"অনেকদিন পর তিন বন্ধু একসাথে"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ২০শে নভেম্বর, শনিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
কয়েকটি ছবিকে একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
আমি আজকে আপনাদের সামনে নতুন একটি প্রশ্নে হাজির হয়েছি। প্রতিনিয়ত আমার বাংলা ব্লগে নতুন নতুন পোস্ট শেয়ার করতে বেশ ভালো লাগে। প্রতিটি মানুষের জীবনেই কোন না কোন বন্ধু থাকে। বন্ধু মানে একটু হাসি, বন্ধু মানে একটু মজা, বন্ধু মানে আড্ডা দেওয়া। আমাদের জন্মের পর শিশুকাল থেকেই বন্ধু হতে শুরু করে। মানুষ যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন বন্ধু বাড়তেই থাকে। কারণ প্রতিনিয়ত আমাদের নতুন নতুন মানুষের সাথে দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে, ভালো লাগছে আবার তারাও বন্ধু হচ্ছে। আমি নিজেও বন্ধু বানাতে অনেক বেশি পছন্দ করি। আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের জীবনে বন্ধু অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেকদিন পর কুষ্টিয়া পলিটেকনিক লাইফের তিন বন্ধু কিছুদিন আগে একসাথে হয়েছিলাম তাই সেই মুহূর্তগুলো এখন আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করবো।
কুষ্টিয়া পলিটেকনিকে যখন সিভিল এ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং লেখাপড়া করতাম তখন আমার বন্ধু রাহুল, আউয়াল আর আমি বেশিরভাগ সময় একসাথেই থাকতাম। আমাদের তিনজনের ভেতরে বন্ডিং ছিল বেশ ভালো। আমার বন্ধু আউয়ালের বাড়ি ছিল আমাদেরই পাশের উপজেলায় পাংশা থানায় আর আমার আর রাহুলের বাড়ি খোকসা উপজেলায়। পলিটেকনিকে যখন অনেক দিনের ছুটি দিত তখন বাড়িতে আসলে আমি আর রাহুল আউয়ালদের এলাকাতে চলে যেতাম মাঝেমধ্যে অথবা আওয়াল মাঝেমধ্যে আমাদের এলাকায় চলে আসতো আড্ডা দিতে। আমরা তিনজনেই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে ঢাকাতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়েছি। আমি আর রাহুল ঢাকাতে একসাথেই থাকি আর বন্ধু আউয়াল ঢাকার বাইরে একটি জব করে।
কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই বন্ধুরা রাহুলের ফোনে কল আসলো। তারপর বন্ধু রাহুলের সাথে আউয়ালের বেশ কিছু সময় কথা হলো। কথা শেষ হওয়ার পরেই বন্ধু রাহুল আমাকে বলল যে, আওয়াল ঢাকাতে আসতেছে তার জব সম্পর্কিত কিছু কাজে তাই আমাদের দুজনের ওর সাথে দেখা করতে হবে। আমি তখন বললাম যে আচ্ছা ঠিক আছে সমস্যা নাই আওয়াল আসুক আমরা দুজন দেখা করবো। আমাদের জীবনে বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
সেদিনের দিনটা ছিলো শনিবার আর শনিবারের দিনে বিকালে আমাদের ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস থাকে। বন্ধু আওয়াল মিরপুরের ১২ নাম্বারের কোন একটি জায়গায় ছিলো। তাই বন্ধু আওয়াল কে ফোন করে বললাম যে, আমাদের ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই তোর সাথে দেখা কররো তারপর ক্লাসে যাব। তাই তখন বন্ধু আর বললো যে, তাহলে তোরা তোদের টাইম মতো চলে এসে আমাকে ফোন করিস। কারণ আমাদের ইউনিভার্সিটি আর মিরপুর বেশ কাছাকাছি।
আমাদের বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে ক্লাস ছিলো তাই বন্ধু আমাদের সাথে দেখা করার জন্য আমরা দুপুর ২ঃ০০ টার দিকে বেরিয়ে পড়ি মিরপুর- ১২ উদ্দেশ্যে। তারপর সেখানে গিয়ে ফোন দিলে বন্ধু আওয়াল একটু পরেই চলে আসে। এরপর তিনজন মিলে সুলতান ডাইনে গেলাম আর বাসমতি কাচ্চি বিরিয়ানি ১:৩ আর তিনটা কোক অর্ডার দিলাম তারপর বেশ কিছু সময় টেবিলে বসে গল্প আর আড্ডা দিলাম।
