নাটক রিভিউ-রং রাধিয়া|
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজ আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করতে যাচ্ছি। এই নাটকটি আমি বেশ কিছুদিন আগে দেখেছিলাম। আর আজকে এই নাটকের রিভিউ সবার মাঝে শেয়ার করবো। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।
| নাম | রং রাধিয়া |
|---|---|
| পরিচালনা | হাসান রেজাউল |
| সম্পাদনা | অমিতাভ মজুমদার |
| রচনা | আসাদুজ্জামান সোহাগ |
| অভিনয়ে | জোভান, তটিনী ও আরো অনেকে |
| দৈর্ঘ্য | ৪৭ মিনিট |
| মুক্তির তারিখ | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ |
| ধরন | ড্রামা |
| ভাষা | বাংলা |
| দেশ | বাংলাদেশ |
চরিত্রেঃ
- জোভান(মাহিন)
- তটিনী(অদিতি)
নাটকের শুরুতেই দেখতে পাই অদিতি ঘুমিয়ে আছে আর তার বান্ধবী তাকে ফোন করে জানাচ্ছে তার ছবি পেপারে ছাপানো হয়েছে। আর তার বান্ধবী তাকে বলে তুই যে শিল্পীকে দিয়ে ছবি অঙ্কন করিয়েছিস তার সাথে তোর কিসের সম্পর্ক? তখন অদিতি বলে আবোল তাবোল কি বলিস। আমি কিছুই জানিনা। এবার অদিতি ঘুম থেকে উঠে পেপার দেখছিল আর তার মা তাকে নাস্তা রেডি করে দিচ্ছিল। অদিতি পেপার খুলে অবাক হয়ে যায়। কারণ তার মত দেখতে একটি মেয়েকে কেউ একজন রংতুলির ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলেছে। এটা দেখে অদিতি বেশ অবাক হয়ে যায়। এরপর তার বান্ধবীকে বলে তার সাথে সেই আর্ট গ্যালারিতে যেতে।
অদিতি এবং তার বান্ধবী সেই আর্ট গ্যালারিতে চলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর মাহিন নামের সেই চিত্রশিল্পীকে খুঁজতে শুরু করে। অদিতির বান্ধবী তো প্রথমে ভেবেছিল অদিতি হয়তো সত্যি সত্যি মাহিনকে চেনে। কিন্তু এরপর বুঝতে পারে আসলে অদিতি তাকে চেনেনা। এবার যখন অদিতি মাহিনকে খুঁজতে থাকে তখন মাহিনের সামনে গিয়ে পরে আর বাহিরের বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করে এখানে মাহিন নামের কেউ আছে কিনা। যে ছবি-টবি আর্ট করে। তখন মাহিনের বন্ধু বলে আমার এক বন্ধু আছে সে চিত্রশিল্পী আর ছবি আর্ট করে। তবে টবি আর্ট করে না। এরপর অদিতি তাকে খুঁজতে থাকে। আর এভাবে কেটে যায় কিছু সময়। এরই মাঝে অদিতির বান্ধবী সেখান থেকে চলে যায়।
এবার অদিতির সামনে বসে থাকা মাহিন বলে সেই মাহিন এবং সেই ছবিটি এঁকেছে। তখন অদিতি বলে আপনি কেন আমার ছবি এঁকেছেন। তখন মাহিন বলে আমি মোটেও আপনার ছবি আঁকিনি। আমি আমার কল্পনা থেকে রাধিয়া কে আর্ট করেছি। এবার অদিতি বলে এই ছবিটি আমি কিনতে চাই। আমি চাইনা আমার ছবি কারো কাছে থাকুক। কত টাকা দিতে হবে সেটা বলেন। তখন মাহিন বলে এই ছবিটির দাম হয়েছে ছয় এর মত। তখন অদিতি বলে ঠিক আছে আমি ৬০০ টাকা দিয়ে দিচ্ছি। তখন মাহিন বলে ৬০০ টাকা নয় ছয় লক্ষ টাকা দাম বলেছে একজন। এটা শুনে তো মাহিনের সাথে অদিতি ভীষণ রাগারাগি শুরু করে দেয়। এরপর মাহিন অদিতিকে কথা দেয় প্রদর্শনী শেষ হলে সেই ছবিটা তাকেই দিবে।
