স্কুল জীবনের একটি মজাদার ঘটনা। পর্ব : শেষ।
কেমন আছেন " আমার বাংলা ব্লগ " পরিবারের সবাই ? আশাকরি মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবাই খুব ভালো আছেন। আপনাদের আশীর্বাদে আমিও খুব ভালো আছি। আসলে আজ স্কুল জীবনের একটি মজাদার ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আশাকরি আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আসলে স্যার জানতেন যে আমি অংকে কতটা পাকা। তাই স্যার বললেন যে আমি জানি তুই এই জিনিসটা আনিস নি। কিন্তু এই ক্লাসের ভিতর কেউ একজন এই অংকটি বাড়ি থেকে লিখে এনেছে নকল করার জন্য। আসলে স্যারের এই কথা শুনে আমি একটু নির্ভয় হলাম এবং স্যার খুঁজতে লাগলেন যে কার কাজ হতে পারে এই নকল করা। যাই হোক স্যার কাগজটির স্যারের কাছে রেখে দিলেন এবং তখন থেকে পরীক্ষার হলের গার্ড আরো দ্বিগুণ কঠিন করে দিলেন। অর্থাৎ কোন বন্ধুরা আর কারো দিকে ঘুরে কোন রকমের নকল করতে পারছে না। যাইহোক ঠিক একই রকম আমার এক ঘন্টা কুড়ি মিনিটের ভিতরে পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। আসলে এত দ্রুত খাতা জমা দিতে নেই জেনে আমি বসে বসে বাইরে এদিক ওদিক দেখছিলাম এবং বিভিন্ন বন্ধুবান্ধবদের সাহায্যের জন্য সবসময় চেষ্টা করছিলাম।
আসলে পাশের এক বন্ধুকে আমি বারবার চেষ্টা করছিলাম যে কি করে তাকে অংক দেখানো যায়। আসলে আমার ওই বন্ধুটি এতই অংকে কাঁচা ছিল যে তাকে আমি অংক দেখালেও সেই অংক ঠিকঠাক করতে পারছিল না। তাই আমি বাধ্য হয়ে মাঝে মাঝে এক্সট্রা পেপার নিয়ে আমি অংক করে সেই বন্ধুটিকে লুকিয়ে লুকিয়ে দিচ্ছিলাম। যদিও এটি অপরাধ কিন্তু যেহেতু তখন আমরা অপরাধ সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা ছিল না এবং আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যে বন্ধুদের কি করে সাহায্য করা যায়। আসলে এভাবে অনেকটা সময় পার হয়ে গেল এবং মাঝে একটা সময়ে স্যার একটু বাইরে চলে গেলেন। কিন্তু পরবর্তী ক্লাসে শুরু হল হৈচৈ। অর্থাৎ সবাই মিলে যে অংক গুলো পারেনি সে অংকগুলো পাশের বন্ধু থেকে করে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে।
তখন কেউ একজন আমার কাছ থেকে আমার একটা এক্সট্রা পেপার নিয়ে গেল অংক করার জন্য। আসলে কখন নিয়ে গেছে আমি কখনো টের পাইনি। কারন আমার তো সব অংক করা হয়ে গেছে তাই আমি অন্যান্য বন্ধুদেরকে অংক দেখাতে ব্যস্ত ছিলাম। আসলে এভাবে প্রায় দু মিনিট পর আবার পুনরায় স্যার ক্লাসে প্রবেশ করলে। আসলে দু ঘন্টা পর যখন ঘণ্টা পরলো তখন সবাই মিলে অংক করতে আরও বেশি ব্যস্ত হয়ে গেল। কেননা আর বেশি সময় নেই। যাইহোক আমাদের পরীক্ষার সময় নিয়ম ছিল যে শেষ ১৫ মিনিট আগে আমরা খাতা জমা দিতে পারব। তাই অংক পরীক্ষা শেষ হবার পর এই সময়টুকু আমার জন্য অনেক বেশি বোরিং ছিল। কেননা আমি বাইরে যেতে পারছি না আর শুধু শুধু এখানে বসে বসে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি এবং বন্ধুদের সাহায্য করছি।
আসলে পরীক্ষা শেষ হবার প্রায় ১৫ মিনিট আগে আবার পুনরায় ঘন্টা পড়ল এবং আমি আমার খাতা জমা দিয়ে দিলাম। কিন্তু আমার যে এক্সট্রা কাগজটি অর্থাৎ যে কাগজ আমি এক্সট্রা নিয়ে সেখানে অংক করেছি সেই কাগজটা কে নিয়ে গেছে আমি জানতাম না এবং আমি সেই কাগজটি বাদ দিয়ে সব কাগজগুলো পিন করে স্যারের কাছে জমা দিয়ে দিয়েছি। আমি জানি যে আমার অংক পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে এবং আমি সব কয়টি অংকের উত্তর সঠিকভাবে দিয়ে এসেছি। আসলে সমস্যা হলো যেদিন রেজাল্ট দিল সেদিন দেখলাম যে আমি অংকে মাত্র ৯২ পেয়েছি। অর্থাৎ আমি জানি যে আমার অংক সব কটি সঠিক হয়েছে এবং কোন অংক ভুল হয়নি। আসলে আমাদের সময় আমরা অংকের খাতা দেখতে পারতাম যে কোথায় ভুল হয়েছে।
