সন্তান মায়ের সাথে অভিমান করে থাকতে পারেনা।(পর্ব-১)
হ্যালো বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম
সবাইকে শুভ দুপুর। আশা করি সকলে ভালো আছেন কর্মব্যস্ততা নিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি আপনাদের দোয়ায় সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে। আমি সামশুন নাহার হিরা @samhunnahar। আপনাদের সাথে যুক্ত আছি বাংলাদেশের কক্সবাজার শহর থেকে। আপনারা আগে থেকে অবগত আছেন যে বাংলা ভাষায় ব্লগিং করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আজকেও পোষ্টের ভিন্নতা আনার জন্য নতুন একটি টপিক্স নিয়ে আপনাদের সাথে উপস্থিত হয়েছি। আশা করি আমার লেখা আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। তাহলে চলুন বন্ধুরা আমার আজকের লেখা আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
সন্তান মায়ের সাথে অভিমান করে থাকতে পারেনা।
মা এবং সন্তানের সম্পর্ক এমনই সন্তান কখনো মায়ের সাথে রাগ করে থাকতে পারে না। আবার মা ও সন্তানের প্রতি বেশি দিন রাগ করে থাকতে পারেন না। এমন একটি বাস্তব গল্প আমি আপনাদের সাথে আজকে শেয়ার করব। আমাদের পাশের গ্রামের একটা ঘটনা। তারা দুই ভাই একই সাথে থাকতো। বড় ভাইয়ের নাম জামাল এবং ছোট ভাইয়ের নাম হচ্ছে জয়নাল। তারা দুইজন খুব সুন্দরভাবে সংসার করছিল এবং দুই ভাই বিয়ে করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যায় যে পরিবারের মধ্যে জায়গা সম্পত্তি নিয়ে খুবই গন্ডগোল হয়ে গেল। কিন্তু তারা দুই ভাই এমনই যে দুই ভাই তাদের বউদের কথায় খুব বেশি গুরুত্ব দিত। কিন্তু মায়ের কথায় তেমন গুরুত্ব দিত না। এছাড়া তাদের বাবা ছিল না।
শেষমেশ মা বিপাকে পড়ে গেল। জামালের পক্ষে হয়েও কথা বলতে পারে না মা আবার জয়নালের পক্ষ হয়েও কথা বলতে পারে না। যার পক্ষ হয়ে কথা বলবেন কিন্তু অপরজন রাগ করে ফেলে। এভাবে চলতে চলতে একদিন বড় ধরনের ঝগড়া শুরু হয়ে গেল। বড় ভাই জামাল একটা টেইলারিং এ চাকরি করতেন। কিন্তু ছোট ভাই জয়নাল প্রবাসে থাকতেন। পরিবারের মধ্যে তারা দুই বউয়ের মধ্যে খুবই অমিল ছিল। এই অমিল আর বউদের কথায় অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণে বড় ঝামেলা হলো। যখন বড় ভাই জামাল অফিস শেষ করে ঘরে আসে তার বউ কিন্তু বিভিন্ন ধরনের কথা বলে থাকেন ছোট ভাইয়ের বউ সম্পর্কে। এতে জামাত রাগান্বিত হয়ে যায় বউয়ের কথা শুনে।
এছাড়াও মা যদি ছোট ভাইয়ের বউয়ের সাথে কথা বলে তাতেও তারা সহ্য করতে পারে না। এভাবে হঠাৎ একদিন জামাল তার ছোট ভাইয়ের বউকে মারধর করল। কিন্তু তখন জয়নাল প্রবাসে ছিল। ঘটনাটা খুবই খারাপ পর্যায়ে চলে গেল। গ্রামের আশে পাশের সব মানুষ আসলো। তাদের ঘটনা গুলো সেখানে মীমাংস করার জন্য চাইলো। কিন্তু ছোট ভাই জয়নাল এবং তার স্ত্রী কোন মতেই মীমাংসা হতে দিলোনা। তাছাড়া বড় ভাই জামাল এবং তার ওয়াইফ খুবই দাপটে ছিল। কারণ বড় ভাই জামালের স্ত্রীর বাপের বাড়ি পাশাপাশি থাকায় তাদের অনেক বেশি সাহসিকতা কাজ করতো। আবার ছোট ভাই জয়নালের ওয়াইফের বাপের বাড়ি অনেক দূরে ছিল। জামাল আর তার বউ চাইতো জয়নালের বউ কারো সাথে মিলামেশা না করুক পাশের বাড়ির সাথে। কিন্তু সেই জিদ ধরে আরো বেশি পাশের মানুষদের সাথে যাওয়া আসা করত।
