আধুনিকতায় মনুষত্বের অবক্ষয়।। জুন -১৫/০৬/২০২৩।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
সপ্তাহখানেক আগের কথা বলছি হঠাৎ করে আমি বিবাদীবাগ স্টেশন থেকে একজন মানুষকে উঠতে দেখলাম ট্রেনে। খুব সম্ভবত মানুষটার মানসিক অসুস্থতা ছিল। লোকটা ট্রেনে উঠে সিট পেয়ে আমার পাশে এসে বসলো। আসলে আমার পাশে ঠিক না আমি যে সিটে বসেছিলাম তার অপজিট সিটে এসে বসলো। সাথে সাথে দেখলাম তার পরবর্তী স্টেশন থেকে আরও ৩-৪ জন লোক আসলো খুব সম্ভবত এই লোকগুলো এবং এই মানসিক বিপদগ্রস্ত লোকটা একই অফিসে চাকরি করে। পরবর্তীতে যে লোকগুলো উঠেছিল ওরা হয়তো কোনো ভালো পোস্টে চাকরি করে। তবে এই লোকটার পোশাক আশাক এবং কথাবার্তা শুনে বুঝতে পারলাম যে লোকটা ওই একই অফিসে চা দেওয়া নেওয়া বা পিয়নের কাজ করে। যদিও এই ব্যাপারটাতে আমার খুব বেশি ইন্টারেস্ট নেই। কারণ ছোট বড় কাজ যে যাই করুক না কেন সৎপথে উপার্জিত পয়সা সব সময় ভালো হয়। যাই হোক ওই লোকগুলো এই মানসিক বিপদগ্রস্ত লোকটাকে ট্রেনে উঠতে দেখেই দেখলাম তারা হাসাহাসি করতে করতে লোকটার সামনে এসে তাকে খোঁচানো শুরু করে দিল। এমনি তে প্রচন্ড গরম তারপর আবার এতোভাবে ডিস্টার্ব করছিল যে লোকটা রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে স্থির হয়ে বসতে পারছিল না।
আসলে ব্যাপারটা প্রথম দিকটাতে দেখে আমার খুব বেশি একটা খারাপ লাগে নি। কারণ ভেবেছিলাম হয়তো একই অফিসে চাকরি করে মাঝেমধ্যে একটু ফাজলামো করছে এই আর কি। তবে আমার ভুলটা ভাঙলো ঠিক কাল সন্ধ্যা সাতটা তেইশ মিনিটে। আমি যখন গঙ্গার ঘাট থেকে ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরছি । তখন দেখতে পেলাম সেই একই লোক গুলো আবার আমার কম্পার্টমেন্টে উঠে সিট নিয়ে বসে পড়েছে। জানিনা এটা কো-ইন্সিডেন্ট ছিল, নাকি প্রতিনিয়ত এরকম ঘটে। যাইহোক দু তিনটে স্টেশন পরে যখন ট্রেন বিবাদীবাগ স্টেশনে এসে দাঁড়ালো তখন দেখলাম সেই অসুস্থ লোকটা ট্রেনে উঠেছে এবং আমার কামরাতেই উঠেছে যেখানে আমি উঠেছিলাম। এবার তো আমি লোকটাকে চিনতে পারলাম এবং আমার পাশে এসে দাঁড়াতেই দেখলাম সেই লোকগুলো আবার তাকে ডিস্টার্ব করা শুরু করেছে। এমনিতে প্রচন্ড গরম তারপর লোকটার একবার জামা ধরে টান দিচ্ছে, একবার ছেঁড়া ব্যাগ ধরে টান দিচ্ছে আবার মাঝে মাঝে পেটে মুখে যেখানে পাচ্ছে খোঁচা দিচ্ছে। আসলে যে মানুষগুলো এই কাজগুলো করছিল তাদের বয়স সবারই প্রায় ৪০ এর কাছাকাছি। এই বয়সে এসে যে মানুষ এরকম অসুস্থ মস্তিষ্কের হয় সেটা আমি ভাবতে পারিনি।
সোর্স
যাই হোক আমি তো প্রথমে ভেবেছিলাম যে এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলবো না কিন্তু এতটা অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছিলাম যে দুটো কথা না বলে পারছিলাম না। আসলে কথা বলার জন্য কোন সুযোগ খুঁজে পাচ্ছিলাম না তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম যে কখন সেই সঠিক সময় আসবে। যাইহোক কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম পাশের লোকটা