সমাজসেবা VS বাস্তবতা
আসসালামু আলাইকুম
আমি @sajjadsohan from 🇧🇩.
২৩ সেপ্টেম্বর, শনিবার।
আ মার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি, আজকে নিজের কিছু মনের কথায় লিখে দেয়ার চেষ্টা করব, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার চেষ্টা করব।
আজ যখন এই পোস্টটা লিখতে বসছি তখন আমার অনুভূতিটা খানিকটা কনফিউশন হয়তো আজকে গুছিয়ে কথাগুলো লিখতে পারবো না, সমাজকে পরিবর্তন করার এখন একটা পাগলামি হয়ে গেছে। কেউ একটা চমৎকার আইডিয়া দিলে সেটাকে ব্যঙ্গ করা হয়। একটা মানুষ হয়তো চমৎকার ভাবে চিন্তা করছে দেশটাকে পরিবর্তন করার তার এই কাছের মানুষরা তাকে অপমান করছেন, কিংবা একটা সময় বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে কর্মজীবনে ব্যস্ত হয়ে যায়।
একটা সময় খুব উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতাম, দেখতে দেখতে আজ ৬-৭ বছর হয়ে যাবে আমাদের কিন্তু বর্তমান সময়ে কেউ হয়তো বিয়ে করেছে কেউ চাকরি করছে কেউবা ব্যবসা, যে মানুষগুলো বেকার হয়েছে শুধু তারাই হয়তো সমাজ পরিবর্তন নিয়ে এখনো চিন্তা করে, যে মানুষগুলো চমৎকারভাবে চিন্তা করত সমাজ পাল্টে দেবে তারা এখন চিন্তা করছে মাস শেষে সেলারিটা বউয়ের হাতে তুলে, যেই মানুষটা অন্য মানুষদেরকে কনভেন্স করতে পারতো সমাজ পরিবর্তন করার জন্য সে মানুষটা চিন্তা করছে এই মাসে ব্যবসাটা বোধহয় ভালো হলো না লস করলাম।
হয়তো একটা সময় আমরাও হারিয়ে যাব হয়তো পরিবারের চাপে নিজের ভবিষ্যতের জন্য আমরাও হয়তো একদিন হাল ছেড়ে দেব। তাহলে কি সমাজটা আসলেই পরিবর্তন হবে না?
কথাগুলো লিখছি কারণ, বন্ধুরা মিলে স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়েছিল কিছুদিন আগে আমরা ফেসবুকে হয়তো দেখেছিলাম জাপানিরা স্টেডিয়ামে খেলা দেখার পর পুরো স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেছিল, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না কিন্তু আমার বন্ধুরা একই কাজ করার প্ল্যান করল, যেহেতু আমাদের অনেকগুলো কাজের মধ্যে এইটাও একটা প্রজেক্ট। যেখানে জাপানিজদের ছবি দেখে আমরা বাহবা দিয়েছিলাম আমরা খুশি হয়েছিলাম, তখন প্রশংসার বদলে মিনতি তিরস্কার।
কেউ বলল লোক দেখানো, কেউ বলল এটা ধান্দাবাজি, কেউবা বলল ভিডিও করে ছেড়ে দিলেই লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম। অথচ যে মানুষগুলো এখানে কাজ করছিল গত ৫-৬ বছরে তারা কয়েক হাজার টাকা দিয়েছে কিন্তু কোনদিন বলেনি আমার প্রয়োজন আমাকে টাকা দাও, এই মেম্বাররাই প্রয়োজনে চাঁদা দিয়েছে কিন্তু কোনদিন বলেনি আমি কাজ করছি আমার মাইনে কোথায়?
