জেনারেল রাইটিং :- মানুষের ইহকাল জীবন।
| আমি @tuhin002, আমি আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যগনকে আমার পক্ষ থেকে জানায় সালাম," আসসালামু আলাইকুম" সবাই কেমন আছেন ? আশা করি, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমি ও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহুর অশেষ রহমতে ভাল আছি। আজকে আমি আলোচনা করবো সরলতা নিয়ে মানুষকে বোকা বানাতে যাবেন না,তাহলে নিজেই ধোঁকায় পড়বেন। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। তাই শুরু করছি আমার আজকের ব্লগ... |
|---|
প্রতিটা মানুষের জীবনের কিছু বৈচিত্র্য থাকে। মানুষের জন্ম নেওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের পরিবর্তন ঘটে। একটা শিশু যখন জন্ম নেয় তখন তার একটা আলাদা ধারা থাকে। ওই শিশু সব সময় অন্যের উপরে নির্ভরশীল থাকে। যখন শিশুটি বসতে শেখে তখন সে একটু হামাগড়ি দেয়ার চেষ্টা করে। যখন সে উঠে দাঁড়াতে শিখে তখন সে হাঁটার চেষ্টা করে। যখন সে হারতে শিখে তখন সে দৌড়ানোর চেষ্টা করে। এভাবে সে আস্তে আস্তে প্রাইমারি জীবন শেষ করে। এরপর হাই স্কুল জীবন পরবর্তীতে ভার্সিটি লাইফ। এর অর্থ হলো মানুষ জন্ম থেকে এই পর্যন্ত সে দৌড়ে চলেছে। এখনো তার পুরা দৌড় টাই যেন সামনে বাকি রয়ে গেছে। এরপরে রয়েছে চাকরি জীবন সংসার জীবন একটা সময় বর শেষ হয়ে যাবে মারা যাবে সে। তাকে কবর দিয়ে তার জীবন সমাধি হয়ে যাবে। এটাই হল বিচিত্র মানুষের ইহকাল জীবন। আমি আজকে সংক্ষেপে মানুষের ইহকাল জীবনের কিছু আলোচনা করব আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
এই পৃথিবীতে আঠারো হাজার মাখলুকাত। প্রতিটা জীবকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। মানুষের প্রত্যেকটা কাজে ইবাদতের শামিল। যদি সে ইসলামী ধারায় চলতে পারে তাহলে অবশ্যই প্রত্যেকটা কাজ ইসলামের মধ্যেই পড়ে থাকে। তবে আমরা মানুষ সেভাবে চলতে পারিনা। পৃথিবীটা একটা রঙ্গমঞ্চ। আপনার সামনে একটি মঞ্চ তৈরি করা রয়েছে। আর সেই মঞ্চে রয়েছেন গান বাজনার জন্য বাদ্যযন্ত্র। অনেক গুলো রং এর কিছু জিনিস দিয়ে চারিদিকে ঘেরা রয়েছে। নিশ্চয়ই আপনি মন ছুটে কিছু একটা বলার চেষ্টা করবেন। যখন আপনি বলবেন তখন আপনার সামনে যারা থাকবে তারা হচ্ছে দর্শক। ঠিক এমন একটা দর্শক আরশে আজিমে বসে আছে। তিনি সৃষ্টির এই নিলাখেলা তাদের এই রঙ্গমঞ্চে তারা কি খেলা খেলছে সেটা তিনি দেখছেন। যখন মানুষের জন্ম হয় তখন জন্ম হওয়ার পরে তার কিন্তু কিছু দায়িত্ব থাকে। যদিও জন্মের আগে আল্লাহ তাকে তার আনুগত্যের দায়িত্ব দিয়ে থাকে। কিন্তু জন্মের পরে তার দায়িত্ব থাকে ইহকালের দায়িত্ব। এই দায়িত্বের মধ্যে সে এমনভাবে আবদ্ধ হয়ে যায় যে সে পরকালের জীবন ভুলে যায়। ভুলে যায় তাকে সৃষ্টি করার আগে তাকে কি শর্ত দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছিল। ভুলে যায় যে সে পৃথিবীতে আসার পরে তার কি দায়িত্ব ছিল। আর এই সমস্ত গুলো ভুলে যাবে এটা তার সহজাত প্রবৃত্তি। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে যেমন সঠিক পথ দেখিয়েছেন, ঠিক তেমনি শয়তানকে পাঠিয়েছেন সঠিক পথ থেকে বিভ্রান্ত করে মানুষকে খারাপ পথে পরিচালনা করার।