এভাবে ধীরে ধীরে অদিতির সাথে মাহিনের বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। বন্ধুত্ব থেকে ভালো লাগা তৈরি হয়। মাহিন অদিতিকে ভালোবেসে রাধিয়া বলে ডাকে। দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলে। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল তাদের দিনগুলো। একদিন হঠাৎ করে মাহিন আর অদিতি দুজনে দেখা করে। মাহিন কিছু কথা অদিতিকে বলতে চায়। মহিন বলে আসলে রাধিয়াকে আমি কল্পনায় আঁকিনি। কোন এক সময় তোমার সাথে আমার দেখা হয়েছিল। আর সেই সময় আমি ছবি তুলেছিলাম। আর সেই ছবি থেকেই আমি রাধিকাকে এঁকেছিলাম। এই কথা শুনে অদিতি ভীষণ রেগে যায়। আর সেখান থেকে চলে যায়। এরপর অদিতি আর মাহিনের মাঝে দুরত্ব তৈরি হয়।
মাহিন নিজের অপরাধ বোধ থেকে অদিতিকে সত্যি কথাটা বলে দেয়। যাতে করে পরবর্তীতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়। মা কিছুতেই সত্যি কথাটা লুকিয়ে রাখতে পারছিল না। অন্যদিকে অদিতি মাহিনের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। এরপর মাহিনের সাথে দেখা হয় অদিতির এক বান্ধবীর। তখন মাহিন জানতে পারে আসলে অদিতি অনেক অসুস্থ এবং তার হাতে হয়তো আর অল্প কিছুদিন সময় আছে। তাই তো সে মাহিনের থেকে দূরে সরে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু কিভাবে দূরে সরে আসবে বুঝতে পারছিল না। এরই মাঝে যখন মাহিন অদিতিকে বলে রাধিয়া তার কল্পনা থেকে আসেনি এই সত্যটা শোনার পর অদিতি সুযোগ পেয়ে যায় দূরে সরে যাওয়ার। আসলে অদিতি তার এলোমেলো জীবন থেকে মাহিনকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। এই কথা শুনে মাহিন ভীষণ কষ্ট পায়।
অন্যদিকে অদিতি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডক্টর সব আশা ছেড়ে দেয়। ডক্টর বলে আর অল্প কিছু সময় আছে আপনাদের হাতে। মাহিন ডক্টরের কাছে গিয়ে অনুরোধ করে তার রাধিয়াকে অর্থাৎ অদিতিকে বাঁচানোর জন্য। মাহিন বলে যত টাকা প্রয়োজন হয় সে দিবে কিন্তু অদিতিকে বাঁচাতে হবে। তখন ডাক্তার বলে সবকিছুই তাদের হাতের বাহিরে। এরপর মাহিন রাধিয়াকে বিয়ে করে। আর সেই দিন রাধিয়া অর্থাৎ অদিতি মরে যায়। মাহিন এবং রাধিয়ার বাবা মা খুবই কষ্ট পায়। রাধিয়া অর্থাৎ অদিতি মরে যাওয়ার পর মাহিন চিৎকার করে রাধিয়া রাধিয়া বলে ডাকতে থাকে। এরপর নাটকটি শেষ হয়ে যায়।
মাঝে মাঝে মৃত্যু এসে ভালোবাসার মানুষটিকে আলাদা করে দেয়। তবে মানুষের মৃত্যু হলেও ভালোবাসার কখনো মৃত্যু হয় না। হয়তো প্রিয় মানুষটির হৃদয়ে তার ভালোবাসার রাধিয়া সারা জীবন থেকে যাবে। এই নাটকটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। ভিন্ন ধরনের একটি গল্প ছিল।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
https://x.com/Monira93732137/status/1804860745274064987?t=G37wvryDgopzZCIBZfr1Ww&s=19
যদিও নাটকটি দেখা হয়নি তবে আমার কাছে তটনীর নাটক বেশ ভালো লাগে।জোভান ও বেশ দারুন অভিনয় করে।আসলে সত্যিকারে ভালোবাসলে মনে হয় এমনি হয়।সুযোগ পেলে নাটক টি দেখে নিব।ধন্যবাদ
আপু আপনি সময় পেলে নাটকটি দেখতে পারেন। আশা করছি আপনার কাছে ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপু।
