"স্বাদে ভরপুর মোয়া মাছের চচ্চড়ি রেসিপি"
আজ থেকে বিশ দিন আগে সিরাজগঞ্জে আমার বাসায় গিয়েছিলাম, আর বাসায় গেলেই আম্মুর হাতে ভরপুর খাওয়া হয়। ছোট মাছের চচ্চড়ি আমার খুবই পছন্দ, তাই বাজারে গিয়ে হাফ কেজি মোয়া মাছ কিনে আনলাম। আমি ভাবলাম, আজকের দিনটা আমি নিজেই রান্না করি। আম্মুকে বললাম, “তুমি রুমে শুয়ে থাকো, আজকে আমি ছোট মাছ রান্না করবো। দেইখো আজকে ছোট মাছ কত সুস্বাদু রান্ধি!” আম্মু একটু হেসে বলল, “ঠিক আছে, দেখব তোর রান্না কেমন হয়।” এরপর আম্মু সব গুছিয়ে দিয়ে গেল এবং আমি শুরু করে দিলাম মোয়া মাছের চচ্চড়ি রান্না।এখন এই রেসিপিটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে এসেছি। রান্নার সময়টা খুবই মজার ছিল, আর ফলাফলও খুবই সুস্বাদু হয়েছে। কীভাবে রান্না করলাম এবং কীভাবে স্বাদ হলো, সে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাতে চাই। চলুন, এখন আর কথা বাড়িয়ে না, রান্নার কার্যক্রমে চলে যাই!
রেসিপির উপকরণ :-
| উপাদান | পরিমাণ |
|---|---|
| মোয়া মাছ | ২৫০ গ্রাম । |
| আলু | ৬ টি। |
| মরিচ কুচি | ৪ টি। |
| পেঁয়াজ কুচি | ৪ টি। |
| তেল | পরিমাণমতো। |
| হলুদের গুঁড়া | পরিমানমতো। |
| মরিচের গুঁড়া | পরিমাণমতো। |
| জিরার গুঁড়া | পরিমাণমতো। |
| আদা বাটা | পরিমাণমতো। |
| রসুন বাটা | পরিমাণমতো। |
| লবণ | পরিমানমতো। |
রেসিপি'র ধাপসমূহ:-
- প্রথমেই একটি কড়াইয়ে সোয়াবিন তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি এবং মরিচ কুচি ভাজলাম।
- পেঁয়াজ কুচি ও মরিচ কুচি ভাজা শেষ করার পর কড়াইয়ের মধ্যে আলু সহ সকল উপকরণ দিলাম।
- সবগুলো উপকরণ এবার ভালোভাবে মিশ্রণ করে নিলাম।
- আলু কষানোর জন্য কড়াইয়ের মধ্যে পরিমাণ মতো পানি দিলাম।এবং কড়াই ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিলাম।
- পানি একদম শুকিয়ে গেলে বুঝে নিবেন আলু কষানো শেষ হয়েছে।
- এবার কষানো আলুর মধ্যে মোয়া মাছ গুলো দিলাম।
- কষিয়ে রাখা আলুর সাথে মোয়া মাছগুলো ভালোভাবে আস্তে আস্তে সংমিশ্রণ করলাম।
- মাছ এবং আলু ভালোভাবে সিদ্ধ করার জন্য আবারো পরিমাণ মতো পানি দিলাম।
- এবার পানি শুকিয়ে গেলে বুঝে নেবেন রান্না প্রায় শেষ। আমি যেহেতু চচ্চড়ি করব তাই আরেকটু সময় রেখে দিলাম।
- আর এভাবে খুব সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি হয়ে গেল মোয়া মাছের সুস্বাদু চচ্চড়ি রেসিপি।
রেসিপি উপস্থাপন:-
আজকে আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম মোয়া মাছের মজাদার চচ্চড়ি রেসিপি। রান্না শেষ করে আম্মুকে বললাম খেয়ে দেখো কেমন হয়েছে। সত্যি কথা বলতে, আম্মু প্রথমে খেয়ে খুবই অবাক হয়ে গিয়েছিল। এরপর আম্মু আমাকে হাসতে হাসতে বলল, “কিরে ফয়সাল, তুই এত ভালো রান্না কবে থেকে শিখলি?” আমি তখন তাকে বললাম, “আমার বাংলা ব্লগে কাজ করার সুবাদে এখন অনেক কিছুই শিখেছি।” আম্মু হেসে বলল, “যাক, ভালই হয়েছে! তাহলে আমার বাংলা ব্লগ তোকে একটু পরিবর্তন করতে পেরেছে!” এই কথাটা শুনে আমার সত্যিই অনেক ভালো লাগল।আমার রান্না করা এই মোয়া মাছের চচ্চড়ি খেয়ে শুধু আম্মু নয়, আমার পুরো পরিবারই অনেক প্রশংসা করেছে। খেতে এক কথায় অসাধারণ লেগেছিল। এতটা প্রশংসা পেয়ে আমি আনন্দিত। তাই আজকে এই মজাদার রেসিপিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করি আপনাদেরও আমার রান্না পছন্দ হয়েছে।
আজ এখানেই শেষ করছি। অন্য কোন একদিন ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।
ফোনের বিবরণ
| মোবাইল | Samsung A33 (5G) |
|---|---|
| ধরণ | "স্বাদে ভরপুর মোয়া মাছের চচ্চড়ি রেসিপি" |
