আর্থিক সামর্থের ভেদাভেদ।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীর মধ্যে অবস্থিত এই সুন্দর সমাজে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বসবাস করে। এই বিভিন্ন ধরনের মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনা যেমন ভেদাভেদ রয়েছে তেমন আর্থিক সামর্থেরও ভেদাভেদ আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করতে পারি। কারো আর্থিক সামর্থ্য থাকে আকাশছোঁয়া অর্থাৎ যখন ইচ্ছা এবং যা ইচ্ছা তখনই সেই ব্যক্তি সেটা কিনে নিতে পারে অনায়াসে আর তার জন্য সে ব্যক্তির একটুও চিন্তা করার প্রয়োজন হয় না। কোন জিনিস পছন্দ হলেই নির্দ্বিধায় কিনে নিতে পারে তার জন্য তার কাছে সব সময় প্রস্তুত আর্থিক সামর্থ্য থাকে। আবার অনেক মানুষ আছে যারা একটু কম আস্তিক সামর্থ্যবান এদের থেকে তবে তারাও ইচ্ছা করলেই অনেক কিছুই জেনে নিতে পারে চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন হয় না। আর রয়েছে কিছু মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষ। উচ্চ মাধ্যমিক তো মানুষদের একটু চিন্তা করতে হলেও তারা আর্থিকভাবে একটু ভালো সামর্থ্যবান থাকে যার কারণে তারা অনেক কিছুই মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পারে এবং সুস্বাস্থ্য এবং পছন্দ সেই জীবনযাপন করতে পারে।
কিন্তু নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং একদম নিম্নবিত্ত মানুষেরা সবসময় কোন কিছু কেনার আগে যেমন হাজার বার চিন্তা করে তেমনি ভবিষ্যতে কোন পরিকল্পনা করার আগেও বহুবার তাদের চিন্তা করতে হয়। নিজের শখ সৌখিনতা পূরণ করা তো দূরের কথা কোন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ক্ষেত্রেও তাদের বহুবার চিন্তা করে তবে সেই জিনিস সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমাদের এই পৃথিবীতে আর্থিকভাবে এতটাই ভারসাম্যহীন চারিদিকে দেখা যায় যে একই সময়ে একই জীবনের পরিস্থিতির মধ্যেও বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন রকমের জীবন যাপন করতে দেখা যায়। কোন পরিবারে দেখা যায় ছোট সন্তান ভালো খাবার খেয়ে ফলমূল খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠছে আবার অপরদিকে দেখা যায় কোন কোন পরিবারে সন্তানেরা ভালো খাবার তো দূরের কথা ফলমূল তো বিলাসিতা তিনবেলা কোনরকম পেট ভরে খাবারও ঠিকমতো পায় না এবং এই ভাবেই তারা বেড়ে উঠছে। আমাদের এই সমাজে আর্থিকভাবে ভারসাম্যহীনতা আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে দেখতে পাই।
কোন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে বিলাসবহুল এবং অনেক দামি হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে আবার অন্যদিকে দেখা যায় কোন ব্যক্তি অর্থের অভাবে সামান্য সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে। তেমনই একজন মা তার শিশুকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী অনেক বড় নার্সিংহোমে জন্ম দেয় আবার অন্যদিকে দেখা যায় কোন এক মা অর্থের অভাবে সরকারি হাসপাতালে অবহেলায় তার সন্তানকে পৃথিবীতে নিয়ে আসে। আমাদের এই সমাজে আর্থিক সামর্থ্যের ভেদাভেদ আমার প্রতিনিয়ত চারপাশে তাকালেই লক্ষ্য করতে পারি। তবে এই আর্থিক সামর্থের ভেদাভেদের কারণ মানুষ নিজেই অনেক ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। মানুষের অলসতা মানুষের কর্ম এবং মানুষের চলাফেরার কারণে ও মানুষ এই আর্থিক ভারসাম্যের মধ্যে পড়ে যায়। যেসব মানুষ অলসতা করে সেসব মানুষ যেমন আর্থিকভাবে দুর্বল থাকে তেমনি যেসব মানুষ শুধু অযথা শারীরিক পরিশ্রম করে বুদ্ধিমত্তার সাথে কোন কাজ করে না সেই সব মানুষ ও আর্থিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে থাকে।
আমাদের যদি এই আর্থিক দুর্বলতা দূর করতে হয় এবং নিজেদের সুন্দর একটা স্থানে দেখার মানসিকতা তৈরি হয় তবে অবশ্যই আমাদের বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করতে হবে এবং অলসতা দূর করতে হবে। অর্থ দিয়ে জীবনের অনেক দুঃখ দূর করা যায় এবং অর্থ দিয়ে জীবনের অনেক সমস্যা সমাধান করা যায়। আমরা পাইনা এমন অনেক কিছুই অর্থের দ্বারা আমরা অর্জন করতে পারি। জীবনের অনেক সুখ সৌখিনতা বিলাসিতা এমনকি বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন আমরা এই অর্থের দ্বারাই মেটাতে পারি তাই সব সময় আমাদের চেষ্টা করতে হবে নিজের দুর্বলতাকে দূর করা এবং আর্থিকভাবে ভীষণভাবে সক্ষম হয়ে ওঠার। কারন আমরা যদি আর্থিকভাবে সক্ষম হই তবেই আমরা আমাদের জীবনের সেই সব জিনিস পেয়ে যাব যে জিনিস আমরা কল্পনা করি এবং অর্থশালী প্রতিপত্তি বান মানুষেরা ভোগ করে। আমাদের এই পৃথিবীতে এবং সমাজে আর্থিক সামর্থের ভেদাভেদ চারিদিকে লক্ষ্য করা যায় কিন্তু আমাদের সব সময় চেষ্টা করতে হবে যে আমরা যেন আর্থিকভাবে নিম্নস্তরে না পৌঁছে যায় এবং শেষ জীবনে অর্থের অভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করি।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।