বুস্টার ডোজ নেয়ার অভিজ্ঞতা
17-07-2022
২ শ্রাবণ ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি ভালো আছেন। তবে আপনারাও হয়তো প্রচন্ড তাপদাহ অনুভব করছেন কয়েকদিন ধরে। সারাদেশে তাপমাত্রা বেড়েছে। এই তাপদাহের মধ্যেই মানুষের জীবিকা নির্বাহের জন্য বেরিয়ে পরছে কাজ করতে। জীবন থেমে থাকে না।
যায়হোক, আপনারা হয়তো জানেন যে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবারো বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে মানুষ মারাও যাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে। যা আমাদের জন্য দুঃসংবাদ। অনেকেই করোনার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছে। তারপরেও দেখা যাচ্ছে করোণায় সংক্রমণ হচ্ছে। কারণ হচ্ছে করোণার ভেরিয়েন্ট প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে মানুষ করোণায় আক্রান্ত হচ্ছে। আবার অনেকেই অসাবধানতাবশত চলাফেরা করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সামাজিক দূরত্ব মোটেও বজায় রাখা সম্ভব না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলেও আসলে লাভ নেই। এজন্য সরকার কর্তৃক করোনা ভেকসিন দেয়া হচ্ছে।
গত ১১ নভেম্বর, ২০২১ সালে করোনার দ্বিতীয় ডোজ দিয়েছিলাম। আমি দুটি ডোজই দিয়েছিলাম সিনোফার্ম। করোনা ভেকসিন দেয়ার পর অবশ্য এটার সনদও পেয়েছিলাম। শুনেছিলাম আসলে কোথাও গেলে করোনার ভেকসিনের কার্ড না থাকলে যাওয়া যাবে না। এজন্য তাড়াহুড়ো করে দিয়েছিলাম। এছাড়াও কলেজে প্রবেশ করতে হলে ভেকসিন কার্ড লাগবে। ভেবেছিলাম দুটি ডোজ দেয়ার পর আর করোনার ভেকসিন দেয়া লাগবে না। কিন্তু করোনার রূপ পরিবর্তন হওয়ার জন্য আবার নতুন করে ভেকসিন দেয়ার প্রয়োজন হলো। ছয়মাসের বেশি সময় হয়ে গেছে লাস্ট ভেকসিন দিয়েছিলাম। বোস্টার ডোজ চার মাস পর গ্রহণ করা যায়। কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম বোস্টার ডোজ নিয়ে নিবো। কিছুদিন পর ফেনী চলে যাবো তাই এখন দিয়ে দিলে ভালো হবে।
সকাল সকাল রোদ উঠে গেলো। দস্তগীর ফোন দিয়ে বলতেছিল আজকে করোনার ভেকসিন দেয়া যাবে। হাসপিটালে করোনা ভাইরাসের ভীড়ও কম দস্তগীর বলতেছিল। তাই আর দেড়ি করলাম না। চলে গেলাম নান্দাইলের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে। নরমাল একটি টিশার্ট পরিধান করেই বেরিয়ে পড়লাম। এ রোদের মধ্যে বাহিরে যাইতেও ইচ্ছে করছিল না। বাড়ির সামনে থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা করে হাসপাতালের সামনে চলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি দস্তগীর দাড়িয়ে আছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি তেমন একটা ভীড় নেই। আমাদের মতোই কিছুসংখ্যক লোক দেখলাম তৃতীয় ডোজ দিতে এসেছে। আমরা দুজন গিয়ে কিছুক্ষণ বেঞ্চে বসে রইলাম। আমাদের সিরিয়াল না আসা পর্যন্ত বসে রইলাম।
তারপর সিরিয়াল আসলে মোবাইল থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের পিডিএফ ফাইলটা দেখিয়ে বসে পড়লাম। একজন মহিলা নার্স চিকন সিরিজ নিয়ে ডান হাতে আলতো করে দিয়ে দিল। মনে হচ্ছিল যেন পিপড়াঁ কামড় দিয়েছে এমন। তারপর যেখানে ইনজেকশন দেয়া হয়েছে সেখানে হাত দিয়ে ধরে রাখলাম । কিছুক্ষণ পর অবশ্য দেখি সেখান থেকে হালকা রক্ত বের হচ্ছে। যায়হোক, তুলা নিয়ে মুছে দিলাম। আর এদিকে দস্তগীরও বোস্টার ডোজ নিয়ে নিলো। তারপর আমরা আবার বেঞ্চে বসে রইলাম। এরই মাঝে আবার কিছু সংখ্যক লোক তৃতীয় ডোজ গ্রহণ করছে। আমাদের তৃতীয় ডোজ এর স্ক্যান করাতে হবে সেজন্য একটু অপেক্ষা করলাম। তারপর আমাদের টিকা কার্ডের পিডিএফ ফাইল থেকে নার্স আপু আমাদের কিউ আর কোড স্ক্যান করে নেই। স্ক্যান করা হয়ে গেলে আমরা হাসাপাতাল থেকে বেরিয়ে পড়ি। রোদের মধ্যে বাহিরে বেশিক্ষণ দাঁড়ালাম বা। অটো করে তারপর বাড়ি চলে আসি।
