প্রচন্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ।। জুন -০২/০৬/২০২৩।।

☬নমস্কার সবাইকে☬

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই আপনারা... ? আশাকরি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন। প্রত্যেকে তার পরিবার নিয়ে সুখে আছেন। আজকের নতুন একটা ব্লগে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

গত মাসের শুরুর দিক থেকে আসলে আমাদের কলকাতায় প্রচন্ডরকম গরম পড়া শুরু করে। মাঝখানে তো একটা ঝোক উঠেছিল যে ওই মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে ঝড় আসতে পারে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে। তবে সেই ব্যাপারটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের উপর দিয়ে বেশ বড়সড় একটা ঝড় বয়ে যায়। তবে ওই সময়টাতে অর্থাৎ আগের মাসের ১৯ তারিখ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত আমাদের কলকাতাতে বেশ ঠান্ডা পড়েছিল, যদিও এর পেছনের কারণটা ওই ঝড়ই বা নিম্নচাপ। মাঝে মাঝে অল্প অল্প করে বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া পরিবেশটাকে একেবারে ঠান্ডা করে দিয়ে যাচ্ছিল। তবে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে আসলে এই মাসের প্রথম দিকে বা গত মাসের একেবারে শেষের দিকে। আমি তো মনে মনে ভেবেই নিয়েছিলাম মনে হয় ওয়েদারটা এরকমই ঠান্ডা থাকবে, এরপর বর্ষাকাল চলে আসবে সুতরাং গরমের আর কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু আমার সেই চিন্তা ধারাকে একেবারেই মিথ্যা প্রমাণিত করে দিয়ে বিগত দুদিন ধরে আমাদের কলকাতায় মারাত্মক রকম গরম জনজীবন অতিষ্ঠ করে দিচ্ছে।

summer-7434439_1280.webp
সোর্স

অনেকটাই অবাক হবেন শুনে যে, আমাদের কলকাতাতে বা আমি যেখানে থাকি সেখানে কারেন্ট একেবারেই যায় না। আর যদি ভুলক্রমে চলেও যায় তাহলে পাঁচ মিনিটের ভিতর আবার কারেন্ট চলে আসে। অনেক সময় তো ফ্যান ঘুরাও বন্ধ হতে না হতে পুনরায় কারেন্ট চলে এসে ফ্যান পুনরায় ঘোরা করা শুরু করে দেয়। সুতরাং এরকম কখনো মনে হয়নি যে অনেক সময় ধরে কারেন্ট থাকে না। তবে বিগত দু'দিন ধরে মোটামুটি দুই ঘন্টা পর পর কারেন্ট চলে যাচ্ছে। আগে যেখানে ৫ মিনিটের বেশি কারেন্ট গিয়ে থাকতো না, এখন সেখানে প্রায় আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা সময় নিচ্ছে কারেন্ট আসার জন্য। এমনিতেই আমি প্রচন্ড আরাম প্রিয় মানুষ তাই এই কষ্ট আমি একেবারেই সহ্য করতে পারি না। তবে তার থেকেও আর একটা বড় সমস্যা হলো ফ্যান, এসি কোন কিছু চালিয়েও কোন সমাধান হচ্ছে না। রুম থেকে বেরোলেই আবার গা ঘেমে যাচ্ছে শরীর অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। গতকাল রাতে আমাদের এখানে প্রায় চার থেকে পাঁচ বার কারেন্ট চলে গেছে অর্থাৎ রাতে ঘুমাতে পারিনি বললেই চলে।

