হঠাৎ আগমন
আত্মীয়-স্বজনের টান বড়ই অদ্ভুত । যদিও মানুষগুলো বাসায় আমার দীর্ঘদিন ধরে আসে না । তবে হুট করেই সেদিন যখন আমার অসুস্থতার খবর শুনেছে, তারপরেই সবাই আমার বাসায় চলে এসেছে । যাইহোক দীর্ঘদিন পরে তাদের আগমনে বেশ ভালোই প্রাণবন্ত একটা সময় কাটালাম ।
তখনো ঘুম থেকে উঠিনি , আমি এমনিতেই ঘুম থেকে দেরিতে উঠি । দুপুর বেলার দিকে বাসার কলিংবেলটা হুট করেই বেজে উঠল । আমি নিজেই উঠলাম বিছানা থেকে । কারণ পাশের ঘরে তখন বাবু ও হিরা দুজনেই ঘুমাচ্ছে । দরজা খুলতেই দেখি , খালেক মিয়া এবং আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন । বেশ অবাক হয়ে গিয়েছি তাদের দেখে ।
এসেই অনেকটা উত্তপ্ত করে ফেলেছে বাসার ভিতরের পরিবেশটা । মূলত আমার অসুস্থতার খবরটা শুনেই তারা এসে অনেকটা কান্নাকাটি শুরু করেছে । ব্যাপারটা এমন যে , তারা মনে করেছে , আমার অনেক বড় ধরনের কোন সমস্যা হয়ে গিয়েছে । আর তাছাড়া এই সহজ-সরল মানুষগুলোর যেহেতু আমি জামাই, তাই আমার একটু এলোমেল শুনেই তারা যেন সেই ব্যাপারটাকে অনেক বড় করে নিয়েছে এবং পরিবেশটা একটু আলাদা করে ফেলেছে । এসেই তো আমার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে কান্নাকাটি ।
যদিও তাদেরকে আমি পরবর্তী বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে , আপনারা আসলে যতটুকু ভেবেছেন আসলে তেমন কিছুই হয়নি । তবে তারপরেও তারা মানতে নারাজ । যাইহোক অবশেষে অনেক কষ্টে বুঝানো গিয়েছে । ব্যাপারটা যে শুধুমাত্র আমার সঙ্গেই এমন হয়ে থাকে তা কিন্তু না । মোটামুটি সকলের সঙ্গেই এমন কিছু হয়েই থাকে ।
এদিকে দীর্ঘদিন পরে খালেক মিয়াকে দেখে বেশ ভালোই লাগলো । একসময় সে আমার চেম্বারে ছিল, তার সঙ্গে বেশ ভালো একটা সম্পর্ক তখনও সম্পর্ক ছিল বা এখনও আছে । যদিও এখন আর আমাদের সেভাবে প্রতিদিন দেখা হয় না । তবে আমার অসুস্থতার খবর পেয়েই, সে মূলত ছুটে চলে এসেছে ।
আমারও বেশ ভালো লাগছে মানুষগুলোকে দীর্ঘদিন পরে বাসায় পেয়ে । যদিও কিছুদিন আগেই আমি গ্রামে গিয়েছিলাম , তবে হুট করে যখন আমার অসুস্থতার খবর শুনেছে, তারা যেন একদম মুহূর্তেই আমার কাছে এসে হাজির । আসলে আত্মীয়-স্বজনরা হয়তো এমনই হয়ে থাকে ।
সত্যি বলতে কি , শহর অঞ্চলে আমরা যারা থাকি, তারা আসলে কার বাসায় কি হচ্ছে, কে কোন অবস্থায় আছে , এগুলো আসলে কোন কিছুই কেউ বুঝে উঠতে চাই না বা কারো খোঁজ-খবর ঠিক সেইভাবে নিতেও পারি না , এটা একদম চিরন্তন সত্য কথা । তবে আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারটা এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা । আর সেই আত্মীয়-স্বজনগুলো যদি গ্রামীণ সহজ সরল মানুষ হয়ে থাকে, তাহলে ব্যাপারটা আরো ভিন্ন হয়ে থাকে ।