এটা ঠিক বলেছেন আপু মানুষের মৃত্যু হলেও ভালোবাসার মৃত্যু হয় না। খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ দিয়েছেন। এরকম ভিন্ন ধরনের গল্পের নাটক গুলো খুবই ভালো লাগে দেখতে। যদিও এই নাটকটি দেখা হয়নি তবে আপনার রিভিউ দেখে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ দেওয়ার জন্য।
ঠিক বলেছেন আপু ভালোবাসার কখনো মৃত্যু হয় না। আর এই নাটক রিভিউটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো আপু।
এরকম অনেক ভালোবাসায় হেরে যায় মৃত্যুর কাছে। নাটকটি সম্পূর্ণ আমার দেখা হয়নি তবে নাটকের কিছু কিছু অংশ আমি দেখেছি। অনেক সুন্দর একটি নাটক শেষের দৃশ্যটা সত্যি অনেক বেদনাদায়ক।
সুন্দরভাবে নাটকটির রিভিউ আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
সত্যি আপু মাঝে মাঝে ভালোবাসা হেরে যায়। তবে প্রিয় মানুষটির জন্য সত্যিকারের ভালোবাসা সারা জীবন থেকে যায়।
ঠিক বলেছেন আপু ভালোবাসা এমন একটা জিনিস মৃত্যুও ভালোবাসার কাছে হার মেনে যায়। মৃত্যুর পরেও মানুষকে ভালোবাসা যায় এই নাটকটির মাধ্যমে তা তুলে ধরা হয়েছে। দারুন একটি নাটক রিভিউ করেছেন আপু। নাটক রিভিউ টি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন আপু মৃত্যু ভালোবাসাকে হারিয়ে দিতে পারেনা। হয়তো মানুষটি শুধু হারিয়ে যায়। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপু।
আপু আপনি খুব সুন্দর একটি নাটক রিভিউ দিয়েছেন। আপনার রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। যদিও এই নাটক এখনও দেখা হয়নি। সত্যিই মানুষের মৃত্যু হলেও ভালোবাসার কখনও মৃত্যু হয় না। যারা সত্যিকারের ভালোবাসে তারা প্রিয় মানুষের ভালোবাসা নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দেয়। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি নাটক রিভিউ দেওয়ার জন্য।
আমার শেয়ার করা নাটকটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। সত্যি আপু মাঝে মাঝে সত্যিকারের ভালোবাসা গুলো হারিয়ে যায়। তবে মানুষটির মৃত্যু হলেও ভালোবাসার মৃত্যু হয় না।
এরকম সুন্দর সুন্দর নাটক গুলো দেখতে এবং নাটকগুলোর রিভিউ পোস্ট পড়তে আমি অনেক পছন্দ করি। নাটকগুলো রিভিউ পড়লে নাটক আর দেখাই লাগেনা। কারণ নাটকের পুরো কাহিনীটা রিভিউর মাধ্যমেই জেনে নেওয়া যায়। এই নাটকটা আমার কাছে অনেক সুন্দর লেগেছে। আর এই জন্য আমি ভাবছি নাটকটার রিভিউ পোস্ট পড়লেও আমি সময় পেলে এই নাটকটা দেখবো। সুন্দর করে পুরো কাহিনীটা তুলে ধরেছেন এজন্য ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন আপু এরকম নাটক গুলো দেখতে অনেক ভালো লাগে। আর আমার শেয়ার করা এই নাটক আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।
এই নাটকটি আমিও দেখেছিলাম। নাটকের শেষ পরিণতিটা খুবই কষ্টের ছিল। ভালোবাসার মানুষটিকে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে পারল না। অসাধারণ একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।