thermometer-4767445_1280.webp
সোর্স

এমনিতে আমি সাধারণত প্রচন্ড গরমে বাইরে বেরোই না তাই অভ্যাস একেবারেই নেই। কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজে আজ সকাল দশটা নাগাদ আমাকে বাইরে বের হতে হয়েছিল। যদিও যত ধরনের প্রোটেকশন নেওয়া যায় সেটা আমি নিয়েছিলাম, তবে বাইরে বেরিয়ে আধা ঘন্টা পর থেকে আমার শরীর থেকে প্রচন্ডরকম ঘাম হতে থাকে এবং একপর্যায়ে এত জল তেষ্টা পেয়ে যায় যে বলে বোঝাতে পারবো না। তার থেকে বড় কথা হলো যে প্রচন্ড রকম মাথা গরম হয়ে যাচ্ছিল অর্থাৎ কেউ কিছু বললে সহ্য করতে পারছিলাম না। এভাবে আরো আধা ঘন্টা বাইরে থাকার পর হঠাৎ করেই দেখলাম আমার মাথা ঘুরে উঠেছে। কোন কিছু চিন্তা করে ওঠার আগেই একটা জায়গায় বসে পড়লাম। তারপর পাশে থাকা একজনকে একটা জলের বোতল আনতে বললে তিনি দৌড়ে গিয়ে জলের বোতল নিয়ে আসলো। আসলে এতটাই খারাপ লাগছিল মনে হচ্ছিল যে মাথার উপর সবকিছু ঘুরছে। যাই হোক জলটা খেয়ে তৎক্ষণাৎ আমার বেশ কিছুটা ভালো লেগেছিল, তবে আমি হেঁটে বাড়ি আসতে পারিনি ওখান থেকে গাড়ি ধরে আমাকে বাড়ি পর্যন্ত আসতে হয়েছিল।

warming-2370285_1280.jpg
সোর্স

আসলে গরমকাল আমার একেবারেই পছন্দ না, আর আমি এমনিতেও গরম সহ্য করতে পারি না। যেহেতু সারাদিন ঘরের ভিতর থাকি আর প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোই না। যদিও বের হই তাহলে সেটা সন্ধ্যার পর তাই এ ধরনের সমস্যাগুলো আমার গরমকালে অনেক বেশি ফেস করতে হয়। গত ৩-৪ দিন ধরে দেখলাম ছোট ভাইয়ের প্রচন্ডরকম জ্বর হয়েছে এই ঠান্ডা গরম লাগার কারণে। গতকাল একটা নিউজে দেখলাম যে কলকাতাতে বিগত দুই দিনে বেশ কয়েকজন sun স্টোক করে মারা গেছে। আজকে সকালে আমার ওরকম কিছু একটা হয়েছিলকমন হয়। কালকে আবহাওয়ার নিউজ দেখলাম এই গরম এখনো সাতদিন পর্যন্ত থাকবে। জানিনা কিভাবে এই দিনগুলো অতিবাহিত করব। আমি তো এখনই অসুস্থ হয়ে পড়ছি তার উপর কোন কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারছি না। এই গরমে আপনাদের কি অবস্থা হচ্ছে সেটা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। তাহলে অন্তত একটু বুঝতে পারব যে সবারই একই অবস্থা হয়েছে কিনা। এরকম যদি আরো কিছুদিন চলতে থাকে তাহলে হয়তো আমি ভালো রকমের অসুস্থ হয়ে পড়বো।

পোস্ট বিবরণ


শ্রেণীজেনারেল রাইটিং।
যাইহোক আজকের পর্ব এই পর্যন্তই ছিল। আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে আজকের পর্বটি। আর ভালো লাগলে অবশ্যই একটি কমেন্ট করতে ভুলবেন না। কারণ আপনাদের একটি কমেন্ট আমাকে নতুন এবং ভালো কিছু করার উৎসাহ যোগায়। ভালো থাকবেন সবাই।

🎯ধন্যবাদ সবাইকে🎯

Sort:  
 3 years ago 

দাদা বাংলাদেশেও একই অবস্থা। কারেন্ট যাও আসার মধ্যেই আছে। আমার ও গরম কাল একেবারই পছন্দ না । কেননা আমি গরম সহ্য করতে পারি না। আর পরিবেশের এ অবস্থার জন্য আমরাই দায়ী। গাছ কেটে পুকুর ভরাট করে আমরা বহুতল ভবন বানাচ্ছি । প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিচ্ছে। এ গরমে সুস্থ্য থাকতে প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে। অনেক অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য।

