আবোল-তাবোল জীবনের গল্প [ অভ্যাস ]
হ্যালো বন্ধুরা,
আমি মাঝে মাঝে কিছু বিষয়কে একটু বেশী হাইলাইট করার চেষ্ট করি কারন আমরা আমাদের জীবনের শিক্ষাটাকে সব সময় কাজে লাগাই না বা লাগাতে চেষ্টা করি না। এটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা, আমার দৃষ্টিতে। হয়তো আপনি বা আপনারা ভিন্নভাবে সেটা নিতে পারেন এবং ভিন্ন দৃষ্টিকোন হতে চিন্তা করতে পারেন। কিন্তু আমি যেটা মনে করি, সব সময় সেটা নিয়েই লেখার চেষ্টা করি। আমার লেখাগুলোর মাঝে বাস্তবতা থাকে, কারন আমি কল্পনা হতে বাস্তবতায় বেশী বিশ্বাস করি। এই জন্যই জীবন এবং জীবনের অভিজ্ঞতাগুলোকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি।
কিছু দিন পূর্বেও আমি নতুনদের নিয়ে কিছু অনুভূতি শেয়ার করেছিলাম কারন তাদের কিছু দৃষ্টিভঙ্গি আমার কাছে ভালো লাগে নাই। তাই বিষয়টি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলাম, যাতে তারা কিছুটা হলেও নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন। আসলে আমরা মানুষ, প্রতিনিয়ত নানা বিষয়ের সম্মুখীন হই, নানা অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাই এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মাধ্যমে আরো বেশী সুবিধা অর্জন নিশ্চিত করতে পারি। কিন্তু সত্যি কি আমরা এই কাজটা করি? কিংবা করার চেষ্টা করি?
চিন্তা করুন তো একটু, আরো একটু চিন্তা করুন? তারপর উত্তরটি দেখুন, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে উত্তর আসবে নেগেটিভ। কারন আমরা আমাদের অর্জিত অভিজ্ঞতাগুলোকে কখনোই মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি না, বরং আমরা আমাদের অভ্যেসগুলোর কাছে এক প্রকাশ জিম্মি হয়ে থাকে, সেখানে হতে বের হতে পারি না কিংবা চেষ্টা করি না। কি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে? দেখুন কোন একটা হেলথ নিউজ আপনার মস্তিস্ককে কিছুটা নাড়া দিলো এবং আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন এখন হতে আর দেরী করে ঘুমাতে যাবো না, প্রতিদিন তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাবো।
কিন্তু একদিন পরেই আপনি সেটা বেমালুম ভুলে যাবেন এবং পূর্বের অভ্যেসগত কারনে দেরীতে ঘুমাতে যাবেন। বিষয়টি একটা উদাহরণ ছিলো মাত্র, এই রকম অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে আমার কাছে, যেগুলোর খারাপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমরা জানি কিন্তু তবুও সেখান হতে ফিরে আসতে পারি না। কারণ ঐ যে আমি বল্লাম আমরা খাবার অভ্যেসগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে আছি। প্রসঙ্গক্রমে এখানে একটি কথা বলে রাখছি, সময়কে বলা হয় আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক, কারন সময় প্রতিটি ক্ষনে ক্ষনে আমাদের নতুন কিছুর স্বাদ এনে দেয়, নতুন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়।
কিন্তু আমরা সময়ের গতির সাথে সাথে এগিয়ে যাই এবং সেই শিক্ষাগুলোকেও হারিয়ে ফেলি, একদমই ভুলে যাই। বাস্তবতা হলো আমরা নিজেরাই নিজেদের তৈরী অভ্যেসগুলোর কাছে পরাজিত, আমারা আমাদের খামখেয়ালিপনার মাধ্যমে এই অভ্যেসগুলোকে প্রশ্রয় দেই এবং একটা সময় এই অভ্যেসগুলোর প্যাচে আটকা পড়ে যাই। এর জন্য কাকে আপনি দায়ী করবেন? চেষ্টা করে দেখুন কাউকে দায়ী করার সুযোগ পাবেন না, ঘুরে ফিরে আঙ্গুলটি আপনার দিকেই নির্দেশ করবে। এটাই বাস্তব সত্য!
