ঘাটশিলা ভ্রমণ : ধারাগিরি জলপ্রপাত

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

বন্ধুরা,

তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। আমিও ভালো আছি।
প্রথমে আজকের নতুন একটি ব্লগে সবাইকে স্বাগতম জানাই। আজকের ব্লগে তোমাদের সাথে ভ্রমণ মূলক একটি পোস্ট শেয়ার করব।

20230223_150816.jpg

20230223_151150.jpg

ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা ভ্রমণ নিয়ে এর আগেও তোমাদের সাথে কয়েকটি ব্লগ শেয়ার করেছি। অল্প সময় হাতে নিয়ে সেখানে গেলেও বেশ ভালই ঘুরে ছিলাম আমরা। সত্যি কথা বলতে বন্ধুদের সাথে কোথাও ঘুরতে গেলে বেশি এনজয় করা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই সব প্ল্যান করে নেয়া যায় কিন্তু পরিবারের সাথে গেলে এত তাড়াতাড়ি করে সব প্ল্যান করা যায় না । যাই হোক যেদিন ধারাগিরি জলপ্রপাত গেছিলাম আমাদের সেদিন সেখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে গেছিল। আমাদের অটো যে জায়গায় দাঁড় করিয়েছিল সেখান থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ছিল এই ধারাগিরি জলপ্রপাত। যেহেতু পাহাড়ি রাস্তা ছিল এবং অনেকটা জটিল ছিল সেই জন্য অটো আর সামনের দিকে যায়নি। আমাদের অটোওয়ালা সেখানের এক স্থানীয় মহিলাকে আমাদের গাইড হিসেবে নিয়ে যেতে বলল এবং আমরা ১০০ টাকার বিনিময় সে গাইডকে নিয়ে ধারাগিরি জলপ্রপাত এর উদ্দেশ্যে রওনা করি।

20230223_150410.jpg

20230223_150416.jpg

ধারাগিরি জলপ্রপাত যাওয়ার আগে যে জঙ্গলটি পড়ে সেই জায়গাটা জঙ্গলমহল নামে খুবই পরিচিত। এই জায়গায় আগে অনেক অপরাধ মূলক কাজ হতো। কথাগুলো আমরা শুনেছি সেই জন্য এই জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের একটু ভয়ও করছিল। আর এই জায়গাটা অনেকটা শান্ত ছিল । আশেপাশে কোন লোক দেখা যাচ্ছিল না । আমরা বন্ধুরা মিলে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই অনেকটা জঙ্গলের ভিতরে। দুর্গম থেকে দুর্গম এলাকার দিকে প্রবেশ করি সবাই। আমাদের ফোনেও তখন আর নেটওয়ার্ক ছিল না সেজন্য আরও বেশি ভয় করছিল আমাদের । আমাদের সবার বাজে পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল একপ্রকার। আমাদের গাইড আমাদের সবাইকে সাবধানে ধারাগিরি জলপ্রপাত এর কাছে নিয়ে যায় । আমরা তো ভেবেছিলাম সেখানে গিয়ে জলের স্রোত দেখার সুযোগ পাবো কিন্তু আমরা যে সময়টাতে গেছিলাম জলের কোন স্রোতে ছিল না । একদম হালকা করে টেপের জলের মতো করে জল পড়ছিল এই জলপ্রপাত দিয়ে। যদিও এটা দেখে আমরা একটু নিরাশ হয়ে ছিলাম ।

20230223_150418.jpg

20230223_150425.jpg

ধারাগিরি জলপ্রপাত এর বিশাল জলধারা দেখতে হলে আমাদের যেতে হতো বর্ষার সময়। যখন এখানে প্রচন্ড বেগে জলস্রোত দেখা যায়। আমরা যেহেতু শীতের একটু পরপর গেছিলাম তাই গিয়ে বিশাল জলধারা দেখার সুযোগ হয়নি। যে জায়গাটিতে এই জলপ্রপাতের অবস্থান ছিল সেটা ছিল বেশ ভয়ঙ্কর। আমাদের সেখানে গিয়ে দাঁড়াতে ভয় করছিল পাহাড়ের অবস্থান দেখে। বড় বড় পাথর পাহাড়ের অনেক উঁচু অংশে গাছের সাথে আটকে ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল যে কোন সময় পাথর গুলো পড়ে যেতে পারে। আমাদের গাইড তখন আমাদের জানিয়েছিল এগুলো বছরের পর বছর ধরে এরকম ভাবে রয়েছে তাই এই নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা এখানে প্রায় কুড়ি মিনিটের মতো সময় অবস্থান করেছিলাম। বেশ ভালো লাগছিলো সেখানে সময় কাটাতে। পাহাড়ের অন্যান্য জায়গার তুলনায় এই অংশটিতে একটা শীতলতা ভাব ছিল। সেখানে অবস্থান করার সময় কিছু ফটোগ্রাফি করেছিলাম যেগুলো আজকের ব্লগে তোমরা দেখতে পেয়েছ।

20230223_151730.jpg

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীভ্রমণ ও ফটোগ্রাফি
ডিভাইসSamsung Galaxy M31s
ফটোগ্রাফার@ronggin
লোকেশনধারাগিরি জলপ্রপাত ,ঘাটশিলা ,ঝাড়খণ্ড।

