জেনারেল রাইটিংঃ শিকড়ের টানে ফিরে পাওয়ার জীবন।
❤️আমি তানহা তানজিল তরসা। আমি বাংলাদেশ 🇧🇩 থেকে বলছি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @tanha001।
হ্যালো বন্ধুরা...........
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছি।আজ আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি পোস্ট শেয়ার করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি প্রতি সপ্তাহের ন্যায় আজ ও একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। জেনালের রাইটিং পোস্ট লিখতে আমি অনেক পছন্দ করি। আশাকরি আমার লেখা জেনারেল রাইটিং আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।
নিশীথের আলোয় ঝলমলে শহরটি আজ অদ্ভুত নীরব। ব্যস্ততা, শব্দ, আর তাড়াহুড়ো যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। এই শহরের এক কোণায়, একটি ছোট্ট বাসায়, বিশু বসে আছে জানালার পাশে। বিশুর বয়স প্রায় পঁয়ত্রিশ, একটি মধ্যবিত্ত জীবনের প্রতিনিধি। চোখে-মুখে ক্লান্তি, কিন্তু মনটা যেন কোথাও ছুটে চলেছে।বিশুর জীবন ছিল একটা রোলার কোস্টারের মতো। শৈশবটা কেটেছে গ্রামে, সবুজ ধানক্ষেত আর পুকুর পাড়ে বন্ধুদের সাথে দিন কাটিয়ে। কিন্তু বড় হতে হতে জীবনের চাকা তাকে টেনে নিয়ে এসেছে এই শহরে। শহরের চাকচিক্য তাকে প্রথমে মুগ্ধ করেছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে সে বুঝতে পেরেছিল, এখানে টিকে থাকতে হলে শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, লড়াই করতে হবে।
বিশু আজ একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা ধরনের যাত্রীদের সেবা দেওয়া তার পেশা। কেউ থাকে প্রভাবশালী, কেউ থাকে সাধারণ,কেউ তাকে দেখে অবজ্ঞার চোখে, আবার কেউ তাকে স্নেহ করে। বিশু বুঝে গেছে, এই শহরের মানুষগুলোও আসলে নিজের লড়াইয়ে ব্যস্ত।
একদিন এক বৃদ্ধা তার গাড়িতে উঠলেন। গন্তব্য খুব বেশি দূর নয়, কিন্তু বৃদ্ধার চোখে ছিল এক গভীর বিষণ্ণতা। কথার ফাঁকে বিশু জানতে পারল, বৃদ্ধা তার ছেলেকে দেখতে যাচ্ছেন, যিনি অনেক দিন ধরে অসুস্থ। বৃদ্ধা বললেন জীবনে কিছুই স্থায়ী নয় বাবা। শুধু ভালোবাসাটুকু মানুষ ধরে রাখতে পারে।বৃদ্ধার কথা শুনে বিশুর মনে পড়ল তার নিজের মা-বাবার কথা। গ্রামে থাকা তার মায়ের চিঠিগুলো মনে পড়ে গেল যেখানে মা বারবার লিখতেন, তুই তো অনেক বড় শহরে আছিস কিন্তু মনে রাখিস, জীবন শুধু উপার্জনের নয়, কিছু সময় মনের মানুষদের জন্য রাখ।
সেদিন বিশু বুঝতে পারল তার জীবনের প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আসলে একেকটা গল্প। যে গল্পগুলো শুধু অর্থ উপার্জনের নয়, ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট আর আশা নিয়ে তৈরি।বিশু যখন বৃদ্ধাকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে ফিরে যাচ্ছিল, তখন তার মনে হয়েছিল, এই বৃদ্ধা যেন তার নিজের ভবিষ্যৎকে কোনো এক অদৃশ্য আয়নায় দেখিয়ে গেলেন। সে নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করল এই শহরের প্রতিদিনকার দৌড়ঝাঁপ কি তাকে তার নিজের জীবনের আসল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