আমি জানি এই রকম অনেক খারাপ অভ্যেস আমার মাঝেও আছে, তবে আমি আপনার মতো অসহায়ত্ব প্রকাশ করি নাই কখনো, নিজেকে খারাপ অভ্যেসগুলোর কাছে সপে দেই নাই, বরং নিজেকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছি এবং পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি। কারণ আমি বিশ্বাস মানুষ সব পারে, যদি সঠিকভাবে সঠিক চেষ্টাটা করতে পারে। সময়ের কাজ সময়ে করার চেষ্টা করুন, সময়কে মূল্যায়ন করুন এবং সময় হতে শিক্ষা নিয়ে সেটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
আপনি আমি সবাই নিজের বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানি এবং বুঝি। সুতরাং আমরা যদি সেভাবে চেষ্টা করি তাহলে অবশ্যই খারাপ অভ্যেসগুলোকে ভালোতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবো। আজকের সময়টা হয়তো আপনার নিকট মূল্যহীন কিন্তু এই মূল্যহীন সময়টা আপনার আগামী দিনগুলোকে আলোকময় করে তুলতে পারে, আপনার ভবিষ্যতকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তাই নষ্ট না বরং সঠিক ব্যবহারের প্রতি মনোযোগী হোন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||



সম্পূর্ণ লেখাটাই সুন্দর হয়েছে খুব। তবে উপরের এই লেখাটি অতিরিক্তই ভালো লেগেছে আর কথাটি একদক ১০০% যুক্তিযুক্ত ছিলো।
ধন্যবাদ আপু, আপনার অনুভূতি ভাগ করে নেয়ার জন্য।
আমাদের জীবনের বর্তমানের উপর ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করে। তাই আমাদের সবার উচিত বর্তমান সময়ের সঠিক মূল্য দেওয়া। সময় থাকতেও যদি মূল্যহীন ভাবে জীবন যাপন করা হয় তবে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে। এই মূল্যহীন সময়টা আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন আলোকময় করে তুলতে পারে।
কথাগুলো খুব সুন্দর লিখেছেন ভাইয়া। ভাইয়া এ ব্যাপারে আপনার চিন্তা ভাবনার সাথে আমি একমত পোষণ করি। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার লেখার সাথে আপনার সহমত পোষণ করার জন্য।
জী ভাই, একদম বাস্তবধর্মী একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।কিছু কিছু কাজ খারাপ জানার পরেও আমরা সেগুলো অভ্যাসগত কারণে এখনো করে যাচ্ছি।সিগারেট খাওয়া ক্ষতিকর জানার পর অনেক এই সিগারেট খেয়ে যান প্রতিনিয়ত।এই ক্ষেত্রেও কিন্তু বলতে পারি যে অভ্যাসের কাছে জিম্মি হওয়ার কারণে আমরা এমন করছি।যারা অভ্যাসের কাছে জিম্মি হয়ে থাকে তারা জীবনে সফল হতে পারেন না।
সেটাই, আমাদের এই ধরনের খারাপ অভ্যেস হতে বের হয়ে আসতে হবে ভালো কিছু করার জন্য।
সত্যি বলতে ভাই আপনার গল্পটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। আপনার গল্পটির মধ্যে আমাদের শিক্ষানীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আসলে বর্তমানে আমরা সময়ের মূল্য দেয়না এই সময় যদি আমরা সঠিক এখন মূল্য দেই। তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের অনেক কাজে লাগবে। একসময় একসময় আমরা নিজেরা সকলেই বুঝতে পারি কিন্তু তখন হয়তো আমাদের এই অভ্যাসটা থেকে যায়। চেষ্টা করলে মানুষ সব করতে পারে তাই এখন থেকে আমাদের চেষ্টা করতে হবে এবং সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। আপনার গল্পটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। তার জন্য শুভকামনা রইল।
ভালো কিছু নিশ্চিত করতে চাইলে সময়ের মূল্য দেয়া জরুরী। ধন্যবাদ
আমি ও বাস্তবকে বেশি বিশ্বাস করি ভাইয়া।আপনার বাস্তবধর্মী লেখাগুলো আমার কাছে খুবই ভালো লাগে।কারণ এটারই প্রতিনিয়ত আমাদের সামনাসামনি হতে হয়।সত্যিই অভ্যেস বদলানো খুবই কঠিন বিষয়।তবুও চেষ্টার বিকল্প কিছু নেই।তাই আমাদের খারাপ অভ্যেসগুলি কষ্ট ও সময় লাগলে ও পরিবর্তন করা উচিত বাস্তবের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য।অনেক সুন্দর ব্যাখ্যা করেছেন ভাইয়া।ধন্যবাদ আপনাকে।
আমাদের সকলেরই উচিত, বাস্তবতাকে বেশী প্রধান্য দেয়া। ধন্যবাদ আপু
আপনার কথাগুলো সবসময় ভালো লাগে ভাইয়া৷ এইরকম অনেক পোস্ট পড়েছি, অনেক ভালো লাগে আপনার কথাগুলো। আর আজকের এই পোস্টেও আপনি অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন। আমরা চেষ্টা করলেই অনেক খারাপ অভ্যাস বদলে দিতে পারি। অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর মোটিবেশনাল কথাগুলো লিখার জন্য৷
সত্যি আমরা যদি একটু চেষ্টা করি তাহলে সব কিছু বদলে দেয়ার সক্ষমতা রাখি। ধন্যবাদ
অভিজ্ঞতা আর সুযোগকে বারবার হাত ছাড়া করার যে বদ অভ্যাস আমাদের রয়েছে সেটা আমরা সব সময় আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকি। অনেকে বলে, আমরা অভ্যাসের দাস কিন্তু আমার কাছে মনে হয় অভ্যাস মানুষের দাস কারণ আমরা এমন এক প্রাণী তারা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারি কিন্তু আমাদের সেই সদিচ্ছা খুব বেশি দরকার এবং আপনি খুব চমৎকারভাবে বিষয়গুলো কিছুদিন পূর্বে নতুনদের মাঝে শেয়ার করেছিলেন যা আজকে আরো বিস্তারিত ভাবে আপনার পোষ্টের মাধ্যমে শেয়ার করলেন। অনেক ধন্যবাদ।