তারপর আমাদের অর্ডারের খাবার টেবিলে দিয়ে যার পরে বন্ধুরা আউল সুন্দরভাবে তিনটি প্লেটে খাবার উঠিয়ে দেয়। তারপর তিন বন্ধু মিলে কয়েকটি সেলফি উঠি এই সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মৃতি করে রাখার জন্য। এর আগে ঢাকার ভিতরে তিন বন্ধু একসাথে কখনো হয়নি তাই আজকের আনন্দটাই ছিল অন্যরকম। আরো অনেকদিন পরে যদি হঠাৎ করে দেখা হয় তাহলে আনন্দটাই থাকে ভিন্ন।
তিনজন মিলে সুলতান ডাইনের বাসমতি কাচ্চি বিরিয়ানি পেট পুরে খেলাম। তবে সুলতান লাইনের কাচ্চি বিরিয়ানির যে, আলাদা একটা নাম ডাক শুনতাম আমার কাছে কোথাও যেনো কমতি মনে হলো। কারণ সুলতার ডাইনের কাছে বিরিয়ানি যতটা স্বাদ হবে ভেবেছিলাম ততটা আসলে স্বাদ ছিল না। আমার কাছে এখানকার বাসমতি কাচ্চি বিরিয়ানি স্বাদটা এভারেজ লেগেছে।
সুলতান ডাইন থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে বেশ কিছু সময় আড্ডা দিয়েছিলাম। আমরা একটু আগে আগেই গিয়েছিলাম বলে গল্প গুজব করার জন্য হাতে বেশ সময় ছিলো। অনেকদিন পর তিনজন একসাথে এভাবে বসে খাওয়া দাওয়া গল্প গুজব করার পরে তিনজনের অনেক খুশি ছিলাম। তারপর আমাদের ক্লাসের টাইম হয়ে গেলে বন্ধু আওয়াল কে বিদায় জানিয়ে আমি আর আমার বন্ধু রাহুল আমাদের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস করার জন্য চলে আসি।
আমরা তিন বন্ধু একসাথে বেশ সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলাম। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি যেনো আমাদের তিন বন্ধুর বন্ধুত্ব সারা জীবন এভাবেই অটুট থাকে।
পোস্টের বিবরন
| পোস্ট ধরন | লাইফ স্টাইল |
|---|---|
| ডিভাইস | স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪ |
| ক্যামেরা | ১০৮ মেগাপিক্সেল |
| তারিখ | ১৪ ই অক্টোবর ২০২৩ |
| লোকেশন | ঢাকা, বাংলাদেশ |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে ও ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।
@aongkon

বন্ধুত্বের সম্পর্ক বুঝি এমনই হয় চির অম্লান চিরুনির্ভীক। যত দিন যায় বন্ধুত্বের সম্পর্কটা যেন তত গভীর হয়। যদিও দুনিয়ার বাস্তবতায় হয়তো একসাথে সব সময় থাকা হয় না তবে যখনই দেখা হয় মনে হয় কত আপন।
আপনারা বন্ধুরা একসাথে হয়ে নিশ্চয়ই খুব সুন্দর সময় পার করেছেন।
আসলে অনেকদিন পর দেখা আবেগটা একটু বেশি হয়।
চিরদিন বেঁচে থাকুক আপনাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক।
হ্যাঁ ভাই অনেকদিন পর দেখা হলে আবেগটা একটু বেশি থাকে। আমাদের বন্ধুত্ব আসলে অনেক দিনের পুরনো। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মতামত প্রকাশ করে পাশে থাকার জন্য।
দীর্ঘ দিন পর আপনারা তিনজন বন্ধু একসাথে অনেক ভালো সময় কাটিয়েছেন, দেখে আমার অনেক বেশি ভালো লাগলো।আর আপনারা ক্লাস শেষ করে সুলতান ডাইনে গিয়ে কাঁচ্চি বিরিয়ানি খেয়েছেন, বিষয়টি আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগলো।
ভাই দীর্ঘদিন পর তিন বন্ধু মিলে সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছিলাম। তবে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে সুলতানে গিয়ে কাচ্চি বিরিয়ানি খেয়েছিলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মতামত প্রকাশ করার জন্য।
