বর্তমানে কাঁচা সবজি বাজারের পরিস্থিতি।। জুলাই -০৬/০৭/২০২৩।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
বেশ কিছুদিন আগের কথা হঠাৎ করেই মা বাজার থেকে বাড়ি ফিরে বলল যে কাঁচা লঙ্কার দাম সাড়ে চারশ থেকে 500 টাকা হয়ে গেছে। আমি বললাম কি বলছ তুমি কাঁচা লঙ্কার দাম আবার এমন হয় নাকি। যে লংকা আমরা ৫০ টাকা করে কেজি কিনে খেয়েছি এখন সেটা যদি ৫০০ টাকা করে কেজি কিনে খেতে হয় তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবার বা যারা নিম্নবিত্ত পরিবার রয়েছে তারা বাঁচবে কি করে। শুধু তো লঙ্কা দিয়ে ভাত খেতে হবে তাদের। অন্য কোন কিছু খাওয়ার মত সামর্থ আর থাকবে না। যাইহোক যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে আমি কিছুটা হলেও এক্টিভ, তাই মোটামুটি বাজার পরিস্থিতি সামনে আসতে থাকলো প্রতিনিয়ত এবং বুঝতে পারলাম যে শুধু কাঁচা মরিচ নয় আদার দামও বেড়েছে তার সাথে তাল মিলিয়ে। সাড়ে চারশ টাকা করে আধার কেজি, সেটা কি চিন্তা করা যায়। যে টমেটো ১৫ টাকা করে কেজি কিনেছি এখন সেটা ১০০ থেকে দেড়শ টাকা কেজি হয়ে গেছে। আমি আসলে হিসাবও করতে পারছি না যে কত গুনে দাম বাড়লো।
এবার চলেন আপনাদের বাংলাদেশ দিয়ে ঘুরে আসি। ওখানে তো দ্রব্যমূল্যের দাম নাকি আরো বেশি। মাঝখানে তো শুনেছিলাম যে কাঁচা লঙ্কা নাকি এক হাজার টাকা করে কেজি হয়ে গেছে। কোন জায়গায় ৫০০ টাকা, আবার কোন জায়গায় ৭০০ টাকা। তবে এর সত্যতা আপনারা যারা বাংলাদেশে থাকেন তারাই বলতে পারবেন সঠিক। বাংলাদেশে নাকি আদার দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়া। গত বছর আমাদের কলকাতাতে বেশ ভারী বর্ষণের কারণে কিছু কিছু জায়গায় বন্যা হয়ে যায় এবং সেই কারণে লঙ্কার বাগান, টমেটো বাগান বা বিভিন্ন সবজি নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় যোগান দেওয়া অনেকটাই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছিলো। এদিকে যারা চাষী রয়েছে তাদের মাথায় হাত পড়েছিল এজন্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে এই বছর যতটা বৃদ্ধি পেয়েছে আমার জীবনে আমি কখনো কাঁচা মরিচের দাম বা অন্যান্য সবজির দাম এত বৃদ্ধি পেতে দেখিনি। শুধু কাঁচামরিচ নয় প্রত্যেকটা জিনিসের দাম প্রায় চার পাঁচগুণ করে বেড়েছে।
আমাদের ভারতবর্ষে এতটা কাঁচামরিচের সংকট বা টানাটানি থাকার পরেও শুনলাম যে গত পরশুদিন নাকি বাংলাদেশে কাঁচা মরিচের সাপ্লাই দিয়েছে ভারতবর্ষ। এতে করে নাকি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। যারা সাড়ে ৩০০ টাকা করে কাঁচা মরিচ কিনেছিল ৭০০ টাকা করে বিক্রি করার আশায়, এখন নাকি সেই কাঁচামরিচ তাদের ১০০ থেকে দেড়শ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাছাড়াও যারা কাঁচা মরিচ কিনে স্টক করে রেখেছিল তাদেরও নাকি প্রচুর পরিমাণে লস হচ্ছে। তবে আদৌ কথাটা কতটা সত্যি এটা তো যারা বাজার ঘাট করে থাকেন তারাই বুঝতে পারবেন। যাই হোক আগে ৫০০ টাকা বাজারে নিয়ে গেলে যে পরিমাণ বাজার নিয়ে ঘরে আসতে পারতাম, এখন তো মনে হয় শুধু কাঁচা লঙ্কা আর দুটো তিনটে সবজি কিনলেই সেই পরিমাণ টাকা খরচ হচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে আমাদের ইনকাম তো বাড়ছে না বা সরকার আমাদের এক্সট্রা বোনাসও দিচ্ছে না। তাহলে আমরা এই পরিস্থিতিতে জীবন যাপন করবো কি করে। আমাদের কথা না হয় বাদই দিলাম, যারা অতি দরিদ্র মানুষ দিন আনে দিন খায়, তারা কি খেয়ে জীবন যাপন করবে। শুধুমাত্র কাঁচা সবজি নয় মাংসের দাম ও প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে এই পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তাহলে হয়তো সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও ছেড়ে দিতে হবে।
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং। |
|---|
আসলেই ভাইয়া যে মরিচ আমরা ১০-১৫ টাকা কেজি কিনে খেয়েছি আজকে সেটা হাজার টাকা পার হয়ে গিয়েছে। কখন যে কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে যায় তা বলা খুবই মুশকিল।
১০-১৫ টাকা মরিচের কেজি না হলেও ৩০-৪০ টাকা দিয়ে কিনে খেয়েছি। এখন সেটা ৫০০ টাকার কাছাকাছি, যদিও এখন দাম কিছু কমেছে।
আমার জানা মতে এবছর আমাদের এইদিকে কোথাও বন্যা হয়নি। তাই ফসলের খুব বেশী ক্ষতি হওয়ার তো কথা না। আসলে সুযোগের সৎ ব্যবহার বলে একটা কথা আছে সেটাই হয়তো হচ্ছে এখন, সকলেই জানি বর্ষাকালে উৎপাদন কম হয় ফসলের, সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আজ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে হয়তো ব্যাবসায়ীরা।
আসলে বাজারের সিন্ডিকেট সব সমস্যার জন্য দায়ী। আমরা যতদিন না পর্যন্ত নিজেদেরকে সংশোধন করব ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যার পরিত্রাণ নেই।
ভাই আমাদের দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রমাগত যেভাবে বাড়ছে, এতে করে দরিদ্র মানুষেরা সারাদিনে একবেলা খাবার খেতে পারবে কিনা সন্দেহ। আমার জানামতে উৎপাদন একেবারে খারাপ হচ্ছে না। মূলত সিন্ডিকেট এর কারণেই সবকিছুর দাম এভাবে বাড়ছে। ভাই বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, কয়েকদিনের জন্য মাছ মাংস সবজি কিনতে গেলে, ৫/৬ হাজার টাকা নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। আমি আবার প্রতিদিন বাজারে যাই না। তবে এই যে জিনিসপত্রের দাম এভাবে বাড়ছে, এগুলো দেখার কেউ নেই। যাইহোক পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আমরা যতদিন না পর্যন্ত ভালো হব ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যা থেকে আমাদের পরিত্রান নেই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই, আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।