এটা আপনি ঠিক কথাই বলেছেন আপু, এত গরম পড়ার পেছনের কারণ শুধুমাত্র আমরাই। মানুষ যদি একটু সচেতন হত তাহলে পরিবেশের এরকম অবস্থা হয় না। এখন দেখা যাক কত দিন এই অসহ্য গরম থাকে।

 3 years ago 

গরম সব জায়গাতেই একই রকম ভাইয়া।আমাদের ঢাকাতে ও বেশ গরম। কারেন্টের কথা আর বলবেন না।প্রায় ৩/৪ দিন ধরে কারেন্ট তো যায় ই। আবার মাঝরাতেও যায়।আসার নাম ও থাকেনা।খুব কষ্টে দিন কাটছে আসলে।আবহাওয়া অফিস থেকে খবরে বলেছে আরো সাতদিন এমন থাকবে আপনাদের? আহারে, খুব ই ভোগান্তি আসলে।যাই হোক খুব দরকার না হলে বাইরে যাবেন না।সবাই সুস্থ থাকেন।

আমাদের এখানে মাসে একবারও কারেন্ট যেত না, এখন দিনে ৪/৫ বার করে কারেন্ট যাচ্ছে। তাহলে চিন্তা করে দেখেন কি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। এখন যতদিন না পর্যন্ত এই গরম কমবে আর শান্তি নেই।

 3 years ago 

একদম ঠিক বলছেন শুধু কলাকাতায় কেন এখন তো বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে তাপমাত্রা। আমিও তাই ভেবে নিয়েছিলাম যখন বৃষ্টি হয়ে পরিবেশটা একটু ঠান্ডা হয়ে গেছিল মনে করেছিলাম বর্ষাকাল চলে এলো। কিন্তু ভেবে কি আর লাভ সবকিছু তো সবসময় ওল্টোটা হয়। আপনি তো দেখছি অনেক আরাম প্রিয় মানুষ কিন্তু এমন মানুষের কাছে গরম খবই কষ্ট কর হবেই। তবে একটা জিনিস খুব খারাপ লাগারই কথা সেটা হচ্ছে যে কারেন্ট চলে গেলে এক ঘন্টা কিংবা আধা ঘন্টা পরে আসে আপনার জন্য খুব দুঃখ হচ্ছে।

আমি প্রচন্ড আরামপ্রিয় মানুষ আপু, গরম একেবারেই সহ্য করতে পারি না। তবে ইদানিং যে গরম পড়েছে আবার ইউনিভার্সিটিতে যেতে হচ্ছে। যদিও মেট্রো ট্রেনে এসি রয়েছে আবার ক্লাস রুমগুলোতেও এসি রয়েছে। তবে মাঝখানের এই রাস্তার জার্নিটা আমার কাছে বেশ অসহ্যকর লাগছে।

 3 years ago 

দাদা শুধু আপনাদের কলকাতায় গরম না, আমাদের বাংলাদেশে ও প্রচার গরম।গরমে একদম অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে আমাদের জীবন।এই গরমের যন্ত্রনায় ঘর থেকে বাহিরে বের হওয়া যাচ্ছে না। তার সাথে আবার বিদ্যুত থাকে না, পাঁচ মিনিট থাকলে আবার দশ মিনিট বন্ধ থাকে।

আমি মোটামুটি সব জায়গার খোঁজখবর নিয়েছি ভাই। সব জায়গাতেই কম বেশি একইরকম তাপমাত্রা রয়েছে। আপনি জানলে অবাক হবেন যে আমাদের এই দিকটাতে এক মাসেও একবার কারেন্ট যেত না, এখন দিনে তিন-চারবার করে কারেন্ট চলে যাচ্ছে। তাহলে চিন্তা করেন কি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