তাতে আরো বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে যেত জামাল আর তার বউ। এতে বড় ভাই জামালের সাথে তার মা ও হাত মিলালো। পাশের বাড়ির আরেকটি মহিলা তাদের সাথে হাত মিলিয়ে সবাই একত্রিত হয়ে জোট বাঁধে। অবশেষে ছোট ভাই জয়নালের স্ত্রীকে মারধর করল জামাল। কিন্তু শেষমেষ সেই আর ঘরে থাকতে চাইলো না। সেই কারো কথা না শুনে পুলিশ কেস করতে গেল। হল কি মারধরের কারণে কোন জায়গায় কোন রক্তপাত কিংবা ক্ষত হয়নি সেজন্য পুলিশ ওই মামলা নিতে নারাজ হলেন। সে স্বাভাবিক ভাবে যখন নারী নির্যাতন মামলা দিতে পারল না তখন সেই ধর্ষণ মামলা দিয়ে বড় ভাই জামালকে ফাঁসাতে চাইলো। কিন্তু কথা হচ্ছে যে সেই শ্বশুর বাড়িতে থেকে এসব কাজ কোন মতে করতে পারবে না। সেই জন্য ছোট ভাই জয়নালের স্ত্রী তার সমস্ত জিনিস পত্র নিয়ে শশুর বাড়ি থেকে চলে গেল তার বাপের বাড়িতে।
শ্বশুর বাড়ির সমস্ত লোকজনের সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি জয়নাল তার মায়ের সাথে কিংবা তার আত্মীয় স্বজনদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখতে চায়না। সেই অনেক অভিমান করলো কারণ তার বড় ভাই তার স্ত্রীর গায়ে হাত তুললো তাই। অভিমান করে বললো যে সে আর কোনদিন ওই বাড়িতে ফিরবে না। যেহেতু তার বড় ভাই তার স্ত্রীর উপর হাত তুলেছে। তাই সে এই অপমান সহ্য করতে পারছে না। সে বলতেছে তার স্ত্রীকে মারধর করার পিছনে তার মায়ের ও হাত আছে। যার কারণে সেই তার মাকেও খরচ পাতি দিল না এবং দেখা শোনাও করতো না আর। এছাড়া সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। এভাবে চলতে থাকলো দুই তিন মাস পর্যন্ত।
চলবে পরবর্তী পর্বে -----
| লেখার উৎস | বাস্তব অভিজ্ঞতা |
|---|---|
| ইমেজ সোর্স | কেনভা দিয়ে তৈরি |
| অবস্থান | কক্সবাজার, বাংলাদেশ |
| রাইটিং ক্রিয়েটিভিটি | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | জেনারেল রাইটিং |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
#generalwriting #prideofmotherandchild #creativity #amarbanglablog #steemit #krsuccess #motherchildrelationship
আসলে অনেক সময় আমরা নারীদের কারণে এই ঝগড়া-বিবাদ গুলো বেশি হয়ে থাকে। তার একজনের সুখ আরেকজনের সহ্য করতে পারে না। আর তার বড় ভাইয়ের এটা উচিত হয়নি ছোট ভাইয়ের বউয়ের গায়ে হাত তোলা। এখানে মা তার সংসার টিকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে পারেনি। তার ছোট ভাই সব দিক থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে শ্বশুরবাড়ি তে উঠেছে। পরবর্তীতে কি হল তা জানার অপেক্ষায় রইলাম।
এটা খুবই খারাপ একটি কাজ ছিল কারণ বড় ভাই ছোট ভাইয়ের বউয়ের গায়ে হাত তোলা।
https://steemit.com/hive-129948/@samhunnahar/3xwcbi
আসলে আপু আমাদের দেশে এগুলো প্রায় হয়ে থাকে। আর এই ঝামেলার কারণ কিন্তু আমরা নারীরা। নারীরা কখনো চায় না ভাই ভাই মিলে থাকুক। আর জামালের ও বুঝা উচিত ছিল যে তার বউয়ের সব কথা সত্যি তো নাও হতে পারে। আর ছোট ভাইয়ের বউ যা কিছু করুক না কোনো তাকে মারা মোটেও উচিত হয় নাই। যাইহোক আপু মা তো মা,সে অভিমান করতে পারে, তবে রাগ করে থাকতে পারে না। পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
