বোনের আবদার পূরণ

আসসালামুআলাইকুম/আদাব🤝

হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ্ ভাল আছি। আমি @srshelly0399
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থান করছি ।

image.png

আজকের সকালটা ছিল একদম অন্যরকম। জানালার পাশে বসেই দেখি, রোদ উঠেছে ঠিকই, কিন্তু বাতাসে হালকা ঠান্ডার ছোঁয়া। মনে হচ্ছিল, শীত যেন দরজায় টোকা দিচ্ছে। আমি একটু কাঁপতে কাঁপতে চা খেতে বসে বুঝলাম শরীরে জ্বরের ভাবটা এখনো আছে। সারারাতেই মাথা ভার লাগছিল, তাই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। শরীর ভালো না থাকলে জোর করে ক্লাসে গিয়ে বসে থাকা মানেই নিজের কষ্ট বাড়ানো। তাই আজ ভাবলাম, বিশ্রাম নেব, শান্তিতে দিনটা কাটাব।

কিন্তু শান্তি বলতে কী? ঘরে বসে থাকার মানেই তো কখনোই একঘেয়েমি আর কিছু ছোটখাটো ড্রামা! সকালটা একটু ভালোই যাচ্ছিল, তখনই আমার মেঝো বোন এসে খবর দিল, আজ তাদের ক্লাস টিচারের বিদায় অনুষ্ঠান আছে। তারা সবাই মিলে বাইরে খেতে যাবে। খবরটা শুনে আমার ছোট বোনের মুখটা এমনভাবে গম্ভীর হয়ে গেল যেন কেউ তার সবচেয়ে প্রিয় খেলনাটা কেড়ে নিয়েছে! চোখে মুখে একরাশ রাগ আর কষ্ট "ওরা যাবে, আমি যাব না কেন?"

আমি তখন ওকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম, “তুমি তো ছোট, তোমার কোনো প্রোগ্রাম নাই।” কিন্তু কে শুনে কার কথা! ছোট ভাইবোনদের এই মনোভাবটাই আসলে মিষ্টি লাগে, যদিও তখন একটু বিরক্তি আসে। আম্মু এখন গ্রামে, ওখানে আমাদের নতুন বাড়ির কাজ চলছে। তাই সব দায়িত্ব এখন আমার ওপরই এসে পড়েছে বোনদের দেখাশোনা, খাওয়া, ঘরের কাজ সব।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে না হতেই ছোট বোনের আবদার বাড়তেই লাগল। একবার বলে, “আপু, আমিও যাব,” আরেকবার বলে, “তুমি না গেলে আমি একা যাব!” আমি যতই বুঝাই, “আমার জ্বর আছে, শরীর ভালো না,” ততই ওর মুখ ভার হয়ে যায়। শেষে ওর চোখে পানি চলে আসার উপক্রম দেখে আমি হাল ছেড়ে দিলাম। ভাবলাম, ছোট বোনের মুখে হাসি ফুটাতে পারাটা আমার দায়িত্ব, বড় বোন হিসেবে এটুকু না করলে কেমন লাগে? তাই বললাম, “চলো, তোমাকেও নিয়ে যাই।”

ওর চোখে তখন ঝিলিক! যেন পুরো দুনিয়াটা ওর পক্ষে চলে এসেছে। দ্রুত জামা পরে তৈরি হয়ে গেল, আর আমি ওর মুখের হাসি দেখে হাসি চেপে রাখতে পারলাম না। শরীরে তখনও জ্বর, কিন্তু মনটা হালকা লাগছিল। ওর আনন্দটাই যেন আমার শক্তি হয়ে গেল।

আমরা রেস্টুরেন্টে পৌঁছালাম বিকেলবেলা। ভেতরে ঢুকতেই হালকা সংগীত বাজছিল, আর টেবিলগুলো সুন্দর করে সাজানো। আমার ছোট বোনটা এমন উচ্ছ্বসিত হয়ে গেল যে, চোখে মুখে তার সুখ ফুটে উঠল। ও-ই বলল, “আপু, আজ আমি অর্ডার দেব।” আমি বললাম, “ঠিক আছে, দেখি কী অর্ডার করো।” ও তৎক্ষণাৎ বলল, “রাইস বোল, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আর একটা বার্গার।” আমি হেসে ফেললাম ওর এই আত্মবিশ্বাসটাই আমাকে গর্বিত করে।

image.png

খাবার আসতেই আমরা খেতে শুরু করলাম। রাইস বোলের ধোঁয়া উঠছে, পাশে গরম গরম ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আর বার্গারটা এমনভাবে ধরা যে মনে হচ্ছিল যেন কোনো রাজকীয় ভোজ চলছে। ওর মুখের খুশিটা দেখে আমি নিজের জ্বর ভুলে গেলাম। খাওয়ার মাঝে মাঝে ও এমন মজা করছিল যে আশেপাশের মানুষরাও তাকিয়ে হাসছিল। আমরা গল্প করছিলাম, হাসছিলাম, কখন যে সময় কেটে গেল টেরই পাইনি।

image.png

খাওয়া শেষে ও আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আপু, আজকে অনেক মজা হইছে।” সেই একটিমাত্র বাক্যেই যেন দিনের সব ক্লান্তি মুছে গেল। আমি জানি, এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই একদিন আমাদের মনে থাকবে চিরকাল। ভাইবোনের সম্পর্ক এমনই ঝগড়া আছে, অভিমান আছে, কিন্তু একে অপরের হাসি দেখলে মনটা হালকা হয়ে যায়।

image.png

বাসায় ফেরার পথে আকাশে হালকা মেঘ জমেছিল, বাতাসে একটু ঠান্ডা ভাব। ও আমার হাত ধরে হাঁটছিল, আর আমি ভাবছিলাম আজকের দিনটা হয়তো খুব সাধারণ ছিল, কিন্তু তবুও কত সুন্দর! ছোট বোনের হাসিটাই যেন আমার সারা দিনের ওষুধ। জ্বরটাও যেন একেবারে উধাও হয়ে গেছে।