যেহেতু তারা এসেছে দুপুর বেলাতে, তাই তাদেরকে কোনো অবস্থাতেই না খেয়ে আমি , ছাড়তে দিতে রাজি নই । অবশেষে দীর্ঘদিন পরে সকলে মিলে গল্প-গুজব করে , তাদের সঙ্গে বেশ ভালো একটা সময় কাটালাম ।
আসলে অসুস্থ হলেই বোঝা যায় , সুস্থ থাকাটা কতটা পরিমাণ জরুরি । আর তাছাড়াও আশেপাশের মানুষজন কে কেমন এবং কে কি রকম আচরণ করছে আপনার সঙ্গে, এই ব্যাপারটাও বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করা যায় ।
তবে এই যাত্রায় আমার যে সকল প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজন ছিল , তারা মোটামুটি ভালোই খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করেছে । তাদের এমন আচরণে, আমি সত্যিই মুগ্ধ ।
ডিসকর্ড লিংক:
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
ভাইয়া আপনার অসুস্থতার কথা শুনে সত্যি অনেক খারাপ লেগেছে। কেন জানি বুকের মাঝে কষ্ট অনুভব করেছি😭😭। তবে যাই হোক আপনার কাছের মানুষগুলো আপনাকে দেখতে এসেছে দেখে ভালো লাগলো। আসলে তাদের দোয়া আপনার সাথে আছে বলেই আপনার বড় ধরনের কোন সমস্যা হয়নি। তবে শহরের চার দেয়ালের মাঝে আমরা সত্যি অনেক অসহায়। অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেও খোঁজখবর নেওয়ার মতো কেউ থাকেনা। আসলে কোন বাসায় কি হচ্ছে কেউ দেখতে আসে না। আমরা যারা প্রয়োজনের তাগিদে শহরে বসবাস করি তারা সত্যিই অনেক অসহায়।
আমাদের দোয়ায় এখন বেশ ভালোই আছি আপু।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া অসুস্থ হলেই বোঝা যায় , সুস্থ থাকাটা কতটা জরুরি ৷ তো প্রথমেই আপনার জন্য সুস্থতা কমনা করছি ৷ সব সময় ভালো থাকুন , হাসি খুশি থাকুন ৷ আসলে আত্মীয়-স্বজন এরাই যারা বিপদে পাশে থাকে ৷ আপনার অসুস্থতার কথা শুনেই আপনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আপনার বাড়িতে এসেছে জেনে অনেক ভালো লাগলো ৷ তাদের সাথে সুন্দর কিছু সময় কাটিয়েছেন দেখেই বোঝা যাচ্ছে ৷ ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ৷
সুস্থ থাকা আসলেই জরুরি। তবে অসুস্থ হলে পারিপার্শ্বিক অবস্থায় কে কেমন আচার-আচরণ করছে সেটাও বোঝা যায়।
ঠিক বলেছেন ভাই অসুস্থ হলেই সুস্থ্যতার গুরুত্ব বোঝা যায়। আপনার অসুস্থতার কথা শুনেই আপনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং খালেক মিয়া এসে হাজির এটাই প্রমাণ করে উনারা আপনাকে কতটা ভালোবাসেন। আপনাকে নিয়ে কতটা চিন্তা করেন। দিনশেষে কিন্তু এইরকম মানুষ পাওয়া ভাগ্যের বিষয় ভাই।।
মানুষগুলা খুব সহজ সরল ভাই।আপনাকে ভীষণ ভালোবাসে না হয় এতটা ভয় পেত না ওরাও।আর আপনিও অনেক ভাগ্যবান এমন কিছু মানুষের সানিদ্ধ পেয়েছেন।আর শহরের মানুষ;ওদের তো নিজেকেই সময় দেওয়ার সময় নাই আপনার আমার খোঁজ নেওয়ার সময় কই ওদের হাহা।যাইহোক দোয়া করি খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠেন আপনি।🖤
