সন্তান মায়ের সাথে অভিমান করে থাকতে পারেনা।(পর্ব-২)
বন্ধুরা আসসালামুআলাইকুম।
আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি এবং সব সময় ভালো থাকার চেষ্টা করি। তো কয়েকদিন বৃষ্টি হয়েছিল পরিবেশটা খুবই আরামদায়ক ছিল। কিন্তু আবারো গরমের তাপমাত্রা বেড়ে গেল আমাদের সকলের অবস্থা খারাপ এখন। যাক তবু তো দিন যাপন করতে হবে গরমের মধ্যে হলেও। তো বন্ধুরা অবশেষে আবারো হাজির হয়ে গেলাম আপনাদের সাথে নতুন টপিক্স শেয়ার করার জন্য। আমি আজকে শেয়ার করব সন্তান মায়ের সাথে অভিমান করে থাকতে পারে না দ্বিতীয় পর্ব।
যেহেতু জয়নালের স্ত্রী তার সব জিনিসপত্র নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে গেলেন। সেই সাথে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। সাথে জয়নাল ও কোন খবরা-খবর রাখছিল না তার মায়ের সাথে। এমনকি তার বোন ভাই এমনকি কারো সাথে তার কোন যোগাযোগ ছিল না। তবে তারা অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন একটা ধর্ষণ মামলায় তার ভাই জামালকে ফাঁসানোর জন্য।
কিন্তু জামাল তো আর এক চালাক সেই তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তার বউয়ের বড় ভাই ছিল রাজনৈতিক কাজকর্ম নিয়ে সংযুক্ত। তাই সব সময় থানার সাথে যোগাযোগ ছিল এবং সেখানে লোকজন দিয়ে রাখছিল। জয়নাল তো দেশে ছিল না তাই তার স্ত্রী কে নিয়ে প্রয়োজনীয় মামলার কাজকর্ম তার স্ত্রীর বাবাকে নিয়ে আসতো থানাতে। কিন্তু সেই খবর সাথে সাথে জামালের কানে চলে আসতো। জামালো একটু সাবধান হয়ে গেছিল যাতে তাকে কোনমতে মামলাতে ফাঁসানো না যায়।
কিন্তু সেখানে আরেকটা বিষয় হচ্ছে যে জয়নাল যে মেয়েটি বিয়ে করেছিল সেটা একটা বিবাহিতা মেয়ে। তার আগের স্বামীর একজন সন্তান ছিল। তার কারণে জামাল ও তার পরিবারের কেউ জয়নালের স্ত্রীকে পছন্দ করত না। তাছাড়া জামাল যেহেতু বড় ছিল তাকে রেখে বিবাহিত মেয়েকে জয়নাল আগে বিয়ে করে ফেলে। সে কারণে সবাই বেশি রাগান্বিত ছিল। একদিকে রাগান্বিত অন্যদিকে মেয়ের আচার-আচরণ কিন্তু ভালো ছিল না। কিন্তু ভালো না থাকলেও জামালের উচিত হয়নি জয়নালের স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা। কারণ সে যদি সাত সন্তানের মা ও হয় তাহলে জয়নালের যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আর কারো সমস্যা হওয়ার কথা না।
তবে এভাবে চলতে থাকছিল তাদের কর্মকাণ্ড গুলো। কিন্তু মা তো সেই মা জয়নালের জন্য ছটফট করছিল। জয়নালের একজন পাঁচ বছরের ছেলে সন্তান ছিল। বিভিন্ন ভাবে জয়নালের জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল তা মা নাতির সাথে কথা বলার জন্য। মাঝে মাঝে জয়নাল মাকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা শুনাতো। কারণ তারা যদি মামলা দেওয়ার জন্য থানাতে যেত সেখানে কিছু টাকা দিয়ে জামাল তা একদম মিটমাট করে নিতো। সেই খবর যখন জয়নালের কানে যেত তখন জয়নাল বিভিন্ন ধরনের কথা মাকে দিয়ে শুনাতো।
সেই মাকে হুমকি দেয় যে কোন উপায়ে হোক তার ভাই জামালকে দেখেই ছাড়বে। কিন্তু সেই ফাঁকে জয়নালের স্ত্রীর যেসব পরিবারের সাথে সম্পর্ক ভালো ছিল শ্বশুর বাড়িতে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছিল। তার শ্বশুর বাড়িতে কি রকম ঘটনা হচ্ছে, কি হচ্ছে না সব খবর রাখত। জয়নাল তো তার মায়ের উপর কোন নির্যাতন হচ্ছে কিনা তার খবর রাখতেন। ঠিক যখন জয়নাল চলে গেছে তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে। কিন্তু জামাল তার স্ত্রী মিলে তার মায়ের উপর নির্যাতন শুরু করল। যদি তার মা জয়নালের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে সে কথা শুনে জামাল। তাহলে তার মাকে ভালোমতো খেতে দিত না এবং ভালোমতো ওষুধ কিনে দিত না এই অবস্থা।