 3 years ago 

জুন মাসের শুরুতেই গরমের মাত্রাটা যেন ১০০ গুন বৃদ্ধি হয়ে গেছে। সত্যি দাদা প্রচন্ড গরমে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। আর এই প্রচন্ড গরমে অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, গর্ভবতী মায়েরা এবং ছোট শিশুরা এই গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যাহোক, আমি আপনার ছোট ভাইয়ের সার্বিক সুস্থতা কামনা করি। খুবই সময়োপযোগী একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

গর্ভবতী মায়েরা আর শিশুরা তো অসুস্থ হচ্ছেই, তবে বয়স্ক লোকেরাও রাস্তাঘাটে মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে। সত্যি কথা বলতে বেশ খারাপ একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা সবাই। এত গরম পড়বে সেটা কখনোই এক্সপেক্ট করি নি।

 3 years ago 

সত্যিই দাদা প্রচন্ড পরিমাণে গরম পড়েছে গরমে জীবন একেবারে, অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে কোন কিছুই ভালো লাগছে না। গত মাসে ঝড় হওয়ার কথা থাকলেও ঝড় এইদিকে না হলেও পরিবেশটাকে বেশ ঠান্ডা করে দিয়ে গিয়েছিল। আমিও ধরে নিয়েছিলাম, হয়তো এ বছরের মত আর প্রচন্ড গরম সহ্য করতে হবে না। কিন্তু গত দুদিন ধরে দেখছি প্রচন্ড রকমের গরম পড়েছে, আর আমাকে যেহেতু প্রতিদিনই রোদ্দুরে বাইরে বেরোতে হয়, তাই আমার জন্য দিনগুলো আরও বেশি কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেকদিন পর হঠাৎ করে রোদ্দুরে এই প্রচন্ড গরমে বাইরে বেরিয়ে তোমার প্রচন্ড শরীর খারাপ হয়েছে জেনে খুব খারাপ লাগলো। তবে শেষ পর্যন্ত, গাড়ি ধরে হলেও তুমি সুস্থভাবে বাড়িতে পৌঁছাতে পেরেছ জেনে ভালো লাগলো। দ্রুত পুরোপুরি সুস্থতা কামনা করি তোমার।

আসলে গত মাসে যখন ঝড় হওয়ার কথা ছিল তখন বেশ একটা ভালো আশ্বাস পেয়েছিলাম, যে এইবার বুঝি গরমটা একটু কমবে। তবে ঝড় তো হয়নি তার পরিবর্তে তিন চার দিন পর আবার প্রচন্ড গরম শুরু হয়ে গেল। এখন কি যে করব সেটাই বুঝতে পারছি না, সব সময় মাথা গরম থাকছে আমার।

 3 years ago 

আসলেই ভাই এই গরমে জনজীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে। যতটুকু মনে পড়ে এতো গরম কখনো দেখিনি। কবে যে মুষলধারে বৃষ্টি হবে সেই অপেক্ষায় রয়েছি। এই গরমে আমাদের সবার উচিত প্রচুর পরিমাণে পানি এবং তরল জাতীয় খাবার খাওয়া। যাইহোক পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

ভাই আমিও মনে হয় আমার জীবনে এত গরম কখনো দেখিনি। কারণ এত অসুস্থ হয়ে পড়ছি, মাঝেমধ্যে রীতিমতো মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়ে যাচ্ছে। এখন কবে যে বৃষ্টি হবে সেটা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারে।

 3 years ago 

ভাই আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে আমাদের দেশে নাকি আগামী ৫/৬ দিন বৃষ্টি হবার কোনো সম্ভাবনা নেই। কি যে হবে সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। সুন্দর ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 63069.89
ETH 1824.87
USDT 1.00
SBD 0.38