| Device | Oppo A12 |
|---|---|
| Photographer | @haideremtiaz & my friend |
| Location | w3w |
যায়হোক, এখন পর্যন্ত জ্বর উঠেনি শরীরে, সুস্থ্য আছি। আপনারা যারা তৃতীয় ডোজ নেননি আশা করি নিয়ে নিবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আল্লাহ হাফেজ।
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Link
আমাকেও বুস্টার ডোজ নিতে হবে নেওয়া হয়নি। আপনার বুস্টার-ডোজ নেওয়ার অভিজ্ঞতার গল্প পড়ে ভালো লাগলো। দেখি কিছুদিনের মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করব।
জি ভাই বুস্টার ডোজ দিয়ে ফেলেন ভালো হবে। যে হারে আবার করোনা বাড়তেছে।
প্রথমে আপনাকে অভিনন্দন জানাই বুস্টার ডোজ গ্রহন করে যদিও এখন পর্যন্ত আমি বুস্টার ডোজ গ্রহণ করিনি তবে খুব শীঘ্রই গ্রহণ করব ভাবছি। চমৎকার ভাবে আপনি আপনার অনুভূতি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন এত সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
জি ভাই নিয়ে নেন, ভালোই হবে। আপনার জন্য শুভকামনা থাকলো।
খুবই ভালো লাগলো আপনি করোনাটিকা গ্রহণ করেছেন দেখে। আমাদের সকলেরই এই ডোজ গ্রহণ করা উচিত। আমি অবশ্য অনেকদিন আগেই তৃতীয় ডোজ সম্পন্ন করে ফেলেছি। তবে এত সুন্দর উৎসাহ মূলক পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার একটি মন্তব্যের জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আমিও এখনো বুস্টার ডোজ নেইনি তবে খুব দ্রুত বুস্টার-ডোজ নিব।
বিষয়টি জেনে রাখলাম যেদিন বুস্টার ডোজ নিব সেদিন আগে থেকেই সব ঠিকঠাক করে রাখতে পারব।
হ্যা ভাই আগেই দেখিয়ে ফেলবেন পিডিএফ ফাইলটা। আপনার জন্য শুভকামনা রইল
করোনার বুস্টার ডোজ নেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। রুনার ডোজ নিয়ে আপনি শুধু নিজেকেই রক্ষা করেননি। আপনার ফ্যামিলি এবং প্রতিবেশীদেরও রক্ষা করেছেন। কারণ করোনা এমন একটি রোগ আপনার হলে আপনার সংস্পর্শে যারা আসবে তারও সংক্রমিত হবে। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
জি ভাইয়া আপনি একদম ঠিক বলেছেন নিজেকে সুরক্ষিত রাখার করোনা ভেকসিন নেয়া জরুরি।
বুস্টার ডোজ নিয়ে ফেলে অনেক ভাল কাজ করেছেন ভাইয়া কেননা বর্তমান সময়ে আবারও করোনাভাইরাস দেখতে পাওয়া যাচ্ছে আমাদের দেশে। আমিও কয়েক মাস আগে বুস্টার ডোজ নিয়ে নিয়েছি। ইনজেকশন দিতে যদিও আমাদের সবারই একটু ভয় করে কিন্তু এটা পিপড়ার কামড়ের মত মনে হয়।
আবারো করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তেছে । উচিত হলো সবারই তৃতীয় ডোজ নেয়া। আপনি নিয়েছেন জেনে খুশি হলাম ভাইয়া।
খুব ভালো করেছেন বুস্টার ডোস গ্রহণ করে। যে হারে করোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে আমাদের আরো সচেতন হওয়া উচিত। আপনার বুস্টার ডোস গ্রহণের অভিজ্ঞতা পড়ে অনেক ভালো লাগলো ভাই।
হ্যা ভাই একদম ঠিক বলেছেন। যে হারে করোনা বাড়ছে আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত।
আপনার বন্ধুও ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার এই মূল্যবান কাজটিতে সাহায্যের জন্য।
তবে একটি বিষয়, টিকাকেন্দ্রে মাস্ক পড়ে যাওয়া উচিত।
ধন্যবাদ
আপনাকে সুন্দর একটি উপদেশমূলক মন্তব্যের জন্য। শুভেচ্ছা রইল আপনার জন্য।
আপনি তো মহৎ কাজ করেছেন পরিবার এবং নিজেকে সুরক্ষার জন্য বুস্টার গ্রহণ করেছেন। আপনার বুঝতে অনুভূতিগুলো পরে খুব ভালো লাগলো। বুস্টার ডোজ নেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানাই ভালো থাকবেন।
জি ভাইয়া নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য অবশ্যই আমাদের ভেকসিন নেয়া উচিত। আপনাকে ধন্যবাদ