| ক্যমেরা মডেল | A33 (48+8+5+2) |
| ক্যাপচার | @mohamad786 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ- বাংলাদেশ |
এবার তাহলে মায়ের কষ্ট ঘুচবে আপনি রান্না করেছেন দারুণ করে মোয়া মাছের চচ্চড়ি করেছেন আলু দিয়ে। দারুণ হয়েছে আপনার রেসিপিটি।মোয়া মাছ খেতে যেমন সুস্বাদু পুষ্টিকরও বটে।ধাপে ধাপে রন্ধন প্রনালী চমৎকার সুন্দর করে আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে লোভনীয় রেসিপিটি আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন জন্য।
আমি বাসায় গেলেই মাঝে মাঝে আব্বু রান্নায় সাহায্য করি , আবার নিজেও রান্না করার চেষ্টা করি।কেননা একটা রেসিপি পোস্ট তো করতে হবে নাকি 😁
X-Promotion
এই মাছটির নাম আজ প্রথম শুনলাম। এই মাছকে আমরা কাচকি মাছ বলে জানি। বেশ সুন্দর করে সুস্বাদু একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনার শেয়ার করা মাছের রেসিপিটি দেখে তো লোভ হচেছ। ধন্যবাদ সুন্দর এই রেসিপিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমাদের এখানেও কাচকি মাছ বলে, আবার অনেকে মোয়া মাছ বলে।যাইহোক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
ছোট মাছের চচ্চড়ি খেতে অনেক ভালো লাগে। আর এত সুন্দর করে চচ্চড়ি করেছেন দেখে তো খেতে ইচ্ছে করছে ভাইয়া। মোয়া মাছের চচ্চড়ি রেসিপি দারুন হয়েছে। অনেক লোভনীয় লাগছে দেখতে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
মোয়া মাছ নামটি শুনে আমি ভেবেছিলাম হয়তোবা কি মাছ । আমাদের এইদিকে এই মাছগুলোর বিভিন্ন ধরনের নাম বলে। তবে এভাবে এই ছোট মাছ রান্না করলে খেতে ভীষণ মজা লাগে। আজকে আপনার রেসিপিটা দেখে খুবই ভালো লাগলো। আমার ভীষণ পছন্দ এই রেসিপিটা।
আমার শেয়ার করার রেসিপিটি আপনার ভালো লেগেছে শুনে খুবই খুশি হলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
ছোট মাছের চচ্চড়ি রেসিপি খেতে অনেক বেশি ভালো লাগে আমার কাছে। আপনি দেখছি আজকে খুবই সুন্দর করে মোয়া মাছের চচ্চড়ি রেসিপি তৈরি করেছেন। আপনার হাতে তৈরি করা রেসিপি টি দেখে মনে হচ্ছে বেশ মজাদার হয়েছিল। আপনি প্রতিটি উপকরণ একদম সমান ভাবে মিশ্রণ করে রেসিপি টি সম্পন্ন করেছেন।
জ্বী ভাইয়া ছোট মাছের চচ্চড়ি খেতে খুবই মজা হয়েছিল।
মোয়া মাছের চচ্চড়ি রেসিপিটি বেশ লোভনীয় হয়েছে। আপনি বেশ চমৎকারভাবে মোয়া মাছের চচ্চড়ি রেসিপিটি বানিয়েছেন ও আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। রেসিপিটি দেখে মনে হচ্ছে সেটা খুবই সুস্বাদু হবে। অনেক শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
ছোট মাছের চচ্চড়ি আমি নিজেও অনেক বেশি পছন্দ করে খেতে। আর এরকম মোয়া মাছগুলো আমার অনেক ভালো লাগে। আপনার আম্মুকে তো দেখছি আপনি অবাক করে দিয়েছেন এটা রান্না করে। বুঝতেই পারছি আপনার আম্মুরও অনেক পছন্দ হয়েছিল। আমাদের মাঝে রেসিপিটা শেয়ার করে নিয়েছেন দেখে খুব ভালো লাগলো।
জ্বী আপু আম্মু খাওয়ার পর একদম অবাক হয়ে গেছিল।সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আমার বাংলা ব্লগের কারণেই আপনি রান্না শিখেছেন সেটা শুনে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। তবে মজা লাগছে আপনার আম্মু খেয়েই অবাক হয়ে গেল এটা শুনে। মোয়া মাছ এভাবে চচ্চড়ি করা হলে তো অবশ্যই ভালো লাগবে। আর পরিবারের সবাই খেয়েও ভালো বলেছে এটা শুনেও বেশ ভালো লাগলো ভাইয়া।
আমি বাসায় কোন কাজই করি না।তাই এখন মাঝে মাঝে যখন আম্মুকে রান্নায় সাহায্য করি বা নিজে রান্না করার চেষ্টা করি, এসব দেখে আম্মু অনেক অবাক হয়ে যায়।