হাসতে হাসতে আমার গায়ের উপর ঢলে পড়ল আর তখনই আসলে আমি কথা বলার সুযোগ পেলাম। পাশে বসে লোকটাকে আমি বললাম যে আপনারা কি প্রতিনিয়ত এই লোকটাকে এভাবে ডিস্টার্ব করেন...? এমনিতেও এতটা অসুস্থ তারপরে আপনার যদি লোকটাকে এভাবে ডিস্টার্ব করেন তাহলে সে যতটা মানসিক বিপদগ্রস্ত আমার তো মনে হয় আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাবে। এই কথা শোনার পর দেখলাম অন্য একটা লোক আমাকে বলল আপনি ছোট মানুষ বড়দের মাঝখানে ঢুকছেন কেন...? সে আমাদের বন্ধু মানুষ আমরা যা ইচ্ছে তাই করতে পারি আপনি এখানে কথা বলার কে। এই কথা শুনে তো আমার মাথা আরো গরম হয়ে গেল আমি বললাম যে, আপনার বড় হয়েও যে ধরনের ব্যবহার করছেন তাতে আপনাদের থেকে আমরা কি শিখবো..? আপনারা যদি আমাদের এই শিক্ষা দিয়ে যান তাহলে তো ভবিষ্যতে আপনাদের মত আমরাও এরকম অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ তৈরি হবে। এ কথা বলার পর দেখলাম লোকটা আর তেমন বিশেষ কিছু কথা বলল না। এরপর আসলে আমার এত রাগ হচ্ছিল যে ওই কম্পার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে অন্য একটা কম্পার্টমেন্টে গিয়ে বসলাম।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং। |
|---|
দামি পোশাক পরে আর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেও অনেক সময় মানুষ হওয়া যায় না। মানুষকে যারা মর্যাদা দিতে জানে না তাদের ভিতরে মনুষ্যত্ব বলতে কিছু নেই। সত্যি ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আসলে সবাই যদি প্রতিবাদ করত তাহলে আর এমনটা হতোই না।
বর্তমানে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে কেউ কারোর জিনিস এ এত বেশি নাক গলায় না বা প্রতিবাদ করেনা। এই জন্যই আসলে এই লোকগুলো অনেক বেশি বেড়ে গেছে। বর্তমান সময়ে এই বয়স্ক বুড়ো লোক গুলোও আরো বেশি খারাপ। আপনি খেয়াল করে দেখবেন এখনকার সময় মেয়েদের দিকে কুনজরে এই লোকগুলোই বেশি তাকায়। ইয়াং জেনারেশন এখন অনেকটাই ভালো।
ভাই আমিও আজকে একটি পোস্ট করেছি ঠিক এই ধরনের দেশ ও সমাজের অবক্ষয়। আপনিও দেখছি আধুনিকতায় মনুষ্যত্বের অবক্ষয় নিয়ে লিখেছেন। সমাজের এ ধরনের লোকের অভাব নেই ভাই যারা মানুষকে ডিস্টার্ব করে। মানুষ কখন কে কোন অবস্থায় থাকে সেটা না বুঝেই অনেক সময় মানুষকে বিরক্ত আচরণ করে থাকে তার জন্য মজা হইলেও অন্যজনের জন্য সেটা যে কষ্ট দেয় সেটা বোঝে না। সুন্দর লিখেছেন ভাই ধন্যবাদ।
দুর্বলের প্রতি অত্যাচার এটা আমাদের সমাজে অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে তবে বর্তমানে দেখছি এই ব্যাপারটা আরো বেশি বেড়েছে। যাই হোক আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য।
আসলে আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা, অন্য লোকদের ডিস্টার্ব করতে একটু বেশি পছন্দ করে। এই লোকটা ছিল মানসিক অসুস্থ। অন্যদিকে ওই লোক গুলো এই লোকটাকে অনেক ডিস্টার্ব করে থাকে। এই লোক গুলো মনে করে তারা সবকিছুই করতে পারবে এবং তাদেরকে কেউ বাধা দিতে পারবে না। আসলে মাঝে মাঝে এরকম পরিস্থিতি দেখলে প্রতিবাদ না করে একেবারেই থাকা যায় না। আপনি সুযোগ বুঝে এর প্রতিবাদ করেছিলেন এটা দেখে খুবই ভালো লাগলো। আশা করছি পরবর্তীতে এই লোকগুলো আর মানসিক অসুস্থ লোকটাকে আর ডিস্টার্ব করবে না।
