ফিশ মার্কেট : পর্ব ০১
বন্ধুরা ,
| সবাই তোমরা কেমন আছো ? আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। |
|---|
গত কয়েক দিনের জ্বরে শরীর অনেকটাই ভেঙে গেছে। আজ শরীরের জ্বর নেই কিন্তু সর্দি, কাশি, মাথা ব্যথা এই তিনটি বেশি পরিমাণে রয়েছে। এছাড়াও শরীর এতটাই দুর্বল লাগছে উঠে এক রুম থেকে অন্য রুমে যেতে পারছি না। গতবছর আমার যখন করোনা হয়েছিল তখনই আমার সাথে এরকম ঘটেছিল। যাই হোক এবার করোনা হয়েছে কিনা সেটা যদিও সঠিকভাবে জানি না কিন্তু জ্বরে বেশ ভালই ভুগতে হলো। এই শরীর খারাপ অবস্থায় কয়েকদিন ধরে সূর্যের আলো দেখার জন্য একটু বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। বাড়িতে সারাদিন শুয়ে বসে কাটাতে হচ্ছে। এই সময়টাতে নতুন কিছু ক্রিয়েট করার সুযোগ পাচ্ছিনা আমাদের কমিউনিটিতে পোস্ট করার জন্য । সেই জন্য ফোন থেকে পুরনো ফটোগুলো ঘাটাঘাটি করে দেখছিলাম কোন টপিকস খুঁজে পাওয়া যায় কিনা ব্লগিং লেখার জন্য। আজ খুঁজে খুঁজে বেশ কয়েক মাস আগে করা ফিশ মার্কেট সার্ভে করার কিছু ফটোগ্রাফি পেলাম । তাই ভাবলাম সেই সম্পর্কেই কিছু তোমাদের সাথে শেয়ার করি আজকের ব্লগে।
আমাদের বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই বিশাল বড় ফিস মার্কেট রয়েছে যেটি বারাসাত ফিশ মার্কেট নামে খুব সুপরিচিত। প্রতিদিন এইখানে কুইন্টাল কুইন্টাল মাছের কেনাবেচা হয় ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যে। এই মার্কেটে সাধারণত খুচরা বিক্রেতারা যায়। তারা সেখান থেকে মাছগুলো কিনে এনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে থাকে। তাছাড়া অনেকেই রয়েছে যারা একটু কম দামে পাওয়া গেলে বেশি মাছ কিনে এনে ফ্রিজে রাখতে পছন্দ করে তারাও যায়। সেইসব ক্রেতারাও গিয়ে অনেক অনেক মাছ কিনে নিয়ে আসে কম দামে। মাছের দাম কিছুটা কমে পাওয়া যায় সেই জন্য এটি খুবই ফেমাস। এটি কয়েক অঞ্চলের মধ্যে সবথেকে বড় মাছের পাইকারি মার্কেট। প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই এই মার্কেট চালু হয়ে যায়। চার পাঁচ ঘন্টা খুব হইহুল্লা ভাবে মার্কেটে চালু থাকে তারপর থেকেই থেমে যায় । এই মার্কেট থেকে যেসব খুচরো বিক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের মাছ কিনে নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে, তাদেরও সেই মাছগুলো বিক্রি করার তাড়া থাকে সেই জন্যই এই পাইকারি মাছের মার্কেট খুব সকাল সকাল শুরু হয়ে যায় এবং খুব সকাল সকালই আবার বন্ধ হয়ে যায়।
আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে সেখানে গেছিলাম ফিশ মার্কেট সার্ভে করার জন্য । এটি আমাদের একটি প্রজেক্টের অংশ ছিল। আমরা খুবই সকাল সকাল সেখানে বন্ধুরা মিলে চলে যাই কারণ আমরা জানতাম এই মার্কেটে সকালে না গেলে সব রকমের মাছ দেখার সুযোগ হবে না। আর তার উপর ভিত্তি করেই আমাদের একটি বড় প্রজেক্ট তৈরি করার ছিল। আমাদের সেই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই মার্কেটে কত ধরনের মাছ আসে, কি রকম দামে তারা বিক্রি করে, কতজন লোক আসে প্রতিদিন, কতগুলো দোকান রয়েছে, মার্কেট কয়টা থেকে শুরু হয় আর কয়টায় বন্ধ হয়ে যায় ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা। তাছাড়া মাছের দাম কেমন উঠানামা করে, গত সপ্তাহে কেমন দাম ছিল এবং এই সপ্তাহে কেমন দাম সব কিছুর উপর বিস্তারিত একটা রিপোর্ট তৈরি করার ছিল আমাদের। সেই জন্য খুব ভোরেই চলে গেছিলাম আর ভোরে যেতে আমাদের বেশ কষ্ট হয়েছিল। ফিস মার্কেটের ভিতরে প্রচন্ড দুর্গন্ধ থাকায় আমাদের বেশ অসুবিধা হচ্ছিল কিন্তু যেহেতু আমাদের এটি কাজ ছিল তাই সবকিছুই সহ্য করতে হচ্ছিল। আমরা সেখানে মোটামুটি তিন ঘণ্টার মতো সময় থেকে রিপোর্টটি তৈরি করেছিলাম। যেহেতু আমরা কয়েকজন বন্ধুরা মিলে করেছিলাম সেই জন্য একটু কষ্ট কম হয়েছিল কাজটি করতে। সেখানে গিয়ে শত শত মাছের ভ্যারাইটি দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। এটি আমার কাছে নতুন একটি অভিজ্ঞতা ছিল। আমাদের সাথে আরো অনেক বিষয় ঘটেছিল সেদিন সেখানে গিয়ে সে বিষয়গুলো আমি সামনের পর্বে তুলে ধরব।
প্রথম কয়েকটা ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে মার্কেটটা খুবই বড় এখানে অনেক ধরনের মাছ দেখা যাচ্ছে, যাই হোক আপনি অসুস্থ এটা জেনে খুবই খারাপ লাগলো এখন আপনার রেস্ট করাটাই বোধহয় ভালো, দোয়া করি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবেন।
এটি আমাদের এইখানকার সবথেকে বড় ফিশ মার্কেট। হ্যাঁ ভাই আপাতত বাড়িতে বসেই রেস্ট করছি। বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ সেইজন্যে শরীরটাও দুর্বল হয়ে গেছে।
আপনার অসুস্থতার কথা শুনে খুবই খারাপ লাগলো। আপনি যেন খুবই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে পড়েন সেই কামনা করছি। এখন একটু রেস্ট নিন দেখবেন শরীরটা ভালো লাগবে। যাই হোক অনেক বড় একটি বিষ মার্কেটে গিয়েছেন আপনি। পুরোটা কিন্তু খুবই সুন্দর ভাবে লিখলেন আপনি ভীষণ ভালো লেগেছে আমার কাছে। সবার মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে।
আমার সুস্থতা প্রার্থনা করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপু আপাতত একটু রেস্টেই আছি আমি।