বাবা মেয়ের মেলায় ভ্রমন।
আমাদের শহরে প্রায় মাস খানেক হয়ে গেল একটি মেলা শুরু হয়েছে। এই মেলাটি ফরিদপুর শহরের সবচাইতে ঐতিহ্যবাহী মেলা। এই মেলায় অন্য যেকোনো মেলার থেকে অনেক বেশি লোক সমাগম হয়। পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মরনে এই মেলাটির আয়োজন করা হয়। এই মেলার শুরুর দিকে একবার আমি আমার এলাকার বন্ধু-বান্ধব এবং ছোট ভাইদের সাথে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিবছরই আমি পরিবারে লোকজন নিয়ে মেলায় ঘুরতে যাই। এ বছর পারিবারিক একটি সমস্যার কারণে আর যাওয়া হয়নি।
তবে আমার মেয়ে অনেকদিন থেকেই আমাকে মেলায় যাওয়ার কথা বলছিল। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি তাকে নিয়ে যেতে পারিনি। এখন মেলা প্রায় শেষের দিকে। মেয়ে বায়না ধরেছিল মেলায় তাকে নিয়ে যেতেই হবে। আমিও চিন্তা করলাম যেহেতু তাকে মেলায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলাম। তাই নিজের ওয়াদা রক্ষা করার জন্য হলেও তাকে মেলায় নিয়ে যেতে হবে। এমনিতে মেলায় যেতে আমার কাছে ভালই লাগে। কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে মনটা খারাপ। সেজন্য মেলায় যাওয়ার প্রতি খুব বেশি একটা আগ্রহ পাচ্ছিলাম না।
যাই হোক যেহেতু ছোট মানুষ অনেকদিন ধরে আশা করে বসে আছে মেলায় যাওয়ার জন্য। তাই গতকাল তাকে বললাম দুপুরে তৈরি থেকো। আমি তোমাকে নিয়ে মেলায় যাবো। যদিও আমার স্ত্রীকেও বলেছিলাম মেলায় যাওয়ার কথা। কিন্তু তার মানসিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে সে মেলায় যেতে রাজি হয়নি। যাইহোক কি আর করা। যেহেতু সে মেলায় যাবে না। তাই আমি গতকাল দুপুরে আমার মেয়েকে নিয়ে মেলায় গিয়েছিলাম। গতকাল ছিল শনিবার। শনিবার মেলায় ভীড় একটু কম হয়। তাছাড়া আমি আমার মেয়েকে নিয়ে এমন সময় মেলায় গিয়েছিলাম যে সময়টাতে এমনিতেই লোকজন কম থাকে। আমরা বাসা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে বের হয়েছিলাম। আমার বাসা থেকে মেলার দূরত্ব খুব বেশি না। যার ফলে রিক্সা করে সেখানে ১৫ মিনিটে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম।
মেলায় পৌঁছে আমার মেয়ে তো খুবই খুশি। আমি জানি সে মেলার সবচাইতে বেশি পছন্দ করে বাচ্চাদের জন্য যে রাইডগুলো থাকে সেগুলোতে চড়তে। তাই আমি শুরুতেই তাকে সেই রাইডগুলোর কাছে নিয়ে গেলাম। সেখানে বাচ্চাদের জন্য পাশাপাশি তিনটি রাইড ছিল। সে একে একে তিনটি রাইডে উঠল। রাইটগুলোতে চড়ার সময় সে বেশ মজা পাচ্ছিলো তাকে দেখে বুঝতে পারছিলাম। যাইহোক তার রাইডগুলোতে চরা শেষ হলে তখন বললাম চলো আমরা দুজনে পুরো মেলাটা একবার ভালোভাবে ঘুরে দেখি। সেও আমার প্রস্তাবের সাথে সাথে রাজি হয়ে গেল।
তারপর দুজন মিলে মেলার স্টল গুলো ঘুরে দেখতে লাগলাম। তবে সে মাঝে মাঝেই টুকটাক এটা ওটা কিনছিল। এইভাবে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরার পর সে আমাকে বলল তার ক্ষুধা লেগেছে। তবে আমি মেলায় ঘুরে একটা জিনিস দেখেছি। যে সেখানে কোনো ভালো খাবারের স্টল বসেনি। বেশিরভাগ এমন খাবারের স্টল এসেছে। যারা সাধারণত মেলাগুলোতে তাদের ব্যবসা করে থাকে। এই ধরনের খাবারের দোকানের খাবারের মান ভালো হয় না। এজন্য আমি খুঁজতে লাগলাম যে শহরের পরিচিত কোন দোকান মেলায় স্টল নিয়েছে কিনা।