বাসায় ফিরে এক কাপ গরম চা নিয়ে বারান্দায় বসে ছিলাম। দূরে সূর্য ডুবছে, বাতাসে কেমন শান্তির গন্ধ। মনে হচ্ছিল, আজকের দিনটা কোনোভাবে মনকে নতুন করে শান্ত করেছে। সবকিছুর মাঝে একটা তৃপ্তি একটা শান্ত হাসি।

বড় বোন হওয়া মানে শুধু দায়িত্ব নয়, মানে ভালোবাসা, ত্যাগ আর আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। ভাইবোনের সুখে নিজের কষ্ট ভুলে যাওয়া এটাই তো আসল সম্পর্কের সৌন্দর্য।

আজকের দিনটা আমাকে আবার মনে করিয়ে দিল, জীবনে সব সুখ বড় কিছুতে আসে না। কখনও কখনও একটা সাধারণ দুপুর, একটা ছোট হাসি, কিংবা কোনো প্রিয়জনের চোখের আনন্দই হয় সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।

এইভাবেই আজকের দিনটা গেল সাধারণ, কিন্তু তৃপ্তিতে ভরা। শরীরটা যেমন একটু হালকা লাগছিল, মনটা তেমন অনেকটা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। জীবনের এই ছোট ছোট সুখগুলোই আসলে বড় সুখের পথ দেখায়।

এতক্ষণ আমার পোষ্ট মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আজ এখানেই শেষ করছি, অন্য কোনদিন নতুন কিছু নিয়ে আপনাদের সামনে উন্মোচিত হব। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Zskj9C56UonWToSX8tGXNY8jeXKSedJ2aRhGRj6HDecqreqo2XAMzrcrFMezsQ2JYvnkCG8natanTeTWALXvA2X1jsqXD4Nf1w7BTTxEyx7JRMmmeNnz.png

ধন্যবাদ সকলকে✨💖

45GhBmKYa8LQ7FKvbgfn8zqd6W2YEX34pMmaoxBszxVcFZw7HFjCLMfDJx3zXx3jXPRfJr7otFtoRfKMmN9rJzpemZGKH1sKHrmfJREqyC...9xLrN7kkzEr3nKpRPcTj6NSZrBzYGbr93rAK2CAinZaxUP2fFhka9ZrPQeMBYoU2r2avcVEfb5m3uJAqvfZ4UMDVMeWvTdncVc9TonRvS2kneML5dvyoyUQZKC.png

banner-abbVD.png

ফোনের বিবরণ

ক্যামেরাRedmi note 9
ক্যামেরা.মডেলnote9
কভার ফটোরেডমি নোট 9।
অবস্থানসিরাজগঞ্জ- বাংলাদেশ।

6nSeSEzKEwjJN68tMqgZXvpyk1cf2ihqXgmWESDgXSh21PxWHDWW9CETD5B5Jw9Q6ERAnD25KhyHKAX53jBLJKQRtPJf1WFG3aJd6PXbp2...SwCeUWfeYFqXEU6k9E1QBR3LLWpTGQPTugeRKSuzSqXPiupWgvjugsTQfwLmEzMp6y8qhddmwictcszT5MtchDJq2GfNthESS97LtxV2WaG7p797tQfCnHDy4R.gif

6VvuHGsoU2QBt9MXeXNdDuyd4Bmd63j7zJymDTWgdcJjnztsmhqXECFWhnYScssX21XdqSgM3oVAxxx35K4bsUQXRKwwCsw9GRePhwFW6wnPkumnwFzjxJ7cZ8QEN9.gif

আমার পরিচয়

আমি শেলি। আমি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুরে খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে সি এস ই তে অধ্যায়নরত আছি। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসি। নতুন কিছু শিখতে এবং জানতে ভালোলাগে।ঘুরতে আর খেতে খুব ভালোবাসি।অবসর সময় পেলেই ছবি আঁকি। এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে।
🌼💖🌼


👉সবার প্রতি শুভেচ্ছা এবং পোস্টটি সমর্থনকারী সকল বন্ধুদের বিশেষ ধন্যবাদ।

Vs68WyhR4ueWguiqU5CbbyMd2eBafmyPRcYVv3LiYRs71UXq9fEqpbeAVPzHYduBype2HWE8Nhc1iC2fZdQmNHV5FFNrb9sFVE6WnN94dL...Tw5Abm2612Wy1uy3UjeTTZbeVkqn4KgAunyq9vsiSBbkpAkYqhvBS1PXAEzXPPRCksr3rtaRUWmWqLPXP3YprQi2rjfNopeJmrnAmRjttvj5BoLiBFTScarkV.webp

Posted using SteemX

Sort:  

🎉 Congratulations!

Your post has been upvoted by the SteemX Team! 🚀

SteemX is a modern, user-friendly and powerful platform built for the Steem community.

🔗 Visit us: www.steemx.org

✅ Support our work — Vote for our witness: bountyking5

banner.jpg

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.31
JST 0.077
BTC 63501.69
ETH 1664.92
USDT 1.00
SBD 0.41