তিনি একজন মহান মাছ চোর।। মে -৩১/০৫/২০২৩।।

☬নমস্কার সবাইকে☬

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই আপনারা... ? আশাকরি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন। প্রত্যেকে তার পরিবার নিয়ে সুখে আছেন। আজকের নতুন একটা ব্লগে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

চোর তো আমি জীবনে কত প্রকার দেখেছি তবে এই বিড়ালের মত চালাক চোর আমি জীবনে কোনদিনও দেখিনি। হ্যাঁ আমি আজকে যে পোস্টটা লিখতে যাচ্ছি সেটা এই বিড়ালটাকেই কেন্দ্র করে। আসলে এ এক অদ্ভুত বিড়াল যার দুর্নাম করে শেষ করা যাবে না। ছোটবেলা থেকে তো কম বেড়াল দেখলাম না, তবে এই বিড়াল অন্যান্য বিড়াল গুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে বিড়ালের প্রেম সব সময় তো বিড়ালের সাথেই হওয়া উচিত, তবে এই বিড়ালটা প্রেম করে রাস্তার এক কুকুরের সাথে। সত্যিই অবাক হচ্ছেন তো কথাটা শুনে....? তবে এটাই সত্যি কথা।যাইহোক তারও একটা উদাহরণ আমি দিয়ে দিচ্ছি। আমি যখন এই বিড়ালের ফটোগুলো তুলছিলাম তখন কোথা থেকে একটা মেচি কুকুর এসে আমাকে তাড়া করা শুরু করে আর ঘেউ ঘেউ করতে করতে আমাকে সেখান থেকে ভাগিয়ে দেয়। যদিও এটা প্রথমবার না, এর আগেও আমি এই বিড়ালকে কুকুরের সাথে বসে কি জানো বলতে শুনেছি। আর কাছে গেলেই বেশ রাগান্বিত হয় তারা। যাই হোক এই বিড়ালটা আমাদের পাড়াতেই থাকে।

InShot_20230531_155343660.jpg

আমি ছোটবেলা থেকেই বিড়াল কুকুর খুবই অপছন্দ করি আর তার ফল স্বরূপ আমাকে একবার কুকুরের কামড়ও খেতে হয়েছে। তারপর থেকে তো এই কুকুর, বিড়াল আমার দু চোখের বিষ। তারপরও একদিন সকাল বেলায় হঠাৎ করে ঘুম ভাঙলো ছোট একটা বিড়ালের ডাকে। জানালা খুলে দেখলাম যে ঠিক জানলার নিচে তিন চার দিনের জন্ম নেওয়ার একটা বিড়ালের বাচ্চা বসে বসে কান্না করছে। খুব সম্ভবত তার মা থাকে রেখে চলে গেছিল তাই অনেকটা অসহায় অবস্থায় সে জানালার পাশে বসে খিদেতে কান্না করছে। এটা দেখার পর আসলে আমার বেশ মায়া হয়, তাই সাথে সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে একটু গরুর দুধ তার সামনে দিয়ে আসি। সে যে কতটা ক্ষুধার্ত ছিল সেটা তার খাওয়ার ধরন দেখে আমি বুঝতে পেরেছিলাম। যাইহোক ওই একবারই দেখা হয়েছিল এরপর তাকে আর আমার জানার পাশে দেখিনি তবে মাঝেমধ্যেই দেখতাম আমাদের ঘরের দিকে তাকিয়ে ডাকতো। এভাবে প্রায় দেড় মাসের মতো কেটে গেল আমিও আস্তে আস্তে বিড়ালের কথাটা ভুলে গেছিলাম। তবে হয়তো তাকে যদি আমি নিয়মিত দেখাশোনা করতাম তাহলে এই ঘটনা সে ঘটাত না। আমি এখন যে ফ্লাটে থাকি সেটা একেবারেই নিচ তলায়, তাই সুযোগ পেলেই মাঝেমধ্যে বিড়াল ঢুকে যায় ঘরে। যদিও চারদিকে ভাল রকম প্রটেকশন দেওয়া আছে তারপরও তারা কি করে যেন ঘরের ভেতর ঢুকে যায় বুঝতে পারিনা।

20230530_214837.jpg

একদিন হঠাৎ করে বিকাল বেলার দিকে দেখলাম রান্নাঘর থেকে কিসের যেন আওয়াজ হচ্ছে। গিয়েই দেখি আমার খুব পরিচিত বিড়ালটা রান্না ঘরে রাখা সমস্ত মাছ খেয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। এটা দেখে তোমার প্রচন্ড পরিমাণে মাথা গরম হয়ে যায় এবং বেশ জোরে একটা সবজি তার গায়ে ছুড়ে মারি। দেখলাম প্রচন্ড গতিতে লাফ দিয়ে রান্না ঘরের জানলা দিয়ে বেরিয়ে গেল। এরপর থেকে রান্না ঘরে আরো ভালো রকম প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করেছিলাম। তবে তারপরও মাঝেমধ্যে মনে হতো যে বিড়াল ঢুকে পড়বে হয়তো। আসলে এর আগে কখনো এরকম ঘটনা ঘটেনি, এটাই প্রথম ছিল যাকে খাইয়ে জীবন রক্ষা করলাম, সেই কিনা আমার বাড়ি এসে চুরি করে গেল। এত বড় অকৃতজ্ঞ বিড়াল আমি কোনদিনও দেখিনি। যদিও বিড়ালরা খুব চালাক হয়, তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বোঝেনা সেটারই আরেকবার প্রমাণ দিয়ে গেল।

