি ডাক্তার সাহেবকে বললাম, স্যার, কোথায় ব্লাড দিতে আমার ভাইকে নিয়ে যাব। কিন্তু ডাক্তার সাহেব উত্তর দিলেন, আমাদের এখানে রক্তের এই টেস্ট গুলো করানো হয় না। তিনি আরো বললেন, আপনাদেরকে একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে রক্তের পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্টটি এখানে নিয়ে আসবেন। সরকারি হাসপাতাল অথচ রক্ত পরীক্ষা করানোর কোন ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি জানতে পেরে আমার খুবই খারাপ লাগলো। তারপর আমার ছোট ভাইকে নিয়ে আমাদের গাংনী শহরের একটি ভালো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলাম।
আসলে বর্তমান সময়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার মানেই রমরমা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর এরকম প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য থাকে বিভিন্ন রোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। যাহোক, বাধ্য হয়ে আমি আমার ভাইকে ব্লাড টেস্ট করানোর জন্য আমাদের গাংনী শহরের একটি নামকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলাম। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামটি হলো 'সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার'। তারপর সেখানে ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে ব্লাড টেস্ট করানোর জন্য আমি ৬৫০ টাকা জমা দিলাম। তারপর একজন মহিলা এসে ব্লাড কালেকশন করে নিল। ব্লাড দেওয়ার পরে আমি এবং আমার ছোট ভাই অনেকক্ষণ সময় রিপোর্ট পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। অপেক্ষার সময় আমি ভাবতে লাগলাম যে, বর্তমান সময়ে মানুষের সেবা দেওয়ার নাম করে এক ধরনের ফাঁদ পেতে রেখেছে কিছু সুবিধাবাদী মানুষের। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সেবা দেওয়ার নামে টাকা উপার্জন করা। আর বর্তমান সময়ে বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে ভালো মানের চিকিৎসা দেওয়ার কোন ব্যবস্থাই নেই। যাহোক, আমার ছোট ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করতে দেওয়ার পর আমি খুবই দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।
তারপর, বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আসলো। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট থেকে জানতে পারলাম যে আমার ছোট ভাইয়ের রক্তে কোন ধরনের সমস্যা নেই। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টটি শুনে আমি মনে এক ধরনের প্রশান্তি পেলাম।
তারপর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টটি হাতে নিয়ে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের ডাক্তার সাহেবের কাছে নিয়ে গেলাম। ডাক্তার সাহেব রিপোর্টটি দেখে সন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন, আগেই বলেছি ভয়ের কোন কারণ নেই। তারপর তিনি আমার ছোট ভাইয়ের জন্য একটি প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দিলেন। তারপর ওষুধগুলো সঠিক নিয়ম অনুসারে খাওয়ার জন্য সুপরামর্শ দিলেন। পাশাপাশি আমার ছোট ভাইকে হাটাহাটি করতে কম বললেন এবং বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় এবং বসে থাকা অবস্থায় বাম পা টি একটু উঁচু করে রাখার পরামর্শ দিলেন.
হাসপাতাল থেকে আমি দ্রুত একটি ফার্মেসিতে চলে গেলাম। সেখান থেকে আমার ছোট ভাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো ক্রয় করলাম। তারপর আমরা দুই ভাই মিলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আপনারা আমার ছোট ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন যাতে আমার ছোট ভাই দ্রুত আরোগ্য লাভ করে। আর আপনাদের বাড়িতে যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনারা আপনাদের বাচ্চার প্রতি আরো বেশি সতর্ক থাকবেন এবং যত্ন নিবেন। বাচ্চাদের চলাচল এবং খেলাধুলা করার সময় যাতে বাচ্চাদের পায়ে কোন ধরনের খোঁচ কিংবা কাটা ঢুকতে না পারে, সেই জন্য আপনারা অবশ্যই আপনাদের বাচ্চাদের পায়ে জুতা অথবা স্যান্ডেল দিয়ে দিবেন। আর সার্বিক সুস্থ থাকতে আমাদের সকলের উচিত আমাদের শরীরের প্রতি আরো বেশি যত্নবান হতে হবে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Twitter link
আপনার ছোট ভাইয়ের জন্য দোয়া রইল যাতে আল্লাহ তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দেন। আর ডাক্তাররা যদি কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয় তখন রিপোর্টগুলো আসলে আমাদের খুবই ভয় লাগে যে কোন খারাপ কিছু আছে কিনা। যাইহোক রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো এসেছে এবং ডাক্তারও ভালো হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেনে আমার কাছেও ভালো লাগলো। এখন সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ব্যবস্থা খুব কমই থাকে এগুলো বেশিরভাগ বাহির থেকে করানো হয়। আপনার হাসপাতালে কাটানোর মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আপু।
প্রথমেই আপনার ছোট ভাইয়ের সুস্থতা কামনা করছি।যেহেতু রিপোর্ট ভালো তাহলে ঠিকমতো মেডিসিন নিলে ইনশাল্লাহ দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন।আর রিপোর্ট গুলো করানোর ব্যবস্থা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে থাকেনা তাই ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে যেতে হয়। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আপনাদের দোয়ায় আমার ছোট ভাই সুস্থ হয়ে উঠবে ইনশাল্লাহ। গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া আপনার ছোট ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য গাংনী উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে ভালই ছোটাছুটি করলেন। হাসপাতালে গেলেই কত গুলো টেষ্ট ধরিয়ে দেয়। আর ক্লিনিক মানে তো আপনি বললেন রমরমা ব্যবসা। তারা জনগনের পকেট কাটার জন্য বসে থাকে । যায়হোক সব শেষে আপনার ভাইয়ের রক্তে কোন প্রবলেম নেই জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ ভাইয়া।
জি ভাইয়া সেদিন ছোট ভাইয়ের জন্য ছুটাছুটিটা বেশ ভালোই হয়ে গিয়েছিল।
সুমন ভাইয়া আপনার ছোট ভাই জানতাম না।যাইহোক উনার পায়ের অবস্থা দেখে খারাপ লাগলো।আসলে ছোটবেলার ক্ষত দ্রুত না সারালে বড় বেলায় ভোগান্তিতে ফেলে দেয়।কিন্তু উনার পায়ের আঙ্গুল খোঁচা ঢোকার ফলে এমন ছোট হয়ে গেল কিভাবে!আমার মনে হয় চিকিৎসকের ভুল ছিল।যাইহোক একদল ব্যবসায়ী টাকা খাওয়ার লোভে ওত পেতে থাকে সবসময়।আপনার ভাইয়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি, শুভকামনা রইলো।
সুমন আমার ছোট ভাই। আমার ছোট ভাই সুস্থতা কামনা করার জন্য আপু আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
জীবন যখন যে অবস্থায় দাঁড়ায় সেটাকে মেনে নিতে হবে। অনাকাঙ্খিতভাবে হঠাৎ একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। তবে সমস্যা না থাকলে মানুষ তো ভালো মন্দ নির্ণয় করতে পারে না। হয়তো এই সমস্যা আমার জীবনে কালো হয়ে দাঁড়াতে পারে অথবা ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে। তবে এখানে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই, এটাকে বলা হয় জীবন।
তোমার জন্য আমরা সবাই ভালোটাই প্রত্যাশা করি।