স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সে অনুভুতি.........
হে লো আমার বাংলা ব্লগ বাসী। কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভালো আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি। আবার ও হাজির হলাম একটি পোস্ট নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
কি অবস্থা সবার। আশা করি আপনারা সবাই জোশ মুড এ আছেন। আমিও আছি খুবই ব্যস্ততায়। ব্যস্ত সময় যেনো আমার শেষই হচ্ছেনা। নিজেকে দেওয়ার মতন একটু সময় পাচ্ছিনা। কাজ আর কাজ । চারিদিকে শুধু কাজ আর কাজ। যাক কিছু দিন আগে আমি স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড পেয়েছিলাম। সেটার অনুভুতি ও জার্নি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিবো। যদিও পরীক্ষা দেওয়ার কিছু বিষয় ইতিমধ্যে শেয়ার করেছি। আজ থাকবে শুরু থেকে শেষ এর ধাপ গুলো। আশা করি অনেকের সাহায্য দিবে।
আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর এই জার্নিটা শুরু হয় এবছরই জুলাই মাসের চার তারিখ। আমার অফিস এর এক কলিগ এর মাধ্যমে সেদিন বিআরটিএ পোর্টাল থেকে লার্নার কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করে ফেলি। আমার সে কলিগ সব কিছুই করে দেয়। টাজা জমা দেওয়া থেকে শুরু করে অনলাইন ফরম পুরন। তবে সব ফাইল আমি আগেই গুছিয়ে দিয়েছিলাম। আমার পরীক্ষার তারিখ আসে সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখ। আগেই বলে রাখি আমি সাধারন ভাবে করিনি। আমার সে কলিগ বিআরটিএ এর একজন লোক ধরেছিলো। তা না হলে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেইল করিয়ে দেয় বেশির ভাগ। যেহেতু টাকা দিয়ে সব হবে তাই আমি একটু নিশ্চিন্ত ছিলাম। তো ধিরে ধিরে সে তারিখ এসে পরেছিলো আর আমি এক্সাম দিতেও চলে যাই। সেখানের সে লোক সব কিছুই করে দেয়। সবার লিখিত পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়ার আগেই আমার লিখিত, ভাইভা ও ফিল্ড পরীক্ষা হয়ে যায়। পাশ ও করে ফেলি সব গুলোতে। এরপর অফিস চলে যাই। সেদিন সন্ধায় নাকি রেজাল্ট দেওয়ার কথা। আমিও তার অপেক্ষায় রইলাম।
বিকেলের পর থেকেই বার বার চেক করতেছিলাম। কিন্তু রেজাল্ট তো আর পাইনা। এভাবে সেদিন পার হয়ে গেলো। পরের দিন সকাল থেকেই চেক করতেছিলাম কিন্তু ফলাফল নাই। একটু ভয় হচ্ছিলো ফেইল না করিয়ে দেয়। যদিও ফেইল করানোর কথা নয়। সাধুকে তো টাকা দিয়েছিলাম। যাক বিকেল বেলা মেসেজ পেলাম যে লার্নার টেস্ট পাশ করেছি। এবার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর টাকা জমা দিতে বললো। সার্ভার জটিলতায় অনেক ঝামেলার পর আমি টাকা পরিশোধ করতে সমর্থ হই। অবশ্য এর জন্য কোথায় যেতে হয়নি। অনলাইনে টাকা পে করে দেই। এর দুইদিন পর আমার আবেদন এপ্রুভ করে দেয়। তখনই আমি ই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে যাই। এরপর অপেক্ষা করতে থাকি স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়ার। অবাক হই যে ৯ তারিখেই ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট হয়ে যায়। আর তা আমার এলাকার পোস্ট অফিস এর জন্য পাঠিয়ে দেয়। তো বৃহস্পতিবার ১৪ তারিখ পোস্ট মাষ্টার আমাকে কল দিয়ে বলে একটা কি যেনো আসছে। আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে ড্রাইভিং লাইসেন্সই হবে। কিন্তু তখন আমি ছিলাম অনেক দূরে। তাই আর সেদিন নিতে পারলাম না। অপেক্ষা করতে হলো। শুক্রবার আর শনিবার সরকারি সব অফিস বন্ধ।