ধারাগিরি জলপ্রপাত যাওয়া নিয়ে শেয়ার করা আজকের ব্লগ তোমাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট এর মাধ্যমে জানিও । সবাই ভালো থাকো, সুস্থ থাকো , সুন্দর থাকো ,হাসিখুশি থাকো , নিজের পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকো , সবার জন্য এই শুভকামনা রইল।

ধন্যবাদ সবাইকে

Sort:  
 3 years ago 

ছবিতে এই জায়গাটা দেখে আসলে অনেক ভয়ংকর মনে হচ্ছে। যেহেতু শীতের একটু পরে গিয়েছেন সেই হিসেবে জলপ্রপাতের ধারা দেখতে পাননি। তবে পাথরগুলো দেখে সত্যিই মনে হচ্ছিল যেন এক্ষুনি পড়ে যাবে। জঙ্গলমহলের কথা শুনেই তো বুকটা কেঁপে উঠল। আসলে যখন জঙ্গলের বিষয়গুলোতে এরকম কিছু শুনি আসলেই ভয় লাগে। যাইহোক পূর্বের মতো আবারো এই ফটোগ্রাফি দিয়ে ভ্রমন পর্ব শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

 3 years ago 

হ্যাঁ আপু পাথরগুলোর অবস্থান দেখে বেশ ভয় লাগছিল আমার। এছাড়া জঙ্গলমহলের কথা শুনে প্রথমে আমি সেখানে যেতে ভয় পাচ্ছিলাম। তবে সেখানে যাওয়ার পর ভয় অনেকটা কেটে গেছিল।

 3 years ago 

আপনি কিন্তু ঠিকই বলেছেন বন্ধুদের সাথে যে কোন জায়গায় ঘুরতে গেলে কিন্তু বেশ ভালোই এনজয় হয়। এরকম জায়গাগুলোতে বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি করতে একটু বেশি ভালো লাগে। জায়গাটা কিন্তু অনেক ভয়ংকর ভাইয়া। সেখানে অবস্থান করার সময় কিছু ফটোগ্রাফি করেছিলেন আপনি সেই ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের সবার মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন দেখে সত্যি ভীষণ ভালো লেগেছে। জায়গাটি কিন্তু খুবই সুন্দর ভয়ঙ্কর হলেও। আর পাথরগুলো থাকার কারণে জায়গাটির সৌন্দর্যতা যেন আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যাই হোক ভালো লাগলো সম্পূর্ণটা পড়ে।

 3 years ago 

পাহাড়ি এলাকায় বন্ধুদের সাথে ঘুরতে সত্যিই অনেক ভালো লাগে। সেখান থেকে তোলা ফটোগ্রাফি গুলো আপনার পছন্দ হয়েছে জেনে ভালো লাগলো আপু।

 3 years ago 

সত্যি দাদা আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে কিছুটা ভয়ংকর এলাকা। তবে আপনারা ছেলেমানুষ হয়ে এভাবে ভয় করলে আমরা মেয়েরা কি করব আমরা তো মনে হয় সেই এক কিলোমিটারের আগেই দাঁড়িয়ে যাবো সামনে আর পা চলবে না। হাহাহাহা...। আপনাদের ভাগ্যটাই খারাপ জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে জলের সন্ধানই পেলেন না

 3 years ago 

সেটা ঠিক কথা বলেছেন আপু আমাদের ভাগ্যটা খারাপ ছিল। এই জন্য জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে জলের সন্ধান পায়নি। আপু জায়গাটাই এমন ছিল ছেলে মেয়ে সবাইকে ভয় পেতেই হতো কারণ দুর্গম এলাকা ছিল পুরোটাই।

 3 years ago 

আপনাদের ঘোরাঘুরি করার জায়গাটা কিন্তু আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। যদি ঘুরতে যেতে পারতাম তাহলে অনেক ভালো হতো কিন্তু এটা সম্ভব না। এরকম জায়গাগুলোতে বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি করতে ভালোই লাগে এটা কিন্তু আপনি ঠিকই বলেছেন। এখানে পাথরগুলো যেভাবে রয়েছে মনে হচ্ছে পড়ে যাবে আর যদি আপনার মাথায় একটি পড়তো তাহলে আপনি এটা একেবারে শেষ। হা হা হা । যাইহোক ভাই মজা করলাম। ঘোরাঘুরি তো মনে হচ্ছে বেশ ভালোই করেছিলেন জায়গাটা কিন্তু বেশ সুন্দর বলতে হচ্ছে। এরকম ভয়ংকর জায়গা গুলোতে ঘুরাঘুরি করার মুহূর্তটা একেবারে অন্যরকম হয়।

 3 years ago 

হ্যাঁ ভাই আপাত দৃষ্টিতে আপনার এইখানে ঘুরতে যাওয়া সম্ভব নয় তাই মনে হচ্ছে। তবে কোনদিন যদি আপনি এই দেশে ঘুরতে আসেন তাহলে এই জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন।

হাহা হাহা 🤣 ঠিক বলেছেন ভাই পাথরগুলোর একটা যদি আমার উপর এসে পড়তো তাহলে আর এই ব্লগটা শেয়ার করা হতো না আপনাদের সাথে। আমার গল্পই শেষ হয়ে যেত সেই দিন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.100
BTC 62465.76
ETH 1783.41
USDT 1.00
SBD 0.38