তুমি মা হতে পারবে না, কিন্তু আমার পৃথিবী হয়েছো
আসসালামুআলাইকুম/আদাব🤝
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থান করছি ।
সুজাতা, নামের মতোই শান্ত একটা মেয়ে। মুখে নীরবতা, চোখে লুকানো হাজারো কষ্ট। সেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কারও সঙ্গে তেমন মেশে না, ক্লাসে চুপচাপ থাকে, নিজের মতো থাকে। আর এই চুপচাপ মেয়েটার প্রতিই প্রথম দেখাতেই রোহিতের মনে কেমন এক টান লাগে। ক্লাসে সবাই হাসাহাসি করছে, অথচ সুজাতা জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। রোহিতের চোখ বারবার সেই জানালার দিকেই চলে যায়।
অজান্তেই সে মেয়েটির খোঁজ নিতে শুরু করে। কে, কোথায় থাকে, কী করে, কার সঙ্গে কথা বলে সব জানতে চায়। একদিন বন্ধুর অজুহাতে সুজাতার হোস্টেল রুমের সামনে চলে আসে। অজুহাত ছিল নোট নেওয়া। কিন্তু সেদিন এক ঝলক চোখে চোখ পড়েছিল দুজনের, আর সেই একবার তাকানোই যেন তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল।
এরপর থেকে সুযোগ পেলেই রোহিত সুজাতার সামনে আসার চেষ্টা করত। কখনও কফির দাওয়াতে, কখনও নোটের অজুহাতে, কখনও হালকা কথায় হাসানোর চেষ্টা করত। ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়। কিন্তু রোহিত বুঝে ফেলেছিল, ও শুধু বন্ধুত্ব চায় না। ও ভালোবেসে ফেলেছে, খুব গভীরভাবে।
অন্যদিকে সুজাতার ভেতরে লুকানো ছিল এক ভয়ঙ্কর সত্য। ক্লাস আটে থাকতে এক জটিল অপারেশনের পর ডাক্তাররা জানায়, সে আর কোনোদিন মা হতে পারবে না। এই সত্যটিই তাকে সারাজীবন একটা অন্ধকারে ফেলে দেয়। পরিবারের চার বোনের মধ্যে সে ছিল সবচেয়ে অবহেলিত। কেউ ওর কথা গুরুত্ব দিত না। তাই ও ভাবতো, সে কারো জীবনে কোনো সুখ দিতে পারবে না।
কিন্তু রোহিতের চোখে এসব কিছুই না। তার কাছে সুজাতা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে। সময়ের সাথে রোহিতের যত্ন, খোঁজখবর আর ভালোবাসা সুজাতার মনে জায়গা করে নেয়।
একদিন বিকেলে, সূর্য ডোবার সময়, রোহিত শান্ত গলায় বলে, “সুজাতা, আমি তোমাকে ভালোবাসি। জানি না কেন বা কিভাবে, কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমার দিন চলে না।”
সুজাতা হতভম্ব হয়ে যায়। ওর ভিতর ভয় কাজ করতে থাকে। রোহিত যদি ওর সত্যিটা জানতে পারে, হয়তো মুখ ফিরিয়ে নেবে। অনেক ভেবে এক বছর পর সাহস করে সব বলে দেয়। চোখে জল, কণ্ঠ কাঁপছে, “রোহিত, আমি একটা অসম্পূর্ণ মেয়ে। আমি কোনোদিন মা হতে পারব না। তুমি চাইলে এখানেই থেমে যেও, আমি কিছু বলব না।”
রোহিত কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তারপর ধীরে বলে, “সুজাতা, আমি মা হওয়ার ক্ষমতা ভালোবাসিনি, আমি মানুষটাকে ভালোবেসেছি। তোমার কষ্ট আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে ঢেকে দিতে চাই।”
এই কথাগুলো শুনে সুজাতা আর নিজেকে সামলাতে পারে না। চোখের জল গড়িয়ে পড়ে, কিন্তু সেই জল দুঃখের নয়, শান্তির।
এরপর রোহিত নিজের পরিবারে সব খুলে বলে। প্রথমে সবাই অবাক হলেও পরে রোহিতের দৃঢ়তা দেখে রাজি হয়। অবশেষে রোহিত সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেয় সুজাতার সঙ্গে। যে মেয়েটাকে সমাজ অবহেলা করেছিল, সেই মেয়েটাকেই সে নিজের জীবনের গর্ব বানায়।
বিয়ের দিন সুজাতার মুখে যে হাসি ছিল, তাতে কোনো কষ্টের ছাপ ছিল না। ছিল শুধু ভালোবাসার জয়ের আলো।
রোহিত সেদিন মনে মনে ভাবল, ভালোবাসা শুধু সম্পূর্ণ মানুষকে নয়, অসম্পূর্ণ মানুষকেও পূর্ণ করে দিতে পারে।
এতক্ষণ আমার পোষ্ট মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আজ এখানেই শেষ করছি, অন্য কোনদিন নতুন কিছু নিয়ে আপনাদের সামনে উন্মোচিত হব। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | Redmi note 9 |
|---|---|
| ক্যামেরা.মডেল | note9 |
| কভার ফটো | পিক্সাবে। |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ- বাংলাদেশ। |
আমার পরিচয়
আমি শেলি। আমি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুরে খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে সি এস ই তে অধ্যায়নরত আছি। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসি। নতুন কিছু শিখতে এবং জানতে ভালোলাগে।ঘুরতে আর খেতে খুব ভালোবাসি।অবসর সময় পেলেই ছবি আঁকি। এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে। 🌼💖🌼 |
|---|