মুক্তাগাছা হাটে ছাগল বিক্রি করার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা। (প্রথম পর্ব )
শুভ রাত্রি
আসসালামু আলাইকুম,
আমি @nazmul01 ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ থেকে।
হ্যালো "আমার বাংলা ব্লগ" পরিবার। কেমন আছেন সবাই? আশাকরি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে হাজির হলাম মুক্তাগাছা হাটে ছাগল বিক্রি করার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার প্রথম পর্ব পোস্ট নিয়ে। আশাকরি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করি।
আমি গত সপ্তাহে গিয়েছিলাম মুক্তাগাছা হাটে ছাগল বিক্রি করার জন্য। আমাদের ময়মনসিংহ জেলার মাঝে মুৃক্তাগাছা গুরু ছাগলের সবচেয়ে বড় হাট। অনেক ধরনের গরু ছাগল পাওয়া যায় সেই হাটে। প্রতি সপ্তাহে বুধবার হাট বসে, সকল ক্রেতা ও বিক্রেতা সে হাটে গবাদি পশু বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসেন। আমার ভাতিজা সখ করে লালন পালন করার জন্য একটি ছাগলের বাচ্চা কিনেছিল। আমার ভাতিজা যেহেতু ঢাকা থাকেন তাই আমার মা এই ছাগলটি লালন পালন করছিল প্রায় দুই বছর যাবৎ। এই ছাগলটি ছিল পাঁঠি,পাঁঠি মানে হলো মেয়ে ছাগল। দুই বছর লালন পালন করার পর আরোও একটি পাঁঠি ও খাসির বাচ্চা হয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা আরো দুই জন বেড়ে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমার মা বেশ কিছুদিন যাবত অসুস্থ। এই মুহূর্তে এই সকল ছাগলের পরিবারকে লালন পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই অনেক চিন্তা ভাবনা করে ছাগল গুলো বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করি। তাই আমি গত বুধবার মুক্তাগাছা হাটে নিয়ে যাই।
ছবির অবস্থান :- মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ সদর , বাংলাদেশ।
আমার মা ছাগল গুলো বিক্রি করতে আগ্রহী ছিল না। আমি মায়ের অসুস্থতার কথা চিন্তা করে জোর পূর্বক হাটে নিয়ে যাই। মা ছাগল গুলোকে হাটে নিয়ে যাওয়ার আগে কিছু কাঁঠালের পাতা খেতে দিয়েছিল। কাঁঠালের পাতা ছাগলের খুবই পছন্দ তাই সম্পূর্ণ পাতা নিমিষে শেষ করে দিয়েছিল। আমি ছাগল সম্পর্কে এতো কিছু ভালো করে বুঝিনা। বিক্রি করার তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। ছাগল ছিল তিনটি আমি একা এই সব গুলো ছাগলকে নিয়ে যেতে পারবো না। তাই আমার বন্ধু বিপ্লব এবং আমার কলিগ সোহাগ ভাইকে সঙ্গে নিয়ে যাই। সোহাগ ভাই ছাগল সম্পর্কে খুব ভালো জানেন এবং বিক্রি করার অভিজ্ঞতা আছে। তারপর আমরা ছাগল গুলোকে নিয়ে হাটের উদ্দেশ্যে রওনা করি।
ছবির অবস্থান :- মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ সদর , বাংলাদেশ।
আমরা সবাই মুক্তাগাছা হাটে গিয়ে ছাগল গুলোকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। হাটে বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় অনেক ছাগল উঠেছিল। সকল ছাগল বিক্রেতা তাদের ছাগলের রশি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি একটি ছাগল সোহাগ ভাইয়ের হাতে দিয়ে দিলাম, মা এবং বাচ্চা ছাগলটি আমি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অনেকই ছাগল কেনার জন্য আমাদের কাছে আসেন। কিন্তু আমরা যে দামে ছাগল বিক্রি করব, সে রকম দাম পাইনি। তাই বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু পাইকার সম্পূর্ণ বাজারকে গিড়ে ছিল। তাই ছাগল বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছিল। প্রায় ১ ঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু কোন ছাগল বিক্রি করতে পারেনি। আমরা তার পরও ধৈর্য নিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি।
ছবির অবস্থান :- মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ সদর , বাংলাদেশ।
বিকালের পড়ে আরও অনেক বেশি হাটে সবাই ছাগল নিয়ে আসেন। মুক্তাগাছা ছাগলের হাট একদম জমে যায়। অনেক মানুষের সমাগম হয়েছিল। কিন্তু কেউ আমাদের ছাগলের ন্যায্য দাম বলেনি। তাই বিক্রি করতে পারেনি, আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম আজ হয়তো ছাগল বিক্রি করতে পারবো না। তারপর হঠাৎ করে একজন ক্রেতা এসে আমার ছাগলকে বাচ্চা সহ পাঁচ হাজার টাকা দাম করে, আমি আরো কিছু বাড়িয়ে বলতে বলি। অবশেষে দাম কষা কষির পর ছয় হাজার টাকায় ছোট খাসির বাচ্চা ও মা ছাগলকে বিক্রি করে দিলাম, কিন্তু আশা অনুরোপ দামে বিক্রি করতে পারেনি। বিক্রি করার পর আমার কাছেও কষ্ট লাগছিল। আমার মা অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করেছিল। বাসায় আর এই ছাগল দেখতে পারবো না তাই মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু সোহাগ ভাইয়ের হাতে থাকা পাঁঠি ছাগল এখনো বিক্রি করতে পারিনি।
