আমার ২১শে ফেব্রুয়ারী উদযাপন।
বছরের বিশেষ দিনগুলোতে আমি চেষ্টা করি ঘুরে ফিরে বেড়াতে। সেটা হোক বন্ধুর সাথে অথবা পরিবারের সাথে। সেই উৎসব বা উদযাপনের সাথে বা সেই বিশেষ দিবসের তাৎপর্যের সাথে নিজেকে মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। সেটা হোক ১৬ই ডিসেম্বর অথবা ২১শে ফেব্রুয়ারি। ছোটবেলা থেকেই ১৬ই ডিসেম্বর আর ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে মনের ভেতর এক ধরনের আবেগ কাজ করে। যদিও তখন এত কিছু বুঝতাম না। তবে সকালে সবার খালি পায়ে প্রভাত ফেরিতে যাওয়ার ব্যাপারটা মনে বেশ নাড়া দিত। যদিও অত সকালে ঘুম থেকে না উঠতে পারার কারণে প্রভাত ফেরীতে যাওয়া হয়নি কখনো।
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এলাকার ছেলে পেলেরা মিলে বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট অনেক শহীদ মিনার বানানো। গত কয়েক বছর হল সেই দৃশ্যটা আর দেখতে পাই না। তবে প্রভাত ফেরীতে না গেলেও একটু বেলা করে হলেও এদিন আমি শহীদ মিনারের কাছে যেতাম। মানুষের এই আবেগঘন পুষ্পস্তবক অর্পণ আমার কাছে অন্যরকম মনে হতো। যদিও একটু বড় হওয়ার পর বুঝতে পারলাম। যে সমস্ত লোক এক কাজগুলি করছে তারা আসলেই একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য নিয়ে মোটেই ভাবে না। এখন যখন একুশে ফেব্রুয়ারিতে সকালে শহীদ মিনারের কাছে যাই। তখন সেখানে দেখতে পাই বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতা কর্মী এবং সরকারের কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে ফুল দিচ্ছে। কিন্তু আমার মত আপনারা সকলেই ভাল করেই জানেন। আজকে দেশের যে দুর্দশা তার পেছনে দায়ী এই সমস্ত লোকজন।
যাইহোক সেটা অন্য। প্রসঙ্গ বরাবরের মতো আজকেও সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে ছিলাম। গতরাতেই অবশ্য পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম আজকে সকালে বাইরে যাবো। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক প্রথমে গিয়েছিলাম শহরের প্রধান শহীদ মিনারের কাছে। সেখানে গিয়ে সেই পূর্ব পরিচিত দৃশ্যটাই দেখতে পেলাম। তবে সেখানে প্রবেশ করার সময় হঠাৎ করে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটলো। আমি যখন শহীদ মিনারের সামনে গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছি। তখন হঠাৎ করে এক যুবক এসে আমার বুকে একটি ব্যাচ পরিয়ে দিলো। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতচকিত হয়ে গিয়েছিলাম। সে যুবকটি আমাকে ব্যাচটি পরিয়ে দিয়ে বলতে লাগলো। ভাইয়া একটু ভালো পরিমাণ অনারিয়াম দিয়েন। আমি তার কথায় আরও অবাক হয়ে গেলাম।
সেই ব্যাচটি আমি নেব কিনা সেটা জিজ্ঞেস না করেই আমাকে সে পড়িয়ে দিয়েছে। আবার সেটি দেয়ার পর এখন আমার কাছে ভালো পরিমান অনারিয়াম দাবি করছে। ঘটনাটি আমার কাছে খুবই বিরক্তি কর মনে হলো। আমি তাকে কিছু টাকা দিয়ে আপাতত বিদায় করে দিলাম। সকালে শুরুটাই হলো বিরক্তিকর একটি ঘটনা দিয়ে। যাই হোক সেখান থেকে আমি পরে চলে গেলাম আমাদের কলেজের শহীদ মিনারে। সেখানেও প্রতি একুশে ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে আমি গিয়ে বুঝতে পারলাম সকালের সেই আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। কারণ সেখানে গিয়ে আমি তেমন কাউকে আর দেখতে পেলাম না।
সেখানকার স্বেচ্ছাসেবী এবং বিএনসিসির সদস্যরা দেখলাম সেই স্থান ত্যাগ করছে। বুঝতে পারলাম আজকের মত এখানকার সকালের প্রোগ্রাম শেষ। আমি আরো কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। তবে ইদানিং একটি ব্যাপার আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। সেটা হচ্ছে কোন দিবসের কি তাৎপর্য সেটা না জেনেই আমাদের বর্তমান প্রজন্ম সবকিছুকেই আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ হিসেবে ধরে নিয়েছে। বাইরে যে সমস্ত লোক আজকে বের হয়েছে তাদের দেখে মনে হচ্ছে না যে তারা একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল। দিনে দিনে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দিনগুলোর সম্বন্ধে জানা মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | অম্বিকা ময়দান |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
আসলেই ভাই হাতে গোনা কয়েকজন মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত আছে। অনেকেই এই দিবস আনন্দের সাথে বক্সে ইংলিশ গান বাজিয়ে উৎসব হিসেবে পালন করে। আমরা এই বিষয়ে লজ্জিত 😔
ছোটবেলায় পাট কাঠি দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে নিজেরাই গাঁদা ফুল দিতাম সেই অনুভূতিগুলো এখনো মিস করি।
একুশে ফেব্রুয়ারির দিন আপনি শহীদ মিনারের কাছে গিয়েছেন এটা দেখেই ভালো লাগলো। আমি আগে স্কুলে থাকাকালীন এই দিনটা অনেক বেশি পালন করতাম। বিশেষ করে স্কুল থেকে আমাদেরকে শহীদ মিনারের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। বিশেষ করে আমাদের বাড়ির পাশেই শহীদ সালামের বাড়ি। সেখানেই আমরা যেতাম। তবে আপনার থেকে অনুমতি না নিয়েই আপনাকে ব্যাচ পরিয়ে দিয়েছে, আবার তার জন্য দাম ও চাইছে এ বিষয়টা আমার নিজেরও ভালো লাগলো না। যাইহোক আপনি একটা বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে করলেন। তবে এই দিনটা আমাদের জন্য অনেক বেশি স্মরণীয়।