ভাগ্নিকে নিয়ে চিকেন চাপ ও হালিম খাওয়ার অনুভূতি ।।
পরম করুনাময় অসীম দয়াল মহান সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করিতেছি।
হ্যালো আমার প্রিয় বাংলা ব্লগবাসি বন্ধুরা , আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আপনারা সবাই অনেক ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার ভাগ্নি কে নিয়ে চিকেন চাপ, হালিমও নান রুটি খাওয়ার অনুভূতি শেয়ার করবো।
বন্ধুরা আমি আগের একটি পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম যে আমাদের বাসায় আমার এক ভাগ্নি বেড়াতে এসেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর সে বাড়িতে চলে যাবে। সে আমাদের বাসায় এসেছে প্রায় দুই সপ্তাহের মত হবে। গ্রামের বাড়িতে থাকা অবস্থায় সে বিভিন্ন বাচ্চাকাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করতো, দৌড়াদৌড়ি করতো। কিন্তু শহরে তো খেলাধুলা করার মত তেমন বাচ্চাকাচ্চা নাই, মাঠ বা উঠোন নেই। ধরতে গেলে তাকে সারাদিন ফ্ল্যাটের মধ্যেই বন্দি থাকতে হয়। সেজন্য আমি চেষ্টা করি প্রতিদিন বিকালবেলা তাকে নিয়ে আশেপাশে কোথাও ঘুরে আসতে। বিকালবেলা একটু ঘোরাফেরা করলে তার মনটা অনেক ভালো থাকে। বাচ্ছা মানুষ প্রথম শহরে এসেছে, মন খারাপ করলে আর আসতে চাইবে না।
তো গত পরশুদিন আমি তাকে নিয়ে আমাদের বাসার পাশে সদর উপজেলার মেইন অফিস এরিয়াতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে মোটামুটি খেলাধুলা করার মত অনেক বড় একটি মাঠ আছে, অনেক বড় বড় গাছপালা আছে, বিভিন্ন দোকানপাট বসে। পরিবেশটা অনেক সুন্দর, সেখানে বসার মত খুব সুন্দর জায়গা আছে, আশেপাশে ফুল গাছও আছে। সব মিলে জায়গাটা আমাদের সবার কাছেই ভালো লাগে। এলাকার সকল মানুষে বিকালে এখানে এসে সময় কাটায়। তো আমি সেখান থেকে বিকালবেলা ঘুরে আসার সময় সন্ধ্যার সময় ভাগ্নিকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলাম। রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে ভাগ্নিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে কি খাবে। তখন সে বলেছিল চিকেন চাপ আর নান রুটি খাবে। চিকেন চাপ আমাদের দেশের পোল্ট্রি মোরগ দিয়ে তৈরি করা হয়। আর আমি কখনো পোল্ট্রি মুরুগ থেকে পারি না। সেজন্য আমি চিকেন চাপ বাদ দিয়ে হালিম আর নান রুটি অর্ডার করলাম।
তো আমরা খাবার অর্ডার করে কিছুক্ষণ বসে রইলাম। রেস্টুরেন্টের ভিতরে শীত তাপ নিয়ন্ত্রিত, খুব সুন্দর ভাবে সাজানো গুছানো। তবে রেস্টুরেন্টের ভিতরে তুলনামূলকভাবে জায়গা কম, ভিতরটা কিছুটা ছোট। তবে রেস্টুরেন্টে ছোট হলেও এখানের খাবার দাবারের অনেক সুনাম ও খ্যাতি রয়েছে। আশেপাশের অনেক মানুষ এখানে এসে খাওয়া-দাওয়া করে, সময় কাটায়, আড্ডা দেয়। আমি রেস্টুরেন্ট এর ভিতরের কয়েকটি ফটোগ্রাফি নিলাম।
আমাদের কথাবার্তা চলা অবস্থায় আবার চলে আসলো। আমার ভাগ্নিকে বললাম ভালোভাবে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত দিয়ে আসতে। সে হাত ধুয়ে আসতে আসতে আমি খাবারের কয়েকটি ফটোগ্রাফি নিলাম। তারপর আমার ভাগ্নিকে বসিয়ে আমি নিজে হাত ধুতে গেলাম। তারপর দুইজনে একসাথে খাওয়া দাওয়া শুরু করলাম। ভাগ্নি ছোট মানুষ ধীরে ধীরে খাবার খেলো। আমিও তার সাথে ধীরে ধীরে খাবার খেতে লাগলাম। আমার কোলে আমাদের ছোট বাবু নুসা্ইবা ছিল। সে তো আর চিকেন চাপ, তালিম খেতে পারবে না, তাকে অল্প অল্প নান রুটি ছিঁড়ে ছিড়ে দিলাম। সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করলাম। খাবারের টেষ্ট দারুন ছিল। এখানে আরো কয়েকবার আমরা এসে খেয়েছিলাম। তবে ভাগ্নি এই প্রথম এসেছে।
