ক্রিয়েটিভ রাইটিং: "জোছনার কাগজে লেখা জীবন"
🌿আমি তানহা তানজিল তরসা। আমি বাংলাদেশ 🇧🇩 থেকে বলছি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @tanha001।
হ্যালো বন্ধুরা.......
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছি।আজ আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। প্রতিদিনের মতো আজও একটি ভিন্ন পোষ্ট শেয়ার করব। আমার বাংলা কমিউনিটির সকল সদস্যরা অনেক সুন্দর সুন্দর পোস্ট শেয়ার করে থাকেন। তাদের পোস্টগুলো সবসময় আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। এক কথায় বলতে গেলে তাদের পোস্টগুলো দেখে আমি নিজে অনেক উৎসাহিত পাই এবং আমিও চেষ্টা করি ভালো কিছু পোস্ট করার। সেই ধারাবাহিকতায় আজ একটি ক্রিয়েটিভ রাইটিং পোস্ট শেয়ার করব। আশাকরি আমার লেখা দেখে ক্রিয়েটিভ রাইটিং পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।
রাতের আকাশ নিস্তব্ধ। হাজার তারার মধ্যে একটি তারা একটু বেশিই ঝলমল করছে আজ ঠিক যেমন কোনো পুরনো দিনের স্মৃতি হঠাৎ করে বুকের গভীর থেকে মাথা চাড়া দেয়। একতলা ছাদের ওপর চাদর পেতে শুয়ে আছে রূপা। তার ডান হাতে ধরা একটা খাম মা’র হাতের লেখা চেনা, ছেঁড়া না হলেও বিবর্ণ।আজ পাঁচ বছর পর হঠাৎ করেই সেই খামটা খুঁজে পেল সে, পুরনো ট্রাংকের ভেতর কিছু অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঘাঁটতে গিয়ে। মা যখন হঠাৎ হারিয়ে গেল এক দুরারোগ্য রোগে, রূপা তখন সবে স্কুল পাস করেছে। সময় থেমে গিয়েছিল। কেবল বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকা ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না তার সামনে। কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকেই মা তাকে এক জগৎ শিখিয়েছিলেন যেখানে শব্দের ঘ্রাণ আছে, জোছনায় লেখা হয় গল্প আর চুপচাপ রাতগুলোও গানে কথা বলে।চিঠিটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকে সে। চাঁদের আলো ছুঁয়ে যাচ্ছে তার চুল, চোখের কোণে জমে ওঠা এক ফোঁটা জল ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে চিঠির খামে।শেষ পর্যন্ত রূপা চিঠিটা খুলল।
"প্রিয় রূপা,
তুই যখন এই চিঠিটা পড়বি, তখন হয়তো চারপাশে অনেক কিছু পাল্টে যাবে। আমি জানি, তুই শক্ত মেয়ে। তুই শব্দ ভালোবাসিস, তুই রাত ভালোবাসিস, তুই নিজের মতো করে স্বপ্ন দেখতে পারিস। এই পৃথিবীতে যারা নিজেকে খুঁজে নিতে চায়, তাদের যাত্রাটা সহজ হয় না। কিন্তু বিশ্বাস রাখিস, একদিন তুই সেই আলো পাবি, যেটা তোর জন্যই অপেক্ষা করছে।ভালোবাসা দিয়ে বলছি কখনো নিজের অনুভব লুকিয়ে রাখিস না। জীবন কখনো শুধু বাস্তব দিয়ে চলে না, মাঝে মাঝে তাকে একটু কল্পনার রংও দিতে হয়। তুই লিখিস, তুই বলিস, তুই বাঁচিস নিজের মতো করে।
ইতি
তোর মা।
চিঠিটা পড়া শেষ হতেই রূপার বুকের মধ্যে যেন একটা দরজা খুলে গেল। সেই দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ল বহুদিন জমে থাকা অজস্র অনুভব, ভালোবাসা, হাহাকার আর সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। ঠিক তার তিনদিন পর রূপা এখন শহরের এক চুপচাপ ক্যাফেতে বসে লিখছে। ছোট্ট এক টেবিল, এক কাপ কফি, আর একগুচ্ছ কবিতা ও গল্প। সে এখন লেখে। মানুষের ভেতরের চুপচাপ কথাগুলোকে সে নিজের লেখায় রঙ দেয়।মা’র পুরনো চিঠি এখন রূপার ডায়েরির প্রথম পাতায় সযত্নে রাখা। সে তার লেখার নাম দিয়েছে“জোছনার কাগজে লেখা জীবন”এই নামে একটা ব্লগ খুলেছে সে, যেখানে প্রতিদিন সে নতুন কিছু লেখে মাঝেমাঝে গল্প, কখনো কবিতা, আবার কখনো শুধুই অনুভব।অজস্র পাঠক এখন তার লেখা পড়ে। কেউ কেউ বলে, “তোমার লেখা পড়ে মনে হয় আমি আমার মাকে খুঁজে পাই”কেউ বলে, “তোমার গল্পগুলো জোছনার মতো—নরম, আলোমাখা”কিন্তু রূপা জানে, আসলে সব লেখা সে শুরু করেছিল সেদিনের সেই রাতে, একখানা পুরনো খাম আর একটা চিঠির হাত ধরে।এখানেই শেষ নয়,কারণ জোছনার কাগজে লেখা জীবন কখনো শেষ হয় না। প্রতিটা রাতেই কোনো না কোনো গল্প শুরু হয়।
| পোস্টের বিষয় | ক্রিয়েটিভ রাইটিং |
|---|---|
| পোস্টকারী | তানহা তানজিল তরসা |
| ডিভাইস | রেডমি নোট ১১ |
| লোকেশন | পাবনা |
https://x.com/TanhaT8250/status/1914615067066380405?t=HpenARelZF1Kzd77UJW2hw&s=19
https://x.com/TanhaT8250/status/1914614801181093958?t=JIaRP9H6E_FfStnILaauhg&s=19
https://coinmarketcap.com/community/post/357528370