এই ঘটনা খুবই মর্মাহত আপু আসলে মেয়েদের মেয়েদের ঝামেলা সব।
আমি বলব এক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা রয়েছে । কারণ মা থাকতে বড় ভাই কিভাবে ছোট ভাইয়ের বউ এরগায়ে হাত তুলতে পারে । ছোট ছেলেটা ঠিকই করেছে যেখানে মা তার সংসারটাকে আগলে রাখতে পারল না সেখানে তার খরচপাতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না । কিছু কিছু ফ্যামিলিতে আসলেই বউদের কারণে সমস্যাটা সৃষ্টি হয় ।ভাইরা ভাইরা প্রথম মিল থাকে বউ আসার পরে যত ঝামেলা তৈরি হয় ।
হ্যাঁ আপু আপনার মতামতের সাথে আমিও একমত। অনেক ভালো লাগলো আমার পোস্ট পড়ার জন্য।
Twitter
এরকম ঘটনা তো বেশিরভাগ বাড়িতে দেখা যায়। আসলে সন্তান কখনোই মায়ের উপরে অভিমান করে থাকতে পারে না, এবং কি মা ও পারে না সন্তানের উপর কখনো অভিমান করে থাকতে। আপনি এই গল্পটির প্রথম পর্ব অনেক সুন্দর করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন যা পড়তে ভালো লেগেছে। জয়নালের বড় ভাইয়ের কিন্তু একেবারেই উচিত হয়নি ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা। দেখা যাক এখন পরবর্তী পর্বে কি হয়।
সবাই মান অভিমান ভুলে গিয়ে মা সন্তান আবার একত্রিত হয়।
আসলে বেশিরভাগ ফ্যামিলিতে এরকম সমস্যাগুলো রয়েছে। বেশিরভাগ সংসারে নারীদের ঝগড়াটাই সবথেকে বেশি হয়। আর সব সংসারে মায়ের অবদানটাও থাকে অনেক বেশি। মা রয়েছে একটা ফ্যামিলিতে, এখানে বড় ভাইয়ের উচিত হয়নি ছোট ভাইয়ের বউয়ের গায়ে হাত তোলা। মা যদি বাধা দিত তাহলে এরকম কিছু হতো না।। ছোট ভাই সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে একেবারে ঠিক কাজ করেছে। অনেক সুন্দর করে লিখেছেন দেখে ভালো লাগলো।
আমার পোস্ট পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে দারুন একটি বিষয় নিয়ে পোস্ট লিখে শেয়ার করেছেন। আপনার কথায় আমি একদম একমত সন্তান কখনো তার নিজের মায়ের সাথে অভিমান করে থাকতে পারে না। কারণ আমি মনে করি মা ছাড়া একজন সন্তানের বেঁচে থাকাই অনেক কষ্টকর। জামাল তার ছোট ভাইয়ের বউকে মারধর করছে এটা জেনে সত্যি অনেক খারাপ লাগলো আপু। পরে পুলিশের কাছে গিয়ে ধর্ষণের মামলা দিয়ে ফাঁসি চেয়েছিল। আসলে এমন লোকের একটু শাস্তি হওয়া উচিত আমি মনে করি। ধন্যবাদ এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আমার পোস্ট পড়ে অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
মা সন্তানের সম্পর্ক কখনো নষ্ট হবার নয়।হয়তো-বা পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে ক্ষনিকের জন্য সম্পর্ক গুলো খারাপ হয়, কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার ঠিক হয়ে যায়।জয়নাল ও জামালের ঘটনা টি পড়ে খারাপ লাগলো।বর্তমান সময়ে এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এরকম ঘটনা ঘটে থাকে যা সত্যিই অনেক দুঃখজনক।আপু আশাকরি পরের গল্পে ভালো কিছু জানতে পারবো।মা সন্তানের সম্পর্ক গুলো যেনো সবসময়ই ভালো থাকে।ধন্যবাদ আপু।
ধন্যবাদ আপু আমার পোস্ট পড়ার জন্য আশা করি পরবর্তী পর্ব ও পড়বেন।