20230530_214852.jpg

কালকে রাতের দিকে হঠাৎ করে বাড়ি ফেরার পথে দেখলাম সেই বিড়ালটা বসে আছে আমাদের পাশের বাড়ির বাউন্ডারির উপর। দেখেই তো চিনে ফেললাম কারণ এই মুখ তো ভোলার না। তবে আমাকে দেখে মনে হল সে একটা মুচকি হাসি দিল, তারপর মিয়াও মিয়াও করে পালিয়ে যেতে চাইলো। কিন্তু আমি তো তাকে পালাতে দেইনি ঝটপট করে কয়েকটা ফটো তুলে নিলাম যাতে এই চোরের গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি। ফটো তোলার পরে দেখলাম সেই রাস্তার কুকুর বয়ফ্রেন্ডটা আমার দিকে ঘেউ ঘেউ করতে করতে আসছে। খুব সম্ভবত ওদের শুভদৃষ্টি হচ্ছিল সেটাই আমি হয়তো ভন্ডুল করে দিয়েছি। তবে কোন একটা অ্যাঙ্গেল থেকে আমার মনে হল যে বিড়ালটার হয়তো আমার উপর কিছুটা রাগ রয়েছে। কারণ ওকে তো মেরেছিলাম একদিন। আসলে ঐ দিনের পর থেকে সেও আর লজ্জায় আমাদের বাড়ির ওখানে যায় না, পাশের বাড়ি থাকে হয়তো। তবে ইদানিং আমার চোখে পড়ে না, গতকালই যা পড়েছে আর কি।

20230530_214844.jpg

20230530_214847.jpg

20230530_214900.jpg

পোস্ট বিবরণ


শ্রেণীজেনারেল রাইটিং।
ডিভাইসSamsung Galaxy M31s
ফটোগ্রাফার@rupaie22
লোকেশনবারাসাত, কলকাতা।
যাইহোক আজকের পর্ব এই পর্যন্তই ছিল। আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে আজকের পর্বটি। আর ভালো লাগলে অবশ্যই একটি কমেন্ট করতে ভুলবেন না। কারণ আপনাদের একটি কমেন্ট আমাকে নতুন এবং ভালো কিছু করার উৎসাহ যোগায়। ভালো থাকবেন সবাই।

🎯ধন্যবাদ সবাইকে🎯

Sort:  
 3 years ago 

পোস্টটি পড়ে বেশ কিছু না হাসলাম। বিড়াল আর কুকুরের শুভদৃষ্টি। সেটা কেমন অদ্ভুত না। বিড়াল নাকি আবার চালাকও হয়। তবে আমি মনে করি আপনার ভাগ্য ভালো কুকুর মহাশয় তার গার্লফ্রেন্ডের ছবি তোলার জন্য আপনাকে কামড়ে দেয়নি।

আমি যেদিন ফটো তুলছিলাম, তাদের দুজনের ব্যবহার দেখে আমার কাছে ঠিক এরকমই মনে হয়েছিল, আর সেটাই আমি পোষ্টের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। পোস্ট পড়ে যে আপনার ভালো লেগেছে এটা জেনে খুব খুশি হলাম আপু।

 3 years ago 

আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগল।আসলে চোর তো অনেক প্রকার হয় তবে বিড়ালের মতো নয়।আর বিড়ালটাকে যদি আপনি ভালো করে পালন করতেন তাহলে হয়তো, বিড়াল চুরি করে খেত না। আর সে তো অবুঝ প্রাণী তাই পেটের ক্ষুধার জ্বালায় চুরি করেছে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর লিখেছেন।

বিড়াল কুকুর আমার খুব বেশি একটা পছন্দ না আপু। এজন্য তো ধারে কাছে আসতে দেই না, পোষা তো দূরে থাক। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্ট পড়ে এত সুন্দর একটা মন্তব্যের জন্য।

 3 years ago 

আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া। আমাদের সমাজে মানুষরূপী মুখোশ পড়ে অনেক চোর রয়েছে যারা নিজেদের এবং পরিবারের ব্যাংক ব্যালেন্স ভরার জন্য চুরি করে থাকে।সেখানে বিড়ালের চুরির ঘটনা আমার কাছে মনে হয় খুবই তুচ্ছ। আমরা কোটি কোটি টাকা চুরি করে আত্মসাৎ করি তাও আমাদের মন ভরে না কিন্তু বিড়াল শুধু পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য চুরি করে থাকে।বেশ কিছু অজানা কথা আপনার পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি পোষ্ট আমাদের উপহার দেয়ার জন্য।

আপনার লেখাগুলো বেশ ভালো ছিল ভাই।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্ট পড়ে এত সুন্দর একটা গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

এই মহান মাছ চোর বিড়ালের গল্পটা শুনে খুবই মজা পেলাম দাদা। কিন্তু বিড়ালটার বয়ফ্রেন্ড একটা কুকুর জেনে খুবই হাসি পেল। ঠিকই করেছে, তার বয়ফ্রেন্ড কুকুর তোমাকে তাড়া করে ,কারণ সে তো তার গার্লফ্রেন্ডকে অন্য কারো হাতে ছেড়ে দিতে পারে না, তাই না? তুমি লুকিয়ে লুকিয়ে তার গার্লফ্রেন্ডের ছবি তুলে নিয়ে আসবে, আর তার বয়ফ্রেন্ড সেটা সহ্য করবে?

আসলে বয়ফ্রেন্ডের এই ব্যাপারটা তো গল্পের মজা তৈরি করার জন্য লিখেছি। তবে তাদের ভাব দেখে আমার কাছে ওই রকমই মনে হচ্ছিল। হা হা হা....

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64802.77
ETH 1923.90
USDT 1.00
SBD 0.37