প্রথমে আমার মেয়ে বার্গার খাওয়ার বায়না ধরেছিল। পরে সে তার মত পরিবর্তন করে ফুচকা খাওয়া কথা বলল। যাই হোক আমি কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর একটি দোকান পেয়ে গেলাম। দোকানটি যে সিঁড়ি দিয়ে মেলায় নামতে হয় সেই সিঁড়ির ঠিক পাশেই অবস্থিত। এই দোকানটি যে লোকের সেই লোকটাকে আমি আগে থেকে চিনি। কারণ তিনি ফরিদপুর নিউমার্কেটের কাছাকাছি বিভিন্ন রকম কাবাব বিক্রি করেন। তার কাবাব এর মান খুবই ভালো। আর বিশেষ করে সে তার কাবাব এর সাথে এক ধরনের তেঁতুলের সস দেয়। সেটা এতই মজা যে একবার খেলে আপনার আরেকবার খেতে ইচ্ছা করবে। এরকম সস আমাদের শহরে আর কোথাও পাওয়া যায় না।
যাইহোক সেই দোকানে বসে মেয়ের জন্য ফুচকা অর্ডার করলাম। অল্প কিছুক্ষণের ভেতরেই এক প্লেট ফুচকা চলে এলো। ফুচকাটা বেশ মজা হয়েছিল। কারণ আমার মেয়ে এক প্লেট শেষ হওয়ার সাথে বললো বাবা আরো খাবো। তখন আমি আরো এক প্লেট ফুচকার অর্ডার করলাম। এভাবে তার খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে তখন আমরা মেলা থেকে কিছু টুকিটাকি খাবার জিনিস কিনতে লাগলাম। খাবার জিনিস কেনা শেষ হলে আমরা মেলা থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোনো নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | অম্বিকাপুর |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
মেলা মানেই আনন্দ, খাওয়া দাওয়া, ঘোরাঘুরি আর কেনাকাটা। আপনি আর আপনার মেয়ে তে দেখছি বেশ ভালোই খেলাধুলা করেছে, আনন্দ করেছে। আসলে ঠিকই বলেছেন ভাইয়া এ ধরনের মেলাতে বাচ্চারা খুবই খুশি হয়। ধন্যবাদ আপনার এবং আপনার মেয়ের সুন্দর কিছু মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
পারিবারিক সমস্যা যাই হোক ভাইয়া ছোট বাচ্চা তো আর সেটা বুঝে না। তাই তো তার বায়না। বাবুকে মেলায় নিয়ে গেলেন, এতে করে বাচ্চার মনোবল অনেক বেড়ে গেছে। মেলার ছবিগুলো দেখেই বেশ ভালই বুঝা যাচ্ছে য বেশ বড়সড় মেলাই ছিল। যাক মেয়েকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে যেয়ে বেশ কেনাকাটাও করলেন ভাইয়া।
ভাইয়া আপনার পরিবারের কারোরই মানসিক অবস্থা বর্তমানে ভালো নেই আমরা সকলেই জানি। আসলে আপনার মেয়ে তো অনেক ছোট তাই তো সে বায়না করেছে মেলায় যাওয়ার জন্য। পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মরনে এই মেলাটির আয়োজন করা করা হয়েছে জেনে ভালো লাগলো। আর বাচ্চারা মেলায় যেতে সব সময় পছন্দ করে। কারণ সেখানে গেলে তারা নিজেদের পছন্দের খেলনা গুলোতে উঠতে পারে এবং পছন্দের খাবারগুলো খেতে পারে। ফুচকা খেতে সবাই কম বেশি পছন্দ করে।তাইতো আমাদের মামনিও এই খাবারগুলো পছন্দ করে। ভাইয়া আপনার পোস্ট পড়ে ভালো লাগলো। তবে আপু এবং আপুর পরিবারের সবার মানসিক অবস্থা যেন দ্রুত ভালো হয় এই প্রত্যাশাই করি। যদিও একটু সময় লাগবে। আসলে প্রিয়জন হারানোর ব্যথা শুধু সেই বোঝে যে প্রিয়জন হারিয়েছে।
ভাই বুঝতে পারতেছি আপনাদের পরিবারের অবস্থা আর কতটা কষ্ট আর চাপ গেছে ৷ কিন্তু সে তো ছোট সে কি আ বোঝে ৷ যা হোক ভালো লাগলো আপনার মেয়েকে নিয়ে মেলাতে গেছেন ৷ মেয়ে আর বাবা মিলে বেশ ভালোই ঘোরাঘুরি করছেন ৷ আর মেলার ফটোগ্রাফি গুলো বেশ সুন্দর লাগছিল ৷ বেশ অনেক দোকান বসেছে ৷ অনেক ধন্যবাদ বাবা মেয়ে মিলে মেলায় অনেক সুন্দর একটি সময় অতিবাহিত করেছেন ৷
ভাইয়া আপনার মেয়ের কারনে তাহলে এ বছর জসীম পল্লী মেলায় যাওয়া হলো। আপনি একটি কথা ঠিক বলেছেন মেলাতে তেমন ভাল মানের কোন খাবার পাওয়া যায় না। সবাই সেবার পরিবর্তে টাকা ইনকামের উদ্দেশ্যে ব্যবসা করে। যায়হোক আমাদের ভাতিজি তাহলে দুই প্লেট ফুচকা খেল। বাবা মেয়ে মিলে মেলাতে ভালই ভ্রমন করেছেন। ধন্যবাদ ভাইয়া।
ছবি দেখে তো মেলা বেশ ফাকাই মনে হচ্ছে। আমি যেদিন গিয়েছিলাম সেদিন এত ভিড় ছিল যে একবার গিয়েই এবারের মত মেলায় যাবার সখ মিটে গেছে। আগে জানলে যাওয়া যেত তোমাদের সাথে।