★আমার বাগানে গাছ লাগানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজ আমি আপনাদের সাথে একটি ব্লগ শেয়ার করতে চলে এসেছি আর সেটি হল নিজের হাতে বাগানে গাছ লাগানোর অনুভূতি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। নার্সারিতে গিয়ে বিভিন্ন রংবেরঙের গাছ কিনতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। এজন্য আমি যখনই সময় পাই তখনই নার্সারিতে চলে যাই গাছ কেনার জন্য। বেশিরভাগ সময়ই গাছ কিনে আনি তবে আবার কিছু কিছু সময় যায় কিছু কিছু গাছ দেখার জন্য। কারণ নার্সারিতে গেলে আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের গাছ ও বিভিন্ন রংবেরঙের ফুল দেখা যায় যেটা দেখলেই মনটা অন্যরকম ভালোলাগায় ভরে যায়। বেশ কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম নার্সারিতে একটা হাজারী গোলাপ গাছ কেনার উদ্দেশ্যে। হাজারী গোলাপ গাছগুলো আমার কাছে অসম্ভব ভালো লাগে, একসাথে একটি গাছে অনেকগুলো ফুল ফুটে থাকে যেটা দেখলে আসলে মনটা ভরে যায়। ফেসবুকে দেখি অনেকেই বিভিন্ন সময় ওই গাছের ছবি শেয়ার করে। আমি অনেকদিন ধরে ওই গাছটি খুঁজছি, কিন্তু আমাদের বাসার একটু দূরেই একটা নার্সারি আছে সেখানে বেশ কয়েকবার গিয়ে খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। তারা আমাকে হাজারী গোলাপ বলে যেসব গাছ দিয়েছে সেগুলো বাসায় আনার পরে যখন ফুল ফুটেছে তখন সেগুলোতে দেখি ছোট ছোট ফুল ফুটেছে সেগুলো হাজারী গোলাপ নয়। আমার বারান্দায় কম রোদ হলেও গোলাপ ফুল গাছ গুলো ভালই ফুল দেয়। এজন্য আমি গোলাপ গাছ বেশি লাগানোর চেষ্টা করি।
এবার যখন গিয়ে অনেক খুঁজে বেশ কয়েকটি হাজারী গোলাপ পেয়েছিলাম তবে তার ভিতরে একটি গাছ অনেক বেশি ভালো লেগেছিল এবং সেই গাছটার দাম আমার কাছে মনে হল। ওরা একটু বেশিই চাইলো ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করবেন না, আর ৮০০ টাকা দিয়ে ওই গাছটি নেওয়ার মতো আমার কাছে মনে হলো না। কারণ মনে হলো ৮০০ টাকার গাছ আরো বেশি সুন্দর হওয়া উচিত। পরে আর সেটি না নিয়ে অন্য আরেকটি গোলাপ গাছ নিয়ে আমরা বাসায় চলে আসি। সাথে আরও একটি গাছ নিয়েছি এই গাছটির নাম ওরা কি বলেছিল আমার মনে নেই ।ওই গাছগুলো আমার কিনতে ইচ্ছা করে না কারণ এগুলো প্রথমে দুই একদিন ভালোই ফুল দেয় পরে আর ফুল ফুটে না। কিন্তু ছেলেটা আমাকে এমন জড়াজড়ি করল যে না নিয়ে পারলাম না। এখন গাছগুলো লাগানোর পালা। আমি সাথে কিছু টব কিনে নিয়ে এসেছিলাম। আমার বারান্দায় অনেক আগের কিছু মাটির টক রয়েছে ভাবছি মাটির টব গুলো ফেলে দিয়ে প্লাস্টিকের এই টবগুলো দিবো। কেননা মাটির টবগুলোতে বারান্দায় অনেক নোংরা হয়। তাই সাথে কয়েকটা প্লাস্টিকের টব কিনে নিয়ে আসলাম।
গাছ কিনে বাসায় আসতে আসতে আটটা বেজে গিয়েছিল। আমি বাসায় এসেই গাছ লাগানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। কারণ রাতের বেলা গাছ না লাগালে সকাল পর্যন্ত যদি নষ্ট হয়ে যায় সেই ভয়ে। তাড়াতাড়ি করে গিয়ে বসে পড়লাম গাছ লাগানোর জন্য আর আমার ছেলেটাও পাশের বাসায় গিয়েছে ভাবলাম সেই সুযোগে গাছগুলো লাগিয়ে ফেলি। ও থাকলে গাছ লাগানো যায় না ও সব কিছুই নিজে হাতে করতে চায়। কিন্তু যেই না বসেছি গাছ লাগাতে অমনি সে এসে হাজির, বলে যে আমাকে ছাড়া একা একাই সব করছ আমাকে কেন ডাকলে