তো রবিবার অফিস যাওয়ার আগে পোস্ট মাস্টারকে কল দিলাম। তিনি বললেন নিচে দাড়াতে। আমি নিচে দাঁড়ালাম। উনি একটু পরই ড্রাইভিং লাইসেন্স এর খাম নিয়ে আসলেন। আমি অবাক হলাম যে সরকারি অফিস এতো সকালে খুললো তাও আমার জন্য। সাধারনত ৯ টায় খোলে। সেখানে আমি ৮ টার দিকে পেলাম। যাক পোস্ট মাষ্টার কে ১০০ টাকা দিলাম চা পানি খাওয়ার জন্য। এরপর তো আমার খুশি কে আটকায়। খাম ছিড়ে আমার লাইসেন্স খানা দেখলাম। আহ কি যে ভালো লাগছিলো। এবার অপেক্ষা বাইক কেনার। দোয়া করবেন আমার জন্য যেনো আমি আমার বাইক কেনার শখ পূরণ করতে পারি। ভালো থাকবেন সবাই.........।
░▒▓█►─═ ধন্যবাদ ═─◄█▓▒░
আমি রাজু আহমেদ। আমি একজন ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি থেকে। আমি বাঙ্গালী তাই বাংলা ভাষায় লিখতে ও পড়তে পছন্দ করি। ফোন দিয়ে ছোটখাট ছবি তোলাই আমার সখ। এছাড়াও ঘুরতে অনেক ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আসলে যে কোন সফলতা অর্জন করতে পারলে এমনিতে অনেক খুশি লাগে। আপনি স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়েছেন অনেক খুশি হয়েছেন । তবে এটি একদম ঠিক বলেছেন যদি আগে থেকে টাকা না দিয়ে রাখলে অনেক সময় ফেল করিয়ে দেয়। তবে আপনি আগের থেকে টাকা দিয়ে ভালোই করলেন। এটি শুনে খুব ভালো লাগলো লোকটি ৮ টার মধ্যে আপনার গাড়ির লাইসেন্স এর খামটি আপনার হাতে দিয়ে দিলেন। আপনি খুশি হয়ে লোকটিকে ১০০ টাকা দিলেন চা খাওয়ার জন্য। যাই হোক আপনি স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন তার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
এটা একদম যথার্থ বলেছেন আপু। কিছু অর্জন করতে পারলে সত্যি দারুন খুশি লাগে।
কোন কিছু সফলতা অর্জন করতে পারলে এমনিতে অনেক ভালো লাগে। আপনি স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন এই কারণে অনুভূতি আপনার কাছে ভিন্নরকম লাগতেছে। তবে আমাদের দেশে কোন কিছু পেতে হলে আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে। যেমন আপনি লাইসেন্স এর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আগের টাকা দিয়ে দিয়েছেন। হয়তোবা না দিলে আপনাকে ফেল করিয়ে দিতেন। এবং অফিস নয়টা খোলে সেই জায়গাতে আপনি আটটা বাজে আপনার লাইসেন্সের কাগজপত্র পেয়ে গেছেন। এবং আপনি খুশি হয়ে লোকটিকে ১০০ টাকা দিয়েছেন নাস্তা খাওয়ার জন্য। তবে এটি আপনি খুব ভালো করেছেন লোকটি অনেক খুশি হয়েছে মনে হয়। যাইহোক স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়েছেন এই কারণে আপনাকে ধন্যবাদ এবং আপনার সামনের দিনগুলো যেন ভাল কাটে।
জ্বি ভাইয়া। নরমালি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গেলে লাগে ৫০০০ টাকা। সেখানে আমার লেগেছে প্রায় ১০০০০ টাকার মতন।