ক্রিয়েটিভ রাইটিং: "নীরবতা নয়, ন্যায়ের ভাষা চাই"

in আমার বাংলা ব্লগlast year
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু /আদাব

🌿আমি তানহা তানজিল তরসা। আমি বাংলাদেশ 🇧🇩 থেকে বলছি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @tanha001


আজ ১৫ জুন রোজ রবিবার ২০২৫ ইং:।

বাংলায় ০১ আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।

হ্যালো বন্ধুরা.......

কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছি।প্রতিদিনের মত আজ আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছে। আমি সপ্তাহে সাতটি আলাদা আলাদা পোস্ট শেয়ার করার চেষ্টা করি। সেই ধারাবাহিকতায় আজ একটি ক্রিয়েটিভ রাইটিং পোস্ট লিখে শেয়ার করব। আশাকরি আমার লেখা পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।


hand-3366627_1280.jpg

Source

বিয়ের পর মেয়েরা শুধু এক নতুন বাড়িতে যায় না, তারা একটি নতুন পরিচয়ে প্রবেশ করে 'বউমা' নামে। এই পরিচয়ের আড়ালে অনেক দায়িত্ব, অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যদি দিনের পর দিন কেউ পায়ে মাড়িয়ে চলতে থাকে, তাহলে আর কতোদিন একজন মেয়ে তা মেনে নেবে?সাবরিনার বয়স ছাব্বিশ। শিক্ষিতা, নম্র, শান্তস্বভাবের মেয়ে। সরকারি চাকরি করে নিজের চেষ্টায়, নিজের যোগ্যতায়। তার স্বামীও একজন ভালো মানুষ, কিন্তু তার পরিবার, বিশেষ করে শ্বশুর-শাশুড়ি তারা যেন প্রতিনিয়ত খোঁজে একটুকরো ত্রুটি।সকালে দেরি করে উঠলে এই বাড়িতে তোরা ঘুমোতেই এসেছিস।রান্নায় একটু লবণ বেশি হলে আমার বড় বউটা হলে দেখতিস, কেমন রান্না করত।বাজার থেকে কিছু আনলেও এই বেয়াদব মেয়েটা নিজের মাথামতো সব চালায়।দিনের পর দিন শুধু কথার আঘাত নয়, চোখের অবহেলা, ঠান্ডা যুদ্ধ, পারিবারিক অনুষ্ঠানে এড়িয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে একটা অদৃশ্য যন্ত্রণা চারপাশে বেঁধে রাখে সাবরিনাকে।তবুও সে চুপ করে থাকে। ভাবে “স্বামীকে কষ্ট দেব না, মা-বাবাকে চিন্তায় ফেলব না।” কিন্তু প্রশ্ন হলো এই চুপ থাকা কি তাকে রক্ষা করছেনা বরং দিন যত যাচ্ছে, নির্যাতনের রূপ পাল্টে যাচ্ছে এখন কথা নয়, ছোট ছোট নোংরা অভিযোগে সমাজে অপমান করা, আত্মীয়দের সামনে হেয় করা, এমনকি মাঝে মাঝে গায়ের উপর ধাক্কা পর্যন্ত।

সাবরিনা ভাবে তাহলে এখন আমার কী করা উচিত? আমাদের সমাজে এখন অধিকাংশ মেয়েরা শশুর শাশুড়ির কাছে অপমানিত অত্যাচারের শিকার হচ্ছে। তাই আমাদের প্রথমেই নিজেকে ছোট ভাবা বন্ধ করা উচিত।কেউ যদি তোমার শিক্ষা, কাজ, বা ব্যক্তিত্বকে সম্মান না করে তাহলে সেটা তোমার দোষ নয়, তাদের দৃষ্টিভঙ্গির দৈন্য।এরপর অবশ্যই স্বামীকে সত্যটা জানানো উচিত।স্বামী যদি সত্যিই ভালো মানুষ হয়, তবে তাকে পাশে পাওয়া যাবে। কিন্তু তাকে চুপ করে রেখে যন্ত্রণা সয়ে গেলে, একদিন সম্পর্কেই ফাটল ধরবে। দরকারে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"সংসার ভাঙা" মানে সম্পর্ক ভাঙা নয়। নিরাপদ দূরত্বে থাকলেও ভালোবাসা রাখা যায়। নিজেকে রক্ষা করাই প্রথম কর্তব্য।আমাদের দেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, ঘরোয়া সহিংসতা আইন এবং আইনগত সুরক্ষা সংস্থা ও হেল্পলাইন (যেমন ১০৯) রয়েছে সাহস করতে জানতে হবে।নিজের পরিচয় ও আত্মমর্যাদা বজায় রাখতে হবে।যারা নিজের যোগ্যতায় কিছু অর্জন করেছে, তাদের মাথা নত নয় উঁচু করে বাঁচাই প্রাপ্য।

