ডাই পোস্টঃ ক্লে দিয়ে তৈরি সোনালু ফুলের থোকা।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সবসময় ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ২০শে ফাল্গুন, বসন্তকাল ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ৫ই মার্চ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। আজ একটি ডাই পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
বন্ধুরা,আমার বাংলা ব্লগের নিয়মিত ব্লগিংয়ে আজ নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হলাম। আজ এসো নিজে সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে আমি একটি ডাই পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আজকার ক্লে দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানাতে বেশ ভালো লাগে। কারন ক্লে দিয়ে সকল কিছুই বানানো সম্ভব। কেবল সময় নিয়ে ও ধৈর্য নিয়ে করলে সকল কিছুই বানানো যায়। আমার বেশ ভালো লাগে ক্লের দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানাতে। তাই আজও ক্লে দিয়ে বানিয়ে নিলাম সোনালু ফুলের থোকা। আমার কাছে বেশ লেগেছে দেখতে ফুলের থোকাটি। আশাকরি আপনাদেরও ভালো লাগবে।ফুলের থোকাটি বানাতে আমি উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করেছি বিভিন্ন রং এর ক্লে ও ক্লে টুলস। তৈরির পদ্ধতি যা সবিস্তারে নিম্নে প্রদত্ত হলো। তাহলে চলুন, দেখে নেয়া যাক সোনালু ফুলের থোকা তৈরির বিভিন্ন ধাপ সমূহ।
উপকরণ
১।বিভিন্ন রং এর ক্লে
২।ক্লে টুলস
সোনালু ফুল তৈরির ধাপ সমূহ
ধাপ-১
প্রথমে হলুদ রং এর ক্লে দিয়ে ক্লে টুল ব্যবহার করে ৫টি পাপড়ি বানিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-২
এবার সবুজ রং এর ক্লে গোল করে নিয়েছি।এর উপর পাপড়িগুলো পরপর বসিয়ে দিয়েছি।
ধাপ-৩
সবুজ রং এর ক্লে চিকন করে নিয়ে ফুলের রেণু বানিয়ে নিয়েছি।বানানো রেণু ফুলের মাঝখানে লাগিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-৪
এবার সবুজ রং এর ক্লে দিয়ে চিকন করে ফুলের ডাল বানিয়ে ্নিয়েছি। ডালের সাথে বানানো ফুল লাগিয়ে দিয়েছি। একইভাবে কয়েকটি ফুল বানিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-৫
সবুজ রং এর ক্লে দিয়ে কয়েকটি পাতা বানিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-৬
সবুজ রং এর ক্লে গোল করে চেপ্টা করে নিয়েছি। এবং হলুদ রং এর ক্লে গোল করে নিয়েছি। সবুজ রং এর ক্লের উপর গোল করা হলুদ রং এর ক্লে বাসিয়ে দিয়েছি। হলুদ রং এর ক্লে কে সবুজ রং এর দিয়ে চারপাশ মুড়িয়ে দিয়েছি।এবং ক্লে টুলস দিয়ে হলুদ রং এর ক্লের উপর কয়েকটা দাগ দিয়ে বানিয়ে নিয়েছি কলি। এবং সবুজ রং এর ক্লে চিকন করে বানানো কলির সাথে লাগিয়ে দিয়েছি।একইভাবে কয়েকটা কলি বানিয়ে নিয়েছি।
ধাপ-৭
সবুজ রং এর ক্লে চিকন করে নিয়ে আবারও ডাল বানিয়ে নিয়েছি। বানানো ডালে প্রথমে কলিগুলো লাগিয়ে নিয়েছি। কলি লাগানর পর বানানো ফুলগুলো লাগিয়ে নিয়েছি। ব্যস তৈরি করে নিলাম সোনালু ফুলের থোকা।
ধাপ-৮
এবার ফুলের থোকাটিকে একটি ডালের উপর লাগানোর জন্য খয়েরী রং এর ক্লে লম্বা করে নিয়েছি। এবং ক্লে টুলস দিয়ে কয়েকটা দাগ দিয়ে নিয়েছি। এরপর বানানো সোনালু ফুলের থোকা ও পাতা লাগিয়ে দিয়েছি। আর এভাবে বানিয়ে নিলাম সোনালু ফুলের থোকা।
উপস্থাপন
আশাকরি আমার আজকে্র বানানো ক্লের সোনালু ফুলের থোকাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আজ এই পর্যন্তই। আবার দেখা হবে নতুন কোন পোষ্ট নিয়ে।সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। নিরাপদে থাকুন।শুভ রাত্রি।
পোস্ট বিবরণ
| পোস্ট | ডাই |
|---|---|
| পোস্ট তৈরি | @selina 75 |
| মোবাইল | Samsung A-10 |
| তারিখ | ৫ই মার্চ, ২০২৫ইং |
| লোকেশন | ঢাকা। |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। বর্তমানে গৃহিনী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি।স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা।এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