জন্ম থেকে ১০ বছর পর্যন্ত একটা শিশু থাকে নাবালক। এই শিশুর কোন দিকবেদিক থাকে না তা যখন যাচ্ছে তখন সে করে বেড়ায় আর এভাবেই সে এই বয়সটা পার করে। এরপরে ১০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত সে লেখাপড়া চাকরি এর ভিতরে সে ব্যস্ত থাকে। চাকরি বা যে কোন কর্মসংস্থান হওয়ার পরে সে বিবাহিত জীবনে পদার্পণ করে। এরপরে তার জীবন সংসার এবং কর্মব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে তার সময় পার হতে থাকে। আস্তে আস্তে চুল গুলো পেকে যায় দাড়িগুলোর রং সাদা হয়ে যায়। আর এগুলোকে কলপ বা মেহেদি দিলে যেমন এই পাকা চুলকে লোকানো যায় না। ঠিক জীবনের সময় গুলো ফুরিয়ে যাবে সেগুলো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। ইহকালের এই রঙ্গ তামাশা নিয়ে আমরা সবসময় মজার মধ্যেই ডুবে রয়েছি। এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউ কখনো যেতে চায় না। সন্তানের প্রতি বাপের ভালোবাস। বাপের প্রতি তার মায়ের ভালোবাস। মায়ের প্রতি তার মেয়ের ভালোবাসা। এই ভালোবাসা গুলো যেন একটা বন্ধন। এই বন্ধনে মায়ের ত্যাগ করে কেউ যেতে চায় না সে পরকালে। আসলে মানুষের ইহকাল জীবনটা বড়ই বিচিত্রময়। প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে আমাদের চাওয়া পাওয়া আশা ভালবাসা রয়েছে।
আচ্ছা একটা কথা সবাই বলেন তো, এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউ কি যেতে চাই? আজ মানুষের মধ্যে এমন একটা পরিস্থিতি এসে দাঁড়িয়েছে মনে হয় না এই মানুষ গুলো একদিন মৃত্যুবরণ করবে। আমরা মানুষ ভুলেই গেছি ইহকাল জীবন থেকেও পরকাল জীবনটা অধিক কঠিন থেকে কঠিনতর। মানুষ তার ইচ্ছাগুলোকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে পরকালের জীবনটাকে কঠিন করে ফেলেছে। একটা কথা আপনারা সবাই একমত হবেন আমরা যেন এর বাঁধন ছিন্ন করতে পারছি না। কি যেন এক অজানা মায়া প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই কাজ করে। তাই হোক আর জীবনটা তো আমরা খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যখন একজন বাবা হয়, সেই বাবার মাথায় সব সময় কাজ করে কি করে আমার সন্তানের জন্য কিছু করে যাবো। সন্তানের এই চাওয়া পাওয়া থেকে পূর্ণ করতে গিয়ে বাবা তার ইহকাল জীবনটাকে নিষ্পত্তি ঘটে। কতটুকু কি সে নিজের হাতে করে যায় সেটা তো বোঝার সাধ্য কারণ নেই। আমাদের এই ইহকাল জীবনটা কেমন হওয়া লাগবে কেমন করে আমরা পরকালের মুক্তি পাব এই নিয়ে যদি আমরা একটু চিন্তা-ভাবনা করতাম তাহলে আমরা পরকাল নিয়ে আমরা পড়ে থাকতাম। মানুষের ইহকাল জীবন হলো পরকালের শস্য ক্ষেত্র। এখানে আপনি যতটুকু পরিশ্রম করবেন তো ওখানে আপনি তার ততটুকু ফসল পাবেন। সেখানে আপনাকে এক বিন্দু বেশি দেওয়া হবে না আবার এক বিন্দু কম দেয়া হবে না। যার যতটুকু পাওনা ঠিক তাকে ততটুকুই বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
আমরা মানুষ ইহকাল জীবনে ডুবে আছে মানুষের তৈরি কিছু যন্ত্রের মধ্যে। আর এই যন্ত্র গুলো এমন ভাবে আবিষ্কার করা হয়েছে যা মানুষকে ঘুরে পেচিয়ে ঠিক এক জায়গায়তে রেখে দিচ্ছে। আপনি একটু চিন্তা ভাবনা করে দেখুন তো আপনি একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন কিনা। আমার ভাবনাতে এটাই মনে হয়েছে যে আমি এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রয়েছি। যদিও জীবনের সংগ্রাম আছে ইনকাম আছে আমরা খাচ্ছি বেরোচ্ছি সবকিছু করছি তারপরও মনে হচ্ছে