বন্ধুদের বিদায় জানাতে স্টেশনে যাওয়া।
নমস্কার,
| তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো । সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমিও অনেক ভাল আছি। |
|---|
কিছুদিন আগের একটি ঘটনা আজ তোমাদের সাথে শেয়ার করব। আমার যে কাছের বন্ধুবান্ধব গুলো রয়েছে তার মধ্যে দুইজন বন্ধুর বাড়ি হল জলপাইগুড়িতে। আমাদের এইখান থেকে অনেকটা দূরের পথ হওয়ার কারণে তারা একটু বেশি ছুটি না পেলে বাড়িতে যেতে পারে না। এমনটাই এতদিন হয়ে আসছিল কিন্তু এখনকার গল্প একটু আলাদা । যেহেতু আমাদের সবার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হয়ে গেছে এবং এক এক জন এক একটা ইউনিভার্সিটি অলরেডি ভর্তি হয়ে গেছি এই জন্য তারা বাড়ি যাচ্ছিল ভালো করে সবার সাথে দেখা করার জন্য। তারা যেসব ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে সেগুলো অন্য রাজ্যে অবস্থিত। অন্য রাজ্যে অবস্থিত হওয়ার কারণে তারা চাইলেও আর সহজে বাড়িতে যেতে পারবে না এই জন্য তাদের এই বাড়ি যাওয়ার ছিল।
যাইহোক সেদিন আমরা তিন বন্ধু, দুই বন্ধুকে ছেড়ে দেয়ার জন্য মধ্যমগ্রাম স্টেশনে গেছিলাম। তারা যখনই বাড়ি যায় তাদেরকে স্টেশনে ছেড়ে দেয়ার জন্য আমরা অন্য বন্ধু গুলো যাই। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সম্পর্কটা সত্যিই অন্যরকম, সবাই সবাইকে অনেক ভালোবাসে। আমাদের সাতজন বন্ধুর গ্রুপ , অন্য দুজন বন্ধু সেদিন খুব ব্যস্ত ছিল সেই জন্য তারা আসতে পারিনি । যাই হোক আমরা তিনজনই গেছিলাম তাদের বিদায় জানাতে। আমরা প্রথমে মধ্যমগ্রাম স্টেশনে গিয়ে অনেকটা সময় অপেক্ষা করি। তাদের আসতে একটু লেট হচ্ছিল তাই আমরা অন্য যে তিনজন বন্ধু ছিলাম বসে বসে গল্প করছিলাম। তাদের দুজনের দুই দিক দিয়ে এই মধ্যমগ্রাম স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল। একজন বারাসাত থেকে আসছিল এবং অন্যজন সাজিরহাট নামক একটি জায়গা থেকে আসছিল ।
আমরা মধ্যমগ্রাম স্টেশনে ৩০ মিনিটের মত অপেক্ষা করেছিলাম তারপর তাদের দুজনের দেখা পেয়েছিলাম।
বারাসাতে যে বন্ধু থাকে তার নাম হলো সন্দীপ সে কিছুটা আগে চলে এসেছিল। সাজিরাটে যে বন্ধুটি থাকে তার নাম হচ্ছে দীপান্বিতা তার আসতে একটু লেট হয়ে গেছিল ।বুঝতে পারছিলাম মেয়ে মানুষ গুছিয়ে আসতে একটু বেশি সময়ের প্রয়োজন পড়ে। তারা আসার পর তাদের বিদায় জানাতে আমাদেরও কষ্ট হচ্ছিল কারণ কিছুদিন পর তারা এমনিও এখানে থাকবে না, অন্য রাজ্যে পড়াশোনা করার জন্য চলে যাবে। ওরা আসার পর ওদের জন্য আমি কিছু খাবার কিনে আনি কিন্তু তারা সে খাবারগুলো তখন খেতে চায় না। তারা সেই খাবার সাথে করে নিয়ে যেতে চাই । তাদের যেহেতু অনেকটা দূরের জার্নি ছিল তাই জার্নি করার কোন একটা সময় খেয়ে নেবে তাই আমাকে জানিয়েছিল।
তাদের সাথে একটু ইমোশনাল কথাবার্তা হল এবং তাদেরকে সাবধানে যাওয়ার জন্য বারবার করে বলে দিলাম। জলপাইগুড়ি ঘোরাঘুরি সম্পন্ন হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এইখানে আবার ফিরে আসার জন্য বললাম। অতঃপর তাদের ট্রেন চলে আসে এবং তারা দুইজন ট্রেনে উঠে পড়ে । তাদেরকে বিদায় জানাতে সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছিল তারপরও কষ্ট চেপে তাদেরকে বিদায় জানালাম। কিছু সময় আমরা স্টেশনে মন খারাপ করে বসে ছিলাম, যে কয়দিন তারা এখানে থাকবে না তাদেরকে অনেক মিস করবো এই ভেবে।
ক্যামেরা: স্যামসাং
মডেল: SM-M317F
ফটোগ্রাফার: @ronggin
অবস্থান: মধ্যমগ্রাম স্টেশন ,নর্থ ২৪ পরগনা, ওয়েস্ট বেঙ্গল।
বন্ধুত্ব এমন একটা শব্দ যে শব্দটাকে কখনো বিশ্লেষণ করে নেওয়া যায় না আসলে বন্ধুত্বের মাঝে মান অভিমান ঝগড়া ভালবাসা থাকবেই। গ্রাজুয়েশন যখন শেষ হয়ে যায় তখন একই ক্যাম্পাসের চারটা বন্ধু হয়তোবা চারদিকে চলে যায়। মানুষটা চারদিকে চলে গেলেও বন্ধুত্বটা থেকে যায় আজীবন। আসলে এই মুহূর্তটা যে কতটা কষ্টের এটা আমি বুঝি কারণ কিছুদিন আগেই এরকম বন্ধুদের বিদায় দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। সত্যি কারের বন্ধুরা কখনোই হারায় না, সত্যি কারের বন্ধুরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থেকে যায়। আপনার এই বন্ধুত্বের বন্ধন চির অটল থাকুক এই কামনা করি।
বন্ধুত্ব নিয়ে এত সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে মন্তব্যটি করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই। বন্ধুত্ব ব্যাপারটাই এমন, সত্যিকারের বন্ধুরা কখনোই হারিয়ে যায় না।