ছবির অবস্থান :- মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ সদর , বাংলাদেশ।
আমার হাতে থাকা ছাগল দুটি বিক্রি করার পর হাটের মাঝে আমার বন্ধু বিপ্লবের সঙ্গে একটি সেলফি নিয়ে ছিলাম। আমরা নিয়ত করেছিলাম সন্ধ্যা হলেও সবগুলো ছাগল বিক্রি করে বাড়িতে যাব। তাই পাঁঠি ছাগলটি বিক্রি করার জন্য কিছু সময় আমরা সবাই অপেক্ষা করি। যাইহোক আমি আজকে মুক্তাগাছা হাটে ছাগল বিক্রি করার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার প্রথম পর্ব আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। কেমন লেগেছে তা অবশ্যই জানাবেন? আপনাদের সবার মতামত আশা করছি। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিলাম। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ💞।
| বিভাগ | ভ্রমণ। |
|---|---|
| ডিভাইস | শাওমি রেডমি ৯। |
| বিষয় | মুক্তাগাছা হাটে ছাগল বিক্রি করার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা। (প্রথম পর্ব) |
| লোকেশন | মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ। |
| ফটোগ্রাফার | @nazmul01। |
আমি মোঃ নাজমুল হাসান, আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ জেলায় থাকি। আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি বাঙালি। বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে আমি গর্ব বোধ করি। আমি একজন শিক্ষার্থী এবং অনার্সে অধ্যয়নরত। আমি বর্তমানে বাংলাদেশে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছি। ফটোগ্রাফি করতে আমার অনেক ভালো লাগে। তাছাড়া কবিতা,আর্ট করা,ঘুরতে যাওয়া এবং রান্না করা আমার খুবই প্রিয়। প্রিয়জনদের সাথে ঘুরতে যাওয়া এবং বাহিরে খাবার খেতে আমার অনেক ভালো লাগে। নতুন রেসিপি শেখার আমার খুব আগ্রহ রয়েছে। আমি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে স্টিমিটে জয়েন হয়েছি। "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটি একটি পরিবারের মতো। আর এই পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে আমি অনেক খুশি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
| ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য | এখানে ক্লিক করেন |
|---|
https://x.com/nazmulhasanbd01/status/1825545432656945189?t=gkjdqCjA8x_b12NbbjbMtA&s=19
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
Thank you.
ছাগল গুলি বিক্রি করে ছয় হাজার টাকা পেয়েছেন। এ হয়তো যথেষ্টই কম। কিন্তু আদর করে বড় করা ছাগল গুলি বিক্রি করে দেওয়া খুবই কষ্টের। তবে অনেক পরিস্থিতিতে মানুষকে অনেক কিছু করতে হয়। সে ক্ষেত্রে কষ্টের কথা ভাবলেও যেন কিছু করার থাকে না। তিনজন যেভাবে ধৈর্য ধরে ছাগলগুলি বেচে এসেছেন, তা এক ধৈর্যশীলতার পরিচয় দেয়।
জি ভাই অনেক ধৈর্য নিয়ে ছাগল গুলো বিক্রি করেছিলাম। তবে ন্যায্য দাম পাইনি, মা অসুস্থ বিক্রি করতে হবে, তাই কম টাকার ভিতরে বিক্রি করে দিয়েছিলাম। আপনার মন্তব্য পেয়ে খুশি হলাম ভাই ধন্যবাদ আপনাকে।
ছাগল বিক্রি করতে বাজারে গিয়েছেন এবং ছাগল গুলো বিক্রি করতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো। আসলে সত্যি কথা বলতে নিজের হাতে লালন পালন করা কোন পশু পাখি বিক্রি করতে বেশ কষ্ট হয়। হৃদয়ের মাঝে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব হয়ে থাকে যদিও টাকা পাওয়া যায়।
মা অনেক শখ করে লালন পালন করতো, তাই বিক্রি করার পর অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। কি করবো বিক্রি করতেই হবে। আপনার গুছানো মন্তব্য পেয়ে খুশি হলাম। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে ভালো থাকবেন।
তাহলে তো একেবারে কমদামে বিক্রি করেছেন ভাই। আমাদের এদিকে আরও বেশি দামে ছাগল বিক্রি করা হয়। যাইহোক আপনার সাথে দুইজন নিয়ে গিয়েছেন,এটা খুব ভালো হয়েছে। নয়তো হাটে একা একা আপনার খুব বিরক্ত লাগতো। তবে শেষ পর্যন্ত পাঠি ছাগলটা বিক্রি করতে পেরেছেন নাকি,সেটা জানার আগ্রহ অনেকাংশে বেড়ে গিয়েছে। যাইহোক পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাই।
জি ভাই দাম মনের মতো পাইনি, আমার সঙ্গে দুজন না গেলে একদম একা হয়ে যেতাম। ইনশাআল্লাহ পাঁঠি বিক্রি করার সম্পূর্ণ ঘটনা আগামী পর্বে খুলে বলবো। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।