ফটোগ্রাফি: "ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" - ১১ তম পর্ব।
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ১৯ ই আগস্ট, শনিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
কয়েকটি ছবিকে একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট হাজির হয়েছি। কিছুদিন আগেই আমাদের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ডিপার্টমেন্ট এর ফেস্টিভ্যাল হলো। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরে এটাই প্রথম সিভিল ডিপার্টমেন্টের ফেস্টিভ্যাল পেলাম। ফেস্টিভাল সম্পর্কে আগে একটু একটু ধারণা থাকলেও আমাদের সিভিল ডিপার্টমেন্টের ফেস্টিভ্যালের দিনে সবকিছু ক্লিয়ার হয়েছি। ফেস্টিভ্যাল মানেই বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন কিছু কেনাকাটা করা আর মজার মজার খাবার খাওয়া। ফেস্টিভ্যালে যে এতটা পরিমাণ আনন্দ হয় আসলে ফেস্টিভ্যালটা না হলে, হয়তো অজানা থেকে যেতো। আর আমাদের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি তে সিভিল এর স্টুডেন্ট সবথেকে বেশি।
সিভিল ডিপার্টমেন্টের আয়োজিত ফেস্টিভ্যালে প্রায় বিশটা মতো স্টল দিয়েছিলো আমাদের সিভিল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা। আমাদের ব্যাচের স্টুডেন্টদের কোন স্টল ছিল না তাই আমাদের মেইন কাজ ছিল সব স্টল গুলো ঘুরে ঘুরে দেখা আর ইচ্ছামতো খাওয়া-দাওয়া করা। আমরা বন্ধুরা মিলে প্রতিটি স্টলে ঘোরাফেরা করছিলাম আর প্রতিটি স্টল থেকেই কিছু না কিছু খাওয়া দাওয়া করেছিলাম। এই ফেস্টিভ্যালে যারা স্টল দিয়েছিলো তারা সবাই আমাদের আগের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা, অর্থাৎ তারা সবাই আমাদের থেকে সিনিয়র ছিলো।
আজকে থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে আপনাদের সাথে আমাদের ফেস্টিভ্যালের প্রতিটি স্টলের বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের সাথে পর্ব আকারে শেয়ার করবো। আজকে আমি যে, স্টল থেকে বিভিন্ন পণ্যের ফটোগ্রাফি গুলো করেছি এই স্টলের নামটি ছিলো "জ্যৈষ্ঠ কুঠির"। এই স্টলের নামটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিলো। আজকে আমি আমাদের "ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" - ১১ তম পর্বে "জ্যৈষ্ঠ কুটির" স্টল থেকে বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আমার প্রথম ফটোগ্রাফি ছিলো তালের শাঁসের। আমি তালের শাঁস খুবই পছন্দ করি। গ্রামে আমাদের বাড়িতে তালের গাছ রয়েছে। আর আমাদের তালের গাছে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে তালের শাঁস হয়। এই তালের শাঁস ফলটি অনেক লোভনীয় একটি ফল। এই স্টলে বিক্রেতারা প্রতি পিস তালের শাঁস ১০ টাকা দরে বিক্রি করছিলো।
এই স্টলে দ্বিতীয় ফটোগ্রাফিটি ছিলো বোম্বাই লিচু। লিচু অপছন্দ করে এমন মানুষ হয়তো খুব কমই খুঁজে পাওয়া যায়। আমাদের বাড়িতে এক সময় তিনটা বোম্বাই লিচু গাছ ছিল আর সেই লিচু গাছে প্রচুর পরিমাণে লিচু আসতো কিন্তু পরবর্তীতে দুইটা লিচু গাছ কেটে ফেলা হয় আর এখন বর্তমানে আমাদের বাড়িতে একটি লিচু গাছ আছে তবে সেই গাছটি ছোট হওয়া এখনো লিচু আসা শুরু হয়নি। এই স্টলে বিক্রেতারা প্রতিপিস লিচু পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করছিলো।