তবুও আমাদের মনে প্রশ্ন থাকে শ্বশুর-শাশুড়িরা কেন এমন করেন?তাদের ও তো সন্তান আছে।পরের ঘরের মেয়েই মানেই তাঁদের অধীনস্থ, "পরের ঘরের মেয়ে", যার কোনো অধিকারের জায়গা নেই।তাদের মানসিকতা যুগের পিছনে পড়ে গেছে তারা ভুলে যান, বউমাও একজন মানুষ, তারও ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার আছে, তারও সীমা আছে, সহ্যশক্তি অসীম হলেও অপমানের সীমা অতিক্রম করলে প্রতিবাদ করাই তার কর্তব্য।ভালোবাসা যদি মাপে মাপে দেওয়া হয়, সম্মান যদি শুধু রক্তের সম্পর্ক বুঝে দেয়, তাহলে সেই ঘর শুধু বাসস্থান হতে পারে, আশ্রয় নয়।সেই ঘরকে নিজের করে তোলার দায়িত্ব যেমন বউমার, তেমনি তাকে সম্মান দেওয়ার দায়িত্বও পরিবারের।যেখানে দায়িত্ব পালন হয় না সেখানে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা নয়, নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষা করাই মুখ্য।সাবরিনা একদিন চুপ থাকেনি।সে বলেছে “আমি তোমাদের ঘরের বউ হয়েছি, কিন্তু তোমাদের পায়ের চরণধূলি নই। আমি মানুষ আমি আমার প্রাপ্য সম্মানটাই চাই।”সেই দিন থেকে তার যন্ত্রণা শেষ হয়নি, তবে শুরু হয়েছিল এক নতুন জীবনের যেখানে সে আর কারও ‘সহ্য করার জায়গা’ নয়, বরং নিজের পরিচয়ে গড়া একটি শক্ত মাটি।


পোস্টের বিষয়ক্রিয়েটিভ রাইটিং
পোস্টকারীতানহা তানজিল তরসা
ডিভাইসরেডমি নোট ১১
লোকেশনপাবনা


আজ এখানেই শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আর লেখার মধ্যে অমিল ও ভূল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেবেন।


১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।


আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়

আমি তানহা তানজিল তরসা। আমার স্টিম আইডির নাম @tanha001। আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক। আমি বিবাহিতা। আমার একটা ছেলে সন্তান আছে। আমি ফটোগ্রাফি, গান গাইতে,রান্না করতে ও বাইকে ঘুরতে অনেক পছন্দ করি। আমার জন্ম স্থান কালিগঞ্জ থানা ঝিনাইদহ জেলায়। আমি পেশায় এক গৃহিনী। পাশাপাশি আমি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। আমি আমার হাসবেন্ড এর চাকরির সূত্রে পাবনা চাটমোহর এ বসবাস করছি।


সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টটি দেখার জন্য ও সুন্দর মতামত শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। স্পেশালি ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার বাংলা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা, এডমিন ও মডারেটরদের যারা আমাকে এত সুন্দর একটা কমিউনিটিতে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে এবং আমাকে প্রতিনিয়ত সাপোর্ট করছেন।


১০%প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।


Logo.png

Banner.png

20250506_135003.jpg

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.077
BTC 63491.16
ETH 1663.62
USDT 1.00
SBD 0.42