জেনারেল রাইটিংঃরমজান মাসে আমার ভালোলাগা।
সবাইকে শুভেচ্ছা।
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা, এই গরমেও আশাকরি ভাল আছেন সবাই? আমিও মোটা্মুটি ভালই আছি।রমজান মাস প্রায় শেষ হতে চললো। ২২ অথবা ২৩ তারিখ বাংলাদেশে ঈদ হওয়ার সম্ভবনা। আমার বাংলা ব্লগে নিয়মিত ব্লগিং এ আজ হাজির হয়েছি,আমার রমজান মাসের ভালোলাগা নিয়ে জেনারেল রাইটিং। আপনার ভালোলাগার সাথে মিলেও যেতে পারে। আশকরি কমেন্ট করে জানাবেন।
পুরো একমাস সিয়াম সাধনার মাস। রোজার মাস।রমজান মাস। সারা পৃথিবীর মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা পালন করে থাকেন। ১১ মাস প্রায় একই রকম আর রমজান মাস অন্য রকম চেহারা ধারণ করে। মানুষের জীবনযাপন-কাজ-কর্মের বাপক পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশে।অফিস-আদালত-স্কুল-কলেজ ও মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক কাজের রুটিনের পরিবর্তন ঘটে। ঢাকা শহরের চিরচেনা যানযটের সময়ের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।
রমজান মাসটা আমার ভালই লাগে। প্রতিবেশির বাড়িতে ইফতার দেওয়া -তাদের থেকে পাওয়া,আত্নীয়-পরিজনের সাথে উপহার আদান-প্রদান,রকমারি ইফতারির আয়োজন, দাওয়াত হালের সেহারী পার্টি,ইবাদত-বন্দেগী,দান খয়রাত এ এক অন্যরকম অনুভূতি।
রমজান শেষে ঈদ। একমাস সিয়াম সাধনার পর খুশির ঈদ,আনন্দের ঈদ। দীর্ঘদিন ধরেই ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা কাপড় পরিধান রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ সামর্থ মত পরিবারের সদস্যদের খুশি করতে কেনাকাটা করে থাকেন। ঈদ উপলক্ষে মার্কেট গুলোতেও সাজ সাজ রব। সুশোভিত আলোকসজ্জা। শো-রুমে শো-রুমে নতুন নতুন ডিজাইনের কালেকশন ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততা। পছন্দমত শপিং মলে ক্রেতাদের ভীরে সরগরম মার্কেট গুলো।
পরিবার পরিজন নিয়ে কেউ হাসিমুখে, কেউ গোমরা মুখে বের হচ্ছেন মার্কেট থেকে। গোমরা মুখো সন্তানটির বাবা-মায়ের সে বাজেট ছিলনা,সন্তানের পছন্দের জিনিস কিনে দিতে। এটা আমাদের সমাজের চিত্র। সবার আর্থিক সামর্থ এক নয়!
শুধু মার্কেট বা শপিং মল নয়,ফুটপাতেও পণ্যের বাহারি সমাহার। স্বল্প আয়ের মানুষরা,সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা কাটা করছেন। ফুটপাতেই হোক বা শপিং মলেই হোক কেউ একা,কেউ পবিবারের সবাই দলবেঁধে।
রমজান মাসে সবচেয়ে ভাল লাগার হচ্ছে রকমারি ইফতারির আয়োজন। নামী-দামী রেষ্টুরেন্ট, তারকা হোটেল,পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে অসংখ্য ইফতারির দোকান। বিকেল হলেই পুরো রাস্তাঘাট, মোড় ইফতারের অস্থায়ী দোকানে সয়লাব। রোজা শেষ, এসব অস্থায়ী দোকানও আর থাকবেনা। রমজান মানেই বাহারি ইফতারের সমাহার। এবারে ঢাকা শহরে আলোচিত-সমালোচিত ছিল,একটি পাচ তারকা হোটেলের জিলাপি। কেজি মাত্র ২০ হাজার টাকা।
অনেকদিন পর পুরোনো বন্ধ-স্বজনদের দেখা সাক্ষাৎ হওয়ার বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ইফতার মাহফিল বা পার্টি গুলো। রোজাকে ঘিরেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি,সংগঠন এসব আয়োজন করে থাকেন। আর এসব মাহফিলবা পার্টি মানেই ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি রিউনিয়নের আমেজ। শুধু সিয়াম সাধনাই নয়, আত্নীয় পরিজন,বন্ধু-স্বজন ও সাধারণের মধ্যে মেল বন্ধন স্থাপনের বড় সুযোগ এই রমজান মাস।বন্ধুরা, আর দু-তিন-দিন পরেই শেষ হবে রমজান মাস। মুসলিমদের ঘরে ঘরে ধ্বনিত হবে রমজানের এই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। এই ঈদ আমাদের সমাজে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিক। সুখ-শান্তি আর সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক সকল মানুষ। আগাম ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।