একটা জায়গায় আপনি দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মানুষের এই ইহকাল জীবনের কোন গ্যারান্টি নাই। তাই ইহকাল জীবনের এই সময় গুলোকে নষ্ট না করে পরকালের জন্য বের করা আমাদের উত্তম। আর মানুষের এই ইহকাল জীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই জীবনটা এমন হওয়া উচিত মানুষ আপনাকে মনে রাখবে এই প্রকৃতি আপনাকে মনে রাখবে। আপনি মৃত্যুবরণ করবেন কিন্তু আপনি বেঁচে থাকবেন সবার মনের মধ্যে। মানুষ মরে যায় কিন্তু তার কর্মগুলো বেঁচে থাকে। আর এটা হওয়া উচিত মানুষের ইহকাল জীবন।
ভুল ত্রুটি হলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশায় নিয়ে শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি আবুল বাশার খাইরুল আলম তুহিন। আমার জন্ম ১১ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে। আমার বাসা মেহেরপুর জেলা,গাংনী থানা, জুগীর গোফা গ্রাম। আমি বিবাহিত। বর্তমানে আমার একটা পুত্র সন্তান আছে। আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মাধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। আমি ছবি আঁকতে,গান গাইতে,কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। আর আমি স্টিমেটে জয়েন করেছি (২৭ - ০৬ - ২০২২) সালে। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/ABashar45/status/1707328065989464212?t=qVxs0VIhz7ecIL7Gv6P_Yw&s=19
মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের এই ছোটে চলার কোন থামাথামি নেই। যেদিন মানুষ মৃত্যুবরণ করবে সেই দিন মানুষের সব কিছু শেষ হবে তবে। আপনার জীবন তখনই সার্থক হবে যখন আপনার পরিপূর্ণ উদ্দেশ্য সম্পন্ন হবে। যার জন্য সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। মানুষের এই বর্তমান সময়ের কাজগুলো তখন ইহকালে ভোগ করতে পারবেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা তুলে ধরলেন ভালো লাগলো পড়ে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপু চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।
খুবই সুন্দর একটা পোস্ট আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন ভাইয়া। মহা সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তার এবাদত করার জন্যই। আর এই সামান্য জীবনের জন্য আমরা কতটা ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ব্যস্ততায় যেন আমাদের এই ইহকালের জীবনটাকে ঘিরে রেখে দিয়েছে। কিন্তু আমরা ভুলেই যাই যে এই ইহকালের জীবনেই হবে আমাদের পরকালের জীবনের শস্যক্ষেত্র।
পৃথিবীটা একটা রঙ্গমঞ্চ। আর এই রঙ্গমঞ্চ আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে চারদিক দিয়ে। যেখান থেকে আমরা কোনভাবেই বেরোতে পারছি না। আর এর ফলে আমরা আমাদের নিজেকেই ধ্বংস করছি। ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের চলার যেনো শেষ নেই।এই ইহকালের কাজকর্ম আমাদের পরকালের জন্য শান্তি বয়ে আনবে।আমাদের এই জীবন তখনই সার্থক যখন আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারি।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি বিষয়ে পোস্ট শেয়ার করা জন্য।
ইহকালের কর্মই হলো পরকালের হিসাব। যেমন কর্ম করবো আমরা ঠিক তেমন ফল পাবো। অনেক ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।