এই স্টলের আমার তৃতীয় ফটোগ্রাফিটি আনারস ফলের। আনারস ফলটি আমার খুবই পছন্দের একটি ফল। আমি আনারসের সিজনে আনারস প্রচুর পরিমাণে খেয়ে থাকি। আসলে আনারস ফলটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে খাইতে। এই স্টল কেটে পিস পিস করে রাখা আনারস গুলোর প্রতিটি প্লেট ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছিলো।
আমার এই ফটোগ্রাফিটি ছিলো পেয়ারা ফল। বর্তমানে বাংলাদেশের খুবই কম দামের পুষ্টি সমৃদ্ধ ফলের ভেতরে পেয়ারা অন্যতম। পেয়ারা ফলে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। আমাদের বাড়িতেও দুইটা পেয়ারা গাছ আছে, আর আমাদের পেয়ারা গাছে সারা বছর পেয়ারা ধরে। সত্যি বলতে নিজের গাছের পেয়ারার মতো স্বাদ বাইরের পেয়ারাতে কোথাও পেয়েছি বলে মনে হয় না।
আমার এই ফটোগ্রাফিটি হলো বগুড়ার দই। বর্তমানে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে বগুড়ার দই বিশেষ খ্যাত। সারা বাংলাদেশে বগুড়ার দইয়ের অনেক সুনাম রয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে অনুষ্ঠান বাড়িতে সকল খাবারের শেষে দই না থাকলে মনে হয় খাবার খাওয়াটাই সম্পূর্ণ হয় না। বিজ্ঞানীরা বলে দই খেলে নাকি জীবনের শক্তি বৃদ্ধি পায়। দই খাবারটা আমার কাছে খুবই প্রিয়। আর মিষ্টি দইয়ের থেকে আমার কাছে বেশি ভালো লাগে টক দই।
আমার এই ফটোগ্রাফিটি হলো, পাঁচমিশালী ফুড। এখানকার প্রতিটি ফুড অনেক পুষ্টি ও শক্তি সমৃদ্ধ। এই প্লেটের উপরে কাজুবাদাম, চীনাবাদাম, খেজুর, কিসমিস কলা রয়েছে। এই পাঁচমিশালী খাবার গুলো অনেক লোভনীয়।
আজকে আমাদের "ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" - ১১ তম পর্বে "জ্যৈষ্ঠ কুঠির" স্টলের বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আর "ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" ১২ তম পর্ব নিয়ে খুব শীঘ্রই আসবো আপনাদের সামনে।
পোস্টের ছবির বিবরন
| ক্যামেরাম্যান | @aongkon |
|---|---|
| ডিভাইস | স্যামসাং জে-৭ প্রো |
| ক্যামেরা | ১৩ মেগাপিক্সেল |
| তারিখ | ৯ ই জুন ২০২৩ |
| লোকেশন | গাবতলী,ঢাকা |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
@aongkon

ফটোগ্রাফি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাই। আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান"ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" - ১১ তম পর্বে "জ্যৈষ্ঠ কুঠির" স্টলের বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যের ফটোগ্রাফি গুলো ভালই হয়েছে। আমার তালের শাঁসের ফটোগ্রাফিটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে। আশাকরি আগামিতে আরো ভালো ফটোগ্রাফি পাব আপনার কাছ থেকে। শুভ কামনা আপনার জন্য।
তালের শাঁসের ফটোগ্রাফিটি আপনার কাছে সব থেকে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম আপু।সুন্দর অনুপ্রেরণামূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
আপনার প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। আনারস দেখে খেতে খুব ইচ্ছে করতেছে ভাই। জ্যৈষ্ঠ কুটির স্টলের বেশ সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। তালের শাঁস খাওয়ার অনুভূতি সত্যি বেশ অসাধারণ। চমৎকার পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
সত্যিই খাবার গুলো দেখে খেতে ইচ্ছা করবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার ভাই। সুন্দর মন্তব্য করে সবসময় পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।