প্রায় পনের বিশ মিনিটের মধ্যে আমাদের খাওয়া দাওয়া কমপ্লিট হয়ে গেলো। আমাদের মত আরো অনেক মানুষ খাবারের জন্য আসতে লাগলো। যেহেতো আমাদের খাওয়া দাওয়া শেষ আমরাও আর সময় ব্যয় করলাম না। আমরা বিল দিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেলাম। রেস্টুরেন্টে থাকা অবস্থায় আমার হাসবেন্ডকে ফোন করেছিলাম। তিনির অফিস থেকে আসতে লেইট হবে। সে জন্য আমরা ধীরে ধীরে বাসার দিকে হাটতে লাগলোম। পাঁচ সাত মিনেটের মধ্যেই অমারা বাসায় চল আসলাম। সব মিলিয়ে বিকাল ও সন্ধাটা দারুন অতিক্রম হয়েছে।
সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ,আল্লাহ হাফেজ।।
ফটোগ্রাফির বিবরণ:
| ডিভাইস | মোবাইল |
|---|---|
| মডেল | রেডমি নোট-৮ |
| শিরোনাম | ভাগ্নিকে নিয়ে চিকেন চাপ ও হালিম খাওয়ার অনুভূতি ।। |
| স্থান | নারায়নগঞ্জ,ঢাকা,বাংলাদেশ। |
| তারিখ | ১৪-১০-২০২৪ |
| কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
| ফটোগ্রাফার | @titash |
আমার পরিচিতি
আমি মোছাঃ মুসলিমা আক্তার নীলা। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @titash নামে পরিচিত। আমার জন্মস্থান চট্রাগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভাদুঘর গ্রামে। আমি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষে বাংলা বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করতেছি। আমি বিবাহিত,আমার একটি কন্যা সন্তান আছে। আমি আমার হাসবেন্ডের সাথে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত নারায়নগঞ্জ জেলায় বসবাস করছি। আমি আমার হাসবেন্ডের মাধ্যমে স্টিমিট প্লাটফর্ম সম্পর্কে জানতে পারি। প্লাটফর্মটার বিষয়ে জেনে আমি এখানে কাজ করার আগ্রাহ প্রকাশ করি। তারপর ২০২৩ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসে আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে স্টিমিট প্লাটফর্মে যুক্ত হয়। আমি ভ্রমন করতে,মজার মজার রেসিপি করতে,বই পড়তে, নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে ও সৃজনশীল জিনিষ তৈরী করতে ভালোবাসি। আমি বাঙ্গালী জাতি হিসাবে ও আমার বাংলা ব্লগের সদস্য হতে পেরে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করি।
রেস্টুরেন্টে যেতে আমারা সবাই ভালোবাসি। আর আপনি আপনার ভাগ্নির সাথে রেস্টুরেন্টে গিয়ে সুন্দর সময় উপভোগ করেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো।
রেস্টুরেন্টে খেতে আমার কাছে ও অনেক ভালো লাগে। আপনি ভাগ্নিকে নিয়ে বেশ মজা করে খেয়েছেন।চিকেন চাপ আর নানরুটি খেতে অনেক মজা লাগে। আপনারা বেশ ভালো একটা সময় কাটিয়েছেন।ধন্যবাদ আপু অনুভূতি গুলো পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২৫ শে সেপ্টেম্বর আপনার ভাগ্নি চলে যাবে তাই আপনার ভাগ্নিকে নিয়ে আপনি চিকেন চাপ এবং বিভিন্ন রকম স্ট্রীট ফুড খাওয়ার একটা অভিজ্ঞতা করেছিলেন যেটা খুবই সুন্দর ছিল। আমিও এই খাবারগুলো অনেক বেশি পছন্দ করি আজকে সন্ধ্যায় গিয়েও অনেক কিছু খেয়ে এসেছি।