আসলে স্যার আমার কথা শুনে স্যারদের রুমের ভিতর থেকে আমার অংকের খাতাটি নিয়ে এলেন এবং আমাকে দেখতে বললেন যে আমি কোন অংকটি ভুল করেছি। আসলে আমি খাতার প্রথম থেকে একদম শেষ অবধি ভালোভাবে দেখলাম যে আমার একটি অংক ভুল যায়নি। তখন আমি স্যারকে জিজ্ঞাসা করলাম যে স্যার আমি তো
সব অংক গুলোর সঠিকভাবে করেছি এবং আমার খাতায় একটিমাত্র অংক ভুল যায়নি। তখন স্যারও দেখলেন যে আমি ঠিক বলেছি। আমার খাতায় একটি মাত্র অংক ভুল নেই। তাহলে আমার নম্বর এত কম এলো কেন। আসলে তখন স্যার আবার পুনরায় স্যারের রুম থেকে সেই অংকের প্রশ্নটি নিয়ে নিলেন। আসলে প্রশ্নের এক থেকে শুরু করে একদম ১৫ নম্বর দাগ অব্দি মিলিয়ে মিলিয়ে দেখতে শুরু করলেন।
তখন আমি বেঞ্চে বসে ছিলাম এবং অন্যান্য বন্ধুদের সাথে কথা বলছিলাম। কিছুক্ষণ পর স্যার আমাকে ডাক দিয়ে বললেন যে তুই তো দেখি একটি অংক করিস নি। অর্থাৎ আমি আট মার্কের একটি অংক করিনি। আসলে তখন আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। কারণ আমি তো ওই অংকটি পারি এবং ওই অংকের যে অথবা অংকটিও রয়েছে সে অংকটিও পারি। যাইহোক আমি স্যারের কাছে গিয়ে বললাম যে স্যার আমি এই অংকটি তো পরীক্ষার সময় করেছি এবং এই দুটো অংক আমি একদম শিওর পারি। তখন বললেন যে তাহলে সেই অংকটি কোথায় গেল। আসলে আমিও তখন বুঝে উঠতে পারছি না যে সেই অংকটি কোথায় গেল। যাইহোক আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল এবং পরবর্তীতে বন্ধুবান্ধবদের কাছে শুনলাম যে আমার সেই এক্সট্রা অংকের পেপারটি মনে হয় কেউ আমার কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে গেছে এবং সেদিন যে নকল করেছিল সে হল আমার ক্লাসের অন্যতম একটা বন্ধু। যাইহোক সেবার আর অংকে ১০০ পাওয়া হলো না।
আশাকরি আজকের এই পোস্টটি আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করতে অবশ্যই ভুলবেন না।
সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে।
পরীক্ষার খাতাতে ১০০ নম্বরের অংক সঠিকভাবে করে এসেও যদি রেজাল্টে ১০০ মার্ক পাওয়া না যায় তাহলে মেজাজটা কত খারাপ হয় সেটা আমি ভালো করেই জানি। কিন্তু এর মাঝে যে এরকম বন্ধু-বান্ধব রয়েছে যারা এক্সট্রা পেজগুলো নিয়ে নেয় না বলেই তাদের উপর আলাদা মেজাজ বিগড়ে থাকে। আমার একবার অষ্টম শ্রেণীতে অংক খাতার এরকম একটা এক্সট্রা পেজ এক বন্ধু নিয়ে নিয়েছিল আমাক না বলেই ফলে রেগে গিয়ে আমি তো তাকে একটা কষা থাপ্পড় মেরেছিলাম। যাইহোক সে দিনগুলো অতীত হয়ে গেছে। আপনিও সেবার অংকে ১০০ পান্নি বিষয়টা শুনে খারাপ লাগলো। তবে আমাদের উচিত এরকম বন্ধু গুলোকে পরিত্যাগ করেই চলা।
ভাই আপনার এই ঘটনা পড়ে আমারও মনে পড়ে গেল এসএসসি পরীক্ষার কথা। আমি ৯৪ মার্কের আনসার করেছিলাম। একটা উত্তর দিয়েছিলাম না ছয় মার্কেট। হঠাৎ প্রশ্নটা দেখে দেখলাম একদম সম্পূর্ণ মুখস্থ রয়েছে সেই উপপাদ্য টা। কিন্তু পরে আমি আর অ্যানসার করেছিলাম না। এরপরেও আলহামদুলিল্লাহ এ প্লাস ছিল। যাহোক আপনি জানা অংক ৮ মার্কের না করে বসে ছিলেন। স্যার যখন আপনার ভুল ধরিয়ে দিল তখন সত্যি অবাক হয়েছেন।
ভাই, আপনি তো স্কুল জীবনের মজার ঘটনা বলছেন, কিন্তু আপনার ঘটনা পড়ে আমার মনে হচ্ছে এটি ছিল আপনার স্কুল জীবনের দুঃখের ঘটনা। কেননা এত সুন্দর পরীক্ষা দিয়েও অবশেষে লুজ শিট চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে আপনি ১০০ তে ১০০ নাম্বার পাননি। আপনার যে বন্ধু এই কাজ করেছে সে মোটেই ভালো কাজ করেনি। তবে আপনি যেহেতু ফুল উত্তর করেছিলেন, সেদিক থেকে আপনি কিন্তু ১০০ তে ১০০ পেয়েছেন। যাইহোক ভাই আপনার ঘটনাটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
স্কুলে যে এমনটা করিনি সেটা না।তবে ভালো ছাএরা এমন কাজ খুব একটা করে না। আপনি এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন। আমার মনে হয় আপনার ঐ অংকের পেজ টা অন্য কেউ নিয়ে নিয়েছিল এবং ঐটা আপনি আপনার খাতার সঙ্গে পিনআপ করতে পারেননি। এইজন্যই ঐ অবস্থা হয়েছিল।