ক্লে ব্যবহার করে সুন্দর সুন্দর ফুল তৈরি করলে আমার কাছে দেখতে খুবই ভালো লাগে। বিশেষ করে এই ধরনের ফুল গুলো একটু বেশি সুন্দর হয়। আপনার তৈরি এই সোনালু ফুলের থোকা টা দেখে বোঝা যাচ্ছে এটা আপনি প্রচুর পরিমাণে সময়, ধৈর্য এবং দক্ষতা দিয়ে তৈরি করেছেন। ক্লের কালার আরো অনেক সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে।
সময়তো লেগেছে ভাইয়া। আর সময় নিয়ে করলে ক্লের কাজ সুন্দর হয়।
https://x.com/selina_akh/status/1897295459968074220
Daily task
ক্লে দিয়ে কাজ করতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে আপনি যেটা তৈরি করেছেন সেটা করতে অনেক বেশি সময় লেগেছে সেটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কারণ প্রত্যেকটা ধাপ আলাদা আলাদা করে তৈরি করতে হয়েছে। ফুলগুলো আলাদাভাবে সাজিয়ে তুলতে হয়েছে। দারুন একটা ডাই প্রজেক্ট তৈরি করেছেন আপু দেখেই ভালো লাগছে।
জি আপু বেশ সময় লেগেছে ফুলটি বানাতে।
ক্লে দিয়ে কাজ করার মধ্যে যে একটি বিশেষ মজা রয়েছে, তা আপনি সত্যিই খুব সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন। এমন কাজ করতে গেলে সময়ের সাথে সাথে একে একে প্রতিটি অংশ তৈরির প্রতিটি মুহূর্তই আনন্দের হয়। আপনার তৈরি কাজের দিকে তাকিয়ে বোঝা যাচ্ছে কত পরিশ্রম, ভালোবাসা আর ধৈর্য দিয়ে এটি বানানো হয়েছে। ফুলগুলো যত্ন সহকারে সাজিয়ে তুলে খুবই চমৎকার একটি প্রজেক্ট তৈরি করেছেন, যা সত্যিই চোখে পড়ার মতো। দারুণভাবে সময় ও কষ্টের মধ্যে এমন একটি সুন্দর কাজ তৈরি করা, সত্যিই প্রশংসনীয়।
ক্লের কাজ করতে যেমন মজা তেমনই সময় লাগে কোন কিছু বানাতে। ধন্যবাদ আপু মন্তব্যের জন্য।
আপনি অনেক সুন্দর এক ফুল তৈরি করে দেখিয়েছেন। আপনার তৈরি করা চমৎকার এই ফুল দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি আপু। আজকে বাজারে বিভিন্ন জায়গাতে দেখলাম এই উপাদানগুলো বিক্রয় করছে। বর্তমান সময়ে ক্লের ব্যবহার ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল জায়গায় মানুষের দেখিয়ে জাতীয় জিনিস ব্যবহার করতে। অনেক সুন্দর হয়েছে ফুলটা।
বেশ চলছে এই ক্লে। বাচ্চারা বেশ পছন্দ করে ক্লে দিয়ে খেলতে। মাটির বিকল্প আর কি।
ক্লে দিয়ে কাজ করার মধ্যে যে বিশেষ মজা রয়েছে, তা আপনি অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন। প্রতিটি অংশ তৈরির মুহূর্তে আনন্দ পাওয়া যেন সত্যিই দেখা যাচ্ছে আপনার কাজে। ফুলগুলো যত্ন নিয়ে তৈরি করে একটি চমৎকার প্রজেক্ট তৈরি করেছেন, যা দারুণভাবে সময় ও পরিশ্রমের সঙ্গে এসেছে। সত্যিই প্রশংসনীয় কাজ।
আনন্দ না পেলে কোন কাজই সুন্দরভাবে করা যায় না। আনন্দ নিয়ে করি।
সত্যি ক্লে দিয়ে যে কোন কিছু বানানো সম্ভব। ক্লে দিয়ে সোনালা ফুল বানিয়েছেন। অনেক দিন থেকে এই সোনালার ফুল চোখে পড়ে না ছোট বেলা কতো খেলতাম এই ফুল দিয়ে। খুবই সুন্দর একটি ফুল এই সোনালার ফুল। ধাপে ধাপে চমৎকার সুন্দর করে সোনালার ফুল তৈরি পদ্ধতি আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
কমে গেছে সোনালু ফুলের গাছের সংখ্যা। আমরা কেবল গাছ কাটি লাগাই কম। এ জন্য।
ঠিক অমলতাসের মতো দেখতে হয়েছে আপনার এই সোনালু ফুল। এত ভালো লাগে যখন গাছ ভর্তি হয়ে হয়ে থাকে চোখ ফেরাতে পারিনা। এত সুন্দর সুন্দর আইডিয়া পান কোথা থেকে আপু? আর কি সুন্দর হাতের কাজ আপনার যত দেখি চোখ জুড়িয়ে যায় যেন।
আমি অমলতাস ফুলই বানিয়েছি। তবে আমরা সোনালু ফুল নামেই এই ফুলকে চিনি। আপনার কাছ থেকে ফুলের অন্য নাম জানতে পেরে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু।
দক্ষ হাতের ডাই প্রজেক্ট। ক্লে দিয়ে কত সুন্দর ভাবে সোনালু ফুলের থোকা তৈরি করেছেন। দেখে বুঝার উপায় নেই যে ক্লে দিয়ে তৈরি করেছেন। দেখতে অরিজিনাল বুঝা যায়। ধন্যবাদ।
আমি চেস্টা করেছি এই যা। ধন্যবাদ ভাইয়া।