কিন্তু তাদেরকে অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিল তাদের সমস্যা গুলো যেন বসে মিটমাট করে নেই। কারণ জামাল যেহেতু ভুল করে এই ঘটনা করে ফেলেছে সেজন্য জামান অনুতপ্ত ছিল। তাই সবাই জয়নালকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বলছিল যাতে এই ধরনের ভুল আর হবে না। সেই ব্যবস্থা যেন তারা সবাই করবে। এ ধরনের ভুলত্রুটি যেন আর কোনদিন না করে। কিন্তু জয়নাল ও জয়নালের স্ত্রী কিছুতেই হার মানতে রাজি নয়। তারা বলতেছে কোন মতেই যে কোন উপায়ে হোক জামালকে তারা শাস্তি দেবে। তাকে যেন এই দুনিয়াতে সুস্থ ভাবে বসবাস করতে তারা দিবে না। কিন্তু সেই ফাঁকে জামাল প্রস্তুতি নিয়েছিল বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য। যেহেতু তার স্ত্রী এবং তার এক সন্তান ছিল। সাথে তার মাও ছিল সেই ভালোমতো কাজ করতে পারছিল না। এছাড়া থানার এদিকে ওদিকে ছোটাছুটি করতে করতে তার হাতে টাকা ও তেমন ছিল না। তো সেই ফাঁকে সেই খুব গোপন ভাবে বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
সেই যে বিদেশে চলে যাবে এই কথাগুলো তার বোনদেরকে কিংবা কোন আত্মীয় স্বজনদের সাথে আলোচনা করে নাই। সেই মনে করছিল তার এই চলে যাওয়ার ঘটনা যদি তার ছোট ভাই জয়নালকে কেউ বলে দেয় তাহলে তার জন্য বিপদ হবে। জামালের হাতে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না তাই তার শ্বশুর বাড়ির সহযোগিতায় সেই একটা ভিসার ব্যবস্থা করেছিল বিদেশে যাওয়ার জন্য। এছাড়া তার বউয়ের কিছু গহনা ছিল সব গুলো বিক্রি করে ফেলে। এক সময় সেই দিন ধার্য করে নিল বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সেই খবরা খবর জয়নাল শুনতে পায় কোনমতে। কিন্তু জয়নাল হুমকি দেয় যদি দুবাই শহরে আসে তাকে মেরে ফেলা হবে। তাকে দুবাই এয়ারপোর্ট থেকে ধরে নিয়ে যাবে। কারণ জয়নাল ও দুবাই ছিল এবং জামালও যাচ্ছে দুবাইতে। এক সময় গোপনে জামাল দুবাই চলে গেলো। কিন্তু জয়নাল আর কিছু করতে পারল না।
পরবর্তী পর্বে আপনাদের সাথে বিস্তারিত শেয়ার করব।
| লেখার উৎস | বাস্তব অভিজ্ঞতা |
|---|---|
| ইমেজ সোর্স | কেনভা দিয়ে তৈরি |
| অবস্থান | কক্সবাজার, বাংলাদেশ |
| রাইটিং ক্রিয়েটিভিটি | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | জেনারেল রাইটিং |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
#generalwriting #prideofmotherandchild #creativity #amarbanglablog #steemit #mother #childrelationship
জামাল যেহেতু ভুল করেছিল আর সে ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছিল তাই বিষয়টা আমার মধ্যে সেখানেই শেষ হয়ে গেলে বেশি ভালো হতো তবে জয়নাল আর জয়নালের বউ মিলে বিষয়টা আরো বাড়িয়েছে। বিদেশ যাওয়ার প্রসেস শুরু হল কিন্তু জয়নাল জেনে যাওয়ার পরে এলোমেলো হয়ে গেল যাইহোক পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া বিস্তারিত পড়ার জন্য।
https://steemit.com/hive-129948/@samhunnahar/6bzhhs
কোন বিষয়ে এত জেদ করা ভালো না। জামাল যেহেতু ভুল করেছিল এবং সে ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছে। তাই এর একটি মীমাংসা হয়ে গেলে ভালো হতো। যাই হোক সে পরে অনেক কষ্টে বিদেশ চলে গেল। এবং জয়নাল আর কিছুই করতে পারল না। পরবর্তীতে কি হলো তা জানার। অপেক্ষায় রইলাম।
একদম ঠিক বলছেন আপু অতিরিক্ত জেদ মানুষকে আরো বেশি ক্ষতি করে।
Twitter
জেদ বিষয় টা খুব একটা ভালো নয়। কারণ এই জেদের কারণেই অনেক সময় মানুষ অনেক বিপদের সম্মুখীন হয়। আপনার পোস্টটি দারুন ছিল আপু। ধন্যবাদ আপু এতো সুন্দর একটা পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
অতিরিক্ত জেদ অতিরিক্ত হিংসা মানুষকে অনেক বেশি ক্ষতি করে।