হোলি উৎসব ও আমার জন্য ন্যাড়া পোড়ানোর গল্প❤️

in আমার বাংলা ব্লগlast year (edited)

হ্যালো

কেমন আছেন সবাই। আশা করছি খুবই ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও ভালো আছি সুস্থ আছি আপনাদের আশির্বাদে ও সৃষ্টি কর্তার কৃপায়।
আমি @shapladatta বাংলাদেশ থেকে। আমার বাংলা ব্লগের একজন ভেরিফাই নিয়মিত ইউজার। আমি গাইবান্ধা জেলা থেকে আপনাদের সঙ্গে যুক্ত আছি।
আজ আমি আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো হোলিউৎসব ও আমার জন্য ন্যাড়া পোড়ানোর গল্প। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

বাংলাদেশে হোলিউৎসব উৎসব মূখর পরিবেশে হয় না বল্লেই চলে।গ্রাম গুলোতে তো একদমই বোঝার উপায় নেই।আমাদের হোলিউৎসব মানে ঠাকুর কে ভোগ নিবেদন করা বাড়ির বড়োদের পায়ে আবির দিয়ে প্রনাম করা আর খুবই ছোট বাচ্চারা একটু মজা করে রং দিয়ে।

প্রতিবছর দেশের বড়ো বড়ো মন্দির গুলোতে হোলি উৎসব হতো যেমন ঢাকেশ্বরী মন্দির কিন্তুু এবার দুঃখজনক হলেও সত্যি যে হোলি খেলা নিষিদ্ধ করেছে মন্দিরে এটাই দেখতে পেলাম ফেসবুকে টিভিতে এসব নিউজ তো হয় না তাই এখন সত্যি খবর গুলো ফেসবুকে পাওয়া যায়।

যাই হোক মহাজনেরা যা ভালো মনে করেন তাই মেনে নিতে হবে।আজকে হোলির দিনে একটি ঘটনা মনে পড়ে গেলো আর তাই আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো।

আমি তখন ছোট সাত আট বছর বসয় হবে।সার্কাস এসেছিলো আর আমার পিসি আমাকে লাল টুকটুকে একটি ফ্রেক বানিয়ে দিয়েছিলেন। আমি তখন আমার দিদুর বাবার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার প্যারিধাম জমিদার বাড়িতে থাকি।আমাদের সব উৎসব জমিদার বাড়িতেই কাটতো।জমিদার বাড়ির পাশে সার্কাস এসেছে আর পাশের এক কাকা আমার দিদুকে বলেছে আমাকে সার্কাস দেখাতে নিয়ে যাবে আর সেজন্য আমার পিসি আমাকে লালটুকটুকে ফ্রেক পাড়িয়ে দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে। ওই কাকার সাথে সার্কাস দেখে এসেছি আর আসার পর থেকে আমি অস্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করেছি।পেঁয়াজ রসুন,মাছ মাংসের গন্ধ একদম সহ্য করতে পারছি না।রাতে না কি বিরবির করে গল্পো করতাম কি সব অলৌকিক কথাবার্তা বলতাম।

এরকম একসপ্তাহ কেটে যায়।প্রথম প্রথম স্বাভাবিক মনে করলেও দিন দিন বেড়ে যায় সমস্যা। মাছ রান্না করলে গন্ধ লাগতো।নিরামিষ রান্না খেলে ভালো লাগতো।একদিন পুকুরের বিশাল বড়ো একটি মাছ ধরেছে আর সেই মাছের পেট ভর্তি ডিম ছিলো।আমার পিসি আমাকে জোর করে মাছের ডিম খাইয়ে দিয়েছিলো এবং সাথে সাথে আমি বমি করে দিয়েছিলাম এবং রাতে প্রচুর জ্বর চলে এসেছিলো।মাছ খাওয়ালেই জ্বর আসতো এবং বমি হতো। এখন সবাই অস্বাভাবিক জ্বর ভেবে নিয়ে জমিদার বাড়িতে যে পুরহিত আসতেন রাধাবল্লভে পূজা দিতে তার শরণাপন্ন হলেন এবং তিনি জানালেন যে দৃষ্টি পড়েছে এই বাচ্চার উপরে ভেরার ঘরের। ভেরার ঘর জমিদার বাড়ির এক মন্দির। মন্দির ছিলো না শুধু জায়গাটি ছিলো।জমিদারী যখন ছিলে তখন দোলপূর্ণিমায় সেই মন্দিরে পূজা হতো এবং ন্যাড়া পোড়ানো হতো।ন্যাড়া পোড়ানোর মাধ্যমে অশুভ শক্তিকে ধংস করা হয় এটাই বিশ্বাস। কাশ ফুল গাছের খরের একটি ঘর তৈরি করে পূজা করা হতো এবং একটি ক্ষীরের ভেরার পাঠা তৈরি করে আহুতি দেয়া হতো আগুনে এবং সেই প্রসাদ সবার মাঝে বিলিয়ে দেয়া হতো।সেই মন্দিরের নাম ভেরার ঘর। ভেরা বানিয়ে আহুতি দেয়া হতো জন্য সবাই ভেরার ঘর নাম বলতো স্থানটির।পুরোহিতের ভাষ্যমতে আমি যখন লাল টুকটুকে ফ্রেক পড়ে এই স্থান দিয়ে সন্ধ্যায় যাচ্ছিলাম তখনি নাকি আমাকে দৃষ্টি দিয়েছে ভেরার ঘরের অশুভ শক্তি আর সেজন্য এসব হচ্ছে।