প্রিয় বন্ধু গুলোর সাথে সময় কাটাতে খুবই ভালো লাগে। তেমনি আপনি ও আপনার দুই বন্ধুর সাথে অনেক ভালো সময় কাটিয়েছেন, এবং খাওয়া-দাওয়া ও দেখছি বেশ ভালো হয়েছিল। হঠাৎ করে যেহেতু আপনার বন্ধু ঢাকায় এসেছিল তাই তিনজন একসাথে আড্ডা দিয়েছিলেন। স্মৃতি ধরে রাখার জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি ও করেছেন। আপনার লেখা সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ে আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে।
অনেকদিন পরে দেখা হওয়াতে সময়টা বেশ সুন্দর কাটিয়েছিলাম। হ্যাঁ আপু মুহূর্তটা স্মৃতি মনে করে রাখার জন্য সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করে রেখেছিলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
আসলে ভাইয়া বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া বা রেস্টুরেন্টে খাওয়ার মজাই আলাদা। আপনি দেখছি আপনারা তিন বন্ধু মিলে খুব সুন্দর একটা সময় অতিবাহিত করেছেন এবং আপনার এই খাবার দেখে আমি তো লোভ আর সামলাতে পারছি না। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ ভাই অনেকদিন পরে বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ হওয়াতে বেশ সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছিলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
অনেকদিন পর বন্ধুদের সাথে দেখা হলে সময়টা খুবই ভালো যায়। যার যার কর্মে সে ব্যস্ত। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও তোমরা একসাথে হয়ে অনেক মজা করেছো দেখছি। বন্ধুত্বের বন্ধন চিরদিন অটুট থাকুক। সুন্দর মোমেন্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
হ্যাঁ বন্ধু বর্তমানে সবাই সবার নিজের কাজে ব্যস্ত থাকে তাই অনেকদিন পরে দেখা হলো। অবশ্যই বন্ধুত্বের বন্ধন চিরকাল অটুট থাকুক এটাই চাই। অসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধু সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
অনেকদিন পরে তিন বন্ধু একসাথে হয়ে দেখছি অনেক ভালো সময় অতিবাহিত করেছিলেন। বন্ধুদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো অনেক বেশি বেস্ট হয়। অনেক মজা করে খাওয়া দাওয়া করেছেন দেখছি তিন বন্ধু একসাথে। সারা জীবন যেন আপনাদের এই বন্ধুত্ব থাকে এবং তিনজনে ভালোভাবে থাকেন এটাই দোয়া করি।
অনেকদিন পরে দেখা হলো তাই একসাথে গল্প, আড্ডা, মজা করার পাশাপাশি পেট পুরে খেয়েছিলাম। অবশ্যই ভাই দোয়া করবেন যাতে আমাদের বন্ধুত্ব সারা জীবন অটুট থাকে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর সাবলীল ভাষায় মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
বাহ! তিন বন্ধু যেখানে খাওয়া-দাওয়া সেখানে। তিন বন্ধু যেখানে আড্ডা হয় সেখানে। জমিয়ে আড্ডা করলেন জমিয়ে খাওয়া দাওয়া করলেন। বেশ মজাদার খাওয়া-দাওয়া করলেন অসাধারণ একটি মুহূর্ত কাটালেন। ভীষণ ভালো লেগেছে আপনার ব্লগটি পড়ে। অনেক ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আসলে আপু খাওয়া-দাওয়া ছাড়া গল্প তো আর জমে না। ভজন রসিক মানুষ আমরা সবাই তাইতো সবকিছুর আগে খেয়ে নিই। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্য করে সব সময় পাশে থাকার জন্য।