একদম ঠিক বলেছো কিন্তুু ভাই। তবে যাই বলো গ্রামের মানুষ গুলো আসলেই সহজ সরল।
আজকাল আমরা সবাই যার যার কাজ ,ক্যারিয়ার নিয়ে এতো ব্যস্ত যে আত্মীয় স্বজনের খোজই নেয়া হয় না। তবে অসুস্থ্য হলে দেখতে আসাটা এখনো কিছুটা রয়ে গেছে। আপনার আত্মীয় স্বজনের সাথে কাটানো সুন্দর মহুর্তগুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া, আপনি এখন কেমন আছেন?? ছবিতে দেখে ভাল লাগলো। আপনার অসুস্থতার কথা শুনে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আর খালেক মিয়াও এসেছে। আপনি খুব খুশী হয়েছেন।দেখে ভাল লাগলো। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। অনেক দোয়া করি সুস্থ হয়ে যাবেন।💕
খালেক মিয়া এখনো আমাকে মনে রেখেছে, এই ব্যাপারটা বেশ মুগ্ধ করেছে আমাকে।
ভাই আপনার শরীরের এখন কি অবস্থা? কেমন আছেন একজন? আসলে ভাই দিন শেষে এমন আত্নীয়রাই অনেক আপন। ওনারাই দেখবেন সব সময় খোজ খবর নিবে৷ আর এ মানুষ গুলোকে দেখলে মন সত্যি অনেক ভালো হয়ে উঠে। দেখবেন আপনার অসুস্থতাও যেনো অনেক ভালো হয়ে উঠবে প্রিয় মানুষ গুলোর মুখ দেখে।
এরি নাম আত্নীয় স্বজন৷ আসলে আমাদের জীবনে আত্নীয় স্বজন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ৷ সেটা শহরে খুব একটা আগ্রহ না হলেও ৷ গ্রামে আত্মীয় স্বজন ছাড়া চলবেই না ৷ একে অপরের খোজ খবর দিনকাল কেমন যাচ্ছে ৷ আর ও অনেক কথা ৷ বিপদের খবর পেয়ে যত দ্রুত
সম্ভব খোজ খবর নেয়া ৷ আর জামাই বলে কথা অসুস্থতার কথা শুনেই ছুটে এসেছে ৷
খুব ভালো লাগলো যে সবাই মিলে খুব সুন্দর একটি সময় পার করেছেন ৷
সর্বোপরি আপনি এখন ভালো আছেন এটাই অনেক ৷
প্রথমেই আপনার শরীরের সুস্থতা কামনা করছি ভাইয়া।আপনার অসুস্থতার কথা শুনেই আপনার আত্মীয়রা চলে এসেছে ।আসলেই গ্রামের মানুষ গুলো একটু বেশি সাদাসিধা আর ভালো প্রকৃতির হয়।শহরে এগুলো খোঁজ নেওয়ার সময় হয়না।সবশেষে আপনার আত্মীয় স্বজনেদের সাথে অনেক ভালো সময় অতিবাহিত করেছেন এতে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।ধন্যবাদ আপনাদের সুন্দর মুহূর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য ভাইয়া।
গ্রাম বা কলোনি এরিয়াগুলোর মত শহরে মানুষের সাথে মানুষের আন্তরিকতা অনেক কম। খুব হাতে গোনা কিছু জায়গায় মিল দেখা যায়। তবে আপনি অসুস্থ শুনে খুব খারাপ লাগলো, আপনার সুস্থতা কামনা করি দাদা।আপনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জামাইয়ের অসুস্থতা শুনে দেখতে এসেছে মানে বুঝতে হবে তারা খুব ভালোবাসেন আপনাকে। মাই হোক অন্ততঃ অসুস্থতার কারণে হলেও সবার সাথে দেখা হল, আড্ডা হল, খাওয়া দাওয়া হল।