আমার দিদু এর সমাধান চাইলো পুরোহিতের কাছে পুরোহিত তখন বলে দিলেন এই অসুস্থতা তখনি ভালো হবে যখন দোলপূর্ণিমায় ঐ স্থানে ন্যাড়া পোড়াতে হবে কাশিয়ার খড় দিয়ে কাশিয়া হচ্ছে কাশফুলের গাছ ক্ষীরের ভেরার পাঠা তৈরি করে তা আহুতি দেয়া হবে এবং অসুস্থ বাচ্চাটির মাধ্যমে আহূতি দেয়া ক্ষীরের ভেরার প্রসাদ সবাইকে বিলিয়ে নিজে খাবে।

দিদু তো খুবই চিন্তিত কারণ দোল আসতে অনেক দেরি।কি আর করার দোলপূণিমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো ও আমাকে নিয়ে কষ্ট পোহাতে থাকলো পরিবারের সবাই। এরপর সেই কাঙ্খিত দোল চলে আসলো এবং পূজার আয়োজন করা হলো।ক্ষীরের ভেরা বানানো হলো এবং পূজার পর ন্যাড়া পোড়ানো হলো এবং আহুতি দেয়া হলো সেই ভেরার।

নেড়াপোড়া হয়ে গেলে সেই ক্ষীরের ভেরা আমি সবার মাঝে বিলিয়ে নিজে প্রণাম করে খেলাম। আশ্চর্যের বিষয় হলো পরদিন থেকেই আমি স্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করলাম। মাছ, মাংসের গন্ধ আর কোন সমস্যা হচ্ছে না।তখন সবাই বিষয় টা ক্লিয়ার হলো যে সত্যি আমাকে যে অশুভশক্তি টি দৃষ্টি দিয়েছিলো তার নাশ হয়েছে ন্যাড়া পোড়ার মাধ্যমে।আসলে কিছু কিছু জিনিস আছে যা সত্যি।
সবাইকে দোলপূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি আবারও দেখা হবে অন্য কোন নতুন পোস্টের মাধ্যমে।
সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ ও নিরাপদ থাকুন হ্যাপি হোলি।

টাটা

পোস্টবিবরণ
পোস্ট তৈরি@shapladatta
শ্রেণীজেনারেল রাইটিং
ডিভাইসOppoA95
লোকেশনবাংলাদেশ

photo_2021-06-30_13-14-56.jpg

IMG_20230826_182241.jpg

আমি হৈমন্তী দত্ত। আমার স্টিমিট আইডিরঃshapladatta. জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। শখঃবাগান করাও নিরবে গান শোনা,শপিং করা। ভালো লাগে নীল দিগন্তে কিংবা জোস্না স্নাত খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে।কেউ কটূক্তি করলে হাসি মুখে উড়িয়ে দেই গায়ে মাখি না।পিছু লোকে কিছু বলে এই কথাটি বিশ্বাস করি ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।বিপদকে ও অসুস্থতার সাথে মোকাবেলা করার সাহস রাখি সহজে ভেঙ্গে পরি না। সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করি আর মনে প্রাণে বিশ্বাস করি পর হিংসা আপন ক্ষয়। ধন্যবাদ ।

A5tMjLhTTnj4UJ3Q17DFR9PmiB5HnomwsPZ1BrfGqKbjddgXFQSs49C4STfzSVsuC3FFbePnB7C4GwVRpxUB36KEVxnuiA7vu67jQLLSEq12SJV1etMVkHVQBGVm1AfT2S916muAvY3e7MD1QYJxHDFjsxQDqXN3pTeN2wYBz7e62LRaU5P1fzAajXC55fSNAVZp1Z3Jsjpc4.gif



IMG_20250307_183349.png

IMG_20250314_163231.jpg

Sort:  
 last year 

আপনার গল্পটি খুবই মজার এবং একদিকে প্রাচীন সংস্কৃতির একটি চমৎকার উদাহরণও। হোলির দিনে এমন একটি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া সত্যিই বিশেষ। ন্যাড়া পোড়ানোর মাধ্যমে কেমন করে অশুভ শক্তি দূর হয়ে যায়, সেটি আমাদের জীবনে একটি মজাদার এবং শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হিসেবে রয়ে যায়। আপনার এই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কিছু কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা আমাদের অদেখা বিশ্বাসের মাঝে লুকিয়ে থাকে। দোলপূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়ে, আমি আশা করি আপনি সুস্থ ও নিরাপদ থাকবেন। হ্যাপি হোলি!

 last year 

হ্যাপি হোলি আপু🥰

 last year 

PhotoCollage_1741971070265.jpg

 last year 

তোমার সঙ্গে তো তবে বেশ অলৌকিক একটি ঘটনা ঘটে গেছিল ছেলেবেলায়। তবে এই ধরনের ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে আমিও দেখেছি। অলৌকিক হলেও আসলে এইসব ঘটনার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। ভগবানের আশীর্বাদ এবং অভিশাপ বলে অবশ্যই কিছু আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। না হলে নেড়াপোড়া হওয়ার পর থেকে তোমার সমস্যা চলে যেত না। আসলে বর্তমান যুগের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় আমরা হয়তো এর মানে খুঁজে পাবোনা। কিন্তু অলৌকিক বিভিন্ন ঘটনার কথা আমিও শুনেছি।

 last year 

একদমই ঠিক বলেছেন দাদা অলৌকিক ঘটনার কোন বৈজ্ঞান ব্যাখ্যা নেই তবে তবে এরকম ঘটনা গুলো সত্যি।

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 65717.73
ETH 1776.52
USDT 1.00
SBD 0.42