নাটক রিভিউ :- 'জামাই শশুর ৪২০'।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ মঙ্গলবার। ০২রা মে, ২০২৩ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজ আমি আপনাদের নিকট 'জামাই শশুর ৪২০' নাটকটির রিভিউ উপস্থাপন করছি। আশা করি নাটকটির রিভিউ আপনাদের নিকট অনেক অনেক ভালো লাগবে।
youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নাটকটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:-
| নাটকটির নাম | জামাই শ্বশুর ৪২০ |
|---|---|
| পরিচালক | মহিন খান |
| অভিনয়ে | নিলয় আলমগীর,ফখরুল বাশের মাসুম, মিতিল ফারুক,মাহাবুব আল রশিদ খান, চিত্রলেখা গুহ ও অন্যান্য জন |
| ভাষা | বাংলা |
| দৈর্ঘ্য | ৪৫ মিনিট |
| দেশ | বাংলাদেশ |
নাটকটির সারসংক্ষেপ।
"জামাই শশুর ৪২০" নাটকের শুরুতেই দেখা যায় যে, অনেক ধুমধাম করে সানি নামের একটি ছেলের বিবাহ উপলক্ষে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হচ্ছে। তারপর সানি ছেলেটি এসে তার শুভ বিবাহের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পূর্বে কি ঘটেছিল, সেটা বলা শুরু করলো।
youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সানি টুম্পা নামের একটি মেয়ের পিছনে পিছনে বেড়ায় তাকে ভালোবাসার জন্য। একদিন টুম্পা সানির সমস্ত কথাগুলো শুনে একবারেই সানিকে বিয়ে করতে চায়। টুম্পার কথা শুনে সানি খুবই আনন্দিত হয়। তারপর টুম্পা তার বাবার সাথে দেখা করার জন্য সানিকে প্রস্তাব দেয়। তারপর সানি মিষ্টি এবং পান সুপারি নিয়ে যখন টুম্পার বাবার বাড়ি দিকে যাচ্ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে পথে একজন মুরুব্বি লোকের সাথে তার ধাক্কা লাগে। আর ধাক্কা লাগা লোকটি ছিল টুম্পার বাবা আবুল বাসার। কিন্তু সানি জানতো না যে, এই লোকটি টুম্পার বাবা। ধাক্কা লাগার পরে আবুল বাশার এবং সানি মধ্যে রাগারাগি হলো। তারপর তারা সেখান থেকে চলে গেল। আবুল বাশার বাড়িতে যাওয়ার পর টুম্পার কাছ থেকে জানলো যে, তার কাছে একজন লোক এসেছে দেখা করতে। তারপর আবুল বাশার দেখল যে, পথের মাঝে ধাক্কা মেরে যে তার সাথে বেয়াদবি করেছিল সেই ছেলেটিই তার বাড়িতে এসেছে। এবং তার মেয়ে সাথে বিয়ে করার প্রস্তাব দিচ্ছে।
youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
টুম্পার বাবা এবং টুম্পা মিলে সানিকে তার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। সানি যখন কান্না করতে করতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তখন টুম্পার বাবা সানিকে ডাক দিলো। তারপর আবুল বাশার সানিকে একটি শর্ত দিয়ে তার মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হল। আবুল বাশারের শর্তটি ছিল, খুশিদা'র সাথে তাকে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। সানি আবুল বাশারের কথায় রাজি হয়ে শুরু করলো খুশিদাকে বিয়ে করানোর জন্য রাজি করতে।
youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সানি প্রথমেই আবুল বাশারের সাথে খুশিদাকে বিয়ে দেয়ার জন্য খুশিদাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব করে। কিন্তু খুশিদা তাদের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। তারপর, আবুল বাশার খুশিদাকে বিয়ে করে তার শরীর টিপে দিতে, খুশিদাকে রান্না করে খাওয়াতে এবং খুশিদার সমস্ত হাড়ি পাতিল গুলো পরিষ্কার করে দিতে রাজি হয়। সানির প্রচেষ্টায় খুশিদা আবুল বাশারকে বিয়ে করতে রাজি হয়। কিন্তু একটা শর্ত দেয় যে, তার ভাই মাহবুবকে বিয়ে করাতে রাজি করতে হবে। তারপর সানি এবং আবুল বাশার মাহবুবকে বিয়ে করাতে রাজি করতে গিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। এবং সেখানে খুবই হাস্যকর ঘটনা ঘটে।
youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সানি এবং আবুল বাশারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কথা শুনে খুশিদা তার বিয়ের বিষয়টা সম্পূর্ণ রূপে নাকচ করে দেয়। খুশিদার কথা শুনে আবুল বাশার সানিকে বলে দিলো, আমাকে খুরশিদার সাথে বিয়ে না করাতে পারলে আমার মেয়ের সাথে তোমারও বিয়ে হবে না। আবুল বাশারের মুখে এরকম কথা শুনে সানি শেষ প্রচেষ্টা করার জন্য খুশিদার ঘরে ঢুকে গেল। তারপর খুরশিদার পা চেপে ধরে তার প্রেমের কথাগুলো বললো। সানির কথা শুনে খুরশিদা আবুল বাশারকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেল। তারপর আবুল বাশার খুশিদাকে বিয়ে করে তার বাড়িতে নিয়ে গেল।
youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আবুল বাশারকে বিয়ে করতে দেখে তার মেয়ে টুম্পা খুবই রাগান্বিত হলো। অতিরিক্ত রাগে টুম্পা সানির গালে একটা চড় দিয়ে দিল। তারপর টুম্পা সানিকে বলে দিলো, তাকে সে কখনোই বিয়ে করবে না। তারপর সানি টুম্পাদের বাড়ি থেকে চলে গেল। এদিকে আবুল বাশার তার মেয়ে টুম্পাকে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়ে বললো যে, সানি খুবই ভালো একটি ছেলে। তারপর টুম্পা সানির কাছে গেল এবং সানিকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেল। তারপর ধুমধাম করে টুম্পা এবং সানির বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হলো। তারপর নাটকটি শেষ হয়ে গেল।
youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নাটকটি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মতামত।।
"জামাই শশুর ৪২০" নাটকটি শুরু থেকেই হাস্যরস দিয়ে শুরু হয়। এই নাটকের জামাই এবং শশুর চরিত্রে অভিনয়কারী দু'জনের অভিনয় অত্যন্ত নিখুঁত এবং সাবলীল ছিল। নাটকটির জামাই এবং শশুরের অভিনয় গুলো আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। সম্পূর্ণ নাটকটি ছিল হাস্যরসে পরিপূর্ণ। এই নাটকটি দেখে আমি খুবই আনন্দ অনুভব করেছি। নাটকটির প্রতিটি প্লট ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক। একই সাথে নাটকটির শেষ মুহূর্তের কথা গুলো আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত শিক্ষামূলক ছিল। তাই আমি মনে করি, অবিরাম আনন্দের পাশাপাশি শিক্ষা লাভের জন্য এই নাটকটি আমাদের প্রত্যেকের দেখা উচিত।
Twitter link
এই নাটকটা খুবই মজার নাটক ছিল যার কারণে সম্পূর্ণ রিভিউটা পড়তে আমার কাছে অন্যরকম ভালো লেগেছিল। আপনি সম্পূর্ণ নাটকের রিভিউ খুবই সুন্দরভাবে লিখেছেন। এরকম নাটকের রিভিউ পড়তে একটু বেশি ভালো লাগে আমার কাছে। সম্পূর্ণ রিভিউ টা বেশ ভালো ছিল।
সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করেছেন ৷ এই নাটকটি আমি দেখেছি , বেশ ভালোই লেগেছে আমার ৷ তাছাড়া নিলয়ের অভিনয় আমার বেশ ভালোই লাগে , দারুণ সুন্দর অভিনয় করেন তিনি ৷ যাই হোক এই নাটকটি আসলেই অনেক মজার ৷ আপনি অনেক সুন্দর ভাবে নাটকটি রিভিউ করেছেন , আপনার রিভিউ দেখে অনেক ভালো লাগলো ৷ ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য ৷
নাটক দেখতে আমার অনেক ভালো লাগে। আমি মাঝে মাঝে অবসর সময়ে নাটক দেখি। তবে এই নাটকটা আগে দেখা হয়নি। আপনার পোস্ট পড়ে মনে হচ্ছে নাটকটি খুব মজার। আমি অবশ্যই দেখব এই নাটকটি।
কিছুদিন আগে আমি এই নাটকটি দেখলাম যখন দেখছিলাম যেন হাসতে হাসতে পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম। দারুন একটা নাটকের ভিডিও আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন। খুবই ভালো লাগলো আপনার রিভিউটি পড়ার পরে।
নিলয়ের নাটক গুলো দেখতে আমি এমনিতে ভীষণ পছন্দ করি। কারণ তার প্রত্যেকটা নাটক খুবই মজার হয়। বিশেষ করে তার অভিনয় আমার কাছে একটু বেশি ভালো লাগে, সে খুবই সুন্দর অভিনয় করে। আপনি নিলয়ের খুবই সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ পোস্ট সবার মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন দেখে ভালো লাগলো। খুবই মজার নাটক ছিল এটি বলতে হচ্ছে।