বর্তমান সময়ে বয়স্ক লোক গুলোর মাথা কেন জানিনা আরো বেশি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এরাই সবথেকে খারাপ। আমি বাস ট্রেন যেখানেই যাই না কেন সব সময় এই লোকগুলোর ব্যবহার দেখে অনেক বেশি কষ্ট পায়। আসলে আমাদের সভ্য সমাজ সে দিন দিন কি পরিস্থিতি হচ্ছে সেটার বাস্তব উদাহরণ এইগুলো।
আসলে ভাইয়া আপনার চোখের সামনে এই ঘটনাটি ঘটেছে, আর আমি তো পড়েই আমার কাছে অনেক খারাপ লেগেছে, আর সেই লোকগুলোর প্রতি অনেক বেশি ঘেন্না হচ্ছে। মানসিক অসুস্থতার লোকটির সাথে ওই লোকগুলো এরকম আচরণ করা একেবারেই ঠিক হয়নি। আর আপনি যখন শেষে প্রতিবাদ করছিলেন, তখন ওনারা আপনাকে বলছিল ওনারা বন্ধু মানুষ। শেষে এরকম সুন্দর একটা প্রতিবাদ হয়েছে, এটা দেখেই খুব ভালো লেগেছে। এরকম মানুষগুলোর জন্যই আধুনিকতায় মনুষত্বের অবক্ষয়।
আসলে ওই লোকটা কোন প্রতিবাদও করতে পারছিল না। এজন্য আমি অনেকটা বেশি মাথা গরম করে ফেলেছিলাম বাকি লোক গুলোর উপর। তবে ওদের যদি লজ্জা থাকে তাহলে পরবর্তীতে হয়তো লোকটার সাথে আর খারাপ ব্যবহার করবে না।
আসলেই রাস্তাঘাটে এখন এরকম সুস্থ দেখতে অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষই বেশি ঘোরাঘুরি করছে। তা না হলে একটা নিরীহ লোককে প্রতিনিয়ত কেউ এভাবে বিরক্ত করে না । একবারও ভেবে দেখেনা, তাদের সাথে যদি ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটত ,তাহলে তাদের কেমন লাগতো !যাইহোক ভালোই করেছ, তুমি কিছু বলে, অন্তত কিছু না হলেও নিরীহ লোকটি তোমার কথায় একটু সান্তনা পেল।
এখন তো দিনে দিনে মানুষ অনেক বেশি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তাদের ব্যবহার আচার এতটাই নগণ্য হয়ে যাচ্ছে যেটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। বিশেষ করে বয়স্ক লোকগুলো তো আরো বেশি খারাপ।
আমার সামনেও পড়ে।তবে আমি সাথে সাথে প্রতিবাদ করি।এমনকি বিডাল কুকুর কেও বিরক্ত করলে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। মানুষ দিন দিন পশুর থেকেও অধম হচ্ছে।বিবেক বোধ লোপ পেয়ে যাচ্ছে।যেখানে সেই লোকটাকে সাহায্য করার কথা তার বদলে তারা তাকে খুচিয়ে মজা নিচ্ছে।তাও এই কাজ করছে চল্লিশোর্ধ্ব লোকজন। যারা ছোটদের শেখাবে যে এমন কাজ করতে হয়না৷খুবই দু:খজনক।যাই হোক আপনি প্রতিবাদ করেছেন দেখে খুশি হয়েছি।ওদের লজ্জা থাকলে এমন কাজ আর করবেনা।
মানুষ আসলেই দিন দিন পশুর সমান হয়ে যাচ্ছে। তাদের বিবেক বুদ্ধি এতটাই লোপ পাচ্ছে যে কোথায় কার সাথে কি ব্যবহার করতে হয় সেটা তারা ভুলে যাচ্ছে। আমি তো সামনে পেলেই প্রতিবাদ করি। আমার মুখে আবার কোন কিছু আটকায় না। কারণ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করাটাও একটা বড় ধরনের পাপ।