না। তখন কি আর করার সেও ওই রাতের বেলা মাটি ধরে গাছ লাগানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। এদিকে ছেলের বাবা বাইরে থেকে এসে হাতমুখ ধুয়ে একটা মোড়া নিয়ে আমাদের পাশে বসে আছে দেখার জন্য। কিন্তু আমি কিছুতেই গাছগুলো একা একা ঠিক করতে পারছিলাম না বাধ্য হয়ে আবার তাকেও হাত লাগাতে হলো। তখন আমরা তিনজন মিলে মাটি খোঁড়াখুরি করে গাছগুলো লাগালাম। বারান্দা একেবারে মাটিতে একাকার হয়ে গিয়েছিল। আরো তখন গাছ লাগালাম আর ভাবলাম যে সকালবেলা কাজের মেয়েটা এসে পরিস্কার করে ফেলবে, আর আমি যদি রাতের বেলা কাজটা না করি তাহলে দিনের বেলা আমাকে সব করতে হবে সেজন্য রাতের বেলাই কাজগুলো সেরে ফেললাম। এরপর খুব সুন্দর করে টবগুলোতে গাছগুলো লাগিয়ে দিলাম এবং কিছু কিছু গাছ নিচ থেকে ঝুলন্ত টবে গ্রিলের সাথে ঝুলিয়ে দিলাম। ঝুলন্ত টবে গাছ গুলো দেখতে আমার কাছে খুব ভালো লাগে, এজন্য আমি ছোট ছোট বেশিরভাগ গাছই উপরে গ্রিলের সাথে ঝুলিয়ে দিয়েছি। গাছে যখন খুব সুন্দর করে ফুলগুলো ফুটবে তখন একদিন পুরো ছবিগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করব।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
অসাধারণ আপু বাড়ির মধ্যে অনেক সুন্দর একটি রংবেরঙের ফুলের বাগান তৈরি করে ফেলছেন।নার্সারিতে গেলে আসলে মন একদম ভাল হয়ে যায়। অনেক রংবেরঙের ফুল এবং সুন্দর সুন্দর গাছ দেখা যায়।আপনি তো অনেকগুলো প্লাস্টিকের ফুলের টব এবং কতগুলো নার্সারি থেকে ফুল নিয়ে এসে সুন্দর একটি বাগান তৈরি করে ফেলছেন।আশা করি কয়েকদিন পর আমরা ফুলের বাগান থেকে ফুলের ফটোগ্রাফি পাব।
আমারতো বাগান করার খুব ইচ্ছা তবে খুব একটা জায়গা না থাকার কারণে তেমন একটা করতে পারি না। যেটুকু আছে তাতেই করার চেষ্টা করি। প্লাস্টিকের টবগুলো বিভিন্ন কালারের হওয়ায় ভালো লাগে দেখতে। আবার পরিষ্কারও রাখা যায়। অনেক ধন্যবাদ আপু আপনাকে।
আমার বাড়িতে আছে একটা হাজারি গোলাপ গাছ। আমি রোপন করিনি কীভাবে এলো সেটাও জানি না। তবে হাজারি গোলাপ ফুটলে বেশ চমৎকার লাগে দেখতে। আগে নার্সারিতে যেতাম মাঝে মাঝেই তবে এখন একেবারেই সময় পাই না। রাতে গাছটি লাগিয়েছেন এটা ঠিকই করেছেন। তবে সকালে লাগালেও খুব একটা সমস্যা হতো না।।
ভাইয়া আপনার হাজারি গোলাপ গাছটি আমাকে দিয়ে দিন ফুল ফুটলে আপনাকে ওখান থেকে ফুল দিব। অনেক ধন্যবাদ ভাই আপনাকে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
আমরা যখন কোন নার্সারিতে যাই সেখানে গেলে আমরা অনেক সুন্দর সুন্দর গাছ দেখতে পাই আর সেই সুন্দর সুন্দর গাছে সুন্দর সুন্দর ফুল যদি ফুটে থাকে তাহলে দেখতে আরো বেশি রোমাঞ্চকর দেখায়। আসলে ফুল গাছ লাগানোটা একটা শখ, আর শখের বসে কোন কাজ যদি করা হয় সেটা সবসময়ই ইউনিক এবং সুন্দর হয়ে থাকে। বাসার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য এরকম ফুল গাছ আসলেই দরকার। আমি শুধু ভাবছি গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত গাছে যখন ফুল ফুটবে তখন কতটা সুন্দর দেখাবে।
ঠিকই বলেছেন যদি শখের বসে কোন বাগান করা হয় তাহলে সেটাকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়। আর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে করেন তাহলে সেটার সৌন্দর্য বারেনা। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।