জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা। ১০% বেনিফেসিয়ারি @shy-fox এর জন্য।
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আমি ভালো আছি। আমি ভালো আছি। গতকাল ২৬ ডিসেম্বর আমাদের এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ এর নির্বাচন ছিল। এবারের নির্বাচন টা আমার জন্য একটু স্পেশাল। কারণ প্রথমবারের মতো আমি ভোটার হয়েছি। এবং ভোটার লিস্টে আমার নাম এসেছে। অর্থাৎ আমি এবার ভোট দিতে পারব। এজন্য আমার মধ্যে আলাদা একটা উওেজনা ছিল। এবারের নির্বাচন টা একেবারে সুষ্ঠু হয়েছে। কোনো ঝামেলা ছাড়া প্রায় ৭৫% ভোট পড়েছে। যাইহোক এসব বাদ দেয়। সকালে উঠে তৈরি হয়ে আমি কলেজে চলে যায়। আমার কলেজ এরিয়াই নির্বাচন হচ্ছে না এজন্য ওটা খোলা। যাইহোক আমার কাছে কলেজ আগে। যথারীতি ঠিক দুপুর ১২:৩০ টার সময় আমার ক্লাস শেষ হয়। এরপর আমি আমার চাচাতো ভাই নাজমুল কে ফোন দেয়। ও বলে ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে চলে আয়। যথারীতি আমি কলেজ থেকে বাড়ি আসলাম ১.৩০ টার সময়। এরপর আমি গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে নেয়। এরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়। এরপর আমি নাজমুল ভাইয়ের সাথে চলে যায়।
এই রাস্তা আমার খুবই পরিচিত। কারণ আমাদের ভোটকেন্দ্র হলো সেই প্রাইমারি স্কুলে যেখানে আমি লেখাপড়া করেছি। পুরো ৫ বছর এই রাস্তা দিয়ে আমি যাতায়াত করেছি। যদিও এখন প্রায় সবকিছুই পরিবর্তন হয়েছে। যাইহোক আমি এবং আমার চাচাতো ভাই হাঁটতে হাঁটতে যায়। এখন বিকেল। আর দেড়ঘন্টা মত ভোটের সময় আছে। এখন খুব একটা ভীড় নেই।
ভোটকেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে ভোটের সিরিয়াল নাম্বার দেওয়া হচ্ছে সিট দেখে। এই নাম্বার না নিলে ভোট দিতে দেয় না। আমি আমার নাম খুজি। তখন এক আজব ব্যাপার চোখে পড়ে। এবারের নির্বাচনে আমি আমার গ্রামের শেষ পুরুষ ভোটার। বিষয়টি নিয়ে একটু হাসাহাসি করি। যাইহোক এরপর আমি ওটা নিয়ে ভোট কেন্দ্রের দিকে যায়। কিন্তু ভেতরে ফোন নিয়ে ঢুকতে পুলিশ বাঁধা দেয়। আমি ফোনটা আমার চাচাতো ভাইয়ের কাছে রেখে যায়। জীবনের প্রথম ভোট। প্রতিটা পদচারণা শিহরিত করছে। যথারীতি আমি আমার এলাকার বুথে চলে যায়। আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। যথারীতি প্রথমে আমার হাতে কালো কালি দিয়ে দেয়। এরপর তাদের কার্যক্রম শেষে আমার হাতে তিনটা ব্যালট এবং সীল দিয়ে দেওয়া হয়। আমি ভিতরে গিয়ে আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়। এরপর ভাজ করে ব্যালট বাক্সে ফেলে দেয়। এরপর আমি কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসি। আমার ভোট দেওয়া এখন সম্পন্ন।
ভোট দেওয়া শেষ করে বাইরে এসে আমি আমার কিছু বন্ধুদের সাথে কথা বলি। অনেকদিন পর সবার সাথে দেখা হয়েছে। যাইহোক অনেক মানুষের সমাগম। দেখে একটি উৎসব মনে হচ্ছিল। ভোট কিন্তু আসলেও একটি উৎসব। যাইহোক ভোটকে কেন্দ্র করে এখানে বেশ অনেক ধরনের দোকান বসেছে। ছোটখাট একটি মেলার মতো। দোকানগুলো ক্ষণস্থায়ী। অনেক ধরনের খাবার বিক্রি করছিল দোকান গুলোতে। এর মধ্যে চপ, সিঙ্গারা, পাপড়, পিঁয়াজি, ঝালমুড়ি এইরকম আরও হরেক রকম খাবার। আমি এবং আমার চাচাতো ভাই নাজমুল বেশ কয়েকটি দোকানে ঘুরি। এবং কিছু মুখরোচক খাবার খাই। ভোটের সময় প্রায় শেষ। তাই আমি বাড়ি ফিরে আসি এবং নাজমুল ভাই ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করে।
| ----- | ----- |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @emon42 |
| ফটোগ্রাফি ডিভাইস | VIVO Y91C |
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
আমি ইমন হোসেন। আমি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলায় বসবাস করি। আমি একজন ছাএ। আমি কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে লেখাপড়া করি। আমি খেলাধুলা ভালোবাসি। বিশেষ আমি ফুটবল পছন্দ করি।
https://steemit.com/hive-129948/@emon42/3hsfkr-shy-fox
ভাই আপনার জীবনের প্রথম ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা জেনে খুবই ভালো লাগলো। আসলে আমাদের প্রত্যেকেরই নাগরিক হিসেবে ভোট প্রদান করা উচিত। দেশকে ভালোবাসা উচিত এবং দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া উচিত যার মধ্যে ভোট প্রদান করা অন্যতম।
খুব সুন্দর করে আপনি আপনার অভিজ্ঞতা কি আছে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। শুভকামনা রইল আপনার জন্য ভাইয়া।
ধন্যবাদ ভাই💖👌
এই মাসটা নির্বাচনের মাস। সারাদেশেই নির্বাচন। যাইহোক প্রথম কোন কাজ করলে তার একটা আলাদা অভিজ্ঞতা থাকে। ধন্যবাদ আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য । দোয়া ও ভালোবাসা রইলো।
আপনাকেউ ধন্যবাদ ভাই।।
আপনি অনেক সুন্দর করে আপনার ভোট দেওয়ার অনুভূতিগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আমাদের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ভোট দেওয়া। তবে জেনে-শুনে-বুঝে ভালো একজন মানুষকে ভোট দেওয়া সবচাইতে ভালো। যাই হোক আপনি অনেক সুন্দর করে প্রতিটি ধাপ আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন এবং আপনার এই আনন্দ অনুভূতিটুকু আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ঠিকই বলেছেন ভাই। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
ভোট প্রদান মানে নিজের অধিকার বুঝে নেয়া। আমি বহুবার ভোট দিয়েছি। ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কথা না বাড়াই দারুন ছিল আপনার অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর বলেছেন।।