হয়তো জনগণের এরকম মন্তব্যে আমি আমার কিছু ভলেন্টিয়ার হারিয়ে ফেলবো, হয়তোবা নিজের পারিপার্শ্বিক চাপে কিংবা কর্মজীবনে ব্যস্ত হওয়ার পর আমিও হারিয়ে যাব, আমরা শুধু অন্য দেশের সাথে নিজের দেশের তুলনাই করব পরিবর্তন করার চেষ্টা বোধহয় আমাদের মধ্যে নেই।
আমি সাজ্জাদ সোহান
আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজন শিক্ষার্থী। আমি ঢাকাতে বসবাস করি। আমি ট্রাভেল করতে অনেক ভালোবাসি, এছাড়া অবসর সময়ে মুভি দেখি, ফটোগ্রাফি করি, গান করি। আমি একটু চাপা স্বভাবের তাই কম কথা বলি কিন্তু আমি একজন ভালো শ্রোতা। ভালোবাসি নতুন জিনিস শিখতে, মানুষকে ভালবাসি তাই মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR

Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
বাস্তবতা বিরাট বড় একটা জিনিস। আপনি চাইবেন আপনার পরিবেশটা ভালো করার জন্য কিন্তু আমাদের লোক সেটা হতে দেবে না। কারণ আমরা কাজ করি কম সমালোচনা করি বেশি। কেউ ভালো কিছু করলে সেটা আমরা ভালোভাবে না নিয়ে তার পেছনে লেগে যায় কিভাবে তার ছোট করা যায়। আপনারা খুবই একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিন্তু সমাজের লোকের চোখে সেটা ভালো মনে হয়নি বিষয়টি জানার পর খুবই খারাপ লেগেছে। কারণ আমরা মানুষ হয়ে আর একটা মানুষের কাছ থেকে এমনটা আশা করা যায় না।
এখনো কিছু পাগল মানুষ করে যাচ্ছে কাজ যেটা সাধুবাদ জানানোর মতো, চেষ্টা করে যাবো যতটুকু সম্ভব বাস্তবতাকে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে।
আসলে এটাই তো আমাদের সমাজের সবথেকে বড় সমস্যা। যখনই কেউ ভালো কিছু করার চেষ্টা করে তখনই সমাজের মানুষেরা তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা শুরু করে দেয়। আপনারা যে সমাজ সেবাটা শুরু করেছেন সেটা আমি ফেসবুকে দেখেছি খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে। যে যাই বলে বলুক ভাইয়া আপনারা আপনাদের কাজ চালিয়ে যান।
সমালোচনা আসবে আবার ভালবাসা আসবে, সবকিছু মিলিয়েই সমাজ যাইহোক খুব ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য দেখে ধন্যবাদ আপনাকে।
এটাই তো সমাজের মানুষের সব থেকে বড় সমস্যা যে তারা ভালো কাজে সমর্থন না করে সমালোচনা করতে শুরু করে দেয়। তারপরও আমাদের সকলের উচিত ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কেননা কথায় আছে না পাছে লোকে কিছু বলে। তাদের কথা না শুনে সামনের দিকে এগিয়ে যান আশা করি ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন।
চেষ্টা করে যাব তবে সমাজের সাথে তাল মিলাও চলতে হবে, সবকিছু মিলিয়ে এখন আস্তে আস্তে ভালো দিকে যাচ্ছে আশা করি ভালো কিছু আসবে।
সেইম অবস্থা ভাই। ২০১৪ সাল থেকে আমিও একজন নিয়মিত ভলান্টিয়ার ছিলাম। অনেক কিছুই করেছি। ৯ বার রক্ত দিয়েছি। অসংখ্য বার রক্ত যোগাড় করে দিয়েছি। উইনিক উইনিক আইডিয়া নিয়ে মানুষের সাথে কথা বলেছি, বুঝানোর চেষ্টা করেছি... প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্যার সকয়ে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছি। একই জিনিস আমরাও ফেস করেছি, বিভিন্ন রকমের কমেন্ট শুনেছি। তখন গাঁয়েই লাগাতাম না। পরে এখন আস্তে আস্তে আর কিছুই করা হয় না, সরে এসেছি নিজের ব্যস্ততার কারণে।
আমিও ২০১৬ সাল থেকে কাজ করে আসছি, এই কাজ করার সুবাদে তিনটা ভিন্ন ধরনের সংগঠন তৈরি করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ, প্রত্যেকটার কাজ আলাদা আলাদা এবং চমৎকার সব কর্মকান্ড নিয়ে আমরা উপস্থাপন করি, নিজের ব্যক্তিগত কারণে একটু দূরে সরে আছি তবে কাজ তাদের গতিতে চলছে।
বিষয়টি এমন কাজটা যখন বিদেশীরা বা অন্যরা করে আমরা তখন তাদের প্রশংসা করি। কিন্তু ঐ একই কাজ যদি আমরা করি তাহলে অন্যরা হাসাহাসি করবে। ঠিক যেমনটা আপনি বললেন। এটাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। সমাজকে বদলানোর কথা বললে নতুন কোনো কিছুর কথা বললেই লোকজন হাসাহাসি করে যেটা একেবারেই অনাকাঙ্খিত।। সুন্দর লিখেছেন ভাই। এবং আপনার লেখার বিষয়টি চমৎকার ছিল।।
আসলে সবাই ভাবে এই কাজগুলো করলে হয়তো টাকা পাওয়া যায়, অথচ আমরা নিজেরা না খেয়ে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে এই কাজগুলো করে থাকি, অবশ্য কিছু মানুষের জন্যই আমরা ভাবলাম ভালো খারাপ মিলিয়েই মানুষ।