দিনপঞ্জি ৩১ শ্রাবণ, ১৪২৮ // ১০% পেআউট লাজুক খ্যাঁক-কে
আজ শ্রাবণ মাসের শেষ তারিখ। আজকে মনসা পুজাও বটে। প্রতিবছর গ্রামের বাড়িতে মনসা পুজা হয়। কলা পাতার ভেলার উপরে শোলায় আঁকা মায়ের পুজো করা হয়, পুজো শেষে পুকুরে ভেলা ভাসিয়ে দেওয়া হয়। তবে এবছর মনসা পুজো হয়নি, কাল অশৌচ থাকার জন্য আগামী একবছর বাড়ির সব পুজো পার্বণ বন্ধ। সেসব কথা নাহয় থাক।
আজকাল এক অদ্ভুত চাপা উত্তেজনায় ভোর বেলাতেই ঘুম ভেঙে যায়। কারণটা ঠাহর করতে পারছি না। তবে অন্যদিন ঘুম ভেঙে গেলে আবার শুয়ে পড়ি। আজকে তাঁর উপায় নেই, ভোর থেকেই একটা কাক জানলার ঠিক পাশে ইলেকট্রিক তারে বসে ক্যা ক্যা করে চললো। এর মাঝে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম বটে তবে ঘুম আর এলোনা। আজকাল বিছানায় পড়ে থাকতেও ইচ্ছে হয় না, তাই বিছানা ছেড়ে উঠে চোখ মুখ ধুয়ে চা বানিয়ে নিলাম। সেটার ছবি তোলার মাথা থেকেই বেরিয়ে গেছে 😭।
সকালটা খুব ভালো না কাটলেও দুপুর বেলায় বেরিয়েছিলাম নবনিতার সাথে। নবনিতার জন্মদিন সামনেই আর জন্মদিনটা ঘরে কাটানো হবে তাই আগেই রেস্টুরেন্টে ট্রিট হিসেবে গিয়েছিলাম।
বেশি কিছু খাবার ইচ্ছে ছিলো না, ওর জন্মদিনে ওর মায়ের বিরিয়ানী খাওয়া যাবে। পেটটা ঠিক রাখতে হবে তো। একটা করে কাবাব আর কর্ন। ব্যাস। ভুট্টার দানা গুলো হালকা মুচমুচে। যা মনে হলো দানা গুলোকে প্রথমে সেদ্ধ করেছে তারপর অল্প ভেজে নিয়েছে। ভালোই লাগলো।
আমরা বিকেলের আগেই ফিরে এসেছি। ও সোজা বাস ধরে স্টেশন গেলো আর আমি বাড়িতে ফিরলাম। বাড়িতে এসে দৈনিক কাজ অর্থাৎ ক্লায়েন্টদের টুকটাক ফোন করে কাজগুলো জেনে নিলাম। পর পর কাজ শেষ করতে কখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে, বুঝতেই পারিনি।
অনেকদিন একটা হিন্দি সিনেমা দেখা হয়নি এই ভেবে শুরু করলাম অনুরাগ কাশ্যপের নতুন থ্রিলার আগলি। বেশ ভালো লাগছিলো, কিন্তু অল্প দেখেই উঠে পড়তে হলো। পেট টা ধপ মেরে আছে। হয়তো বাড়িতে এসে বসে বসে কাজ করেছিলাম তাই এই অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে ওষুধ খাবো কি খবোনা ভাবছি। পিসি বললো ফ্রিজে সোডা আছে, ফ্রিজের দিকে দিলাম দৌড়।
একটা গ্লাসের ৭৫ ভাগ সোডা জল নিলাম, তারপর তাতে জলজিরা দিয়ে অল্প লেবু চিপে দিলাম। টকটক খেতে হয়েছে, তাই নিমেষে উড়িয়ে দিলাম।
রাত ১০ টা বাজতে বাজতে পেট ঠিক হয়ে গেলো। আর সে ভয়ানক খিদে। জ্বলজিরা আর লেবু-সোডার কামাল। পেটে যেন ছুঁচো ডন বৈঠক মারছে। সন্ধ্যে বেলায় আমার পেটের অবস্থা দেখে রাতে আমার জন্য কেউ কিছু আলাদা করে রান্না করেনি, তাই আমি পড়লাম মহা ফ্যাসাদে।
ফ্রিজই ভরসা, ওটা খুলে দেখি একখানা বান পাউরুটি রাখা। আমাকে আর পায় কে? ননস্টিক চাটু বসিয়ে দিলাম ইনডাকশনে। অল্প মাখন চাটুতে দিয়ে দিলাম।
মাখন গলে যেতেই চাটুটা হালকা ঘুরিয়ে নিলাম। তারপর রুটিটা বসিয়ে দিয়ে, হাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরো রুটিটায় মাখন লাগিয়ে নিলাম।
রুটিতে হালকা রং আসতেই ইনডাকশন অফ করে রুটিটা মাঝখান থেকে কেটে নিলাম। ব্যাস রুটি তৈরী।
তারপর দুপুরে পিসির জন্য অর্ডার করা মটর পনির আর আলুর দম প্লেটে সাজিয়ে নিলাম। মাখনের গন্ধেই ঘরটা ম ম করছে।
খেতে আরো ভালো হয়েছিল। সকালটা ভালোভাবে শুরু না হলেও বাকি দিনটা বেশ কাটলো।
খুব সুস্বাদু সুন্দর লোভনীয় রেসিপি। অনেক ধন্যবাদ দাদা শেয়ার করার জন্য।
রাতে কিছুই ছিলো না তাই এটাকে একটু গুছিয়ে খেতেই হতো নইলে খালি পেটে শুতে হতো 😁
আপনার রাতের খাবারটা বেশ মজার ছিল।ধন্যবাদ দাদা সুন্দর কাটানো মুহূর্তগুলি শেয়ার করার জন্য।
খেতেও মন্দ হয়নি। যা বুঝলাম খারাপ রাঁধুনি না 😁।
সুন্দর একটি দিন পার করছেন ভাই আর খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন।ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ দিদি। দিন ব্যাস্ততার মধ্যে কাটলেই বেশি ভালো লাগে।
আপনার দৈনন্দিন কার্যক্রম আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ দাদা। আমার পোস্টটি পড়ার জন্য