সেই রাতে বিশু খুব অস্থির ছিল। ঘুম আসছিল না। তাই সে পুরোনো একটা অ্যালবাম বের করল, যেখানে তার শৈশবের আর স্মৃতিগুলো ধরে রাখা। সে দেখল গ্রামের সেই সরল দিনগুলো, মা-বাবার সাথে ধানের ক্ষেতে হাঁটার ছবি, পুকুরে মাছ ধরার মুহূর্তগুলো। তখন সে অনুভব করল, সেই দিনগুলোই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে শান্তির সময়।পরের দিন সকালে বিশু সিদ্ধান্ত নিল, জীবনের অর্থ শুধু অর্থ উপার্জনে নয়, কিছু সময় নিজের জন্য প্রিয়জনের জন্য রাখতে হবে। সে নিজের ছোট্ট ট্যাক্সিটিকে শহরের বাইরে নিয়ে গেল। শহরের কোলাহল পেরিয়ে গ্রামে যাওয়ার পথ ধরল।
গ্রামে পৌঁছে সে দেখল তার মা বাড়ির উঠোনে বসে আছে, হাতে একটা পুরোনো চিঠি। বিশুকে দেখে মায়ের চোখে জল চলে এল। বিশু মায়ের কাছে গিয়ে বলল, মা আমি অনেক দিন তোমার কাছে আসিনি। কিন্তু এবার আমি সময় নিয়ে এসেছি। আমাদের পুরোনো দিনগুলো আবার ফিরে পাব। মা তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, তুই এলে সবই ফিরে আসবে বাবা। শুধু মনটা নিয়ে আসিস।গ্রামে কয়েকদিন কাটানোর পর বিশু বুঝতে পারল, জীবন শুধু শহরের চাকচিক্য বা দৌড়ঝাঁপের জন্য নয়। গ্রামের মানুষগুলোর সরলতা, প্রকৃতির সান্নিধ্য আর মায়ের স্নেহ তাকে ভেতর থেকে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা দিল। সে ঠিক করল, প্রতি মাসে অন্তত এক সপ্তাহ গ্রামের বাড়িতে কাটাবে এবং মা-বাবার জন্য আরও বেশি সময় দেবে।
ফিরে যাওয়ার সময় মা তার হাতে একটা ছোট্ট তোরঙ্গ ধরিয়ে দিলেন। ভেতরে ছিল বিশুর ছোটবেলার খেলনা, পুরোনো চিঠি আর একটি নোট। নোটে লেখা ছিল, জীবন অনেক দূর যেতে বলবে। কিন্তু সেই যাত্রায় নিজের শিকড় ভুলে যাবি না। শিকড়েই জীবনের আসল শক্তি।সেই দিন থেকে বিশু তার জীবনকে দুই ভাগে ভাগ করল। একদিকে শহরের দায়িত্ব, অন্যদিকে গ্রামের মায়ার বাঁধন। সে বুঝে গেল, জীবন এক টুকরো সুখ খোঁজার গল্প। আর সেই সুখের পথ খুঁজে পেতে শিকড়ে ফিরে যাওয়া, ভালোবাসায় ভরা মুহূর্তগুলো ধরে রাখা খুব জরুরি।শহরে ফিরে গিয়ে বিশু নিজের জীবনযাত্রার একটি নতুন ধারা শুরু করল। গাড়ি চালানোর ফাঁকে, যাত্রীদের সাথে জীবনের গল্প ভাগ করে নেওয়া তার অভ্যাস হয়ে গেল। আর প্রতি মাসের শেষ সপ্তাহে সে মায়ের কাছে ফিরে যেত।বিশুর ট্যাক্সি এখন শুধু যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছায় না, মানুষকে জীবনের ছোট ছোট সুখের গুরুত্বও শেখায়। তার গাড়ির পেছনের একটি সিটে বিশু নিজের হাতে লিখে রেখেছে, “জীবন শুধু পৌঁছানোর নয়, পথ চলার আনন্দটাও উপভোগ করা।
| পোস্টের বিষয় | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| পোস্টকারী | তানহা তানজিল তরসা |
| ডিভাইস | রেডমি নোট ১১ |
| লোকেশন | পাবনা |